মোস্তাফিজুর রহমান, একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে অনার্স করা ছাড়াও করছেন ফাজিল।পাশাপাশি মেডিক্যাল নিয়ে করেছেন ১ বছরের শর্ট কোর্স।দ্রুত চাকরিতে ঢোকার চাইতে জানার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে বললেন ‘আজীবন তো মানুষ শুধু চাকরিই করে, কাজই করে, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের সময় কিন্তু শেষ’

আজীবন তো মানুষ শুধু চাকরিই করে, কাজই করে, জ্ঞান অর্জনের সময় কিন্তু শেষ

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 4:59 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: প্রথমে আপনি আপনার পরিচয় দেন যেভাবে নিজেকে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মোস্তাফিজ: আমার নাম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ।ছোটবেলায় ওখানেই পড়ছি, প্রাইমারী স্কুলে।এর পর উপজেলার ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি, দাখিল করছি, আলিম পড়ছি আবার ফেনীতে, আবার উপজেলায় যায়া ফাজিল কমপ্লিট করছি ওখানে, ফাজিলে পড়ার সময় এইখানে আসছি, দুইটা একসাথে পড়ছি আর কি।এখানে ইউনিভার্সিটিতে ইংলিশে অনার্সে ভর্তি হইছি, আর ঐখানে ফাজিল মানে ডিগ্রী পড়ছি, প্রায় একসাথেই দুইটা শেষ।

 

খোশগল্প.কম: দুটোই কন্টিনিও করার কারণ কী?

মোস্তাফিজ: আমার ওখানে মাদ্রাসায় পড়ার ইচ্ছা ছিলো না আমার, কিন্তু আমার আব্বা-আম্মা চাইতেছিলো মাদ্রাসায় পড়ি, এক্ষেত্রে আমার সার্টিফিকেট যেগুলা ছিলো ওগুলা আমি আমার ইউনিভার্সিটিতে জমা দিছি, আর মাদ্রাসায় জমা দেয়ার মত কাগজ আমার কাছে ছিলো না, কিন্তু মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আইসা বলছে তোমার কাগজ-পত্র জমা দেয়া লাগবে না তুমি এমনেতেই আইসা পরীক্ষা দিও।তো ঐ সুযোগ নিলাম, পরীক্ষা দিলাম, ফাইনাল রেজাল্ট আসেনাই এখনো।

 

খোশগল্প.কম: ধর্ম শিক্ষাটা কি পারিবারিক আবহের কারণে হয়েছে?

মোস্তাফিজ: হ্যাঁ, আমরা ৪ ভাই এক বোন।আমার আব্বা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন, উনি ১৬ বছর যাবৎ আমাদের এলাকাতে মসজিদের ইমাম।যেহেতু উনি আলেম মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ-নছিহত করেন তো আমার ঘরেও ঐরকম ইসলামিক মাইন্ডের, আমার বোনকে কেউ দেখে না, আমার ভাবীদের কেউ দেখে না এরকম একটা পরিবেশে।

যেমন আরেকটা ব্যাপার আছে আমাদের ঘরে কিন্তু এখন পর্যন্ত টেলিভিশন ও নাই, চিন্তা করছেন? এখন এই সময়ে।আমার ল্যাপটপ আছে, এইখানে গান-টান শুনতে পারি, বাড়িতে গেলে সেই সুযোগ নাই।

আমার বড় ভাই কলেজে পড়ছে, মেজ ভাই আবার মাদ্রাসায়, সেজ ভাই কলেজে, উনি ইঞ্জিনিয়ার।আমার ছোট বোন নোয়াখালী সরকারী কলেজে অনার্স করতেছে।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে ধর্ম শিক্ষার বাইরে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার ক্ষেত্রে আপনাদের কোন রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয় নাই?

মোস্তাফিজ: না ঐ ক্ষেত্রে কোন সমস্যা করা হয় নাই, পড়তে পারবে।আমি যে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইছি সমস্যা নাই, তুমি মাদ্রাসায় পড়ো বা ইউনিভার্সিটিতে করতে চাইতেছো।

 

খোশগল্প.কম: পারিবারিক আবহই তো আপনার ধর্ম শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিলো, সেখানে মাদ্রাসা আসলে কতটা জরুরী আপনার মনে হয়?

মোস্তাফিজ: মাদ্রাসায় পড়াইছে কুরান-হাদিস ভালোভাবে জানার জন্যে, ধরেন আমরা তো লাইফ আফটার ডেথ এ সবাই বিশ্বাস করি, মৃত্যুর পর যে একটা জীবন, কিয়ামত, হাশর এগুলা তো সবাই বিশ্বাস করি, এখন এগুলা জানার জন্য শুধু কোরান-হাদিস তো এনাফ না, সেই হিসেবে ভালো কাজ করার জন্য আমাদের ধর্ম শিক্ষা দরকার আছে, ধর্ম শিক্ষাই কিন্তু আমরা ধর্ম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান গুলা জানতে পারবো, যে কোন ধর্মই জানার জন্য কিন্তু শুধু ধর্মগ্রন্থ এনাফ না।

আমি ঢাকাতে থাকলে হয়তো দেখা যায় বন্ধু-বান্ধবের সাথে গল্প করতে করতে সময় পার হয়ে যায়, পড়িই না ওরকম ভাবে, অনেক সময় হয় না ঐরকম ভাবে ধরেন এক জায়গায় গেলাম, আসরের নামাজটা হইলো না।কিন্তু বাড়িতে থাকলে এই রকম হবার উপায় নাই, নামাজ পড়বো না আমি বাড়িতে থাকতে পারবো না, নামাজ পড়াই লাগবে।সকালে একদম ভোর বেলায় উঠাই দিবো, ফজরের আগে, অজু করে মসজিদে নামাজে যাইতে হবো ওখান থেকে বাড়িতে আইসা কোরান তেলওয়াত করতে হইবো এর পর আপনি আইসা ঘুমান বা নাস্তা করেন যা করেন সমস্যা নাই কিন্তু ঐ রুটিন আপনাকে মানতেই হবে।

 

খোশগল্প.কম: যেহেতু আপনি মাদ্রাসায় একটা লম্বা সময় পড়েছেন, আপনার কাছে স্কুল আর মাদ্রাসার মধ্যে কোন পার্থক্য চোখে পড়ে?

মোস্তাফিজ: পার্থক্য তো অবশ্যই, পড়া না দিতে পারলে মারে, মাদ্রাসায় আমি যখন হাফিজিয়া পড়তাম তখন আমি মাদ্রাসায়ই থাকতাম, তা ছাড়া আমি বাড়ি থেকে যায়া পরছি।তো ঐ হাফিজিয়া আমি বেশী দিন পড়িনাই, হাফিজ হইতে চাই নাই আর কি, চিন্তা করছি এমনেই পড়মু, মানে হাফিজ হইতে চাইনাই আর কি, চিন্তা করছি জেনারেল লাইনে পড়ব, সরকারি মাদ্রাসায়।

আমরা যেটা সরকারি মাদ্রাসায় পড়ছি ঐখানে নরমাল লাইনে যারা পড়ে তাদের শুধু তাদের ধর্মের একটা সাবজেক্ট থাকে ইসলাম বা হিন্দু ধর্ম।কিন্তু ঐটা খুবই অল্প, কিন্তু আপনি মাদ্রাসায় পড়লে বাংলা,ইংরেজী,অংক,বিজ্ঞান, সমাজ এর সাথে আরবী বিষয় গুলা জানলেন, কোরান জানলেন, হাদিস জানলেন, ফিকাহ, মাসয়ালা-মাসায়েল জানলেন, অনেক বিষয়।মানে ধর্মীয় বিষয় গুলা ভালোভাবে জানা যায় আর কি।

 

খোশগল্প.কম: আপনি যখন মাদ্রাসায় পড়তেন সেই সময়ে অন্য কেউ স্কুলে পড়ছে, সেই সময়ে এইটা নিয়ে আপনার কী মনোভাব কাজ করতো?

মোস্তাফিজ: আমি দেখতেছি সরকারী মাদ্রাসা থেকে আমি দেখতেছি ভালই করতেছে, এমনকি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতেও চান্স পাইতেছে, প্রথমও হইতেছে মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা তাইলে আমার দঃখ পাবো কেন, সমস্যার তো জায়গা নাই।আর ঐ মাদ্রসায় সবই তো পড়তে পারতেছি, সাইন্সও, শুধু কমার্স ছিলো না, আর্টস আছে, সাইন্স ও আছে।

 

খোশগল্প.কম: রান্না নিয়ে আপনি এইখানে খুব প্রশংসিত আছে, এইটা কী সচেতনভাবে চর্চা করতেন?

মোস্তাফিজ: হ্যাঁ, কিছুটা ইউটিউব থেকে দেখে দেখে শিখছি, সাধারণ রেসিপিগুলা, এগুলা আসলে করতে করতে হয়ে যায়।রান্না-বাড়াও কিন্তু একটা আর্ট, এর উপরে এখন সাবজেক্ট ও আছে, হোটেল ম্যানেজমেন্ট এবং খুব ডিমান্ডেবল সাবজেক্ট এখন।আপনি মন দিয়ে করলে শুধু রান্না না, যে কোন কাজই মন দিয়ে করলে খুব ভালোভাবে করতে পারবেন, ভালো হবে, মজা হবে।শুধু দায়িত্ব পালনের জন্যে যদি করেন, বুয়ারা যেমন করেন অইগুলা ভালো হয় না, অনেক বেশী আগুন দিয়া দিবে, অনেক বেশী আগুনে রান্না হবে তাড়াতাড়ি ঠিকই কিন্তু স্বাদ হবে না।আস্তে করে আগুন দিয়া রান্না করতে হবে।

তবে ওরা বাড়ায়া বলে, অত না, মোটামুটি।তবে ভালো করতে চাই।

আমার একটা শখের মধ্যে আছে ভ্রমণ, উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, হাতিয়া, বগুড়া, রাঙ্গামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, নিঝুম দ্বীপ অনেক জায়গায় ঘুরছি।আমার ভ্রমণের শখ সবচেয়ে বেশী।দেশের বাইরে যাওয়ার জন্যে এর মধ্যে পাসপোর্ট করছি, পরীক্ষা শেষ হইলে ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্ডিয়া যাবো, আগ্রা আর দার্জিলিং যাওয়ার চিন্তাটা প্রথমে আছে তারপর দেখি আর কোথায় কোথায় যাওয়া যায়।

 

খোশগল্প.কম: পেশার ক্ষেত্রে আপনার প্যাশন কী?

মোস্তাফিজ: আমি সবসময় শিক্ষক হইতে চাইতাম, চাই।এরপরে বিভিন্ন রকমের ছিলো, একেক সময়ে একেক টা পরিবর্তন হইছে, কিন্তু শিক্ষকটা সবসময় হইতে  চাই।এখন মনে করি যে ব্যবসা করবো।এখনো শিক্ষকতা আর ব্যবসা।সফলতার জন্য ব্যবসা করা দরকার।আমার মেডিসিনের ব্যবসা করার ইচ্ছা।

 

খোশগল্প.কম: মেডিসিনে কেন?

মোস্তাফিজ: এইটা নিয়ে কাজ করছি আমি, ১ বছরের প্যারামেডিক্যাল কোর্সটাও করছি।বাংলাদেশে তো আসলে যে পরিমাণ ডাক্তারের চাহিদা আছে ঐ পরিমান ডাক্তার তো দেশে নাই।আমি গ্রামে গিয়ে যদি প্রাথমিক চিকিৎসাও দিতে পারি অন্তত আমার গ্রামের কিছু মানুষও তো সেবা পাবে।আমি এখন একটা বড় ভাইয়ের সাথে আছি, উনি বিমানবাহিনীর ডাক্তার, ওনার বাসাবোতে চেম্বার আছে, ওনার সাথে থেকে ইন্টার্ন করতেছি।

ধরেন আমি একটা স্কুলের টিচার, আমি তো অবসর থাকবে তখন যদি বিকালে বা রাত্রে এই ব্যবসা যদি করি খারাপ না তো।

 

খোশগল্প.কম: ঢাকায় থেকে করবেন নাকি আপনার এলাকায় গিয়ে?

মোস্তাফিজ: ঢাকায় থাকার ইচ্ছা।ঢাকার অন্যরকম একটা টান আছে, একটা মায়া আছে, ছাড়া যায় না।বাড়ি যায়া বেশীদিন থাকতে ইচ্ছা হয় না।ঢাকা অন্যরকম, চট্রগ্রামে ছিলাম আমি। চট্রগ্রাম অত বেশী টানে না ঢাকার মত।

আমি আসলে এখনি চাকরি-বাকরির চিন্তা করতে চাই না।পড়াশুনা করবো এখন, আমি যদি এখন কোন একটা চাকরি-বাকরিতে ঢুকি, বা যে কোন একটা ব্যবসায় ঢুকি, ঢুকতেই পারি কিন্তু পড়ালেখার এই সময়টা কিন্তু আর আসবে না, এই শেষ।এই দু’য়েক বছর পর তো করতেই হবে।আজীবন তো মানুষ শুধু চাকরিই করে, কাজই করে কিন্তু জ্ঞান অর্জনের সময় কিন্তু শেষ।যে কোন চাকরি করেন পড়ার সময় কিন্তু পাবেন না।জানার কত বিষয় আছে যেগুলা জানি না, অনেক বিষয়।

 

খোশগল্প.কম: জানার ক্ষেত্রে বিশেষ কোন ক্ষেত্র আছে?

মোস্তাফিজ: জানার তো অবশ্যই আছে।যেমন রাজনীতি নিয়ে জানার আমার অনেক ইচ্ছা আছে।আবার একটা রাজনৈতিক দল পিডিবি’র সাথেও মোটামুটি সম্পৃক্ত আছি।এটার সাথে প্রায় ২ বছর ধরে যুক্ত আছি।পিডিবি’র সাথে থাকি গণতন্ত্র সম্পর্কে জানার জন্যে।এখন যে আন্দোলন গুলো হচ্ছে আমার কাছে মনে হচ্ছে স্বচ্ছ উদ্দেশ্য।

 

খোশগল্প.কম: রাজনীতিতে কি সক্রিয় হবার চিন্তা থেকেই ওখানে গিয়েছেন?

মোস্তাফিজ: আমি বললাম না জানার আগ্রহ, আমি আসলে এই আগ্রহ থেকেই গেছি।রাষ্ট্রচিন্তার যে কর্মশালাগুলা আছে আমি ওগুলাতে যাই আমি অনেক কিছু জানতে পারছি ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে।টোটাল একটা আইডিয়া আমার আসছে।তো ওদের ভালো আন্দোলনের সাথে আমি আছি।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত