ইদ্রিস আলি, ফুসকা বিক্রি করছেন ২০ বছর ধরে ।  এখন ও কাজ করছেন কাজ করতে ভালো লাগে বলে, কাজ ছাড়া থাকতে পারেন না বলে ৬৭ বছর বয়সে ও কাজ করে যাচ্ছেন । পরিবার বলতে ২ ছেলে আর সঙ্গিনী, এক ছেলে ক্লাস ৬ এ পড়ছে আর অন্য ছেলে চাকরী করছেন একটা কোম্পানিতে ।

আমার মনে আছে আমি যুদ্ধে যাব বলে চিন্তা করছি এমন সময় দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ।

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 18, 2016 , 8:31 পূর্বাহ্ন

idris

খোশগল্প.কম: আঙ্কেল কেমন আছেন ?

ইদ্রিস আলি: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার নাম কি আঙ্কেল ?

ইদ্রিস আলি: মোঃ ইদ্রিস আলি ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার বয়স কত আঙ্কেল ?

ইদ্রিস আলি: আমার বয়স তো ৬৭ বছর ।

খোশগল্প.কম: আপনার পরিবারে কে কে আছেন ?

ইদ্রিস আলি: আমার পরিবারে ২ ছেলে, আমি আর তোমার আন্টি ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ছেলেরা কি করে?

ইদ্রিস আলি: আমার এক ছেলে পড়ালেখা করে আর এক ছেলে চাকরী করে ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার এক ছেলে চাকরী করে তবু ও আপনি এখন ও ফুসকা বিক্রি করেন কেন ?

ইদ্রিস আলি: কাজ করতে ভালো লাগে, কাজ করে পরিবারে যতটা সাহায্য করা যায়। খালি খলি থাকতে তো ভালো লাগে না ।এখন এর আগের মত বেশী খাটি না ।এখানে শেষ করে পার্কে যাই, সেখানে দক্ষিণ পাশে একটু জায়গা আছে সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকি তারপর বাসায় চলে যাই ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি এর আগে কি করতেন ?

ইদ্রিস আলি: আমি মাদ্রাসায় এর মসজিদে চাকরী করতাম। আমি নিজে একটা মাদ্রাসা ও ২ তলা একটা মসজিদ করেছি আমার গ্রামের এলাকায় ।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে ঐখান থেকে আসলেন কেন ?

ইদ্রিস আলি: আমি দেশ থেকে রাগারাগি করে এখানে চলে আসছি। তারপর আর যাই নাই। আমাকে নিতে ও আসছে, অনেক চেষ্টা করছে আমি আর যাই নাই।

 

খোশগল্প.কম: আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায় ?

ইদ্রিস আলি: আমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ছেলে কোন ক্লাসে পড়ছে ?

ইদ্রিস আলি: আমার ছোট ছেলে ক্লাস ৬ পড়ে এবার, গতবার ক্লাস ৫ থেকে এ+ পেয়ে ৬ এ উঠছে। এর একজন একটা দুধের কোম্পানিতে চাকরী করে ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি তো যুদ্ধের সময় ছিলেন, যুদ্ধের একটু গল্প এখন ও মনে আছে ?

ইদ্রিস আলি: আমার তখনকার অনেক কিছুই মনে আছে। পাকিস্তানীরা অনেক খারাপ ছিল, আমার বাড়ির সামনে দিয়া যাইত আমি প্রায়ই দেখতাম তাদের। আমার পরিবারের কোন ক্ষতি হয় নাইআমরা সারাদিন লুকাইয়া থাকতাম ভয়ে। আমাদের কোন আত্মীয়র পরিবারের কারো ও ক্ষতি হয় নাই যুদ্ধে । আমার মনে আছে আমি যুদ্ধে যাব বলে চিন্তা করছি এমন সময় দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ।

 

খোশগল্প.কম: ইনকাম যা হয় তাতে কি পরিবার চলে ?

ইদ্রিস আলি: চলে, প্রতিদিন ৩০০/৩৫০ টাকা থাকে। এখন তো কম ফুসকা বানাই, একটু কম কষ্ট করি। ছেলে এখন একটু হেল্প করে তো তাই আর ও সুবিধা হয়। এখন সকালে আসে দুপুরে চলে যাই এবার আসরের নামাযের পর আসি। এভাবেই চলছে ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি কতদিন ধরে ফুসকা বিক্রি করেন ?

ইদ্রিস আলি: ২০ বছর ধরে, এই স্কুলের সামনে আছি ৮ বছর ধরে ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি এই যে মাদ্রাসার চাকরী ছেড়ে ফুসকা বিক্রি শুরু করলেন, তাতে মানুষ কিছু বলে না ?

ইদ্রিস আলি: বলে তো। আমি প্রথম ঢাকায় আইসা একটা মসজিদে চাকরী নিলাম, একদিন সেক্রেটারি সাহেব আমাকে আমার মা তুলে আমাকে গালি দিছেন তারপর থেকে চাকরী ছেড়ে দিছি। বড়লোক মানুষের গালির কোন ঠিক ঠিকানা আছে, যা ইচ্ছা বলে । তারপর এই কষ্টে আমি চাকরী ছেড়ে দিলাম ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি নিজকে সুখী মনে করেন ?

ইদ্রিস আলি: হুম, আমি সুখে আছি অনেক। শুকরিয়া আল্লাহর কাছে, আমাকে এত ভালো রাখছেন এই বয়সে ।

 

খোশগল্প.কম: আপনার বাকি জীবনটাতে কি করতে চান ?

ইদ্রিস আলি: আমি আর কষ্ট করে হলে ও আর ও ২/৩ টা বছর কাজ করব। যদি ও আমার কাজ করতে কোন কষ্ট হয় না। ছোট ছেলেটাকে ৮ পাস করাইয়া কাজে দিয়া দিমু । তারপর আমি আর আমার স্ত্রী গ্রামে চলে যামু । ছেলেটা যদি ভালো রেজাল্ট করে তাহলে পড়তে দিমু, না হলে কাজে দিয়া দিমু ।

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত