মোঃ জাহাঙ্গীর। একজন ফুচকা বিক্রেতা। বলাকা সিনেমা হলে যাওয়ার মুখেই দেখা মিলবে তার ভ্রাম্যমাণ দোকানটির সাথে। স্ত্রী এবং এক বাচ্চা নিয়ে সুন্দরভাবে চলছে তার জীবন। কিশোর থাকা অবস্থায় বেরিয়ে এসেছিলেন সৎ মায়ের অত্যাচারে টিকতে না পেরে ।মেয়েটাকে বড় করতে চান সে যেভাবে চায়। তার জীবনের কথা শুনতে খোশগল্প.কম ছিলো তার সাথে……….

আমার আয় হইলো দুই টাকা কিন্তু আমি হাউস কইরা থাকি দুইশ টাকা তাইলে কি জীবনে ভালো থাকবে কেউ?

লিখেছেন...admin...মার্চ 7, 2016 , 1:01 অপরাহ্ন

xahaNGIR

খোশগল্প.কম: কতদিনের এই ব্যবসা?

জাহাঙ্গীর: বেশি না, তিন বছর।

খোশগল্প.কম: তার আগে তাহলে কী করতেন?

জাহাঙ্গীর: আগে কাপড়ের ব্যবসা ছিলো, টিকাইতে পারি নাই, লস হইতো, লসের উপরে লস, তাই ছাইড়া দিসি।

খোশগল্প.কম: তা বাসা কই?

জাহাঙ্গীর: আমার বাড়ি পটুয়াখালী, এখানে থাকি কেরানীগঞ্জ এ।

খোশগল্প.কম: তা নিজের ভিটা ছাড়া এদিকে আসলেন যে

জাহাঙ্গীর: ভিটা কি আর ভাত দিবে আপা? না খায়ে থাকতে হইতো। সৎ মা খাইতে দিতো না, অত্যাচার করতো। তাই তেরো বছর বয়সে ঢাকা আসি। তখন থেকে এই কাজ সেই কাজ।

খোশগল্প.কম: তেরো বছর!!! অনেক কম বয়স তো তখন তাহলে…

জাহাঙ্গীর: কিছু করার ছিলো না আসলে। বাপে মায়ের হাতে ছাইড়া দিছিলো,মায়ে যারপরনাই মারামারি,গালাগালি করতো। নিজের আর কোন ছোটভাইবোন ছিলো না,পিছটান ছিলো না, তাই আসতে পারছিলাম মনে করেন।

খোশগল্প.কম: এরপর আর যান নাই কখনো নিজের এলাকায়?

জাহাঙ্গীর: গেছিলাম বাপরে দেখতে। বাপ এখন শরীরের একপাশ অবশ হয়ে শুয়ে থাকে। তারেও তার বউ এখন দেখেনা, ছেলেপেলে মানেনা। এই হইলো জীবন বুঝলেন।

খোশগল্প.কম: আপনি বিয়ে করছেন?

জাহাঙ্গীর: জ্বী। আলহামদুলিল্লাহ একটা মেয়ে আছে আমার।

খোশগল্প.কম: নাম কি মেয়ের? কত বড়?

জাহাঙ্গীর: ক্লাস থ্রিতে পড়ে। মেয়ের নাম জয়া।

খোশগল্প.কম: মাশাল্লাহ মেয়ের নামতো সুন্দর। পড়াশুনাও করছে। তো আপনার পরিবার থাকে কোথায়?

জাহাঙ্গীর: কেরানীগঞ্জ থাকে।মেয়ে,মেয়ের মা,আমি।মেয়ে ওখানেরই এক আধা সরকারি স্কুলে পড়ে।

খোশগল্প.কম: তো এই সব ভেলপুরিই কি সব একদিনে বিক্রি হয়?

জাহাঙ্গীর: হ্যা আলহামদুলিল্লাহ। এর থেকে বেশিও হয় একদিনে।

খোশগল্প.কম: তো এখানে যে বসেন বা বিক্রি করেন টাকা পয়সা তো মনে হয় দেয়া লাগে বেশ কিছু নাকি?

জাহাঙ্গীর: পুলিশকে দেয়া লাগে, আরো দুই এক জায়গায় দেয়া লাগে সবমিলায় একশ,দেড়শ টাকা যায় আর কি।

খোশগল্প.কম: আপনার লাভ থাকে কেমন?

জাহাঙ্গীর: ভালো থাকে আপা। আল্লাহর রহমত।

খোশগল্প.কম: তো যা পান তা দিয়ে সংসার চলে কেমন?

জাহাঙ্গীর: আপা কথা হইলো আমার আয় হইলো দুই টাকা কিন্তু আমি হাউস কইরা থাকি দুইশ টাকা তাইলে কি জীবনে ভালো থাকবে কেউ? আমি জানি আমার আয় কম তাই আমি বাচ্চা নিছি একটা। তারে মানুষ করলেই আর কিছু চাওয়ার নাই।

খোশগল্প.কম: মেয়ে তো অনেকে পছন্দ করে না……

জাহাঙ্গীর: আপনি এইটা কি কইলেন আপা?এখনো কি ঐ মূর্খের জামানা কি আর আছে? মেয়ে মানুষ করা যে কত শান্তির আপা।আমার মেয়েটা মাশাল্লাহ অনেক লক্ষী। অনেক।

খোশগল্প.কম: মেয়েকে লেখাপড়া করাবেন তো নাকি?

জাহাঙ্গীর: আপা মেয়ে যতদূর পড়তে চায় পড়বে। আমি যা পাই একটু একটু করে জমাই।

খোশগল্প.কম: মেয়ের পড়াশুনায় আগ্রহ কেমন?

জাহাঙ্গীর: অনেক ভালো। মেয়ে মাশাল্লাহ এখন পর্যন্ত প্রথম হয় প্রতি ক্লাসে….

খোশগল্প.কম: আপনার স্ত্রী কি করেন? গৃহিনী?

জাহাঙ্গীর: সে তো এমনি বাসাতেই থাকে কিন্তু জানেন কি আপা এই মেয়েটা আমার থেকে বেশি খাটাখাটনি করে। আমার সংসারে আইসা সে কিছু পায়নাই।

খোশগল্প.কম: এভাবে কেনো বলছেন? নারী পুরুষ দুইজনের কন্ট্রিবিউশন কিন্তু জরুরি।

জাহাঙ্গীর: কন্ট্রিবিউট টিউট জানিনা আপা। সে সারাদিন পরিবার সামলায় কাপড় সেলাই করে।তারউপর মেয়েটার পড়াশোনায় সে দেখাশুনা করে যা পারে।

খোশগল্প.কম: বাহ তিনি তো অনেক ভালো করছেন।

জাহাঙ্গীর: সেই জন্যই তো বললাম। দোয়া করবেন আপা। আমাদের জন্য।

খোশগল্প.কম: অবশ্যই। আপনারা অনেক ভালো থাকবেন।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত