ফাইয়াজ রহমান, আমাদের মতোই একজন দোষে-গুণে মানুষ । তার মতে,”টাকা যোগ্যতার মাপকাঠি না, খুব কম টাকা থাকার অর্থ এই না যে আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন না। টাকা হল এমন একটা কারেন্সি বা মাপকাঠি যা মানুষ অনেকদিন চিন্তা ভাবনা করে বের করেছে। খুব বেশি থাকার অর্থ খুব খুশি হওয়া যাবে না, আবার খুব কম থাকলে টাকার কাছে নিজকে সারেন্ডারও করা যাবে না। সুতরাং টাকা কখনোই যোগ্যতার মাপকাঠি না”।

আমার মন খারাপ থাকলে ক্রিকেট খেললে মন ভালো হয়ে যেত

লিখেছেন...admin...মার্চ 14, 2016 , 6:49 পূর্বাহ্ন

faiyaz

খোশগল্প.কম: এখন আপনি যে কাজে আছেন তা নিয়ে আপনার কি কখনো অনুতাপ হয়?

ফাইয়াজ: আমার কোন অনুতাপ নেই। অনুতাপ শব্দটা আমার সাথে ঠিক যায় না। কোন কাজের রেজাল্ট ই সব সময় শুধু নিজের চেষ্টার উপর নির্ভর করেনা, বাইরের অনেক কিছুও ঠিক করে দিতে পারে কাজের ফলাফল কি হবে।নিজের চেষ্টাটাই শুধু নিজের উপর, আউট-কাম নিজের উপর নির্ভর করেনা। তবে এখনও জা করছি, ভালো লাগা থেকেই করছি। আমি কাজটা সব সময় এনজয় করি, অনুতাপ থাকে না যদি কাজ এনজয় করা হয়।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় অনেকের অনেক রকম হাস্যকর স্বপ্ন থাকে, আপনার এমন কিছু কি ছিল?

ফাইয়াজ: আমি ছোটবেলায় অনেক ক্রিকেট খেলতাম, যদিও এটা হাস্যকর স্বপ্নের মধ্যে পড়েনা। আমি ক্রিকেট খেলতাম আমার ভালো লাগা থেকে।এখনও ক্রিকেট খেললে মন ভালো হয়ে যায়। আমার ক্রিকেট না খেলাটা নিয়ে আমি অনুশোচনায় ভুগি। আমি এখন যেমন আছি, এর চেয়ে ভালো থাকতাম আমি যদি ক্রিকেট খেলতাম। যদি খুব নীচের দিকের খেলোয়াড়ও হতাম, তাহলেও খুব দুঃখ থাকত না। আমি জীবন থেকে যেটা বুঝেছি সেটা হল সাকসেস সবসময় খুশি থাকার পূর্বশর্ত না। আর  একেবারে শিশুকালে বাবা-মা’র শেখানো মত বলতাম যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট হবো।

খোশগল্প.কম: আপনার কাছে সুখের সংজ্ঞাটা কেমন?

ফাইয়াজ: সুখ জিনিসটা নিজের উপর নির্ভর করে।  আমার ধারণা আমি আজ অব্দি যত মানুষ দেখেছি, তাদের বেশির ভাগই নিজেকে চেনেনা। নিজের আনন্দ কিসে, কি করতে ভালো লাগে- এসব আগে জানতে হবে। আরও কিছু ব্যাপার থাকে,যেমন আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসতাম, কিন্তু বাবা-মা চায় নি বলে আমি ছেড়ে দিয়েছি। আর তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট এত ভালো অবস্থানে ছিল না । এমন অবস্থায় থাকলে বাবা-মা হয়তো কখনোই না করত না। আমি আসলে তখন চাই নি বাবা-মাকে খালি খালি টেনশন দিতে, তাই ক্রিকেট ছেড়ে দিলাম। সো, আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে একটা সময়ে আপনার প্রায়োরিটি কি, আপনার আনন্দের পথটা বাস্তবসম্মত কিনা।

খোশগল্প.কম: আপনি তাহলে বাবা-মাকে খুশি করার জন্য ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলেন?

ফাইয়াজ: না, আমি আসলে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিছুই হতে চাই নি। আমি সবসময়ই নিজে কিছু করতে চেয়েছি। আমি বুয়েট এমনকি কোন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষাই দেই নি। আই বি এ তে পরীক্ষা দিলাম, সেখানে হল না। এর পর ভর্তি হলাম মেডিকেল এ, ৪/৫ মাস পরে বুঝতে পারলাম আমার ভালো লাগছে না, তারপর আবার বিবিএ পড়া শুরু করলাম ।

খোশগল্প.কম: আপনার ব্যবসায় তো অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে, স্ট্রাগলের গল্প গুলো শুনতে চাই

ফাইয়াজ: আমি অনেক স্ট্রাগল করেছি  নতুন ব্যবসায়ী হিসাবে। সোহাগ ভাই ঐ দিন বলছিলেন যে, ‘‘আমি নিজেও ব্যবসা শুরু করার ৭/৮ বছর পর ব্রেক ইভেন পয়েন্ট এ গেছি। বাইরের মানুষগুলোর চোখে আমি লুজার ছিলাম,কিন্তু আমি জানতাম আমিই আসলে উইনার।’’- আমার ক্ষেএেও ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম। আমি জানতাম আমি উইনার, আমি সঠিক পথে চলছি সেটা আমি জানি। মানুষের কথা এ ক্ষেত্রে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না। নিজের ভালো লাগা, আর খারাপ লাগার জায়গাটা যারা বোঝে, তাদের জন্য এগুলো সমস্যা না।

খোশগল্প.কম: টাকা কি যোগ্যতার মাপকাঠি?

ফাইয়াজঃ টাকা ব্যবসার জন্য একটা ইস্যু, কিন্তু টাকা যোগ্যতার মাপকাঠি না। খুব কম টাকা থাকার অর্থ এই না যে আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন না। টাকা হল এমন একটা কারেন্সি বা মাপকাঠি যা মানুষ অনেকদিন চিন্তা ভাবনা করে বের করেছে। টাকা খুব বেশি থাকার কারনে খুব খুশি হওয়া যাবে না, আবার খুব কম থাকলে টাকার অভাবের কাছে নিজেকে সারেন্ডার ও করা যাবে না। সুতরাং টাকা কখনোই যোগ্যতার মাপকাঠি না। এটা শুনতে বইয়ের কথা মনে হয়। কিন্তু এটাই সত্যি। আমার ও অনেক বার পকেট এ টাকা ছিল না। কিন্তু এই ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে কোন প্রভাব বেশি ফেলেনি।

খোশগল্প.কম: তাহলে সাফল্যের মাপকাঠি কি?

ফাইয়াজ: এই জিনিসটা কো-রিলেটেড। আপনি রাজ পরিবারের উদাহরন নিতে পারেন। যেমন প্রিন্স উইলিয়াম – কেট মিডলটনের যে ছেলে হয়েছে সে কি খুব ডিজার্ভ করে তার সমবয়সী বাচ্চাদের মধ্যে যে খ্যাতি সে পেয়েছে? এ ক্ষেত্রে আপনার মাথাটাকে পলুটেড হতে দেওয়া যাবে না। আমার ভাই যদি প্রিন্স অফ ব্রিটেন হত, তাকে সবাই চিনত, কিন্তু কেট মিডলটনের বাচ্চা আমার ভাই এর জায়গায় থাকলে কেউ চিনত না তাকে। এটা আসলে ডিপেন্ড করে। কখনও কখনও আপনি অনেক ট্যালেন্টেড হয়েও সংগ্রাম করবেন এবং এটাই জীবন। সমস্যা হল এগুলো কো-রিলেটেড, আপনি টাকা দিয়ে খ্যাতি আনতে পারবেন আবার খ্যাতি দিয়ে টাকা আনতে পারবেন । মাঝেমধ্যে দেখা যায়, আপনার যোগ্যতা আছে কিন্তু টাকা নেই, ক্ষমতা নেই – তাহলে আপনার জন্য আমার সমবেদনা। তবে আপনি যদি আপনার ঐ নির্দিষ্ট ছোট গন্ডিতেই অনেক কিছু করেন, তাহলে আমার চোখে আপনি সফল। খ্যাতি, ক্ষমতা ও টাকা দিয়ে আসলে মানুষের সাফল্য মাপা যায় না।

 খোশগল্প.কম: পেশাগত জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল নৈতিকতা। অন্য সবকিছুর মত শিক্ষাদান করে নৈতিকতা শেখানো যায় কি?

ফাইয়াজ: এক্ষেএে ওপেননেস জিনিসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেমন মনে করেন, আপনি কাউকে ২ টা ঘুষি মারলেন। আমার উচিৎ ততদিন পর্যন্ত  চিন্তা করা উচিত যতদিন না আমি বুঝতে পারব আপনি কেন ঘুষি মারলেন।  কিন্তু আমরা করি কি? খুব দ্রুত জাজ করে ফেলি।লোকটা উগ্র তাই ঘুষি দিয়েছে, কিন্তু এটা উচিৎ না। আমি কি পাই নি, অন্যরা কি পেয়েছে, অন্যরা কি চুরি করল সেটা দেখা, কিন্তু আমরা কি চুরি করলাম সেটা না দেখা –এগুলো হল মানুষের অভ্যাস। ওপেননেস মানে হল, নিজেকে বিচার করে দেখা, কোন মানুষকে অল্প সময়ে জাজ না করা। এইসব করতে পারলে আপনি অনেক কোমলতা, হিউম্যানিটি নিয়ে মানুষকে এপ্রোচ করতে পারবেন। এভাবে একসময় আপনার মধ্যে নৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। এটা কখনোই বই পড়িয়ে, মেরে, এইচ আর পলিসি দিয়ে শেখানো যাবে না। এগুলো কারোর মধ্যেই জোর করে দেওয়া যাবে না।

খোশগল্প.কম: মানুষ হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বা দোষ কী?

ফাইয়াজ: আমার রাগ।রাগের মেয়াদ কম কিন্তু পরের ২/৩ দিন আমি প্রভাবিত থাকি ওটাতে। এক্ষেত্রে  ইমোশানটা কন্ট্রোল এ রাখা উচিৎ। কিন্তু কন্ট্রোলে রাখার অর্থ চেপে রাখা না। কন্ট্রোল এ রাখার মানে হল, যখন ঠিক যতটা দরকার তখন ঠিক ততটাই প্রয়োগ করা। জিনিসটা ব্যালেন্সিং এর মত। ঠিক যতটা ইমোশান দেখানো দরকার ততটাই দেখানো। আমার রাগ ঠিক অতটাও বাজে রকমের না। আর গত ৫-৭ বছরে অনেকটা কন্ট্রোল করেছি। যতটা কন্ট্রোল হয়েছে আমি তাতে সন্তুষ্ট না, আরও বেশী কন্ট্রোল করতে চাই।

 খোশগল্প.কম: আপনার শৈশব, কৈশোরের এমন কোন ঘটনা আছে, যা আপনার পুরো জীবনকে প্রভাবিত করেছে?

ফাইয়াজ: না এমন কোন ঘটনা নেই। ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করতাম। সবকিছু চিন্তা করে করতাম। তখন ওপেননেস যদিও বুঝতাম না, কিন্তু কোনটা ভালো কোনটা খারাপ এটা নিয়ে প্রচণ্ড ডাউট করে চলতাম।

খোশগল্প.কম: আপনার অবসর সময় কিভাবে কাটে?

ফাইয়াজ: এখন আমার অবসর সময় নেই। যতটুকু সময় পাই আমার  ৮মাস বয়সী ছেলেকে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি সারাদিন পর ফিরে ক্লান্ত থাকি, সময় দিতে পারি না। এছাড়া ক্রিকেটের প্রতি চিরন্তন ভালোবাসা আছে। অবসর সময়ে খেলা দেখা। গতকাল তো বাংলাদেশের খেলা ছিল, যতটা সম্ভব দেখার চেষ্টা করেছি। আর বই পড়ার অভ্যাস আছে, কিন্তু এটা তো কাজের একটা পার্ট, তাই এটাকে আমি অবসর সময়ের কাজের মধ্যে ফেলব না। বই না পড়ে তো রাস্তা নেই। আমার যে জ্ঞানটা দরকার তা অবশ্যই বই পড়া ছাড়া পাব না।

খোশগল্প.কম: এখনকার বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের খুব একটা সময় দিতে পারছেন না, কিন্তু বাচ্চাদের ভালো ভাবে বেড়ে উঠার জন্য বাবা-মায়ের সময় দেওয়া অনেক জরুরী। সে ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কি ?

ফাইয়াজ: এখনকার সময়ে ফিনান্সিয়াল সাপোর্টটা সব পরিবারেই দরকার। একটা সিঙ্গেল পরিবার যারা মনে করে সারাদিন অফিস করার পরও তাদের বাচ্চাকে একঘন্টা সময় দিয়ে সারাদিনের ঘাটতি পোষাতে পারবে,তারা সেটা করতে পারে।এক্ষেত্রে অন্যদের জাজ করা উচিৎ না। বাচ্চাদের প্রতি দায়িত্বটা শুধু আমাদের বাবা মায়ের না, পুরো সোসাইটির। একটা শিশু একটা অপরাধ করলে তার দায় পুরো সমাজের। পৃথিবীর বেশিরভাগ এডভান্স সোসাইটি বাচ্চাদের ব্যাপারে অনেক সচেতন। আমাদের সমাজে যে বাচ্চারা চেয়ে খাচ্ছে, রাস্তায় থাকছে, ঐ ছেলেগুলো যদি আপনাকে একদিন ছুরি মারে এর পিছনে ঐ ছেলের কতটা দোষ আর আমাদের সমাজের কতটা দোষ? সবারই উচিৎ বাচ্চাদের প্রতি দায়িত্ববান হওয়া। আমি পৃথিবীতে নতুন একটা প্রাণ আনতে চাচ্ছি কিন্তু দায়িত্ব ও নেবোনা -এটা ঠিক না।

খোশগল্প.কম: যৌথ পরিবার প্রথা কি এখনও যুগপোযোগী?

ফাইয়াজঃ আমাদের কালচার অনুযায়ী হয়ত যৌথ পরিবারই ভালো । আমাদের পরিবারের কালচার আর মূল্যবোধ যৌথ পরিবারই দিতে পারে। আবার আমেরিকানরা যৌথ পরিবারে থাকতে পারবে না, তারা খুব ইন্ডিভিজুয়াল ভাবে থাকে। ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে ঐ ভাবে একা একা রুমে রেখে ট্রেনই করা হয়েছে।৩/৪ মাস বয়স থেকে তাদের একা একা রাখা হয়,তারা কাদেঁ না। অথচ আমার ছেলে খাটে বসে থাকলেও কোলে ওঠার জেদ করে। আমরা আমাদের ওয়েতেই বাচ্চাদের মধ্যে ঐ শক্তি আনার চেষ্টা করতে পারি। কোন বাবা-মা যদি আমেরিকান লাইফ স্টাইলে গিয়ে জীবন ভালো চালাতে পারে তাহলেও সমস্যা নেই।

খোশগল্প.কম: আপনার বাবা-মার যেমন আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল, তেমনি আপনার ছেলেকে নিয়ে কোন স্বপ্ন আছে?

ফাইয়াজ: না এমন কোন স্বপ্ন নেই। যদি কখনও বুঝতে পারি ও আমার কথার কারনে কোন কিছুতে প্রভাবিত, তাহলে আমি তাকে ঐখান থেকে ফিরিয়ে আনার সবোর্চ্চ চেষ্টা করব। আমার বাচ্চার নিজের কি ভালো লাগে, কি করতে চাইবে- সে নিজেই সেটা বুঝে নেবে। আমি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করি, সে চাইলে আমি তাকে সাপোর্ট করবো। সে যা করতে চায় তাই করতে দেবো, কোন কিছুই চাপিয়ে দেবোনা।

 খোশগল্প.কম: একজন সাধারণ মানুষ হয়ে বেঁচে থাকলে জীবনটা অর্থহীন মনে হয়?

ফাইয়াজ: একবারেই না, জীবন কখনোই অর্থহীন হয় না।

খোশগল্প.কম: পেশাগত জীবনে আমাদের অন্ট্রাপেনারশিপটা কি জরুরী?

ফাইয়াজ: হুম, যতটা তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততটাই ভালো। কাজ তো আলটিমেটলি করতেই হবে, তাহলে আগে থেকেই শুরু করতে হবে ।

 খোশগল্প.কম: অফিসে একজন এমপ্লয়ির সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করাটা তটা নৈতিক বলে মনে করেন?

ফাইয়াজ: আমাদের অফিসে তো এটা ব্যবহার জরুরী। কাজ যদি সোশ্যাল সাইট ইস্যুতে হয় তাহলে তো ব্যবহার করতেই হবে।যদি অকারনে সময় নষ্ট করেন তাহলে অনৈতিক। তবে কখনও মানুষকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিৎ না, এতে মানুষের সম্ভাবনা কমে যাবে।

 খোশগল্প.কম: আপনার ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠার পেছনে এমন কারো প্রভাব আছে?

ফাইয়াজ: আমার মা আর নানুর। তাদের ভালোবাসা আমাকে দায়িত্ব নিতে শিখিয়েছে, সমাজের দায়িত্ব নিতেও শিখিয়েছে। তাদের ভালোবাসা থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি ।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত