আবদুল্লাহ আল জাহিদ, সফলতা কে দেখেন ভিন্ন চোখে। তার মতে,” এট দ্যা এন্ড অফ দ্যা ডে, টাকা পয়সার হিসেব আর থাকে না। কিছু মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক, কিছু মানুষের আন্তরিক সম্পর্ক। দিনশেষে শুধু এগুলোই কাউন্টে-বল। বাবা-মা পরিবারের কাছাকাছি থাকাটা অনেক বড় প্রাপ্তি”।

আমি ছোটবেলায় অনেক খেলাধুলা করতাম

লিখেছেন...admin...মার্চ 21, 2016 , 5:06 পূর্বাহ্ন

zahid-1

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার কোন উদ্দেশ্যে ছিল?

জাহিদ: তেমন ছিল না, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যে সকল মানুষদের সমীহ করতাম, ভালো লাগত। তাদের সবারই বুয়েটের উপর ফ্যাসিনেশন ছিল ।তখন তাদের দেখাদেখি বুয়েটে পড়ার ইচ্ছা জাগতে লাগল । তখন বুঝতে পারলাম বুয়েট হয়তো ড্রিম হওয়া উচিৎ।

খোশগল্প.কম: আপনি বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে আইএসবি তে টিকেও যান নি, এবং বুয়েটে ১/১ এ অনেক ভালো রেজাল্ট করেছেন। এত ভালো রেজাল্টের পর সেনাবাহিনীতে পরীক্ষা দেওয়া ইচ্ছা বা আগ্রহ কেন তৈরী হল?

জাহিদ: ব্রেন হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা নিজের কন্ট্রোল এ ছিল না।  আমি জানি না কেন সেনাবাহিনীর জন্য ফ্যাসিনেশন এসেছিল। ১/১ এ অনেক ভালো রেজাল্ট আসছিল, কিন্তু নিজেকে তবুও ছোট মনে হত। এটা আমার ছোটবেলা থেকেই হত। আমার মনে হয় এই চিন্তা ভাবনা থেকেই সেনাবাহিনীতে যাওয়া। আমি এটা নিয়ে অনেক দ্বিধায় ছিলাম, সেনাবাহিনীতে যাব কি যাব না। যদি ইচ্ছা না থাকত একা একা আইএসবি তে যেতাম  না। আমি আইএসবি দেওয়ার পর যখন চান্স পেলাম  তখন বাবা বললেন, যেও না। তারপর আর যাওয়া হল না।

খোশগল্প.কম: ভদ্রতা কি চরিএের সীমাবদ্ধতা?

জাহিদ: না, এটা অবশ্যই ব্যক্তিত্ব-বোধের একটা ভালো গুণ। বেশি নেতিবাচক মানুষগুলোর কাছে হয়তো এটা ইতিবাচক নাও হতে পারে।

খোশগল্প.কম: আপনি স্কুল লাইফে অনেক কো-কারিকুলার একটিভিতে জড়িত ছিলে,বিতর্ক করতে। কিন্তু কলেজ লেভেল থেকে বিতর্ক করাটা ছেড়ে দিলেন, এর পিছনে কোন নির্দিষ্ট কারণ আছে?

জাহিদ: আমার মনে হয়েছিল কলেজ লাইফের সময়টা অনেক ছোট, পড়ালেখায় টাইম দেওয়া উচিৎ। তাই বিতর্ক ছেড়ে দিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল একটু বেশী টাইম দিতেছিলাম। এখন আবার শুরু করেছি।

খোশগল্প.কম: এইচ এস সি তে গোল্ডেন এ+ মিস করার পরও আপনি বুয়েটে ভালো ভাবে টিকেছেন;  তো এই স্ট্রাগলের সময়টার কথা বলুন!

জাহিদ: আমাদের ২ টা দোকান ছিল, বায়তুল মোকাররম এ। একসাথেই ২ টা দোকানই পুড়ে যায়। তারপর বাবা স্ট্রোক করলেন । এরপর মাও স্ট্রোক করলেন। আমি কোথাও গিয়ে একটু কান্নার জায়গাও পেতাম না। আমি লিফটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতাম। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে কাঁদতাম। এমনকি বুয়েটের পরীক্ষার দিনও বাবা হসপিটালে ভর্তি ছিল। সব মিলিয়ে সময়টা খুব খারাপ ছিল।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আপনার খুব আগ্রহ ছিল।কিন্তু তারপরে ছেড়ে দিলেন কেন?

জাহিদ: আমি ছোটবেলায় অনেক খেলাধুলা করতাম, একবার ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙ্গে গেল। তারপর ক্রাচে করে আমাকে স্কুলে দিয়ে আসা লাগত। ঐ ৬ মাস খুব কস্টের ছিল। ঐ সময়ে ডানে বায়ে কাত হওয়ার উপায় ছিল না। বিকলাঙ্গ হওয়ায় কষ্টটা বুঝতে পেরেছিলাম।

খোশগল্প.কম: আপনি একসময় স্কাউটিং করতেন, শাপলা কাব এওয়ার্ড পেয়েছিলে। আপনার সেখানে বেশ কিছু ভালো সময় কেটেছিল।  কিন্তু তারপরও স্কাউটিং থেকে সরে আসলেন কেন?

জাহিদ: আমি যখন স্কাউটিং করতাম তখন তুরাগ ভাইয়াসহ আরও ভাইয়ার চাইত আমি স্কাউটিং ছেড়ে দেই। তারা আমার ডিবেট দেখে ভালো পছন্দ করেতেন। তারা চাইতেন একজন ডিবেটর বাড়ুক। তাছাড়া স্কাউটিং এ বেশ সময় যেত, তাই আমার ফ্যামিলিও চাইত না আমি স্কাউটিং করি।

খোশগল্প.কম: উত্তম আখলাকের ব্যাপারে আপনি স্কুল জীবন থেকেই প্রিয় ছিলেন, এটার উদ্দেশ্যে কি সবাই কে মানিয়ে চলা?

জাহিদ: আমার পরিবারের থেকে এটা পাওয়া।এটা আমার বাইবর্ন বলতে পার। আমি সবার সাথেই ভালো ব্যবহার করতে করতে অভ্যস্ত। ব্যাপারগুলোর আমার সাথে গ্রো করে উঠছে। অনেক মানুষ মনে করে এটা একটু বাড়াবাড়ি।

খোশগল্প.কম: আপনার ফিউচার প্লান কী;  টিচার হওয়ায় ইচ্ছা আছে?

জাহিদ: আমার টিচার হওয়ায় ইচ্ছা নেই। একটা ভালো রেজাল্ট, ভালো একটা ডিগ্রী অর্জন করা এবং ভালো একটা চাকরি পাওয়া। আমার  মূল লক্ষ্য একটা ব্যবসা করা। যেটায় দ্বারা মানুষেরও উপকার হবে।

খোশগল্প.কম: পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় দায়িত্ববোধের অভিজ্ঞতাটা কেমন?

জাহিদ: আমার ৪ আপু, আমি তাদের একমাত্র ভাই। সেই সুবাদে বেশ আদরেই কেটেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকেই অভিজ্ঞতা থাকে। বাবা অসুস্থ হওয়ায় কারণে আমার ব্যবসাও দেখা লাগে। একমাত্র ছেলে হওয়ায় কারণে অনেক দায়িত্ব নেওয়া লাগে। আরেকটা ভাই থাকলে ভালো হত ব্যাপারটা এমন না। দায়িত্বগুলো ভালবাসার। ছেলে মানুষ হিসেবে কিছু কাজ তো অবশ্যই করা উচিৎ। বাবা-মা পরিবারের কাছাকাছি থাকাটা অনেক বড় প্রাপ্তি। এট দ্য এন্ড অফ দ্যা ডে, টাকা পয়সার হিসেব আর থাকে না। কিছু মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক, কিছু মানুষের আন্তরিক সম্পর্ক। দিনশেষে শুধু এগুলোই কাউন্টেবল।

খোশগল্প.কম: তার মানে জীবনে অর্থ, খ্যাতি, ক্ষমতার কোন দরকার নেই?

জাহিদ: দরকার আছে, কিন্তু তাই বলে জীবনের সৌন্দর্য নষ্ট করে এসব চাওয়ার কোন উদ্দেশ্যে হতে পারে না। জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে ভালো ব্যবসা চাকরি এসব ব্যাপারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

খোশগল্প.কম: এতদূর আসার পথে কাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে করেন?

জাহিদ: ধর্মীয় দিক থেকে দেখতে গেলে, হজরত মুহাম্মদ (সঃ)।  আর ব্যাক্তি পর্যায়ের বলতে গেলে একটু ভাবতে হবে। ছোটবেলায় অনেক সুপার হিরো ছিল যারা তখন অনুপ্রেরণা দিত, তারপরে এক একটা সময় এক এক জনের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি । আমি তাদের সবাই কে সমীহ করি ।

খোশগল্প.কম: যদিও আপনি ডিবেট করেন, আপনি অন্তর্মুখী। অন্তর্মুখিতা আপনার কাছে দুর্বলতা মনে হয়? 

জাহিদ: হ্যাঁ, এটা একধরনের দুর্বলতা ।যা বলতে চাই টা বলতে না পারলে আর কি হল । আমি মনে করি এটা আমার চরিএের একটা অংশ , এটা কিভাবে পাল্টাব টা আমার জানা নাই ।

খোশগল্প.কম: অন্যের সাথে তুলনা করারা ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখেন ?

জাহিদ: ইনফেরিওটি কমপ্লেক্সিসিটি তে যারা ভুগে তারা সারাদিন নিজকে অন্যের সাথে তুলনা করে। আমিও সবকিছুতেই তুলনা করি । আমি ছোটবেলা থেকেই ইনফেরিওটি কমপ্লেক্সিসিটি তে ভুগছি । আমি জানি না যে আমি আসলে ছোট কিনা,  কিন্তু তারপরও নিজেকে ছোট ভাবতে থাকি ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত