পড়ার স্বপ্ন ছিলো আর্কিটেকচার বিভাগে। ছোট থেকেই সময়কে ক্যামেরা বন্দি করার নেশা ছিলো তার। সাথে চোখের নিমিশে করে ফেলতেন বিভিন্ন ড্রয়িং,ডিজাইন। সেই থেকেই ইচ্ছার দানা বাঁধা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। ভর্তি হলেন এমআইএসটি তে এরনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ। চলে যাচ্ছে সময়,এখন পড়ছেন চতুর্থ বর্ষে তবে তার মতে লাইফের টার্নিং পয়েন্ট ছিলো ওটাই। সামরিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে পড়ে পড়াশুনার শত ব্যস্ততার চাপেও নিজের স্বপ্ন পূরন থেকে সরে আসেননি। শাহিদুল আলম শাহেদ, তার মতে”প্যাশন একটাই থাকে তবে সেটা সময় ও ধরন অনুযায়ী পাল্টাতে পারে খানিক।”

অনেক সময় দেখা যায়, প্যাশন যখন প্রফেশন হয় তখন একটা কম্প্রোমাইজ এর ব্যাপার চলে আসে

লিখেছেন...admin...মার্চ 8, 2016 , 9:21 পূর্বাহ্ন

shd

খোশগল্প.কম: কয়টি কাজ করলেন সবমিলিয়ে?

শাহেদ: মোট চারটা কাজ করলাম এই পর্যন্ত । প্রথমটা ছিলো “সিজিপিএ ২.৭৮”, এটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় । এতটা আমি নিজেও আশা করিনি প্রথমে । এর পর “প্রচেষ্টা” নামক এক ভলান্টিয়ার ওরগানাইজেশন আমার সাথে যোগাযোগ করে , পরে ওদের তিনটা কাজ করি কিছুদিন আগে ।

খোশগল্প.কম: পাবলিশ কি হয়েছে সেগুলো ? কেমন সাড়া পেলেন এইবার ?

শাহেদ: হুম সবগুলোই এখন ওদের ফেসবুক পেজ আর ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে । ৩টার মধ্যে একটা ছিলো ওদের প্রমোশনাল ভিডিও আর বাকি দুইটা শর্টফিল্ম ছিলো

-Shades and Identity আর

– জোছনা

এখন পযন্ত সবগুলোরই ভালো সাড়া পাচ্ছি । তবে অনেক কম টাইমে তিনটা কাজ শেষ করতে হয়েছে বিধায় অনেক কিছুই মন মত করতে পারিনি । আরেকটু সময় পেলে হয়ত আরো ভালো হত।

খোশগল্প.কম: রিসেন্টলি কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

শাহেদ: এখন আপাতত পড়া লেখা নিয়েই ব্যাস্ত আছি , নতুন কোন কাজ করছি না এখন। তবে মার্চ এর শেষে আরেকটা ভলান্টিয়ার ওরগানাইজেশনের সাথে কাজ করার কথা চলতেছে, এখনো ফাইনাল হয়নি সেটা । অবশ্য সামনে এমআইএসটি ড্রামা এন্ড ফিল্ম সোসাইটি এর জন্য কিছু কাজ শুরু করবো। অনেকদিন এটা বন্ধ ছিলো আবার শুরু হচ্ছে।

খোশগল্প.কম: ফিল্মমেকিং নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা অনেক আগে থেকেই?

শাহেদ: হ্যাঁ, বলতে পারেন । এরনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও অনেক আগে থেকেই এইসব ব্যাপারে আমার প্যাশন কাজ করতো। কিন্তু খুব কমার্শিয়াল টাইপ কাজ করার ইচ্ছা নেই আমার । মাঝে মাঝে খুব ভালো কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে। স্বপ্ন দেখি বিউটিফুল বাংলাদেশ এর মতো ডকুমেন্টারি বানাবো হয়ত একদিন ।

খোশগল্প.কম: শুরুটা কিভাবে?

শাহেদ: শুরুটা স্কুল থেকেই বলা যায়। আগে উইন্ডোজ মুভিমেকারে অনেক স্টিল পিক আর মিউজিক দিয়ে ভিডিও বানাতাম । দেখানোর মত কাউকে পেতাম না ,তখন ফ্রেন্ডদের বাসায় জোর করে ধরে নিয়ে এসে দেখাতাম , হাহাহাহা ! এভাবেই ভালো লাগা শুরু , আর প্রথম ক্যামেরা নিয়ে কাজের কথা বলতে গেলে , উদ্ভাসের জন্য একটা শর্টফিল্ম বানানোর কাজ শুরু করছিলাম বই এর উপর ।সেটা যদিও আলোর মুখ দেখেনি । এরপরে মনে মনে “সিজিপিএ ২.৭৮” এর গল্প চিন্তা শুরু করলাম ,তখন আমার থার্ড ইয়ারের ফার্স্ট সেমিস্টারের ক্লাস চলছিলো । তারপরের টার্মে আমাদের ইমিডিয়েট ব্যাচের ফেয়ারওয়েল এর আয়োজক ছিলাম আমরা । আর সে অনুষ্ঠানটা ছিলো আমার জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ । তো সেই অনুষ্ঠানের জন্যই বানাই আমার প্রথম শর্ট ফিল্ম “সিজিপিএ ২.৭৮” ।

খোশগল্প.কম: সিজিপিএ ২.৭৮ নিয়ে কিছু শুনতে চাই।

শাহেদ: সিজিপিএ ২.৭৮ এর টাইটেল ছিলো “a story beyond some digits” কিছু প্রথাগত গ্রেড পয়েন্ট এর পিছনের কাহিনি এটি । মূলত সিজিপিএ ২.৭৮ খুব কমন একটা ঘটনা। ইউনিভার্সিটি তে পড়া ছেলে মেয়েদের মধ্যে এতোটাই কমন যে,যেই দেখছে সেই শর্ট ফিল্মটার কোন না কোন অংশে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়েছে । আর সিজিপিএ একটা ছেলের জীবনে কি ধরনের প্রভাব বিস্তার করে , কম সিজিপিএ নিয়ে একটা ছেলের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো কেমন হয় ,তার আশেপাশের পরিবেশ যেভাবে পরিবর্তন হতে থাকে তা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। ফিল্মমটাতে দেখা যাবে কম সিজি নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ড ফেস করার অভিজ্ঞতা ,নিজের খুব চরম হতাশার মুহূর্তে খুব কাছের ফ্রেন্ডদের স্কলারশিপ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া , ইনসিকিউরিটিতে ভুগা,নিজের প্রেমিকা চলে যাওয়া কোনো উচ্চ সিজিধারীর কারো সাথে , এবং শেষে এই কম সিজিপিএ নিয়েও যে ঘুড়ে দাড়ানো সম্ভব সেটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এখানে। কিছু অমিত হাসানের মতো ছেলে মেয়েদের যারা নিজের গ্রেড পয়েন্ট নিয়ে হতাশ তাদের অনুপ্রাণিত করাই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য।

খোশগল্প.কম: মেকিং এর সময়কার অভিজ্ঞতা ?

শাহেদ: এটা নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবেনা। মোটামুটি একা পুরা কাজ করতে হয়েছে ।ক্যামেরা টানা থেকে শুরু করে সিনেমাটোগ্রাফি,কে কখন আসবে ,কি রঙের জামা পড়বে ,কিভাবে এক্টিং করবে ।এরপর বাসা ম্যানেজ করা ,গাড়ি ম্যানেজ করা ,অফিস ম্যানেজ করা অনেক কঠিন ছিলো ব্যাপার গুলো। আর শট এর ব্যাপার বলতে গেলে একটা হিউজ এডভেঞ্চার ছিল বলা চলে । এয়ারপোর্টে যেখানে শুট করি , ওখানে ঢুকতে একজনেরই ৩০০ টাকা করে টিকেট লাগতো । আমাদের কাছে সেই টাকাও ছিলো না । পরে উপায় না পেয়ে যাত্রী সেজে ঢুকে ডিজিটাল ক্যামেরা ইন্সট্যান্ট অন করে এক্টিং শুরু করে দিসিলাম । এটা আসলে অনেক মজার একটা অভিজ্ঞতা ছিলো। আরেকটা কঠিন শট ছিলো প্লেনে ঢিল মারার শট। এটা করতেও অনেক ঝামেলা হইছে। পুড়ো রেস্ট্রিক্টেড একটা জায়গায় অনেক কাহিনী করে ঢুকতে হইছে আমাদের । পুরো ফিল্মে আমার প্রায় ষোল জন ক্লাসমেট অভিনয় করে যাদের আগে কোন অভিনয়ের এক্সপেরিয়েন্স ছিলোনা । ফাহাদ আর ত্রিনা যারা মুল দুটি চরিত্র অমিত আর মিথিলার অভিনয় করেছে আসলেই অনেক কষ্ট করছে তারাও এই প্রথম ক্যামেরার সামনে কাজ করলো । বেশ প্যাশনেট ছিলো ওরা , তা নাহলে আমার একার পক্ষে এইটা বানানো অসম্ভব হয়ে যেতো।

খোশগল্প.কম: এটা রিলিজ হওয়ার পর অনুভূতি কেমন ছিলো ?

শাহেদ: অনুভুতি আসলে আমি বুঝাতে পারবো না । ভাইয়াদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন প্রায় তিনশো মানুষের সামনে বড় পর্দায় যখন নিজের শর্টফিল্ম দেখানো হয় , বিভিন্ন পর্যায় যখন সবাই চিল্লানো শুরু করে , বড় ভাইয়া আপুরা যখন অনেক এপ্রেসিয়েট করে কেউ কেউ একপর্যায়ে কেঁদে দেয় , স্যার যখন জড়ায় ধরে বলে এমন কাজ তিনি আগে কখনো কোন ফেয়ারওয়েল প্রোগ্রামে দেখেনি তখন আসলে সেই অনুভূতি বলে বুঝানো সম্ভব না । খুব ভালোলাগার কিছু অনুভূতি ।

খোশগল্প.কম: যেই উদ্দেশ্য নিয়ে বানালেন তার কতটুকু সফল হয়েছে বলে মনে করেন ?

শাহেদ: প্রথম কাজ হিসেবে যদিও টেকনিক্যালি অনেক ভুল ভ্রান্তি ছিলো তারপরেও আসলে অনেক রেস্পন্স পেয়েছিলাম । এতটা আমি নিজেও আশা করি নি । এফবিতে প্রচুর মেসেজ পেয়েছিলাম আমি আর ফাহাদ । অনেকেই জানায় যে তারা এটা দেখে বেশ অনুপ্রানিত , যারা কিনা অনেক হতাশায় ভুগছিলো । এখনো মনে আছে একটা ছেলের মেসেজ ছিলো এরকম যে ভাইয়া “আমার সিজিপিএ ২.৬ , দশ বছর পর নাটকের অমিত হাসানের মতো কিছু একটা হতে পারলে আবার টেক্সট করবো ইনশাল্লাহ, দোয়া করবেন “ । এটা আসলেই অনেক বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য । এখন নিজে একটা ভালো অবস্থানে যেতে পারলে হয় , হাহাহা !

খোশগল্প.কম: কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনার পাশাপাশি এখানেও সময় দেয়া কঠিন হয়ে যায় না?

শাহেদ: কিছুটা তো অবশ্যই, কিন্তু যেখানে প্যাশন কাজ করে সেখানে কোন কষ্টই আসলে কষ্ট মনে হয় না । আমার মনে হয় পৃথিবিতে তারাই সবচেয়ে ভাগ্যবান যাদের প্যাশন আর প্রফেশন এক। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয়তো তেমন হবে না ,আর মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে হিসেবে আমার সেই সুযোগটাও একটু কম । ইচ্ছা ছিলো আর্কিটেকচার পড়ার অনেক , কিন্তু হয়ে উঠে নি ,হলে হয়ত আরো সহজ হতো বিষয়গিলি ।কিন্তু তার মানে এও না আমি ছেড়ে দিবো। অনেক ভালো ভালো ডিরেক্টর আছে যারা অন্য প্রফেশনে জড়িত ।তার পরেও আমি মনে করি ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই উপায়ও হয় ।

খোশগল্প.কম: বিমান তো আরো বড় ব্যাপার তো নিজ সেক্টরে কিছু করার ইচ্ছা নাই?

শাহেদ: হ্যা তাতো আছেই । এইটা দিয়েই তো আসলে চলতে হবে। এরনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক ইন্টারেস্টিং একটা সাবজেক্ট আর বাংলাদেশে এর এখন অনেক ফিল্ড আছে ,আর বাহিরে তো কথাই নাই। প্রফেশন হিসেবে এখন পর্যন্ত এই ফিল্ডেই থাকার ইচ্ছা ।কিন্তু একটু স্পেসিফিক করে বলতে গেলে আবার ঘুরেফিরে সেই প্যাশনের কথা চলে আসে । ডিজাইনের দিকের সেই প্যাশন এই সেক্টরেও কাজ করে। অনেক সেক্টরের মধ্যে এয়ারক্রাফট ডিজাইনের দিকেই কাজ করার ইচ্ছা বেশি। এখন দেখা যাক কি হয়।

খোশগল্প.কম: বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে?

শাহেদ: হ্যা। ভালো সুযোগ পেলে অবশ্যই যাবো।

খোশগল্প.কম: তখন প্যাশনের ব্যাপারটা?

শাহেদ: আমার মনে হয় না প্যাশন জায়গা ভেদে পরিবর্তন হয় । তবে সময় সুযোগের সাথে ধরন হয়ত একটু পরিবর্তন হতে পারে।

খোশগল্প.কম: এই প্যাশনকে প্রফেশন করা হয়তো খুব কঠিন হবে না,একটু পরিশ্রমি হতে হবে তো সেটার চেষ্টা কেনো করছেন না?

শাহেদ: আসলে ব্যাপারটা একটু জটিল। অনেক সময় দেখা যায় প্যাশন যখন প্রফেশন হয় তখন একটা কম্প্রোমাইজ এর ব্যাপার চলে আসে,অন্য কে খুশি করার একটা ব্যাপার চলে আসে তাই সরাসরি প্রফেশন হিসেবে না নিয়ে নিজের জন্য কাজ করতে চাই। সাথে ভালো কিছু কাজ করার সুযোগ পেলে সেগুলো করতে চাই । কারন অনেক সময় হয়তো নিজের সাধ্যমতো নিজের ইচ্ছা পূরন করতে একার কষ্ট হবে। তখন যদি দেখি কারো সাথে আমার চাওয়ার মিল আছে , চিন্তাধারার মিল আছে , নিজের ইচ্ছাগুলি ঐ কাজের মাধ্যমে পূরন করা সম্ভব তাহলে আমি সেই সুযোগ কেনো নিবো না? কিন্তু একদম প্রফেশনালি নিয়ে শুধু অন্যের জন্য নিজের পছন্দ বাদ দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা নেই , ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে , তখন এটাকে মেবি প্রফেশন বলা যাবে না।

খোশগল্প.কম: কাজগুলোর পিছে সাপোর্টের কথা যদি জানতে চাই?

শাহেদ: সাপোর্টের কথা বলতে গেলে মধ্যবিত্ত পরিবারে যেমন হয় আর কি। আম্মু অতো সাপোর্ট করে না, আবার বাধাও দেয় না। কাজ দেখে খুশি হয় কিন্তু আবার করতেও বলে না, আপু সাপোর্ট করে। বড় ভাইয়া আপুরা,স্যার ম্যামরা সবসময় খুব সাপোর্ট করছে এই সল্প সময়ের কাজের অভিজ্ঞতায়। আমার নিজের কোন ক্যামেরা নেই, কিন্তু শট নেয়ার সময় ক্যামেরার কখনো অভাব হয়নি। জুনিয়র সিনিয়র ইয়ারমেট সবাই অনেক সাপোর্টিভ ছিলো। ওদের ধন্যবাদ দিলে আসলে কম হবে ।

খোশগল্প.কম: ভলান্টিয়ার অর্গানাইজেশন গুলোর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

শাহেদ: অনেক ভালো। প্রচেস্টার সাথে কাজ করে অনেক ভালো লেগেছে। ওরা অনেক ডেডিকেটেড।

খোশগল্প.কম: কাজগুলোয় প্রাতিষ্ঠানিক কোন চর্চা রয়েছে আপনার?

শাহেদ: না। আর আপাতত এমন ইচ্ছা বা সময় কোনটিই নেই । কাজ করতে করতেই শিখার ইচ্ছা।

খোশগল্প.কম: মজার কোন ঘটনা আছে আমাদের সাথে শেয়ার করার মতো?

শাহেদ: মজার ঘটনা বলতে এইবার প্রচেষ্টার কাজ গুলো করতে গিয়ে আমার বেশ কিছু পিচ্চিদের নিয়ে কাজ করতে হইছে।আর বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করার চেয়ে কঠিন কাজ খুব কমই আছে । “জ্যোৎস্না” নামের শর্টফিল্মটার যে জোসনা ক্যারেক্টার টা করছে ওকে দিয়ে ডায়ালগ বলানো ছিলো ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এবং এক সময় সে রাগ করে বলা শুরু করলো ” আমি এইসব বলুম না,আসুম না আর পরের দিন থেইকা ” ওকে বুঝায় শুনায় পরে আনা বেশ কঠিন ছিলো । কিন্তু ব্যাপারগুলা আসলে অনেক মজার ছিলো।

খোশগল্প.কম: শর্টফিল্ম ছাড়া এই সেক্টরেই আর কিছু করার ইচ্ছা আছে আপাতত?

শাহেদ: না, আপাতত পড়ালেখা নিয়ে বেশ ব্যস্ত আছি, ফাইনাল ইয়ার চলছে । আর বড় কিছু করার জন্য অনেক টাইম দরকার, তার চেয়েও বড় কথা অনেক শিখার দরকার,আমি বলতে গেলে কিছুই জানি না এখন। আরো অনেক কিছু শিখার বিষয় আছে । তবে সময় সুযোগ হলে অবশ্যই বড় কিছু করার ইচ্ছাতো আছেই।

খোশগল্প.কম: সবশেষে নিজের কাজগুলো সম্পর্কে কিছু বলুন।

শাহেদ: আমার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজের ইমাজিনেশন আরেকজন কে বুঝানো। আর একজন ডিরেক্টরের কাজ হলো এই কঠিন কাজটাই করা। একটু ইন্ট্রোভার্ট হওয়ার কারনে ব্যাপারটা আমার কাছে আরো চ্যালেঞ্জিং। বাট আই লাভ টু ডু ইট। এখন বাজেটের অভাব , ভালো ইক্যুপমেন্ট এর অভাব বোধ করি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ একদিন এই অভাব থাকবে না। মনের মতো কিছু বানাতে পারবো।এখনো নিজের কোনো কাজই মনের মত হয় নি , অপেক্ষায় আছি একদিন হয়ত হবে । এখনো তো অনেক দূর পথ বাকি।

খোশগল্প.কম: অবশ্যই। আপনার সামনের কাজগুলোর জন্য অনেক শুভকামনা।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত