টিম.রকমারির খেলা কো-অর্ডিনেটর এই পরিচয়েই দিতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন মিশু, পুরো নাম মিশু হালদার।কাজ করছেন রকমারি.কম এর ক্রিকেট ইন্সটিউট ‘টিম রকমারিতে’।

আমরা বিশ্বাস করি ছেলেরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলার মধ্যে থাকলে নির্মল আনন্দ এর মধ্যে থাকবে

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 10, 2016 , 1:20 অপরাহ্ন

11203066_838993012861366_38850032831284841_n

খোশগল্প.কমঃ ব্যাস্ত আছেন কি নিয়ে?

মিশুঃ ব্যাস্ত আছি ভার্সিটি নিয়ে, আনফরচুনেটলি এটাই আমার লাস্ট সেমিস্টার, বোনের বিয়ে দিলাম, কিছু রেস্পন্সিবিলিটি মেইনটেইন করতে হয়, যেহেতু বড়ছেল।আর যেগুলো আগে করে আনন্দ পেতাম সেগুলো করছি না,বন্ধুদের সঙ্গে আগে অনেক আড্ডা দেয়া হত ,সেগুলোও এখন হয় না, রকমারির খেলা থাকে প্রতি মাসে, এইতো এগুলা নিয়েই ব্যাস্ত।

খোশগল্প.কমঃ টিম রকমারির খেলার বিষয়টা বলেন।

মিশুঃ টিম রকমারি হচ্ছে ক্রিকেট এর শিশু প্রতিষ্ঠান।আমাদের সামনে অনেক দূর যাওয়ার আছে, আমাদের স্বপ্ন আছে টিম রকমারিকে ক্রিকেট ইন্সটিটিউট হিসেবে গড়ে তোলা।আমরা বিশ্বাস করি ছেলেরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলার মধ্যে থাকলে নির্মল আনন্দ এর মধ্যে থাকবে পাশাপাশি নেতিবাচক বিষয়গুলোতে ডাইভার্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।আর খেলোয়াড় তৈরির ব্যাপারে শুধু সরকার পর্যায়ে না বেসরকারী পর্যায়ে করার মত অনেক কিছু আছে বলে আমরা মনে করি আর সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এই প্রয়াস।টিম রকমারিতে ভালো খেলার যোগ্যতা সম্পন্ন যে কেউ আসতে পারে।নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ আমরা প্রতিমাসে বিভিন্ন জেলা/এলাকায় গিয়ে খেলি।

 খোশগল্প.কমঃ পড়ালেখা তো প্রায় শেষ, এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন?

মিশুঃ ভালো চাকরি, আর আমাদের পুকুর আর ঘেরে কিছু ব্যাবসা।

একটা ভালো চাকরি করা।আর ব্যাবসা অলরেডি শুরু করছি, কালকেও নয়হাজার টাকার পোনা কেনা হইছে।এইটা নেক্সট ইয়ার থেকে বড় করে শুরু করবো।সামনের বার আরো আরো বর পরিসরে করার ইচ্ছা আছে।

খোশগল্প.কমঃ কেমন ইনভেস্টে কেমন লাভ?

মিশুঃ আসলে ডিপেন্ড করে, ভালো করে করলে লাখ-লাখ টাকা আর লাক খারাপ হইলে লস, আমি ব্যাবসা করবো তিন টাইপের, একটায় জাস্ট রেণু ছাড়বো, ওগুলা যখন জাস্ট চার আঙ্গুল বড় হবে তখন পিছ হিসেবে বিক্রি করে দেবো, ওরা তখন বড় করবে, আমি জাস্ট রেণুগুলাকে বড় করে দেবো, আমার রেণূ কেনা পড়বে একহাজার টা তিনিহাজার টাকায়, আর বিক্রি হয় এক একটা মাছ তখন পনেরো টাকায়, ওখান থেকে যদি তিনশ মাছ থাকে, ওগুলো বেঁচে পনেরশো টাকা, আর রেণুগুলাকে কিন্তু আমার খাবার দিতে হচ্ছে না, রেণুকে খাবার দিতে হয় না, পনেরশো টাকা লাভ প্রতি হাজারে, আর আমি তো একহাজার ছাড়বো না,আরো বেশী, এটা করতে আমার সর্বোচ্চ তিন মাস সময় লাগবে। এটা একটা একটা ঘেরে গেলো, আমার রেণু গুলা নিয়ে আমিও একটায় ছেড়ে ওখানে বড় করে অইটা বিক্রিও করবো, আর দুইটা ঘেরে রুই-কাতলা চাষের মাছগুলা চাষ করবো,  আমি তো সরাসরি করতে পারবো না, ইন্সট্রাকশন দেবো অন্যরা করবে।আরেকটা হচ্ছে ঢাকায় বাইন মাছের দাম প্রচুর, আমাদের বাড়ির পেছনে বাঁশ-ঝাড়ে ঢাকা দুইটা ঘের আছে, অই দুইটা সেঁচে পরিস্কার করে নেট-টেট দিয়ে ঘেরে এই বাইন মাছের চাষ করবো।

খোশগল্প.কমঃ পুকুর আর ঘেরের মধ্যে পার্থক্য কি?

মিশুঃ পুকুর আর ঘেরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে পুকুর অনেক গভীর হয়, ঘের ততটা না, মাঠের জমিতে কেউ পুকুর কাটে না, কিন্তু ঘের করা যায়, জাস্ট মাটি কেটে করে চারপাশ দিয়ে বেড়ি বা পাড় দিয়ে করা যায়।পুকুরে সব জায়গায় প্রচন্ড গভীরতা।

খোশগল্প.কমঃ শুধু মাছেরটাই চিন্তা করছেন?

মিশুঃ দেখেন আমাদের এলাকায় মাছটাই বেশি চাষ হয়, আমার তো প্রাথমিক ভাবে অত মূলধন নেই, সো একটা দিয়ে শুরু করতে হবে।

খোশগল্প.কমঃ পাশাপাশি আর কোন ভাবনা?

মিশুঃ ব্যাবসার তো অভাব নেই, মূলধন হইলে তখন অনেক ব্যবসা করা যাবে, যেমন আমার এলাকায় মধুর ভালো ব্যবসা হয়, সুন্দরবন, মংলা এলাকার মধু যদি ঢাকায় দেয়া যায় অনেক লাভ, শুধু বাড়ির কয়েকটা গাছে খানিকটা মোম ভেঙ্গে রেখে দিলেও দুই মাসেই অনেক লাভ, এক অমাবস্যা থেকে আরেক অমাবস্যা পর্যন্ত।এটাতে কিন্তু কোন ইনভেস্টমেন্ট নাই।শুধু বৃষ্টির পানি যাতে না পড়ে সেই ব্যাবস্থা করতে হবে।

প্লান অনেক আছে, কিন্তু বিষয় হচ্ছে আমি ঢাকায় থাকবো না, আমার ঢাকায় থাকার ইচ্ছা নাই।ইচ্ছা থাকলেও যদিও অনেক কিছু করা যায় না।

খোশগল্প.কমঃ ঢাকা নিয়ে  আপনার মধ্যে বিতৃষ্ণা আছে, এটার কারণ কি?

মিশুঃ আমি ঢাকার বাইরে যেহেতু থাকতাম তো প্রেফারেন্স অবশ্যই ঢাকার বাইরেই হবে, আর ঢাকার মানুষরা প্রচন্ড বিজি।

খোশগল্প.কমঃ গ্রামের মানুষ কি ব্যাস্ত না?

মিশুঃ ওরা অনেক ফ্রী, ওরা একবেলা কাজ করে, একবেলা আড্ডা দেয়।

খোশগল্প.কমঃ আড্ডা দেয়াটাই একমাত্র কারণ?

মিশুঃ অনেক কারণ, আমি ঢাকা আসলেই অসুস্থ হয়ে যাই, আমার ধুলাবালিতে প্রচন্ড এলার্জি, অথচ আমি গ্রামে গেলে সুস্থ হয়ে যাই, আরেকটা বিষয় গ্রামের একটা ছেলেকে যদি বলি আমার একটু কাজ আছে, একটু পরেই হয়তো ওর বরজে যেতে হবে বা কাজ আছে ও কিন্তু আমাকে না বলবে না, ও আমার দিকটাও দেখবে, এই যে আন্তরিকতা এইটা কিন্তু শহরের মানুষের মধ্য নাই।সবাই খুব কাঠখোট্টা, প্রফেশনাল ধরনের।

খোশগল্প.কমঃ ফ্যাসিনেশনের কথা যদি বলি কোন কোন ক্ষেত্রে?

মিশুঃ আমার সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ে ফ্যাসিনেশন নাই।ছোট বেলায় ফার্স্ট যখন ‘কৃশ’ ছবি দেখলাম তখন আমি রাতের বেলায় শুধু রাস্তায় দৌড়তাম, মনে হত দৌড়াতে দৌড়াতে আমিও বুঝি একসময় ওরকম উড়তে পারবো, আবার যখন একটু বড় হলাম তখন সুন্দর গিটার বাজানো দেখলে মনে হত আমিও বাজানো শিখবো।আর এখন হচ্ছে বেটার কিছু করা, তো আমার ফিক্সড কোন ফ্যাসিনেশন নাই, আসলে এই ব্যাপারে আমি ভেজিটেবল মার্কা।

খোশগল্প.কমঃ ক্রিকেট নিয়ে ফ্যাসিনেশন ছিলো?

মিশুঃ ফ্যাসিনেশন ছিলো না, তবে যেহেতু খেলার মধ্যেই থাকতে হয় তো প্রয়োজনের তাগিদে আগ্রহটাও হয়ে গিয়েছে।

খোশগল্প.কমঃ ফেইসবুকটাকে কিভাবে দেখেন?

মিশুঃ একসময় ফেইসবুকটা ছিলো শুধু যাদের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে তাদের জন্য, এখন তো সবাই মোবাইলে চালাতে পারে সো কনজ্যুমার ও অনেক বেশি, আমার ইউজের কথা যদি বলি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নোটিফিকেশন চেক না করলে সকাল হয় না।আবার এটাও বলবো ফেইসবুকটা অনেক গুরুত্ব পায়  এমন না।

খোশগল্প.কমঃ প্রায়শই স্ট্যাটাস দেন, এটা কি শুধু মনের ভাব প্রকাশই, নাকি অন্যকে জানানোটাও গুরুত্ব পায়?

মিশুঃ এটা ডিপেন্ড করে।এটা ডিপেন্ড করে আমার মনের উপর, সিচুয়েশন এর উপর।যেমন কাউকে যখন কিছু বোঝাতে চাই  কিন্তু মুখে বলতে পারছি না তখন ফেইসবুক একটা ইম্পোর্টেন্ট মাধ্যম।এবং তাকে সেটা বোঝাতেও পারি।এইজন্যে ফেইসবুক আমার কাছে বেশ ইম্পর্টেন্ট একটা বিষয়, আর কিছু কিছু জিনিস আমি আমার মনের তাগিদেও লিখি, লিখলে ভালো ভালো লাগে, গঠনমূলক সমালোচনা করলে ভালো লাগে, সমর্থনেও ভালো লাগে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত