মনিরুজ্জামান রিপন।মফস্বল থেকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে লালন করে এগিয়ে এসেছেন। কথা ছিলো আর যাই হোক এখানেই পড়তে হবে। পড়ছেন থিয়াটার এন্ড পারফর্মেন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে।প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তিকে কে প্রায়োরিটি দেয়া রিপন শুরু করেছেন মঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রাখতে। তারই হাত ধরে “শেক্সপীয়ার সপ্তকে” মঞ্চায়ন করেছেন “রোমিও রন্ড জুলিয়েট” নাটকটি। তার অপূরনীয় স্বপ্নের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন হাবিব ওয়াহিদের সাথে একটা দিন কাটাতে চান।

আমার তো মনে হয় থিয়েটার নির্দেশনা ছাড়া অভিনয়টা ভালোভাবে বোঝা সম্ভব নয়

লিখেছেন...admin...মে 8, 2016 , 12:50 অপরাহ্ন

rp

খোশগল্প.কম: ব্রিটিশ কাউন্সিলে গত সপ্তাহে হয়ে গেলো শেক্সপীয়ার সপ্তক..সে সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।

রিপন: ২০১৬ সালে অমর প্রতিভা উইলিয়াম শেক্সপীয়ার এর ৪০০ তম মৃত্যুবার্ষিকী সারা বিশ্বে অনেক ধুমধাম এর সাথে পালিত হচ্ছে।তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর “থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ” বিভাগের ৩য় বর্ষ ৫ম সেমিস্টার এর ১৮ জন শিক্ষার্থী তাদের অভিনয় অধ্যয়ন এর অংশ হিসেবে শেক্সপীয়ার এর ৭ টি নাটক বেছে নেয়।বিভাগ এর চেয়ারম্যান সুদীপ চক্রবর্তী’র তত্ত্বাবধানে এই সাতটি নাটক থেকে সাধারণ ছাত্র থেকে সেই নির্বাচিত চরিত্র হয়ে ওঠার মিশন শুরু হয় পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে। ধীরেধীরে ইনটেন্সিভলি কাজ করে মঞ্চায়ন হয় গত ২৩ ও ২৪ শে এপ্রিল। এটি একটি নিরীক্ষাধর্মী উপস্থাপনা।এটাকে বলা যেতে পারে থিয়েটার এক্সিবিশন।বৃটিশ কাউন্সিল প্রবেশ করেই একজন দেখতে পাবেন লাইব্রেরি তে “ম্যাকবেথ”,মিটিং রুমে হ্যামলেট এবং অডিটোরিয়াম এ চলছে ওথেলো। দর্শনার্থী কে বেছে নিতে হবে যেকোন একটি।৫ মিনিট এর বিরতি তে লাইব্রেরি তে শুরু হচ্ছে মিড সামার নাইটস ড্রিম, মিটিং রুমে “টেমিং অব দ্যা শ্রু” আর অডিটোরিয়াম এ “রোমিও এন্ড জুলিয়েট “।৫ মিনিট এর বিরতি তে পুনরায় আগের নাটক এর পুনরাবৃত্তি। তিনটি শো শেষে সকল দর্শনার্থী দের উপিস্থিতি তে মঞ্চায়িত হয় অয়াজ ইউ লাইক ইট।এভাবেই একটি নতুন কিছু সৃষ্টির প্রয়াস ছিল।

খোশগল্প.কম: আপনি তো সম্ভবত   সেই আঠারো জন শিক্ষার্থীর একজন ছিলেন……

রিপন: হুমম।আমি সেই ১৮ জনের একজন। ভাবতেই লোম দাঁড়িয়ে যায়।আসলে আমরা অনেক লাকি। আমরা যখন ৩য় বর্ষে উঠি সেই বছরই শেক্সপীয়ার এর ৪০০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। অসাধারণ মুহুর্ত। একই সাথে একটা লক্ষ্য ছিল এই ১৮ জনের।”They light up their broken sky”

খোশগল্প.কম: আপনারা তৃতীয় বর্ষে শিক্ষার্থী ছিলেন কতজন মোট?

রিপন: আমরা ১৮ জনই। তবে বৃটিশ কাউন্সিল এ যে পরিবেশনা টা দেখেছেন সেখানে মাস্টার্স,২য় বর্ষ এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দের সহায়তা ছিল অসাধারণ। দারুণ সাপোর্ট ছিল তাদের।

খোশগল্প.কম: আপনি কোন নাটকটিতে ছিলেন?

রিপন: রোমিও এন্ড জুলিয়েট। মন্টেগু ও ক্যপিউলেট পরিবারের দ্বন্দ্বের মাঝেও ভালবাসার জয়গান। আমি করেছিলাম এই নাটকের ব্যালকনি দৃশ্যটি।

খোশগল্প.কম: মঞ্চায়ন কেমন ছিল আপনাদের?

রিপন: সেটা তো দর্শক বলবে।তবে আমাদের জায়গা থেকে সন্তোষজনক।আমাদের যে লক্ষ্যের কথা বলেছিলাম আমরা সেখানে পৌছেছি।”They have lighten their broken sky” আমাদের নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী ‘র একটা কথা এখানে বলতে চাই,”ভালোর তো শেষ নেই।ভালো হাজার,অযুত,লক্ষ,কোটি।

খোশগল্প.কম: they have lighten their broken sky……কথাটির গভীরতা কিন্তু অনেক।আপনাদের ক্ষেত্রে?

রিপন: থিয়েটার টা কখনো একা একা হয় না।প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। একটা মালা গাঁথতে যেমন ফুল প্রয়োজন তেমনি সুতো দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে জোড়া দিতে হয়।আমাদের এই ১৮ ফাঁকিবাজ দের জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং ছিল।আমাদের ভেঙে পড়া আকাশ টা তো আর জোড়া লাগানো সম্ভব ছিল না।কিন্ত এই ভেঙে যাওয়া আকাশটাকে ১৮ টি আলোক উৎস দিয়ে আলোকিত করা সম্ভব। সেই আলোকছটায় পুরো আকাশটাই আলোকিত হয়েছে।আমরা এটা করেছি ভালোভাবেই।

খোশগল্প.কম: ভেঙে যাওয়া আকাশ বলতে?

রিপন: ঐ যে বললাম আমরা ফাঁকিবাজ ছিলাম। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলার জন্য এরকম একটা প্রযোজনার প্রয়োজন ছিল।আমরা অন্য ব্যাচ বা শিক্ষক দের কে ছাড়াই নিজেদের পোশাক ডিজাইন, প্রপস তৈরি করেছি।এক্ষেত্রে সবথেকে বেশি প্রশংসারর দাবিদার আমাদের নির্দেশক।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা এবার আপনাদের একাডেমীক দিক সম্পর্কে কিছু বলুন…

রিপন: অনেকেই জানেন না আমাদের একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে।সবাই ভাবেন আমরা শুধুই ব্যবহারিক বিষয় নিয়েই ব্যস্ত থাকি।আমাদের বিভাগ এর প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে একজন ছাত্র কে দক্ষ অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে গড়ে তোলা।এর জন্যই প্রথম দুই সেমিস্টার এ ট্রাজেডি এবং কমেডি নিয়ে তত্ত্ব এবং ব্যবহারিক বিষয়ে পড়ানো হয়।দ্বিতীয় বর্ষে সংস্কৃত এবং দেশজ নাট্যকলারর বিভিন্ন উপাদান নিয়ে বিষদ তত্ত্ব এবং ব্যবহারিক, তৃতীয় বর্ষে ইউরোপ -আমেরিকান থিয়েটার, থিয়েটার এনথ্রোপলজি, বাংলা নাটক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ানো হয়।চতুর্থ বর্ষে একজন ছাত্র গত তিন বছরে যে শিক্ষা লাভ করেছেন তার প্রয়োগ ঘটান নিজের নাটকে নির্দেশনারর মাধ্যমে। এই হচ্ছে আমাদের একাডেমিক পড়াশোনা।

খোশগল্প.কম: প্রপস নিয়ে কিছু বলছিলেন!!

রিপন: প্রপস-Props. নাটকে ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্যাদি। যেমন মিড সামার নাইটস ড্রিম এ ওবেরনের হাতের জাদুর লাঠি, রোমিও এন্ড জুলিয়েট এ গোলাপ ফুল,শেষ দৃশ্যের বিষের শিষি সহ অন্যান্য দ্রব্যাদি আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি।

খোশগল্প.কম: এগুলোর উপকরন গুলো হাতের নাগালে থাকে সবসময়?

রিপন: কিছু কিছু পাওয়া যায়। পাওয়া না গেলে বিকল্প উপায় হচ্ছে হাতে তৈরি করা।যেমন -ওবেরন এর লাঠির কথা বলা যায়।

খোশগল্প.কম: এমন কাজের অভিজ্ঞতা আগেও ছিলো না এটাই প্রথম?

রিপন: দর্শক এর সামনে এভাবে উপস্থাপন এর অভিজ্ঞতা আগেও ছিল।মাহবুব সবুজের নির্দেশনায় ২০১৫ তে The Revenge নাটকে কাজ করেছি।কিন্ত রিভেঞ্জ এবং শেক্সপীয়ার সপ্তক দুটোর পরিবেশন রীতি ছিল ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র।

খোশগল্প.কম: the revenge যেহেতু প্রথম সেটি নিয়ে কিছু শুনতে চাই।

রিপন: সেটা ছিল অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।তখন ছিলাম প্রথম বর্ষে।অভিনয়, মঞ্চ,দর্শক এর সামনে প্রদর্শনী এ বিষয় গুলো তখনো হাতের নাগালে আসেনি।টি,এস,সি অডিটোরিয়াম এ প্রায় ৬০০+ দর্শক এর সামনে পারফর্ম করা রীতিমত অনেক কঠিন ছিল আমার জন্য।সেসময় আমার ডিরেক্টর সবুজ ভাই কে অনেক জ্বালিয়েছি ।নিজ হাতে গড়েছিলেন আমাকে।আমার প্রত্যেকটি শব্দের উচ্চারণ, বলার রকমভেদ হাতে নাতে শিখিয়েছেন। আমরা কাজ করতাম রাতে।রাত দশটায় শুরু হতো কাজ। শেষ করতাম ২/৩ টায়।আড্ডা,গল্প কাজ সব মিলিয়ে জমজমাট। আমার চরিত্র কে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। আমার জীবনের প্রথম ডিরেক্টর, আমার অভিনয় শিক্ষার গুরু তিনি। এছাড়াও আমার কো-এক্টর কাজল ভাই এবং সাফওয়ান ভাই এর অবদান ও ছিল বেশ।

খোশগল্প.কম: অভিনয় ব্যাপারটায় গান,নাচ এসবের সম্পৃক্ততা আছে কি?

রিপন: ৬৪ কলার সমন্বয়েই নাট্যকলা। তাই অবস্থা ভেদে সম্পৃক্ততা অবশ্যই গ্রহণীয়।

খোশগল্প.কম: আপনি বলছিলেন আপনাদের ভেঙে যাওয়া আকাশ জোড়া লাগানোয় একজন সবসময় সাথে ছিলেন…তার কথা জানতে চাচ্ছি।

রিপন: সুদীপ চক্রবর্তী। আমাদের শেক্সপীয়ার সপ্তক এর মূল পরিকল্পনা তাঁরই।১৮ জনকে বলেছিলেন একক কিংবা দ্বৈত দৃশ্য নির্মাণ করতে।তারপর একই সাথে বিভাগ এর চেয়ারম্যান হওয়ায়, সেই দায়িত্ব পালন,আমাদের ১৮ জনের ১১ টি দৃশ্য নিয়ে কাজ করা,বৃটিশ কাউন্সিল, মিডিয়া সহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা রীতিমত প্রশংসারর দাবি রাখে।শো চলাকালীন ভাইরাস জ্বরে যখন আমাদের অধিকাংশই অসুস্থ। সেই অসুস্থতা তাকেও ছুঁয়ে যায়।কিন্ত একটিবার এর জন্যেও কাউকে বুঝতে দেননি তিনি।পরম যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের কে ঋণী করে রেখেছেন, নতুন আলোয় আলোকিত করেছন আমাদের আকাশ।

খোশগল্প.কম: পরবর্তীতে এমন কোন কাজের প্ল্যান রয়েছে?

রিপন: অবশ্যই ভিন্ন আমেজের কাজ করতে চাই।বিভাগ চাইলে হয়ত খুব শীঘ্রই আবার মঞ্চে দেখা যাবে।

খোশগল্প.কম: যতদূর জানি সাইন্সের ছাত্র ছিলেন। সেখান থেকে নাট্যকলা…কোথায় জানি মিল পাচ্ছি না।

রিপন: বিজ্ঞান থেকে শিল্পচর্চা। দুইটি দুই মেরুর।কিন্ত,Dream is more precious than desire. বাল্যকাল এর স্বপ্ন, ঢাবি তে পড়া।আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য ইচ্ছা টা বিসর্জন দিতে কষ্ট হয়নি।বিজ্ঞান এর ছাত্র হলেও গান,নাটক সিনেমা,মিডিয়ার উপর বেশ আকর্ষণ অনুভব করতাম। সেটাও একটাও কারণ।

খোশগল্প.কম: ফিউচার প্ল্যানিং কি তবে ডিজায়ার ঘিরেই?

রিপন: নাহ,ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনি কিছু ভাবতে চাই না।কাজটা শিখতে চাই।তবে ইচ্ছে আছে নির্দেশক হওয়ার।আমাকে অনেক টানে বিষয় টা।

খোশগল্প.কম: শেক্সপিয়ার কার্নিভালে যাস্ট দৃশ্য আকারে কিছু কিছু ব্যাপার তুলে ধরার কি কোন কারন ছিলো?

রিপন: শেক্সপীয়ার কার্নিভাল এ আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও দশটি দল অংশ নিয়েছিল।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও অংশ নিয়েছিল। শেক্সপীয়ার এর বিভিন্ন নাটকের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য গুলো পরিবেশিত হয়।এই দশ মিনিটের পরিবেশনাগুলোই একই সাথে পুরো গল্পের সারসংক্ষেপ ছিল।১২ টি দৃশ্যই শেক্সপীয়ারের অমরত্ব প্রকাশে যথেষ্ট ছিল।

খোশগল্প.কম: এখানে দৃশ্য নির্বাচনের কি কোন পক্রিয়া ছিলো যেটা আপনাদের পার করে আসতে হয়েছে?

রিপন: দৃশ্য নির্বাচনে আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল।আমরা যেটা করতে চাই এবং যার সাথে করতে চাই সব কিছুতেই আমরা সকল স্বাধীনতা পেয়েছি।

খোশগল্প.কম: আপনার সাথের কো আর্টিস্ট কারা ছিলো?

রিপন: আমার রোমিও এন্ড জুলিয়েট নাটকের কো আর্টিস্ট ছিল নিশাত তামান্না- জুলিয়েট। তাছাড়া, Soul বা আত্মা বোঝাতে একজোড়া ভিন্ন কাপল দেখানো হয়েছিল।তাদের মধ্যে রোমিও ছিলেন সজীব রানা এবং জুলিয়েট সাদিয়া মাহবুব।

খোশগল্প.কম: রিহার্সেলের সময়ের কোন মজার ঘটনা……

রিপন: আমরা তিনমাস রিহার্সেল করেছি।সারাদিন একসাথে থাকতাম সবাই।অনেক অন্বক মজা করেছি।বেশি মজা হতো এজ ইউ লাইক ইট এবং মিড সামার নাইটস ড্রিম এর সংলাপ শোনার সময়।এই দুটো নাটক বরিশাল, টাঙ্গাইল,ফরিদপুর এবং খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায়।আরো অনেক অনেক মজা হয়েছে।

খোশগল্প.কম: ফ্যামিলিতে সাপোর্ট পাওয়া হয় কেমন?

রিপন: হঠাৎ করে অন্ধকার এ চোখ খুললে প্রথমে দেখতে সমস্যা হয়।কিছুক্ষণ পর চোখ সয়ে যায়।ঐ অন্ধকারেও দেখতে পাই।আগের চেয়ে এখন ফ্যামিলি সাপোর্ট অনেক বেশি পাই।তা নাহলে তো তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত আসা হতো না।

খোশগল্প.কম: মিডিয়ার ব্যক্তিত্ব দের সবাই বাহির থেকে দেখে তাদের সাথে আপনারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন,এতো কাছ থেকে দেখছেন তাদের নিয়ে কিছু বলুন।

রিপন: প্রথম যখন কাজ করতাম আমাদের মধ্যেই কিছুটা সঙ্কোচ কাজ করত।কিন্ত তারাই আমাদের কে কাছে টেনে নিয়েছেন, আপন করে নিয়েছেন। তাদের সাথে কাজ করে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

খোশগল্প.কম: অবসরে কি করা হয়?

রিপন: অবসর টা কাটে অনেক অলস ভাবে।অধিকাংশ সময় ঘুমাই।এছাড়া ফেসবুকিং আর গান শুনেই কেটে যায়।

খোশগল্প.কম: নিজের কাছে নিজের কোন প্রত্যাশা আছে কি?

রিপন: একটা একটা করে ধাপ পেরিয়ে উপরে উঠতে চাই।প্রত্যাশা কে কোন সীমানায় বাঁধতে চাইনা।প্রত্যাশা থাকুক মনেতে,আকাশের মতো বিশাল।

খোশগল্প.কম: নিজের এখন অব্দি কোন ইচ্ছা বা স্বপ্ন যা পূরন হয়নি?

রিপন: হাবিব ওয়াহিদের সাথে একটা দিন কাটাতে চাই।দেখতে চাই এই লোক সারাদিন কি কি করেন।

খোশগল্প.কম: হাবিব ওয়াহিদ!!

রিপন: হুমম।হাবিব ওয়াহিদ। তার গান শুনেই বাংলা গানের প্রতি ভালোলাগা, ভালোবাসা। তার গানে এত মায়া কিভাবে পাই জানিনা।আমি এখনো যখন কৃষ্ণ,মায়া,শোনো, বলছি তোমাকে, অবশেষে এলবাম গুলো শুনি আমার শৈশব গুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে।এলবাম কিনে শুনতাম। সিডি গুলো তে অনেক স্পর্শ,মায়া লেগে আছে।আমার শৈশব এর অপর নামই বলা যায় এই এলবাম গুলো কে।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা অটোগ্রাফ দেয়ার অভিজ্ঞতা এখন পর্যন্ত হয়েছে?

রিপন: হাহাহা।অটোগ্রাফ দেইনি।তবে ফটোগ্রাফ দিয়েছি।বেশ কিছু।সবথেকে বেশি মনে পড়ে ২৩শে এপ্রিল আমার শো শেষে সবে মাত্র রিল্যাক্সড হচ্ছি।সেসময় ৭/৮ জন দৌড়ে এসে ডাকতে থাকে “রোমিও ভাই” বলে।তারপর ফটোগ্রাফ টাও হয়ে গেল।এটা মনে থাকবে।

খোশগল্প.কম: এই ব্যাপারটি উপভোগ করা হয়?

রিপন: প্রথম তো।তাই একটু বেশিই ভালো লাগে।সবাই পছন্দ করছে এটাতে বেশি পুলকিত বোধ করি।

খোশগল্প.কম: উপরে বলছিলেন আপনি নির্দেশক হতে চান,ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সেক্টর ঘিরে কাজ করার ইচ্ছা কি রয়েছে?

রিপন: অবশ্যই থিয়েটার নির্দেশক হতে চাই।আমার তো মনে হয় থিয়েটার নির্দেশনা ছাড়া অভিনয় টা ভালোভাবে বোঝা সম্ভব নয়।পরবর্তীতে সিনেমা নির্দেশনা দেয়ার ইচ্ছে আছে।

খোশগল্প.কম: নিজেকে নিয়ে কিছু বলুন।

রিপন: খুবই আত্মভোলা একজন মানুষ।নিজেকে নির্বোধ মনে হয়।কেন হয় জানিনা।মানুষের সাথে মজা করতে অনেক ভাল লাগে।যদিও এটা অনেকেই হয়ত মজা হিসেবে নেয়না।এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনার ইতিহাস রয়েছে।নিজেকে শোধরাচ্ছি।আরো গোছানো হওয়া উচিত।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত