ইলেক্ট্রিকাল কাজ শিখে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে, সেখান থেকে দেশে ফেরেন নিজের প্রতিষ্ঠান তৈরির চিন্তা করে।কিন্তু দেশে কাজ জানা লোকের অভাব আর নানান সমস্যায় বাঁধা পড়ে কাজ এগিয়ে নেয়া।এখন যদিও নিজে ব্যাবসাই করছেন তবুও নিজে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন।

আপনি যেই দেশেই যান আপনার মনে হইবো আপনি কতক্ষণে নিজের দেশে ফিরবেন

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 10:14 পূর্বাহ্ন

10881615_1389520004681808_6217833811467187290_n

 

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

উজ্জ্বল: ভালো।

 

খোশগল্প.কম: আপনি নাকি বেশ কয়েকবছর বিদেশ ছিলেন, কি করতেন ওখানে?

উজ্জ্বল: একটা হসপিটালে ছিলাম, মেকানিক্যাল সব কাজ করতে পারি।এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এইরকম সব মেশিন সারতে পারি।ঐ খানে এই কাজই করতাম, থাকতাম ও ঐখানেই, বড় হাসপাতাল ছিলো, প্রতিদিনই কোন না কোন  সমস্যা থাকতো।
খোশগল্প.কম: এখন কি করছেন?

উজ্জ্বল: এখন ক্রোকারিজে নিজেদের ব্যাবসা আছে, অইটার গোডাউনে বসি।

 

খোশগল্প.কম: আপনি যে কাজ পারতেন ঐটা পুরোপুরি ছেড়ে দিছেন?

উজ্জ্বল: ছাড়ি নাই, কিন্তু করার উপায় ও তো নাই।এইখানে যদি ঐ কাজ ধইরা নিয়ে বইসা থাকতাম তাহলে কিছুই করতে পারতাম না।

 

খোশগল্প.কম: কেন?

উজ্জ্বল: দোকান দিয়া জিনিসপত্র সারা এইটি করা লজ্জার বিষয়, আমার ইচ্ছা ছিলো আরো কয়েকজন পোলাপান নিয়া একটা কোম্পানীর মত বানামু, কারো বাসায় ফ্রিজ, এসি, আয়রণ, ওয়াশিং মেশিন নষ্ট হইলে ফোন দিবো, ঠিক কইরা দিয়াইমু।কার্ড ও বানাইসিলাম, অনেকেরে দিসিলাম ও, কিন্তু কাজটা চালায়া পারি নাই।

 

খোশগল্প.কম: কেন?

উজ্জ্বল: ফ্রিজ বাদে ঢাকায় কয়টা মানুষের ইলেক্ট্রনিক জিনিস আছে কন, তার উপরে এইটা তো পুরান ঢাকা।তার উপরে আরেক কথা কাজ শিখছে এমুন পোলাপানই নাই।সবাই এইখানে আইসা কাম শিখতে চায়, এমতে চালাইতে পারি নাই।ইচ্ছা ছিলো নিজের একটা কোম্পানি খুলনের।

 

খোশগল্প.কম: এখন যে দোকান চালাচ্ছেন এইটাও তো বড় পরিসরে, নিজেদের, তাহলে?

উজ্জ্বল: নিজেদের কিন্তু এই জায়গায় তো করার মত কিছু নাই, আর এইটা পুরা আমার না, এইটা শুরু করছিলো আমার ভাইয়ে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি সৌদিতে ছিলেন কত বছর?

উজ্জ্বল: ১০ বছর।

 

খোশগল্প.কম: নিজে ব্যাবসা করবেন ভেবেই কি চলে আসছেন?

উজ্জ্বল: না, আমার ওয়াইফ অসুস্থ হয়া গেছিলো হঠাৎ তখন তাড়াহুড়া কইরা চলে আসতে চাইছিলাম, ছুটি পাই নাই।তারপর সব রাইখা চইলা আসছি, ও সুস্থ হইতে হইতে অনেক দিন পার হয়া যায় তারপর আর যাওয়াই হয় নাই।

 

খোশগল্প.কম: আবার যাওয়ার চিন্তা করেন নাই?

উজ্জ্বল: আসলে যায়া নতুন কইরা কাজ খোঁজা সম্ভব না আমার পক্ষে, তার জন্যে আর যাওয়ার চিন্তা করি নাই।মেয়েও হইছে ছোট।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ভাই বলছিলেন আপনাদের এইদিকে পড়ালেখার চর্চা খুব কম এই ব্যাপারে আপনার কি মনে হয়?

উজ্জ্বল: ও ঠিকই বলছে।

 

খোশগল্প.কম: যদি কিছু মনে না করেন আপনি কত দূর পড়ালেখা করেছেন?

উজ্জ্বল: না মনে করার কিছু নাই, আমি এইট পর্যন্ত পড়ছি, 9 এ উইঠা চাচারে বলছি পড়া আমার মাথায় ঢুঁকে না, আমারে দিয়া পড়া হইবো না, আমি পড়ুম না, আমারে কাজে দিয়া দেন।তারপর আব্বুর এক পরিচিত মেকার রে ধইরা ৬ মাস কাজ শিখা তারপর বিদেশ গেছিলাম।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে পড়ালেখা ছেড়ে দিলেও আপনার পরিকল্পনা গোছানো ছিলো, আপনি কি করবেন।

উজ্জ্বল: হ্যাঁ, ছিলোই তো।বংশের মধ্যে বড় ছেলে ছিলাম, পড়ালেখা করমু না বললেই তো হইলো না, তাছাড়া একটা প্রেম ও করছিলাম, তখন তাড়াতাড়ি কাজে ঢুইকা পড়া দরকার ছিলো।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ভাই বলছিলেন আপনারা গ্রামে থাকতেন ছোট বেলায়, বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় বলেন।

উজ্জ্বল: ঐ সময় গ্রাম আসলে খুব সোন্দর ছিলো, আমি যেহেতু বড় ছিলাম অনেক আদর পাইছি সবার।

 

খোশগল্প.কম: তারপর ঢাকায় আসলেনে কত বছর বয়সে?

উজ্জ্বল: গ্রামের স্কুলে 3/4 পর্যন্ত পড়ছিলাম, তারপর ঢাকা আব্বু বাসা নেয়।আইসা আটিবাজারে এক রুমের বাসায় থাকি, মাঝখানে পার্টিশন দিয়া ৩ ভাই-বোন মা-আব্বু থাকতাম।অনেক কষ্ট গেছে, মাসের শেষে মায় নানার বাসায় রাইখা আসতো, আব্বুয় বেতন পায়া বাকরখানি নিয়া যায়া আবার বাসায় নিয়াইতো।তারপর আরেক বাসায় গেলাম, ঐখান থে আরেক বাসায় গেলাম, তারপর তো বিদেশই গেলামগা।তহন আব্বু ভাড়া বাসার পাশেই ৪ কাঠা জমি কিনলো।তারও অনেক দিন পর বাড়ির কাজ ধরলো, যার জন্যে করলো সেও মারা গেলো।

 

খোশগল্প.কম: কে?

উজ্জ্বল: আমার মা।

 

খোশগল্প.কম: আপনার মার কি বাড়ির শখ ছিলো?

উজ্জ্বল: শখ না, আমরা যখন থিক্কা এক রুমের বাসায় থাকতাম, আব্বু অল্প কয় টাকা বেতন পাইতো, তখন থিক্কা মা এইটা নিয়া চাপ দিতো, তার কথা আমার ছেলেমেয়ে গ্রামে যাইয়া থাকতে পারবো না, ঢাকায় কিছু করো, ঢাকায় কিছু করো।জায়গা কিনো, দরকার হয় ছাপড়া তুইলা থাকুম।আল্লাহর রহমতে এখন আমাগো বাড়ি তো দেখতাছেন আশে-পাশের এলাকার মইধ্যে সবচেয়া আধুনিক, এইটার মধ্য একটা সোউন্দর্য আছে।কিন্তু যার দেখনের সেই মায়েই দেইখা যাইতে পারে নাই।

 

খোশগল্প.কম: বাড়ির কাজ শুরুর আগেই মারা গেছেন?

উজ্জ্বল: কেবল ১ তলা করছিলো, রঙও করা পারি নাই।

 

খোশগল্প.কম: আপনি এত বছর দেশের বাইরে ছিলেন কখনো নিজের দেশ আর সৌদি-আরব এই দুইটা কম্পেয়ার করেন নাই বা মনে হয় নাই এই দেশের তুলনায় ঐ দেশ থাকার যোগ্য।

উজ্জ্বল: বললে বিশ্বাস করবেন না আপনি যখন ঐ দেশে পা দিবেন তখন থিকা আপনে নিজে প্রতিষ্ঠিত হইলেও আপনার কহনো মনে হইবো না আমি এই দেশে থাইকা যাই।আপনি যত বড়ই হইয়া যানগা না কেন আপনার মনে হইবো আমি দেশে যাই দেশে যায়া মানুষরে দেখামু আমি কি হইছি।

 

খোশগল্প.কম: কিন্তু এই দেশ তো তো সৌদির মত না, অনেক দিক থেকেই পিছিয়ে আছে?উজ্জ্বল: পিছায়া থাকুক, সৌদিরে আমরা দেশে বইসা যত পূজা করি আসলে কিন্তু এমুন কিছুই না, উল্টা আমগোরি অগো থিকা বেশী লজ্জা বোধ আছে।ওরা খালি খারাপ কাজ দেখলে ‘যুবাব, যুবাব’ই কইয়া দূরে সইরা যায়।ইসলামটা ঐ দেশে প্রধান বইলা ধর্ম চর্চাটাও বেশি, এই আর কিছু না।আপনি যেই দেশেই যান আপনার মনে হইবো আপনি কতক্ষণে দেশে ফিরবেন, এইটা আসলে অন্যরকম ফিলিংস, এইটা যতক্ষণ আপনি দূরে না যাইবেন বুঝবেন না।

 

খোশগল্প.কম: যুবাব অর্থ কি?

উজ্জ্বল: খারাপ কাজ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার তো মূলধনে সমস্যা নাই, আপনার যেহেতু নিজের ব্যাবসা খোলার ইচ্ছা, অন্য কিছুও তো করতে পারতেন?

উজ্জ্বল: আমি যেই কাজ শিখছি, ঐটাই করতে চাই, অন্য কিছু না।

 

খোশগল্প.কম: আপনার এই ইচ্ছাকে সাধুবাদ, ধন্যবাদ এতক্ষণ কথা বলার জন্যে।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত