ঢাকা মেডিকাল এর নতুন বিল্ডিং এর ৮ তালার মহিলা ওয়ার্ডে গেলেই দেখতে পারবেন কিছু মহিলা এই রোগী অই রোগীর কাছে যাচ্ছে,কার কি দরকার সেটা যেনে টাকার বিনিময়ে কাজ করে দিচ্ছে।জীবনটা একটু বেশি সাদাকালো তাদের।তাদের মাঝেই একজন “হাজেরা”।সংসারে স্বামী বাচ্চা নিয়ে সুখেই ছিলেন কিন্তু ভভাগ্য তাকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে।

আপা এরাও যদি মানুষ না অয় তাইলে আমার আর থাকবো কি কন???

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 5:21 অপরাহ্ন

12185034_157116151306214_980453798808539083_o

খোশগল্প.কমঃ এই যে রোগীটাকে যে পরিস্কার করলেন খালা কেমন টাকা পয়সা আসে এখান থেকে?

হাজেরাঃ বেশি তো আয়েনা।যা আয়ে ওই দিয়াই চলতে অয়।

 

খোশগল্প.কমঃ যে কাজ গুলো করেন এগুলো তো আপনাদের উপরি ইনকাম বেতনের পাশাপাশি তাইনা খালা?
হাজেরাঃ কিয়ের উপরি!!আমার হইলো কষ্টের জীবন।কোন বেতন নাই।এই রোগীর পায়খানা প্রসাব পরিস্কার কইরা যা পাই তার আবার সমান ভাগ হয়।

 

খোশগল্প.কমঃ সমান ভাগ মানে? আপনার ইনকাম আপনার এটার সমান ভাগ হবে কেনো?
হাজেরাঃ খালা আমরা হইলাম বেসরকারী আয়া।আমরা যা কামাই তার অর্ধেক ওই সরকারী আয়াগো দেওন লাগে নাইলে কাজ দেয় না বাইর কইরা দেয়।

খোশগল্প.কমঃ হ্যা আমি এর আগেও এক লোকের কাছে শুনেছিলাম যে বের করে দিছে যারা টাকা নিয়ে কাজ করে
হাজেরাঃ হ খালা আমগোরেই।দুনিয়ার যত কাজ সব আমরাই করি,টাকা যা পাই তার ও আধা তাগো দেই আবার কথাও শুনি।আপনারে আগে কইনি আমার কষ্টের জীবন!!

 

খোশগল্প.কমঃ খালা কষ্ট পায়েন না আপনারা তো ভালো কাজ করছেন
হাজেরাঃ সংসার যদি চলতো তাইলে তো বুঝতাম এঈডা ভালা কাজ।দুই পোলা মাইয়া নিয়া ভালো মত চলতে পারিনা।

 

খোশগল্প.কমঃ আপনার দুই ছেলেমেয়ে?? কত বড় তারা?
হাজেরাঃ মাইয়া বড় পোলা ছোট কিন্তুক দেইখা আপনি বুঝবেন না।আমার মাইয়াডা অসুস্থগো খালা।বড় অয়না।

 

খোশগল্পপ.কমঃ ডাক্তার দেখাইছেন এখানে?তারা কি বলে?
হাজেরাঃ ডাক্তার কইছে যতদিন থাকবো দুনিয়ায় ততদিন অষুধের মাফ নাই।প্রতি সকালে একটা কইরা থাইরোক্সিন এর ট্যাবলেট খাওয়াইতে অয়।

 

খোশগল্প.কমঃ আর ছেলেটা?স্কুলে পাঠান?
হাজেরাঃ ছেলেটা ছোটতো এহনো তয় বাড়ির পাশে সরকারী স্কুলে পাঠামু।ছেলেটারেও যদি মানুষ করতে না পারি তয় জীবনডায় আমার তো কিছুই থাকলোনা।

 

খোশগল্প.কমঃ জী আপনি খুব ভালো একটি ডিসিশান নিয়েছেনছেলের এমনিতে পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কেমন?
হাজেরাঃ আগ্রহ আছে তয় ছেলে ও আমার অসুস্থ।একদম শুকনা।গায়ে জোর পায়না।

 

খোশগল্প.কমঃ তারা কই এখন?
হাজেরাঃ তারা আমার মায়ের বাসায় থাকে।মা পালে ওডিরে।

 

খোশগল্প.কমঃ আপনার মায়ের বাসা কই?কে কে থাকে?
হাজেরাঃ কেরানিগঞ্জ।আমার মায়ে,বাপে,বোইনে আর ভাইয়ে।

 

খোশগল্প.কমঃ ভাই বোন কি করে?
হাজেরাঃ বোন ইডেন কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে ভাই কিছু করেনা।

 

খোশগল্প.কমঃ আপনি এখান থেকে প্রতিদিন কেরানীগঞ্জ যাওয়া আসা করেন?
হাজেরাঃ নাহ খালায় কয় কি।দিনে যেদিন কাম করতে দেয়না ওইদিন রাইতে হেরা ঘুমাইলে কাম করি।বাড়িত যাই এমনি দুইদিনের জন্য।

 

খোশগল্প.কমঃ তো থাকেন কই এখানে?
হাজেরাঃ একডা ছোড রুম আছে পাশে অইহানেই থাকি সবাই।

 

খোশগল্প.কমঃ আপনার স্বামী কিছু করেনা?
হাজেরাঃ স্বামী থাকলে না করবো খালা।দুই বছর আগেই মইরা গেছে।

 

খোশগল্প.কমঃ কিভাবে??
হাজেরাঃ স্ট্রোক কইরা বিছানায় পইড়া ছিলো পরে হুট কইরা একদিন চইলা গেলো।

 

খোশগল্প.কমঃ কি করতেন উনি?
হাজেরাঃ মেডিকেল কলেজেই এক স্যারের গাড়ির ডাইভার আছিলো।

 

খোশগল্প.কমঃ নাম কি উনার?
হাজেরাঃ আলাউদ্দিন তবে এইহানে সবাই কালু নামে চেনে।

 

খোশগল্প.কমঃ বিয়ে হইছিল কবে আপনার? আর শ্বশুরবাড়ি কই?
হাজেরাঃ ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে।ক্লাস সেভেনে কয়ডা ক্লাস করছি,বই ও কিনছিলাম না সব।হেগো বাড়ি চাঁদপুর।

 

খোশগল্প.কমঃ চাঁদপুরেই থাকতেন সবাই?
হাজেরাঃ হ।সুখেই আছিলাম খালা।কিন্তু হে অসুখে পড়ার পর খালি ধইরা মারতো আর বাপের বাড়ি যাইতে কইতো।কইতো আমি পারিনা,বাচ্চা গুলারে রাইখা তুই কাজ কর।কিন্তু অসুস্থ মানুষডারে রাইখা কেমনে যাই খালা??তারপর একদিন এমন মাইর দিছে পরে না পাইড়া এলাকার এক ভাশুর বাড়িত রাইখা গেছে।তাও হে মাঝে মাঝে ফোন দিয়া কানতো।বাচ্চাগুলারে দাখতে চাইতো।এরপর হে মাঝ দিয়া ভালো হইছিল দুই আড়াই মাসের মতো।কাজ করছে।আমারে নিয়া যাইতে চাইতো কিন্তু ততদিন আম এক বাড়ি ত কাজ করি।মাস শেষ হয় টাকা দেয়না তাই আর যাইতেও পারিনা।পরে যেইদিন হে মইরা যায় হেইদিন সকালে ফোন দিয়া কয় তুমি বাচ্চাগুলারে নিয়া আস।আমি মাছ মারছি ওগুলা রানবা আমি তোমাগো নিয়ে একসাথে খামু তো আমি কইলাম কেমনে যাই এইহানে আমার কাজ।কয় তাইলে থাক।সেই মাছ আর আমার খাওয়া হইলোনা খালা।সেইদিন দুপুরে গোসলে ঢুকছি পড়ে খবর আইছে হে আর নাই।

হাজেরাঃ হের তো তেমন কেউ ছিলনা তাও যারা আছিলো তারা কেউ আর খোজ নেয়না।

 

খোশগল্প.কমঃ উনি মার যাওয়ার পর টাকা পয়সা কিছু পান নাই এখান থেকে?
হাজেরাঃ আমি তো ওইগুলা কিছু বুঝিনা তয় চাকরীডা সরকারী করনের জন্য লাইগা আছি এহনো।আর হের স্যাররের নাম্বার ছিল হের ফোনে ঈদ পরবে ফোন দিলে বাচ্চাগো জামা কাপড় আর কিছু টাকা পয়সা হাতে দিতো পরে ফোনডা একদিন হারাইলো সাথে নাম্বারডাও গেলো।

 

খোশগল্প.কমঃ দুপুরে খাইছেন? কই খান এখানে?
হাজেরাঃ এইহানে যে খাবার দেয় আপা ওগুলা খাওন যায়না কিইনা খাই নিচ থাইকা।তাও ভর্তা আর করল্লা ভাজি তয় আজ বাসা থাইকা খাওন দিয়ে যাইব।তাই বইসা আছি।

 

খোশগল্প.কমঃ অহ আপনার বাচ্চা দুইটারতো নামি শোনা হলনা
হাজেরাঃ মেয়ের নাম মাহমুদা।ছেলের নাম হের বাপে রাখছে আজিজুল হাকিম তয় মায়ের বাড়িত সবাই ডাকে মাহমুদার ভাই মেহেদী।

 

খোশগল্প.কমঃ খালা কষ্ট করতেছেন তবে বাচ্চাগুলাকে পড়াশোনা করায়েন
হাজেরাঃ আপা এরাও যদি মানুষ না অয় তাইলে আমার আর থাকবো কি কন???

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত