ওয়াসিফা জান্নাত, সম্পৃক্ততা অনেক কিছু নিয়ে।‘অদম্য বাংলাদেশ’ ফাউন্ডেশন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নিয়মিত সদস্য, রকমারি.কম এ ইন্টার্ন।এত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে থাকতে অনুভব করছেন “‘আমি’ মানুষটাকে ৫ জায়গায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে না দিয়ে, একটা জায়গায় পু্রোপুরি দিতে
পারলেই বরং কাজটা বেশী গ্রহণযোগ্য হয়”। তৈরী করেছেন জীবদ্দশায় করতে চান এমন ১১ টা কাজের ফর্দ!যার মধ্যে আদর্শ কারাগারের মডেল, ১০০ বৈজ্ঞানিক সূত্রকে সাহিত্যের ভাষায় প্রকাশ সহ নানান কিছি।কথা বলেছেন সেগুলো নিয়ে।

আমার আসলে আমার শৈশব-কৈশোর এর কোন স্মৃতি মনে নাই

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 7, 2016 , 10:46 পূর্বাহ্ন

10848967_764264810288551_3020384122206642385_o

খোশগল্প.কম: আপনার ছোটবেলা নিয়ে বলেন।

 

ওয়াসিফা: আমার জন্মসাল হচ্ছে ১৯৯৩, ২২শে নভেম্বর, মজার বয়স হচ্ছে আমার কর্ম জীবন শুরু হয়েছে ৩ বছর থেকে, ৩ বছর বয়সে আমার মা আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন, ওখানে যেয়ে গান শেখা লাগতো, ওখানে যেয়েই মোটামুটি একটা ডিসিপ্লিন এর মধ্যে আসতে থাকি, ৫ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হই, তারপর গানও কন্টিনিও করতে থাকি।তো ১০ বছর বয়সে আমার গানটা মোটামুটি অফ হয়ে যায়।আমি এই গানের পরিচয়টা কখনোই কাউকে দিতে চাই না, এই পরিচয়টা দেয়া বিপদ, কেউ যখন শোনে আমি গান শিখেছি তখন প্রথম কথা গান গাইতে হবে, কিন্তু আমার আসলে ঐভাবে গান শেখাই হয় নি, একটা বাচ্চা মাত্র ৩ বছর বয়সে গানের কতটুকু ধরতে পারে, যখন ধরতে পারার বয়স তখন আবার অফ হয়ে যায়, তখন আমার গলা ইমম্যাচিউর, আমি রাগ বুঝতে পারতাম না, টিউনিং বুঝতে পারতাম না, তো গানের জ্ঞান ঐরকম ছিলো না।তো এই অসহায়ত্বটা তারা বোঝে না, গান গাইতে বললে আমি গাইতে পারি না, আমি তো ওভাবে প্রাকটিস করি না, তখন খুবই খারাপ লাগে।তো অগ্রণী স্কুলে ভর্তি হই, স্কুলে থাকতে ব্যাস্ত থাকতাম সব সময়, তখন স্কুলের প্রোগ্রামগুলোতে টুকটাক পার্টিসিপেট করতাম,আর বিটিভি তে শিশু শিল্পী হিসেবে ভালোই অংশ নিতাম।ঐ অনুষ্ঠান আর রিহার্সেল এগুলো করতেই বেশ ব্যাস্ত থাকতাম।তো ফাইভে থাকতে দেখা গেলো আমাদের যে কালচারাল টিচার তার সাথে বিভিন্ন কাজে ভালোই ইনভলবড হওয়া ছিলো, উনি আমাদের বিভিন্ন ভলান্টিয়ারি কাজে ইনভলবড রাখতেন,

 

খোশগল্প.কম: পরিবারেই কী এই চর্চা ছিলো ?

 

ওয়াসিফা: না, বাট আমার আম্মুর শখ ছিলো গান শেখার।তারপর ক্লাস এইটে দেখা গেলো আমাদের যে কালচারাল প্রোগ্রামগুলো আছে, ওগুলো এরেঞ্জ করতাম।সবাই কে কাজ ভাগ করে দিতাম, আমাদের মাঝখানে কালচারাল টিচার ছিলো না, তো তখন অনেক সমস্যা ফেইস হয়েছিলো, তখন আমরা প্রোগ্রাম দাড় করাতাম তারপর অন্য টিচার বিশেষ করে বাংলা টিচারদের গিয়ে বলতাম সিলেক্ট করার জন্য।তো নাইনে ওঠার পর আমাদের একটা সাইন্স এন্ড ডিবেটিং ক্লাব করি, তখন বাসায় একটা কম্পিউটার থাকলে মানুষ যা যা পারে তাই পারতাম, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট।। তো ফর্মাল খুব বেশী কিছু না পারায় দেখা গেলো ক্লাব টা নিয়ে আমরা বেশী দূর আগাতে পারি নি।আমরা তো প্রফেশনাল না, তো আমরা যখন দাড় করালাম তখন আমাদের গাইডেন্স এর জন্য কেউ ছিলো না তো আমরা ওভাবে দাড় করাতে পারি নাই, একটা সাইন্স ফেয়ার এরেঞ্জ করতে পারি নাই, স্পন্সর যোগাড় করতে পারি নাই, আমরা চেষ্টা করছিলাম।বাট ডিবেট করতে যেতাম।নাইনে-টেনে ওঠার পর আস্তে আস্তে দেখা গেলো স্কুলের বিষয় গুলোতে ডিটাচড হয়ে গেলাম।তারপর স্কুল গেলো, কলেজে ভর্তি হলাম।এর পর বেশ অনেকদিন প্রায় ৪-৫ বছর আমার কোন ফ্রেন্ড ছিলো না, প্রিপারেটরি কলেজটাকে আমি কখনো আমার মধ্যে আত্নস্থ করতে পারি নাই।

 

খোশগল্প.কম: কেন?

 

ওয়াসিফা: ক্লাস ভালো লাগতো না, আমাদের নবীন বরণের আগেই পরীক্ষা হয়ে কিছু মেয়ে ফেইল ও করে ফেলছে।সিলেবাস শেষ হতো না, একটা পরীক্ষা শেষ না হতেই হতেই তারা আরেকটা পরীক্ষাতে চলে যেতো, রেগুলার ক্লাস টেস্ট, ইভেন আমাদের টিচাররাও রাজি হতো না মাঝে মাঝে পরীক্ষা নিতে।তখন ডিবেট করতে যেতাম, ওভাবে কালচারাল প্রোগ্রামে এটেন্ড করতে যেতাম না কিন্তু কী কারণে জানি আমার টিচারদের আমার প্রতি খুব এক্সপেক্টেশন ছিলো।আমি জানি না কী কারণে তাদের এমন মনে হলো যে আমি বোধ হয় অনেক জানি, আজ পর্যন্ত এইটার কারণ আমি জানি না।

 

খোশগল্প.কম: এক্সেপেক্টাশন কী ফল করতো?

 

ওয়াসিফা: হ্যাঁ এক্সপেক্টেশন ফল করছে।২০১১ তে ইন্টার করে হোম ইকোনমিক্স এ ভর্তি হলাম, এখানেও একজন দুজন বন্ধু হলো।আমার সাথে কথা বলে তোমার মনে হবে ওভার অল ঠিক আছে কিন্তু যদি তুমি আমাকে হঠাত কোন স্মৃতি বলতে বলো আমি পারব না, আমি জানি না কেন আমার ঐ সময়ের কোন স্মৃতিই মনে নাই, এটা আমি ২০১৪-’১৫ এর দিকে যেয়ে খেয়াল করছি আমার আসলে আমার শৈশব-কৈশোর এর কোন স্মৃতি আমার মনে নাই।আমি যা বলছি এগুলা আমার সার্টিফিকেট, বাবা-মায়ের কথা, ছবি এগুলো দেখে বলা কথা।ক্লাস কেমন ছিলো, আমার টিচাররা কেমন ছিলেন কিছুই আমার মনে নাই।আমার ভার্সিটির সামনেই অগ্রণী স্কুল, কিন্তু টিচারদের দেখলে আমি চিনতে পারি না, মানে আমি বুঝছি ইনি হয়তো স্কুলের টিচার কিন্তু ইনি যে আমারও টিচার এটা ওভাবে মনে পড়ছে না।এটা হলে স্কুলের ক্ষেত্রে হতে পারে কলেজে কেন হলো এটা আমি জানি না।২০১১ সাল তো খুব বেশী আগের কথা না।সূক্ষ্ণ সূক্ষ্ণ স্মৃতি দূরে থাক আমার কিছুই মনে নাই।যেগুলা মনে আছে সেগুলা হচ্ছে আমার পশু-পাখির সাথে, প্রথম কোন বিড়ালের সাথে দেখা হইলো, আমি সেভেনের আগ পর্যন্ত বিড়াল-কুকুর সব কিছু ভয় পাইতাম, এই ফোবিয়া আমার আম্মুর মধ্যে আছে, আমার মধ্যেও ছিলো।আরো কিছু আছে যেমন আমি অনেক সাহসের কাজ করতে পারবো কিন্তু আমি রাস্তা পার হতে ভয় পাই, তারপর লিফটের মধ্যে ভয় পেতাম এখনতো আমাকে সব কিছু লিফটের মধ্যেই চড়েই করতে হয়, এই সব গুলো আমার মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া।’০৯ থেকে আমি কবুতর পুষি, আমার যা স্মৃতি মনে আছে সব পশু-পাখি নিয়ে।এবং খুব ভালোভাবে মনে আছে, কোন কবুতর প্রথম আসছিলো, সে কি করতো এই জিনিসগুলো আমার খুব ভালোভাবে মনে আছে।তারপরে ’১৩ তে আমার লাইফের একটা টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়, আমরা কিছু ফ্রেন্ডরা মিলে পেপারে দেখে বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে ভর্তি হই, ফ্রেন্ডরা মিলে গেলাম, ফরম দিয়ে আসলাম, আমি ভর্তি হতে গিয়েছিলাম আবৃত্তিসংঘে।এর আগে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখেছিলাম ৬ মাসের একটা কোর্সে, পরে ঐভাবে প্রাকটিস করা হয় নাই, এখন একদমই টুকটাক কাজ পারি, এইটাও গানের মত কাউকে বলার মত না, প্রাকটিস করা হয় নি।অনেকেই জানে না এই কথা।তারপরে এই হোম ইকোনমিক্স কলেজের সাথেও আমার ওরকম সম্পৃক্ততা নাই, আমি ক্লাস করি, করে চলে যাই, কালচারাল কোন কিছুতে এটেন্ড করি না।আমার ধারণা এই পুরো কলেজটা আমি ঘুরেও দেখি নাই, কলেজের কোন ব্যাপার আমাকে ঐভাবে টানে নাই।বলতে পারো একাডেমিক কোন কিছুই আমাকে কখনো টানে নাই, একাডেমিক পড়ালেখা পদ্ধতিটাই আমার পছন্দ না ছোটবেলা থেকে, স্কুল-কলেজ এই যে গন্ডি, পরীক্ষা হবে, একটা সিলেবাস থাকবে, সিলেবাসের বাইরে তুমি কিছু পড়তে পারবা না, একটা সংজ্ঞা একদম বইয়ের ভাষায় বলতে হবে এই জিনিসগুলো আই কখনোই মানতে পারি নাই, এখনো মানি না, আমার ভাইবাতে আমি নিজের মত করে বলি, আমাকে যা বলে বলুক।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে আপনি এত ব্যস্ত থাকেন কী নিয়ে?

 

ওয়াসিফা: আমার ব্যাস্ততার জায়গা মূলত আবৃত্তিসংঘ।এর আগে আমি ‘অদম্য বাংলাদেশ’ ফাউন্ডেশনের মজার ইশকুল এর পথশিশুদের নিয়ে একটা কার্যক্রম আছে, ওখানে আমার একটা ফ্রেন্ডের মাধ্যমে যাই, ওদের ফল উৎসবে গিয়ে আমার আগ্রহ তৈরী হয়, ক্লাস নিলাম, তারপর ওখানে গিয়েও আমাকে নিয়ে খুব এক্সপেক্টেশন তৈরী হলো, আমি জানি না এমন যে কেন হয়, আই কাউকেই বোঝাতে পারি না, আমাকে নিয়ে মানুষের এক্সপেক্টশন তৈরী হয় এবং সেটা ফেইল ও করে, প্রায় সব সময়ই ফেইল করে।এটার কারণ হতে পারে আমি আমার পছন্দের বা ইন্টারেস্টের জায়গাটা ওভাবে করতে পারি নাই, সব কিছুতেই এটেন্ড করেছি।তো পরে যেটা বুঝতে পেরেছি আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না আমি কি করবো, প্রথমে মনে হয়েছিলো আমি গানে শাইন করবো, তারপর অন্য কিছুতে, এভাবে আসলে হয় না, নিজেকে আসলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিয়ে কোন লাভ নাই, এক জায়গায় জড়ো করে কিছু করা উচিত।তারপর ‘মজার ইশকুল’, বিশ্বসাহিত্যের আবৃত্তিসংঘ থেকে ‘আলোর ইশকুলের’ পাঠচক্র, স্কুল কর্মসূচির প্রশ্ন করলাম, খাতা দেখলাম, তারপরে ‘জলতরঙ্গে’ যোগ দিলাম, এখানে গানের আসর মত করে, এরপরে আবার ‘খামখেয়ালী’ সভাতেও যোগ হইলাম, এটা হচ্ছে রবীন্দ্রচর্চা।বুঝতেই পারতেছো অনেক কাজ, একটা মানুষ হইতে পারে ৫ জায়গায় কাজ করে এবং সে জায়গাগুলোর মেম্বার, কিন্তু ৫টা জায়গাই আমার দায়িত্ব ছিলো, আমি সেখানে মেম্বার না, প্রত্যেকটা জায়গাতেই আমার কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিলো।এই করতে গিয়ে হয় কি, ৫ জায়গায়ই আমি কাজ করতেছি কিন্তু সবাইকে কিন্তু খুশি করতে পারছি না, ল্যাকিংস থেকে যাচ্ছে!আমি এগুলো এখন বুঝতে পারছি, এই দুই বছরে আমি অনেক বড় হইছি।তারপরে আমাদের একটা সমস্যা হলো আমাদের ‘মজার ইশকুলে’ নিয়ে, এই সমস্যায় পরে থানা, পুলিশ, কোর্ট এগুলো নিয়ে নতুন করে জানলাম।যেহেতু আমি আইনের স্টুডেন্ট না বা আইন সম্পর্কে একেবারেই জানি না তখন এই নিয়ে কিছু লেখাপড়া করতে হলো।এই সময় এসে দুইটা সংগঠন ছেড়ে দিলাম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ২ টা, আর ‘জলতরঙ্গ’, এখন আছি শুধু বিশ্বসাহিত্যের সাধারণ মেম্বার হিসেবে।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ফেইসবুকে দেয়া ১১ টা উইশের মধ্যে হচ্ছে বিজ্ঞানের ১০০ টা সূত্রকে সাহিত্যের ভাষায় ট্রান্সফর্ম করা-এইটা নিয়ে একটু ডিটেইলে বলেন।এই কাজ কী এর আগে কেউ করেছে বা চিন্তাটা কীভাবে আসলো?

 

ওয়াসিফা: আমার মতে তুমি ধরো ল’ এর স্টুডেন্ট না, কিন্তু তোমাকে আমার ল’ বোঝাতে হবে, এখন তুমি যেভাবে বুঝবা সেইভাবে বুঝানোর এবিলিটি আমার থাকতে হবে, শিক্ষককে এমন হতে হবে।যেমন ধরো আমি তোমাকে বলছি ‘মতামতের সহাবস্থান’ এখন তুমি এই শব্দটা বুঝতে পারছো না, এখন যদি আমি তোমাকে বলি একটা গাছে ৫০ টা কাঁঠাল আছে, ৫০ টা কাঁঠাল একই রকম দেখতে হবে না, ভিন্ন আকৃতির হবে, এই যে বৈচিত্র এতেই কিন্তু সুন্দর লাগছে।তো সবার মতের বিষয়টা কিন্তু এরকমই, সবার মত ভিন্ন ভিন্ন, তারপরও তারা ঐ গাছের মতন, ভিন্নতা থাকা সত্বেও পাশাপাশি থাকবে, এটাই হচ্ছে বৈচিত্রের সৌন্দর্য, এটাই মতামতের সহাবস্থান।আমি সাহিত্যপ্রেমী, ছোটবেলা থেকেই আমার সাহিত্য পছন্দ, তো পদার্থবিজ্ঞানের কোন সূত্রকে আমাকে প্রয়োজনে গল্পের মাধ্যমে বোঝানো হবে, কবিতার মাধ্যমে বোঝানো হবে, কিন্তু এমন ভাবে বোঝানো হবে যেন আমি বুঝতে পারি।এই বিজ্ঞানের জায়গায় ম্যাথ হতে পারতো বা অন্য কিছু, কিন্তু বিজ্ঞান কেন, কারণ এই জিনিসটা আমি আগে থেকেই পারতাম।

 

খোশগল্প.কম: আপনি আপনার পোষা কুকুর নিয়ে লিখতে চান, এর পেছনে আপনার কী মনস্তত্ব কাজ করে?

ওয়াসিফা: ওর মধ্যে কিছু ভিন্ন বিষয় ছিলো।লেখাটা হতে পারে আমার দৃষ্টিতে ও কেমন ছিলো।ও আমাদের কুকুর না, ওকে আমরা কিনি নাই, ও আমাদের পাড়ার কুকুর, ওকে আমি ভয় পাইতাম, তখন ছাদে আমার কিছু গাছ ছিলো আমি প্রতিদিন বিকেলে ছাদে যেতাম।তখন আমি একা একা থাকতাম, কোন মানুষের প্রতি আমার কোন ইন্টারেস্ট ছিলো না, বললাম না আমার কোন বন্ধু ছিলো না।এখন আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠছি, তারপরও কাছের মানুষরা জানে মানুষ নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নাই।আমার নিজের ওভাবে কোন বন্ধু নাই, যারা বন্ধু তারা সবাই কীভাবে জানি আমাকে বন্ধু বানাই নিছে, মানে সবাই আমার সাথে থাকে, কেমন করে থাকে এটা আমি জানি না।শীতকালে একদিন বের হওয়ার সময় আব্বু দেখে ও আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তখন আব্বু ওর গায়ে একটা ছালা দিলো আর দুটা রুটি দিলো।তো রুটিটা খাওয়ার পর লেজ নাড়িয়ে ও কী যে করলো, কীভাবে যে আনন্দ প্রকাশ করলো!সেই দিনের পর থেকে দিনের কোন না কোন সময় সে আমাদের গেইটে আসতো, সেই দিনের পর ওর কাছে আমরা খুব স্পেশাল, ও জানতো  আমি ওকে ভয় পাই, আমার জন্য গেটের সামনে দাড়াতো না, সিঁড়িতে দাড়াতো, আমি নেমে গেলে তারপর নামতো, আস্তে আস্তে ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে যায়, জিমি হচ্ছে জিমি, ওর সাউন্ড, ওর কিছু বুদ্ধিমত্তা অন্য কুকুরদের থেকে আলাদা।ও অন্য কুকুরদের মত অনেক কিছুই পারতো না, কিন্তু আমাদের বেলায় বা কোন বিপদ ঘটছে সে একেবারে গাধার মত সামনে দাঁড়ায় যাবে, কোন বিপদ না ঘটলেও গাধার মত সামনে দাঁড়ায় যাবে।আমি ছাদে হাঁটতে গেলে, কোন মানুষ ছাদে থাকতে পারবে না, বিশেষ করে কোন ছেলে মানুষকে না, মহিলা থাকতে পারে, বাচ্চা থাকতে পারে, ঘেউ ঘেউ করে নামায় দিবে।কিন্তু ও কখনো কামড়ায় নাই।জিমির সাথে অনেক অভিজ্ঞতা আছে, তো ওখান থেকে ইচ্ছা আছে আমি যদি জীবনে একটা বই ও লিখি আমার কুকুরটাকে নিয়ে হবে, এই ২৮ সেপ্টেম্বার সে মারা যায়, এই ৬ বছরে সে কোন দিন আমাদের বাসায় ঢুঁকে নাই, গেইটের সামনেই থাকতো।ওকে নিয়ে আমার ফিলোসফিটা ছিলো এরকম ও ছিলো এমন কিছু যেটা সব দুখ-কষ্ট ভুলাই দিবে আমি ধরো একটা বড় পরীক্ষায় ফেইল করছি, বাবা-মা তো আমাকে ধোলাই তো দিবেই, বলতেও পারে তোমাকে আমরা কোন খরচ দিবো, পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ আমাকে দেখে হাসবে, শুধু পরীক্ষা কেন কোন অপরাধ আমি করলাম, অপরাধ করে আমি কার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে ভয় পাবো না, এরকম একটা সিচুয়েশন হইতেই পারে, তখনো আমার পাশে যে থাকবে সে হচ্ছে আমার কুকুরটা।আমি ফেইল করি, আমার ছিনতাই হইছে, হাত ভেঙ্গে ফেলি সব কিছুতেই আমার দোষ, সব সময় সমাজ আমাদেরই দোষে, প্রশ্ন করে আমাকে বিপর্যস্ত করে ফেলবে, কিন্তু একটা মাত্র জীব যে হচ্ছে আমি যা করে আসি, তার চোখের দিকে তাকাতে পারবো।

 

খোশগল্প.কম: আপনার আরেকটা উইশের একটা হচ্ছে আদর্শ কারাগার মডেল তৈরী ও বাস্তবায়ন করা, এই ভিন্ন চিন্তা কীভাবে আসলো, আর এই বাস্তবায়নের জন্য আপনার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি কী?

ওয়াসিফা: কারাগার, প্রিজন ভ্যান নিয়ে আমার কখনো কোন ধারণাই ছিলো না।মজার ইশকুলের ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করার পর বুঝতে পারলাম অপরাধী ছাড়া সাধারণ মানুষও কারাগারে যায়।একটা কথা আছে না কাজ করার এখনি সময়, আমি জানি কারাগারের ভেতরের অবস্থা, আমি একটা লিংক তৈরী করছি কীভাবে কারাগারের ভেতর ঢুঁকে কাজ করতে পারি।কিন্তু আমার প্যাশন তো কারাগার নিয়ে কাজ করা না, বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এমন কিছু না।সমস্যা হচ্ছে টাইমিং, তো পুরোপুরি হবে কিনা আমি জানি না, পুরোপুরি না হলেও আমার কিছু যায় আসে না, বাট সচেতনতাটা জাগাতে চাই, একেবারে ইনিশিয়াল কিছু করতে চাই, যেগুলো আমি করি, যেমন আমার নিজের কাছে যখন কিছু করার থাকে না তখন আমি বিভিন্ন জায়গায় চিঠি লিখি, চিঠি লিখে এই মডেলটাকে জানাতে চাই, তো এই মডেল তৈরী করতে হবে আগে, এই মডেল তৈরীর জন্য আমার কিছু মানুষের হেল্প লাগবে, তো এমন কিছু জায়গায় বলতে চাই যেখানে বললে হয়তো কিছু নড়তে পারে, পরিবর্তন হতে পারে এমন কিছু জায়গায় চেষ্টা করতে চাই।

 

খোশগল্প.কম: আরেকটা জিনিস ছিলো ওখানে বিভিন্ন স্কুলে কাউন্সিলর নিয়োগ দেয়া, কী বিষয়ক কাউন্সিলর?

 

ওয়াসিফা: আমরা কিছু বিষয়ক কাউন্সিলর ট্রেইন আপ করবো যারা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে কাজ করবে।যেমন ধরো আমাদের সমাজে একটা পথশিশুর চাইতে একটা ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে-মেয়ে বেশী নিগৃহীত, কারণ পথশিশুকে দেখে মানুষের দুঃখ হয় আর ব্রোকেন ফ্যামিলির একট ছেলেকে দেখে মানুষ হাসে, তাকে ছোট করে।ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চাকে এমনভাবে ট্রিট করে তোমার বাবা-মার কেন আলাদা হয়ে গেলো, একটা বাচ্চা ছেলেকে এধরনের প্রশ্ন কেউ করতে পারে না, আমাদের সমাজ এটা করে।আমি এই কারণে শিশুর কথা বলার একটা স্পেস রাখতে চাচ্ছি, যখন তার মন খারাপ হবে, তার মা তাকে একটা গালি দিবে তখন সে কাকে এসে বলবে এমন একজন মানুষ!আবার ধরো আমাদের সমাজে ইভটিজিং কিন্তু ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়, আমাদের সমাজে একটা মেয়ে তার মায়ের কাছ থেকে তার চরিত্র নিয়ে যে ধরণের কথা শুনে বড় হয় একটা রাস্তার ছেলে তাকে কখনোই ঐ পরিমাণ কথা শুনাইতে পারে না।প্রচুর ফ্যামিলিতে আছে, একটু রাত করে বাড়ি ফিরলে, একটা ছেলে বন্ধু থাকলে তার মা, তার নারী আত্নীয়-স্বজন তাকে যে পরিমাণ কথা শোনায় একটা রাস্তার ইভটিজার তাকে ওরকম কথা কখনোই শুনাইতে পারে না।আমার মা আমাকে গালি দিলো, বাবার আচরণ আমার খারাপ লাগলো, আমরাই শুধু বাবা-মাকে ওল্ড হোমে পাঠাই না, সন্তান হিসেবে আমাদের ও কোন দুঃখের বিষয় থাকে, অসহায়ত্ব থাকে।আমি চাচ্ছি একটা স্পেস দিতে, কোন ছেলেকে তার বাবা মারছে, পরীক্ষায় খারাপ করেছে, কার কাছে গেলে তার লাভ হবে, কার কাছে বলতে সে জায়গা পাবে।প্রত্যকেটা স্কুলে এমন একজন কাউন্সিলর থাকবে, যে আমি আজকে বকা শুনেছি আমি ঐ টিচার এর কাছে গিয়ে কথাটা বলতে পারলাম সেই জন্য একজন কাউন্সিলর চাচ্ছি।

 

খোশগল্প.কম: আপনার পড়ার বিষয় চাইল্ড সাইকোলজি, এই বিষয়েই কাজ করবেন নাকি ভিন্ন বিষয়ে কাজ করবেন?

 

ওয়াসিফা: আমার সাবজেক্ট খুব ইন্টারেস্টিং, আমি যেজন্যে প্যারেন্ট কাউসিলিং এর স্বপ্ন দেখি। ১৮ বছর হইলেই সংবিধান অনুযায়ী কেউ বিয়ে করে বাবা-মা হয়ে যাইতে পারে না, বাবা-মা হতে যোগ্যতা লাগে, অনেক কিছু শেখার আছে এজন্য এই প্যারেন্ট কাউন্সিলিং, আমি জীবনে যত খারাপ মানুষ দেখেছি হয়তো আসামী না কিন্তু যতগুলা খারাপ আচরণ দেখেছি যে তাদের আচরনের পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, পুরনো ইতিহাস আছে, শুধু তাকে দোষ দিয়ে লাভ নাই।পরিবার একটা মানুষকে একদম শেষ করে দিতে পারে, আবার শুরুও করে দিতে পারে, তার জীবনে একটা অন্যরকম আকাশ খুলে দিতে পারে।পরিবার টা আমার কাছে সমাজের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ।পরিবার চাইলে অনেক কিছু পারে, পারিবার চাইলে আমি এখন হাড়ি ঠেলা একটা মেয়ে হইতেই পারতাম, আমার বয়সী শুধুমাত্র প্রেম করে বেড়ায়, আমি যেগুলো চিন্তা করি ধারে কাছেও যাইতে পারে না।এই সব কিছুর পেছনে আমার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।এজন্য আমার একটা স্বপ্ন, কিন্তু আমার ব্যাবসায়িক বুদ্ধি নাই, ওরকম যদি কিছু করতেও পারি তাহলে স্টাবলিশ কারো হাতে দিয়ে দেয়ার ইচ্ছা আমার, সিস্টেম রেডি করে দিয়ে আসা, ওখান থেকে আমার আর্নিং এর কোন চিন্তা নাই।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে এত কাজের মধ্যে আপনার প্যাশন কোনটা?

 

ওয়াসিফা: এখন যেটা চেষ্টা করি ‘আমি’ মানুষটাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে না দিয়ে, একটা জায়গায় পু্রোপুরি দেয়া.আমার প্যাশন আমি বই পড়ি, আমি লেখক না, আমি বই পড়ি, বই পড়ে পড়ে আমাকে কে চাকরী দিবে, প্রকাশক হবো? প্রকাশক ও তো গন্ডিবাধা কাজ।তো সেরকম একটা ক্ষেত্র ‘রকমারি’ আমি পেয়ছি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইন্টার্ন শেষ হলে এখানেই আমার কাজ করার ইচ্ছা, যেহেতু বই নিয়ে বিভিন্ন কাজ করা যায়, মানুষকে কীভাবে বই পড়ানো যায়, স্কুল ইভেন্ট কীভাবে করা যায়, রিভিউ লেখা বিভিন্ন রকম কাজ এবং সব আমার প্যাশনের জায়গা।

খোশগল্প.কম: আপু আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত