তৌসিক, নিজকে এককথায় বলতে গেলে নিজকে ‘পরিশ্রমী” বলতে চান । তার মতে, “আমি প্রতিভাবান নই, কিন্তু আমি পরিশ্রমী”।বাকি গল্প তার কাছ থেকেই শুনব…

আমার মনে হয় এখন আইডিয়া সবার মাথায় ঘুরে, কিন্তু এই আইডিয়া ইমপ্লিমেন্ট এর সুযোগ সবাই পায় না

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 10, 2016 , 8:51 পূর্বাহ্ন

towshik vy

খোশগল্প.কম: আপনি একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে পড়ছেন, কিন্তু আপনি ব্যাস্ত আছেন জার্নালিজম ও লেখালেখি নিয়ে, ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

তৌশিক: নেশা আর পেশা বলে মানুষের ২ টা কথা আছে। একটা হচ্ছে প্রফেশনালিজম থেকে, আর একটা হচ্ছে আমার শখ থেকে। আমার সাইন্সের প্রতি আগ্রহ ছিল এবং সেখান থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ারও ইচ্ছা ছিল। সে লক্ষ্যেই কিন্তু বুয়েটকে টার্গেট করা এবং বুয়েটে পড়ছি। লেখালেখি জিনিসটা আমার ছোটবেলা থেকেই ভালো লাগত, নানা রকম রচনা প্রতিযোগিতায় এবং নানা জায়গায় ইনভলভড থাকার চেষ্টা করতাম লেখালেখি নিয়ে । তারই ধারাবাহিকতায় ‘প্রথম আলো’তে প্রথম লেখার সুযোগ আসে। তো ঐটাকেই ধরে রেখে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছি। ।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা থেকেই কি আপনার ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে আসার ইচ্ছা ছিল?

তৌশিক: ছোটবেলা থেকেই আসার ইচ্ছা ছিল এমন না। আমার বাবা ডাক্তার , তো ছোটবেলা থেকেই এমন একটা মোটিভের মধ্যে ছিলাম যে আমার ডাক্তারই হতে হবে। আমার বড়বোন রংপুর মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর আমার উপর প্রেশারটা একটু কমে আসে। আমি বুয়েটের কথা তখন অল্প স্বল্প জানতাম। দেখতাম বন্ধুদের মধ্যে যারা ভালো ছাত্র তাদের মধ্যে একটা ক্রেজ কাজ করত বুয়েটে চান্স পাওয়ার। ঐখানে চান্স না পাইলে নাকি কিছুই না, এমন অবস্থা। আমার কাছে ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল, তাহলে বুয়েটে চান্স পাওয়া কি এতটাই টাফ !! আগ্রহের শুরু ওখানেই যে ঠিক আছে, আমি বুয়েটেই চান্স পেয়ে দেখাব। তারপর ঐ বন্ধুদের সাথে বুয়েটের ফর্ম তুললাম, এবং পরীক্ষায় টিকে গেলাম । সেখান থেকেই চলে আসা। এবং নিঃসন্দেহে ইঞ্জিনিয়ারিংটাকে উপভোগ করেছি।

খোশগল্প.কম: আপনার লেখা-লেখির ব্যস্ততা কি শুধু প্রথম আলো ঘিরে?

তৌশিক: আমি প্রথম আলোতে কাজ করছি ২ বছর হল, ৯ মার্চ ২০১৩তে আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। বুয়েট এবং বুয়েটের বাইরের সকল সাফল্য এবং অনুপ্রেরণার গল্প আমি ”স্বপ্ন নিয়ে”তে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমি চেয়েছি লেখাগুলো থেকে সবাই যাতে অনুপ্রাণিত হয়। প্রথম আলো বাদেও আমি ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার টুয়েন্টি-ফোর ডট কম নামে অনলাইন একটা নিউজের কো-ফাউন্ডার এবং কন্ট্রিবিউট করার চেষ্টা করি। লেখালেখি ছাড়াও ইটসমি ডটকম ডট বিডি নামক একটি অনলাইন পোর্টালের সাথে আমি যুক্ত আছি। যা আসলে একটা টিশার্ট ওরিয়েন্টেড ওয়েবসাইট এবং আমি কো-অর্ডিনেটর অব বিজনেস ডেভলপমেন্টের দায়িত্ব পালন করছি। বন্ধু এবং কয়েকজন বড় ভাই এর সাথে অফার বাজার ডট কম ডট বিডি নামে নতুন একটা স্টার্ট-আপ বিজনেস খুব শীঘ্রই চালু করতে যাচ্ছি।

খোশগল্প.কম: ”স্বপ্ন নিয়ে” একটা তরুণদের প্লাটফর্ম, এখানে তরুণদের সাফল্য তুলে ধরা হয়, তো “স্বপ্ন নিয়ে” র প্রথম দিনগুলোর গল্প কি রকম ছিল?

তৌশিক: আমি একেবারে “স্বপ্ন নিয়ে”র শুরু থেকে ছিলাম তা কিন্তু নয়, “স্বপ্ন নিয়ে”র যতদূর জানি আজ প্রায় ৬ বছর হতে চলল। আমার প্রথম আলোর সাথে সম্পৃক্ততা ২ বছর ধরে। গত ২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে যা মনে হয়েছে, শুধু ‘স্বপ্ন নিয়ে’ নয়, প্রথম আলোর সব পেইজই অনেক পপুলার। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে এই পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞ এডিটোরিয়াল প্যানেলের। তারা যে কোন রকমের নিউজ বা সব রকমের নিউজ কিন্তু পাবলিশ করছে না বা লেখার জন্য আমাকে অনুমতিও দেন না। অনেক দেখে শুনে সেই ধরনের উল্লেখযোগ্য নিউজ হলে তারপর আমরা লিখতে পারি। আবার আমি ফিচার লিখে দেওয়ার পর লেখাটি কয়েক ধাপে এডিট হয় এবং লেখার গুণগত মান নিশ্চিত করে তারপরেই প্রকাশিত হয়। এটার জন্য খুব বড় মাপের নিউজ হওয়া লাগে এবং এডিটোরিয়াল প্যানেলের শক্ত অবস্থানের কারণে আজ অব্দি এই শক্ত অবস্থানটা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা চাই, আমরা সব ধরনের নিউজ ছাপাবো না, কিন্তু যেগুলো ছাপাবো সেগুলো দিয়ে সবাই যেন ইন্সপাইরেশন পেতে পারে । এটাই…

খোশগল্প.কম: জার্নালিজম এ অনেক বড় ব্যাপার হল পপুলারিটিা ধরে রাখা এবং এথিকসের মতন বিষয়টা মেইনটেইন করা, তো এইকারণ একসঙ্গে জার্নালিজম এর উদ্দেশ্যে হয়ে যায় তখন কি মাঝেমধ্যে এথিকস বিসর্জন দেওয়ার দরকার পড়ে?

তৌশিক: আমি আসলে জার্নালিজম এর ছাত্র না। এ প্রশ্নের সদুত্তর আমি হয়তো তাই দিতে পারছি না। অস্বীকার করব না যে আমি জার্নালিজম এর “জ” ও আসলে বুঝি না। তবে যতটুকু বুঝি তা হল, একটা সাকসেসের নিউজ এসেছে, বাকী সবাইকে ইন্সপিরেশনে দেওয়ার জন্য এইটা সবাইকে জানানো উচিৎ। আমি তথ্য কালেকশন করে যতটুকু সম্ভব নিজের মত করে গুছিয়ে লিখে প্রথম আলোকে ছাপানোর জন্য পাঠিয়ে দেই, ব্যস। তবে একটা জিনিস ঠিক, এথিকস এই ব্যাপারটার ক্ষেত্রে প্রথম আলো বেশ কঠিন, স্বজনপ্রীতি তারা কখনোই বিন্দুমাত্র পছন্দ করে না। এথিকসের মধ্যে থেকেই আমাকে কাজ করতে হবে।

খোশগল্প.কম: আপনার ইটসমি ডটকম ডট বিডি, অফার বাজার ডট কম, এই প্রতিষ্ঠানগুলির পিছনে আপনার হাত আছে, এগুলোর পিছনে আপনার উদ্দেশ্যে কি?

তৌশিক: আমার কাজিন ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করে। তার মূলত লক্ষ্য ছিল একটা স্টার্ট-আপ কোম্পানি চালু করবেন। তো এইটা নিয়েই ওনারা সাথে অনেক কথা হল,উনি চাচ্ছিলেন, আমি যদি ওনারা সাথে থাকি ভালো ভাবে সাহায্য করতে পারি তাহলে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে। তো উনিই মূলত আইডিয়াটা এক্সপোজ করেন, আমি ছিলাম, আমার একটা ফ্রেন্ড ছিল তারপর আমার আইডিয়া ডেভলপ করে করে একটা কোম্পানি দাড়া করাই। মূলত আমরা এটা একটা স্টার্ট-আপ কোম্পানি হিসাবে চালু করতে চেয়েছি, বলতে পারেন দেখার উদ্দেশ্য ছিল যে কোথায় যায়? আমাদের কতটুকু সামর্থ্য আছে। এই দেখাটার থেকে আমাদের শুরু করা, এখন তো দাঁড়িয়েই গেছে। আমরা তো কিছুটা হলেও মানুষকে সেবা প্রদান করতে পারছি। আর এটার সাকসেস থেকেই নতুন একটা আইডিয়া দিয়ে অফার বাজারের কাজ শুরু করছি। এটাও একটা স্টার্ট-আপ মূলত। আমার মনে হয় এখন আইডিয়া সবার মাথায় ঘুরে কিন্তু এই আইডিয়া ইমপ্লিমেন্ট করার সুযোগ সবাই পায় না। আমি লাকি যে আমার চারপাশে যে মানুষগুলো আছে তাদের মধ্যে যে আইডিয়া আছে শেয়ারিং করার মাধ্যমে আমরা আরও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। এই সুযোগটা আমি পেয়েছি বলে লাকি। প্রথমেই ইটসমি ডটকম ডট বিডির কথা বললাম যে এটা আসলে একটা টিশার্ট ওরিয়েন্টেড ওয়েবসাইট। যখন বুয়েটে আসলাম, দেখলাম এত ইভেন্ট হয়, ইভেন্টের টিশার্ট বানানোর জন্য বঙ্গতে যাওয়া। একজায়গায় থেকে কাপড় কেনা তো এক জায়গা থেকে রং কেনা, বিশাল একটা হেসেল। তাছাড়া জায়গাটাও বেশ অপরিচ্ছন্ন এবং সব মিলিয়ে খুব কষ্টকর একটা অনুভূতি। তখন মোটামুটি মাথায় আসল এমন একটা হাব করা যায়, যেখানে আমার ডিজাইন পাঠিয়ে দিব, একাউন্টস, বাজেট পাঠিয়ে দেওয়া হবে, তখন সেই রেঞ্জের ভিতরে কোয়ালিটি সম্পন্ন টিশার্ট প্রোভাইড করতে পারবে । এরসাথে গ্যালারি প্রোডাক্ট ছিল। এর সাথে নতুন একটা জিনিস চালু করলাম। যে যা ইচ্ছামতো ডিজাইন করে দিবে তা হুবুহ প্রিন্ট হয়ে যাবে। এজন্য আমরা দেশের বাইরে থেকে প্রিন্টার এনেছি নিজেদের খরচ দিয়ে । এই কয়েকটা অপশন একসঙ্গে করে ইটসমি ডটকম ডট বিডি আমি, আমার কাজিন আমরা ৪/৫ জন মিলে শুরু করি। এরপর কাস্টমারদের থেকে খুব ভালো রেসপন্স পাওয়া শুরু করলাম। মাএ ৬ মাসে প্রিন্টারের কালি শেষ হয়ে গেছে, যেটা আমরা ভেবেছিলাম ২ বছর লাগবে হয়তো শেষ হতে। কর্পোরেট ইভেন্টও ভালো চলছে। আর অফার বাজারের ক্ষেত্রে, আজকাল দেখা যায় এত অফার এই সবগুলোকে আমরা একটা জায়গায় নিয়ে আসব। হোপফুলি আমরা খুব শীঘ্রই এটা লঞ্চ করতে পারব।

খোশগল্প.কম: বুয়েটের স্টুডেন্টরা অনেক টিউশনি করায়, সে ক্ষেত্রে টিউশনি নাকি আপনি যা করছেন এমন কিছু কোনটাকে প্রাধান্য দিবেন?

তৌশিক: আমিও টিউশনি করি। নিজেদের হাত খরচের জন্য। এটা জানা কথা যে বুয়েটের স্টুডেন্টদের একটা ভালো ডিমান্ড থাকে টিউশনিতে, কিছু কাঁচা টাকার ব্যাপার থাকে টিউশনিতে। তবে এ ক্ষেত্রে উচিৎ টিউশনির পাশাপাশি অন্য কিছু করা উচিত বলে আমি মনে করি। অনেকে বিভিন্ন ক্লাবের সাথে ইনভলভড থাকেন। আমি মনে করি পড়াশোনা, টিউশনি বাদে সকলেরই অন্য যে কোন কাজে ইনভলভড থাকা উচিৎ । এটা তার সিভি থেকে শুরু করে চাকরিতেও দেখে বলে আমি শুনেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি একটা টিমকে কতটা লিড দিতে পারব, কতটা মোটিভেট করতে পারব, এই বিষয়গুলো এখন অনেক দেখা হয়।

খোশগল্প.কম: অনেকেই মনে করে এসবের সাথে যুক্ত থাকলে টিচার ফাইটারদের থেকে দূরে সরে যাওয়া হয়। এই ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখ?

তৌশিক: সত্যি কথা বলতে পুরো ব্যাপারটা আসলে নিজের ইচ্ছার উপরে। এমন না যে টিচার হতে হলে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বই নিয়ে পড়ে থাকতে হবে । আমাদের বুয়েটে এমন অনেক টিচার আছেন যারা কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিতে থেকেও পড়াশোনা ঠিক রেখে টিচার হয়েছেন । দুর্ভাগ্য যে আমার দিনে ১০ মিনিটও পড়াশোনার জন্য আমি বের করতে পারি না। ক্লাস, ল্যাব শেষ তো হাবিজাবি কাজে ইনভলভড হচ্ছি, কেউ টিউশনিতে যাচ্ছে, কেউ আমার মত আজগুবি কাজে যাচ্ছে । মনে হয় না এটার সাথে পড়াশুনার খুব একটা ঝামেলা হয়। আর সেটা নির্ভর করছে পুরাটা নিজের ইচ্ছার উপর, যে পড়াশোনা করে, সে চাইলেও এসবের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। আমি আমার অনেক বন্ধুকে চিনি যার সিজি ৩.৯ এর উপরে সেও ২/৩ ক্লাবের সাথে ইনভলভড আছে, টিউশনি করে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে নিজে কতটা হ্যান্ডেল করতে পারবে।

খোশগল্প.কম: আপনার হল জীবন কেমন কাটছে?

তৌশিক: এক কথায় অসাধারণ, আমার রেজাল্ট তো খুব একটা ভালো ছিল না । তাই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম যে, কুয়েটে ভর্তি হব নাকি, আইউটিতে নাকি ঢাকা ভার্সিটিতে। সবগুলোতেই বুয়েটের চেয়ে ভালো রেজাল্ট ছিল। তখন বুয়েটের এক বড় ভাইয়া বলছিল “তৌশিক বুয়েটে ভর্তি হও, যদি বুয়েটের হলে থাক, তাহলেও জীবনে অনেক কিছু শিখতে পারবা”। এই কথাটা আমি এখন বুয়েটে এসে ফিল করতে পারি, এটলিস্ট আমি বুয়েটের হলে থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

খোশগল্প.কম: বুয়েটের হলে থেকে কি শিখেছেন, একটু নিদিষ্ট করে বলবেন?

তৌশিক: এখানকার প্রতিটা মানুষ অসম্ভব রকমের ট্যালেন্ট। হলে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল পিএল এর সময় একসঙ্গে পড়ালেখা করা। এটা অনেক কাজে দেয়, কেউ অসুস্থ হলে সেবা করার মানসিকতা। একসাথে ঘুরতে যাওয়া। সবাই একসাথে থাকছি, খেলছি । শুধু একটা উদাহরণই দেই, শিক্ষণীয় বলতে বাসায় থাকলে দেখা যায় যে সবসময় একটা মানুষের ইমার্জেন্সী নিড বাপ-মা দেখে। কিন্তু এখানে একটা ফ্রেন্ডের অসুস্থ হলে কি করতে হবে না হবে, সবাই এগিয়ে আসে, এই ধরনের সাহায্য করার মানসিকতা জন্ম নেয়।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটি লাইফে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানলাম কিন্তু স্কুল লাইফের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আপনার এখনকার দৃষ্টিভঙ্গির উত্তরণ টা কিভাবে ঘটল?

তৌশিক: আমি স্কুল-কলেজে খুবই সাদাসিধা একজন বালক ছিলাম। অন্য আর ১০ টা সাধারণ ছেলের মত কাটাতাম। বলছি না যে ভার্সিটিতে এসে খুব অসাধারণ কিছু হয়েছি, বা চিন্তা করেছি। চিন্তা ভাবনারও যে খুব একটা উত্তরণ ঘটছে তেমনটাও না। তবে হ্যাঁ তখন একটা লিমিটেড রকমের চিন্তা ভাবনা ছিল, অনেক আইডিয়া ছিল পারব কি পারব না এমন সীমাবদ্ধতায় ছিলাম, আশংকায় ছিলাম। কিন্তু এই পরিবেশে এসে এখন এই জিনিসটা কাজ করে যে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব। এই বিশ্বাসটা জন্ম নিয়েছে।

খোশগল্প.কম: একটা শব্দে নিজকে উপস্থাপন করতে বললে আপনি কি বলবেন?

তৌশিক: ”পরিশ্রমী”। আমি প্রতিভাবান নই, কিন্তু আমি পরিশ্রম করার চেষ্টা করি। যে কোন লেখালেখি বলেন বা কাজ বলেন , আমি আমার সবোর্চ্চ চেষ্টা দিয়ে খেটে খুটে কাজটা বের করে দেবার চেষ্টা করি ।

খোশগল্প.কম: আপনি জীবনটাকে কিভাবে দেখেন?

তৌশিক: আমার কাছে মনে হয় আসলেই জীবনটা একটা রেস। আমরা যতই বলি ইনজয় কর, রেস না। যখন কেউ দেখে তার থেকে কেউ এগিয়ে যাচ্ছে তখন তার মধ্যে একধরনের জেলাসি কাজ করে। সবাই আসলে রেসের মধ্যে থেকেই কাজ করছে। এটা ব্যাপার না, আমি একসাথে জীবনটাকে ও উপভোগ্য করার চেষ্টা করি আবার রেসে ও অংশগ্রহণ করতে ভালবাসি।

খোশগল্প.কম: এই রেসটা কিসের? অর্থ, খ্যাতি, ক্ষমতা কোনটার?

তৌশিক: সবকিছুরই কম্বিনেশন। সবার মনেই এই জিনিসগুলো থাকে, যার কারণেই এই রেসটা চলছে বলা যেতে পারে।

খোশগল্প.কম: এই সাকসেস দিয়ে কি লাভ, যেখানে মৃত্যু অবধারিত?

তৌশিক: মৃত্যু অবধারিত সেটা সবাই জানে, কিন্তু এট দ্যা এন্ড অফ দ্যা ডে নিজে কতটা হ্যাপি আছি এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমি ক্ষমতা পেয়ে হ্যাপি থাকলে হ্যাপি। কেউ যদি টিচার ফাইটার হয়ে শুধু টিচার হয়ে হ্যাপি তাও হ্যাপি, কেউ যদি টিচার ফাইটার হয়ে ও ২/৪ টা ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে এক্সপোজ করে হ্যাপি থাকতে পারে তাহলে সেও কিন্তু হ্যাপি। আসলে নিজের কাছে সুখে থাকতে পারাটাই অনেক বড় ব্যাপার, আর সেই জন্যই এই রেসের যাত্রা।

খোশগল্প.কম: আপনার মৃত্যু ভাবনা কি আসলে?

তৌশিক: এটার সাথে তো কোন সমঝোতা চলে না। আমি কালকে মরে যাব বলে আজকে বসে থাকব এমন মতবাদে আমি বিশ্বাসী না। আমি আমার রেগুলার কাজটা করতে থাকব, মৃত্যু যখন আসার আসবে, সেটা আল্লাহ ভরসা।

খোশগল্প.কম: আপনার আইডল কে?

তৌশিক: আমি আসলে লাকি ছোটবেলা থেকেই অনেক ক্রিয়েটিভ মানুষ দেখে বড় হয়েছি। আমি যদি আমার বাবার কথা বলি, এতটা পরিশ্রমী মানুষ আমি দেখি নাই, তিনি ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য যতটা পরিশ্রম করছেন। তাকে দেখেই আমি প্রথম ধারনা পেয়েছি যে পরিশ্রম ব্যতীত কিছু হতে পারে না। পরিশ্রম করলে মানুষ সাকসেস হবেই। এ ক্ষেত্রে আমি আমার বাবাকে দেখে ইন্সপায়ার্ড হয়েছি, তিনি এ ক্ষেত্রে আমার আইডল । আর আমার মাও খুব পরিশ্রমী। আমার বড় বোনকে আমি সবচেয়ে বেশি সম্মান করি এই দিক থেকে। সে অনেক ক্রিয়েটিভ। ডিবেট, আর্ট , গান সব দিক থেকেই সে অনেক দক্ষ ছিল। সবগুলো গুণ যেন সে একাই নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে। আমি তাকে দেখেও সর্বদা অনেক অনুপ্রেরণা পেতাম, সে এতকিছু পারবে, আমি কেন পারব না। আমার ছোট বোন ও তাই। আমার একটা ফ্রেন্ড আছে – শুভ্র নামে। ও অসাধারণ একটা ক্রিয়েটিভ মানুষ। সবখানেই ইনভলভড থাকে। ওকে দেখলেও আমি অনেক কিছু শিখি। এরাও কিন্তু সেই রেসেই আছে। কিন্তু রেসে অনেক এগিয়ে আছে । আর এদের দেখলে কখনো ঈর্ষা হয় না। বরং তাদেরকেই আইডল মনে হয় । যাদের কাছ থেকে আমি শিখতে পারছি আমি তাদেরকেই আইডল মনে করি, তাদের মত হওয়ায় চেষ্টা করি । এটাই…

খোশগল্প.কম: আপনার সবকিছু নিয়ে ভবিষ্যৎ প্লান কি?

তৌশিক: লেখালেখি আমার ভালো লাগার জায়গায় আছে, থাকবে। যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং ও আমার আরেকটা ভালো লাগার জায়গা। তো আমি সে ক্ষেত্রে চেষ্টা করব ক্যারিয়ারটা ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে গড়ার। সুযোগ থাকলে লেখালেখিটা চালিয়ে যাব।

খোশগল্প.কম: আপনি কি সুখী মানুষ?

তৌশিক: হুম ১০০% সুখী মানুষ। প্রথম আলোতে আমার নিউজ গুলো দেখলে ভালো লাগে,আমার লেখা নিউজ। যে আমি আরেকজনের হয়ে নিউজ গুলো এনে দিতে পারছি। বন্ধুদের সাথে থাকতে ভালো লাগা কাজ করে, আমি ওদের সাথে থাকতে পারছি এবং প্রতিনিয়ত শিখছি। সব কিছুর মধ্যেই সুখ খোঁজার চেষ্টা করি। আর এসব মিলিয়ে আমি সুখী মানুষ। আমার বুয়েটে লাইফ সুখে কাটছে। হোপফুলি আমরা সামনের লাইফটা ও এরকমই কাটবে । আমি সকলের দোয়াপ্রার্থী ।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত