আর দশটা স্বাভাবিক ছাত্রের মতই জীবন কাটান শরীফুল আলম শুভ, অনার্স শেষ সেমিস্টারে এসে হঠাত করে খেয়াল করছেন তার জীবনে কোন লক্ষ্য নেই, পেছনেও কোন স্বপ্ন দেখেননি; বর্তমান যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেভাবেই কাটাচ্ছেন।কথা বললেন বর্তমান সময় নিয়ে….

আজকের ভাবনাকে কালকের সাথে আমি মিলাইতে পারি না তাইলে আগামী এক দুই বা পাঁচ বছরের ভাবনার সাথে কীভাবে মিলবে

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 10:40 পূর্বাহ্ন

shuvo

 

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

শুভ: আছি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

 

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা কোথায় থাকতেন বা বড় হওয়ার সময়টা বলেন।

শুভ: ছোটবেলায় ছিলাম গ্রামে, জয়পাড়া, এইটা ঢাকা জেলাতেই।ইন্টার পর্যন্ত ঢাকাতেই ছিলাম।ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে কোচিং এর জন্য ঢাকায় আসছি।আর মাঝখানে রাজনৈতিক একটা ঝামেলার জন্য ৩মাস ঢাকাতেই ছিলাম।

খোশগল্প.কম: কি ঝামেলা ?

শুভ: আমি টুকটাক পলিটিক্সের সাথে জড়িত এইটা জানো তুমি, তো টেস্ট পরীক্ষার সময়ে ঐখানে একটা মারামারি হইছিলো, ঐ মারামারিতে আমার ঢাকাতে আসতে হইছে।

 

খোশগল্প.কম: রাজনীতি আপনি কখন থেকে করেন?

শুভ: রাজনীতি করি এস.এস.সি এর আগে থেকেই, তখন থেকেই টুকটাক রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম, এই নির্বাচনী প্রচারণা, এইগুলা দিয়েই আস্তে আস্তে শুরু করি।ঐখান থেকেই ধীরে ধীরে এই পর্যন্ত।

 

খোশগল্প.কম: রাজনীতি কেন শুরু করলেন?

শুভ: আসলে আমার ফ্যামিলিতে অনেকেই রাজনীতি করে, তাদের লাইফস্টাইল আমি দেখছি, তাদের এলাকায় যে সম্মান, যে শ্রদ্ধা, সেটা ভয় পেয়ে হোক আর ভালোবেসে হোক সম্মান পায় এলাকায়, মানুষ তাদের মানে।তো ঐ খান থেকে একটা আগ্রহ জন্মাইছে যে মানুষ আমাকে মানবে, মানুষ আমার কথা শুনবে।এর জন্য আর কি রাজনীতিতে ঢুকা, একটা সময় করতে করতে এটার প্রতি নেশার মত হয়ে গেছে। তখন মনে হইতো এইটা ব্লাডের সাথে মিশে গেছে, এখন তো কম জড়িত।

 

খোশগল্প.কম: কমিয়ে দিয়েছেন কেন?

শুভ: এটা কম হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তো মিল দেখতে পাচ্ছি, এখন যেটা বুঝতেছি রাজনীতি কইরা বড় হইতে হইলে আসলে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হবে।রাজনীতি আসলে অনেক কঠিন একটা ব্যাপার।যার কারণে আমার সম্পৃক্ততাটা কমে গেছে, আর বড় কথা পড়াশোনা আছে।

 

খোশগল্প.কম: পড়াশুনাই একমাত্র কারণ?

শুভ: আমি আসলে পড়শোনার জন্যেই ছাড়ছি।সারাজীবন তো পড়াশোনা করি নাই, এখন তো শেষের দিকে।বিগত ৪ বছরেরে রেজাল্ট আমার খুবই খারাপ, এখন এই রেজাল্ট তো আমার ভালো করতে হবে এই জন্য আমি চেষ্টা করছি রেজাল্ট টা একটু আপডেট করার জন্যে।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে কি রাজনীতিতে আবার ফিরে যাবেন?

শুভ: হ্যাঁ ইচ্ছা আছে।তবে সেটা সময়-পরিস্থিতি সব কিছু বিবেচনা করে।

 

 

খোশগল্প.কম: এই ইউনিভার্সিটিতে কেন পড়ছেন?

শুভ: আসলে কি ছোটবেলা থেকেই টার্নিং পয়েন্ট গুলাতে যে ডিসিশন নিতে হয় সব ডিসিশান আমার বাবা নিছে, নাইনে আমি সাইন্স নিবো না আর্টস নিবো না কমার্স নিবো এই সব ডিসিশান আমার বাবা ঠিক করে দিছে।নাইনে সাইন্স দিছে, পড়তে হবে, ইভেন তুমি জানো যে S.S.C তে অপশনাল সাবজেক্ট থাকে, আমার অপশনাল সাবজেক্ট কোনটা থাকবে, কোনটা কম্পোলসরি থাকবে এইগুলা আমার বাবা ঠিক করে দিছে।

ইন্টার এর পর আব্বা বললো, ঢাকায় ঘুরে দেখ কোন ইউনিভার্সিটি তোর পছন্দ, পাবলিকে তো চান্স পাই নাই, ন্যশনালে পড়ার চিন্তা নাই, আব্বার ও ইচ্ছা নাই, আমাকে যখন বললো খোঁজ-খবর নিতে, আমি তো নিতে পারলামই না।পরে আব্বার এক বন্ধুর ছেলে পড়তো এই ইউনিভার্সিটিতে, উনি বললো এই ইউনিভার্সিটি নাকি খুব ভালো, পড়ালেখার মান খুব ভালো, সে আমার বাবারে বুদ্ধি দিলো, পরে ভর্তি হইলাম, পরে বুঝতে পারলাম আমি কারো রেফারেন্সে ভর্তি হলে এবং যার রেফারেন্সে ভর্তি হবো সে ৪০০০ টাকা পাবে, তো ঐ ৪০০০ টাকার লোভে আমাকে এই জায়গায় এনে ফেলে দিছে, আমিও পইরা আছি।

এইখানে একটা মজার ব্যাপার আছে, একদিন আমাকে ঐ ভাইয়াটা খুব পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে  বলতেছে ‘শুভ, এইখানে কিন্তু ছেলে আর মেয়েদের আলাদা আলাদা ক্লাস’ এইটা শুনে তো আমার তো জ্বলে যাইতেছে, কিন্তু তারে তো বুঝতে দিতেছি না, বাইরে তো বলতেছি তাতে কি ভাইয়া, সমস্যা নাই, আমি তো এখানে পড়ালেখা করতে আসছি, মেয়ে দেখতে না, হা হা হা, এইভাবেই চলতেছে।

 

খোশগল্প.কম: আফসোস হয় ?

শুভ:এই পর্যন্ত আমার লাইফে কোন কিছু নিয়ে আফসোস নাই।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আপনার আগ্রহ কিসে কিসে ?

শুভ: আমার সবকিছুই ভাল্লাগে, আডা দেয়া, কাজ করা, পরীক্ষার আগে বই নিয়া পইড়া থাকা সব কিছুই ভাল্লাগে।

আর তীব্র আকাঙ্ক্ষা একটাই, রাজনীতি কইরা বড় হওয়া, হা হা হা।

 

খোশগল্প.কম:আপনার ফ্রেন্ডরা বলে আপনি ভালো গান গাইতে পারেন।আপনি কি বলবেন?

শুভ: আমার গান গাইতে আলো লাগে।

হ্যাঁ, আমি ভালো গান গাই না, কিন্তু গান গাই।কোন জায়গায় গান গাওয়ার আগে ক্ষমা চেয়ে নিই।

 

খোশগল্প.কম: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিলো আপনার?

শুভ: না, হইছে কি আমার মা গান গায়, ভালো কন্ঠ তাঁর।বাসায় মাঝে মাঝে বলি ‘মা, গান গাও’ মা গাইতো, আমিও মাঝে মাঝে গাইতাম, তো মা বলতো যে আমার কন্ঠ নাকি মোটামুটি ভালো।মা যখন বলছে আমি ভালো গান গাই, তখন ভাবলাম আমি হয়তো খারাপ গাই না।

 

খোশগল্প.কম: কবে থেকে?

শুভ: এটা অনেক ছোট থেকে, প্রাইমারী লেভেল থেকে।

 

খোশগল্প.কম: অনার্স শেষ কি করবেন ভাবছেন?

শুভ: আসলে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে আইসাও আমি আমার জীবনের এইমটা এখনো ঠিক করতে পারি নাই।কর্ম জীবনের সাথে জড়িত এরকম কিছু আসলে আমি কখনই ভাবি নাই, আর স্বপ্ন তো নাইই।

 

খোশগল্প.কম: স্বপ্ন নাই তাহলে আপনার জীবন নিয়ে কি কোন পরিকল্পনাও নাই?

শুভ: না ঐরকম না, আমার মধ্যে কি হয় আমার মনে হয় আমার আজকের ভাবনাকে কালকের সাথে আমি মিলাইতে পারি না তাইলে আগামী এক দুই বা পাঁচ বছরের ভাবনার সাথে কীভাবে মিলবে।এই জন্য চিন্তা-ভাবনা করা হয় নাই, আর চিন্তা-ভাবনা করার চিন্তা এখনো আমার মধ্যে গ্রো করে নাই।

চলতেছে।

 

খোশগল্প.কম: আপনার বন্ধু রাদিব বা মিশু ভাইয়া বলেন আপনার অবজার্বভেশন পাওয়ার নাকি বেশ ভালো-আপনি কি বলবেন?

শুভ: এইটা তো আসলে মিরাকুলাস ব্যাপার।তবে হ্যাঁ, গড আমার ব্যাপারে সহায়ক।আমি যেগুলা ভাবি যে এইগুলা আমার জন্যে খারাপ হইতে পারে অইগুলা আমার সাথে হয় না।

 

খোশগল্প.কম: না, মিরাকুলাস না, মানসিকতার দিকটা বলতে পারেন, এইটার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি।

শুভ: হ্যাঁ, চারিত্রিক/মানসিক ব্যাপার যদি বলো হ্যাঁ, আমি কিছুটা বুঝতে পারি আইডিয়া করে নিতে পারি।

আমার কাছে মনে হয় চেহারার মধ্যে মানুষের অনেক কিছু ফুটে উঠে।একটা মানুষ কেমন, তাঁর চরিত্র, ব্যাক্তিত্ব কেমন, এগুলা অনেকটা চেহারার মধ্যেই থাকে, বুঝা যায়।সব সময় তো এটা হয় না।

আর লজিকালি ও কিছু জিনিস বের করতে পারি।একটা উদাহরণ দিতে পারি, আমি তখন স্কুলে পড়ি, তো আমার এক ফ্রেন্ড ওর কাছে আমার কোন একটা জিনিস ছিলো।তো আমি ওরে ফোন দেই ও রিসিভ করে না, পরে যখন আসলো তখন জিজ্ঞেস করলে বললো যে আমি ঢাকা থেকে আসছি, বাসে ছিলাম এই জন্য রিসিভ করি নাই।আমি ওরে বললাম পেছনে ঘোর, ও ঘুরলো।তারপর বললাম যে একটা থাপ্পর দিয়া তোমার দাঁত ফালায়া দিবো।কি দেখলাম বলি, ও যদি বাসে করে আসে তাইলে ও যে সিটে হেলান দিছে ওর শার্টে কিন্তু ভাজ পড়ে থাকবে, বাসে বসে আয়রণ করবে না, তো ওর শার্ট দেখে বুঝলাম ও মিথ্যা বলতেছে।এগুলা তো আসলে সবারই থাকে।এইটা আসলে অবজার্ভেশন না।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে সচেতন ভাবে চর্চা করেন?

শুভ: এইগুলা তো আসলে বাই বর্ণ, এগুলা তো আমি সাধনা করে নেই নাই।

সত্যি কথা বলতে জীবনে তো অনেক মানুষের সাথে মেশা হইছে তো ঐ মেশার অভিজ্ঞতাই কিন্তু মাথায় কাজ করে।তুমি যেভাবে বলতেছো ওরকম কিছু না।

খোশগল্প.কম: আপনি ট্রান্সলেশন করেন কি নিজের আগ্রহ থেকে?

শুভ: ছোটবেলা থেকেই ইংলিশ এর প্রতি আমার দুর্বলতা ছিলো, অন্য সাবজেক্টের চাইতে এই সাবজেক্টে বেশী ভাল্লাগতো।পড়তাম না কিন্তু স্কুল থেকেই বানিয়ে লিখতে পারতাম।বেসিক যেহেতু ভালো ট্রান্সলেট করতে পারবো মনে হইছে।

 

খোশগল্প.কম: কোন স্পেসিফিক বা বিখ্যাত বই কি অনুবাদ করার ইচ্ছা আছে?

শুভ:ইচ্ছা আছে, আমি আসলে আরামপ্রিয় মানুষ।ঘরে কাজ দিবে, ঘরে বসে কাজ করবো এই রকম।সেই চিন্তা থেকে ট্রান্সলেশন একই রকম কাজ।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে অনুবাদক হবার কথা ভাবেন?

শুভ:অভিয়াসলি, কেউ যদি করতে দেয় অবশ্যই করবো।

 

খোশগল্প.কম: বই পড়েন?

শুভ: পরীক্ষার সময় তো আগ্রহ হয় ই।এর বাইরে গত দুই মাস যাবত আমার বাইরের বই পড়তেও ভাল্লাগছে।রিসেন্টলি যেটা পড়লাম রাজনীতি নিয়ে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি ছাত্রলীগই কেন করেন?

শুভ: যদি একদম প্রাথমিক ভাবে বলতে হয় আমার ফ্যামিলির ৯৯% আওয়ামিলীগ করে।

 

খোশগল্প.কম: আপনার আদর্শগত অবস্থার কথা বলেন।

শুভ:হ্যাঁ ঐটাই বলছিলাম। বঙ্গবন্ধু, পার্সোনালি আই লাইক হিম মোস্ট, বাংলাদেশ গড়তে তাঁর যে অবদান এইটা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নাই।তার যে ত্যাগ, আরেকটা বিষয় কি, উনি যদি সাকসেস্ফুলি পলিটিক্স করতেন তাও হয়তো ওনার প্রতি আমার নেশাটা হইতো না, কিন্তু শেষে যে ট্রাজেডি টা হইলো তাঁর জীবনে, পরিবারের সবাইকে একসাথে মাইরা ফেলা হইলো, সবকিছু মিলায়া তাঁর প্রতি আমার একটা আলাদা সম্মান, আলাদা ভালোবাসা তৈরী হইছে।আর আদর্শের কথা যদি বল, রাজনীতি যদি করি তাইলে তাঁর আদর্শেই করবো।

 

খোশগল্প.কম: আওয়ামিলীগ বাদেও, অন্যান্য আরো দল ও তো আছে, যেগুলো হয়তো ওরকম ভাবে লাইট না, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দিয়েই রাজনীতি করে।

শুভ: আচ্ছা ফ্রাংকলি বলি, আদর্শের দিক দিয়ে বললে কোন রাজনৈতিক দলের অবস্থাই খুব একটা ভালো না।জাসদ-জামাত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ।কেউই যখন ভালো না তাহলে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলেই আমি থাকি, যেহেতু কেউই ভালো না।

আরেকটা কথা ‘ফাটাকেষ্ট’ ছবির মিঠুন চক্রবর্তীর একটা লাইন আমি প্রায়ই বলি, প্রায়ই ভাবি যে আমি যদি রাজনীতি করি তাহলে এটা করবো, কথা টা হচ্ছে রাজনীতি হচ্ছে ডাস্টবিনে ফেলা নোংরা জিনিসটার মত, সবাই এটাকে ঘৃণা করে, কিন্তু কেউ এইটাকে তুইলা পরিষ্কার করতে চায় না।কিন্তু আমি এটা করতে চাই, আমার ক্ষুদ্র পরিসরে আমার যতটুকু করা সম্ভব।

 

খোশগল্প.কম: সামনে তাহলে রাজনীতিতে থাকবেন?

শুভ: এখনো পর্যন্ত আছে, আমি ভবিষ্যতে রাজনীতি করবো।

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ এতক্ষণ কথা বলার জন্য।

 

 

 

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত