রাশিক ফাইয়াজ বিত্ত, পরিচয়ের বড় জায়গা বিতর্ক।স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ালেখায় ক্ষুদ্রতম ক্ষতি না পৌছিয়ে ‘বিতর্ক’কে রেখেছেন বিতর্কের বাইরে।স্কুলে বরাবর ভালো ছাত্র হয়ে পরিচিত হওয়ায় বুয়েটে এসে মনে করছেন এখন আর আগের সেই ভালো ছাত্রটি নেই।প্রকৌশল বিদ্যা স্বপ্নের জায়গা হলেও প্যাশন বিতর্ক নিয়ে।

আমি এখন মাঝে মাঝেই ভাবি আমি যেহেতু ডিবেট করি, ব্যারিস্টারি লাইনটা বোধহয় অনেক ভালো হইতো আমার জন্য

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 5:56 পূর্বাহ্ন

bitto

খোশগল্প.কম: প্রথমে যদি নিজের পরিচয় দিতে বলি কি বলবে?

বিত্ত: প্রথমত আমি একজন সাধারণ মানুষ, তারপর আসে জাতি-ধর্ম-গোষ্ঠীগত পরিচয়।ফার্স্ট এ বলবো আমি একজন বাংলাদেশী, বাংলায় কথা বলি, ধর্মে আমি একজন মুসলমান।আরো পরিচয় দিতে বলা হলে বলবো আমি একজন শিক্ষার্থী, BUET এ পড়ি, আরেকটা পরচিয়ে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি সেটা হচ্ছে আমি একজন বিতার্কিক।আসলে মানুষের পরিচয়ের গভীরতা অনেক বেশী, চাইলে এই প্রশ্নের উত্তরই একঘন্টা ধরে দেয়া যায়।আরেকটু ডিটেইলে বলতে হলে আমার স্কুল হচ্ছে আইডিয়াল, কলেজ নটরডেম।ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম, টপার ছিলাম।বাবা-মায়ের বিশ্বাস ছিলো হয় মেডিক্যাল নয়তো ইঞ্জিনিয়ারিং এ ঢুকবো।আগে মনে হত মেডিক্যাল এই ঢুকবো পরে কলেজে ভর্তি হবার পর গ্রাজুয়ালি মনে হচ্ছিলো আমার জন্য ইঞ্জিনিয়ারিংটা বেশী পারফেক্ট হবে।যদিও এখন আমার অন্যরকমের একটা অনুতাপ হয় যে  আমি ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম জন্যে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে বের হইতে পারি নাই।আমার আসলে ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রতি প্যাশন নাই, আমার প্যাশন হচ্ছে লোকজন আমাকে চিনবে, ভালো জানবে বা জানে ঐটা আমাকে ধরে রাখতে হবে।তো আমি এখন মাঝে মাঝেই ভাবি আমি যেহেতু ডিবেট করি, ব্যারিস্টারি লাইনটা বোধহয় অনেক ভালো হইতো আমার জন্য ।শুনতে অনেক অদ্ভুত হইলেও এইটা ইদানিং মনে হয়।

 

খোশগল্প.কম: এইটা আগে কখনোই মনে হয় নাই?

বিত্ত: আগে আসছে কিন্তু ঐভাবে কখনো হয় নাই।যেহেতু সাইন্সে ছিলাম সো এইগুলা ঐভাবে সিরিয়াস ভাবে আসে নাই।সত্যি বলতে বুয়েটে চান্স পাওয়া নিয়ে আমরা চিন্তা করতাম না, আমরা চিন্তা করতাম বুয়েটে আমার Rank কত থাকবে এডমিশনে।একদম সত্যি কথা বলতে এভাবেই ভাবতাম যেহেতু টপার ছিলাম, ইভেন EEE, CSE বাদে বুয়েটে আর কোন সাবজেক্ট আছে কিনা এইটা আমাদের চিন্তায়ই আসতো না।আমি জীবনেও ভাবি নাই আমি ম্যাকানিকাল এ পড়বো, কিন্তু এডমিশন এর পরীক্ষা একটু খারাপ হয়।তো এখন সবাই ভাবে যে আমি বুঝি টিচার ফাইটারদের একজন হবো মানে সবচেয়ে ভালো সিজি পেয়ে টিচার হবো, এখন আমার সিজি একদম উপরের দিকে না বাট খারাপ না।উপরের দিকেই বাট একদম পিউর টিচার ফাইটারদের মধ্যেও না।আসলে আমার এচিভমেন্ট কম না হইলেও আমি আসলে সুখী মানুষ ছিলাম না।কারণ আমি সবসময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকি যে আমাকে এই জিনিসগুলা অব্যাহত রাখতে হবে বা ঐ জিনিসগুলা পাইতে হবে, একটা কম্পিটিটিভ এনভায়রনমেন্ট এবং সব সময় শ্রেষ্ঠত্ব লাভের একটা বাসনা সব সময়ই ছিলো।এই কারণে ইদানিংকালে আমার হতাশা আর গভীরতর হচ্ছে, এই কারণেই মনে হচ্ছে ব্যারিস্টারি লাইনে গেলে মনে হয় ভালো করতাম।এইটার কারণেই যে ঐখানে গেলে আমি মনে হয় ফার্স্ট হইতাম।ডিবেটের সূত্রে আমার ট্যালেন্টের যে লিমিটেড ক্ষেত্র এখন ধরতে পেরেছি, এইজন্যেই মনে হয় ঐ পেশাতে গেলে আমার জন্য স্যুট করতো বেশী।কারণ বুয়েটে টেকনিক্যাল ব্যাপার স্যাপার বেশী, আমার মনে হয় যে এই সমস্ত ব্রেইনি ব্যাপার স্যাপার এর চেয়ে আমার মতটা কেন সঠিক বা আইন দিয়ে সেটাকে স্টাবলিশ করার যে একটা পদ্ধতি এটাই আমার জন্য বেটার হইতো।

 

খোশগল্প.কম: আমি বুয়েটেই পড়বো বা এক কথায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বাসনা এই মোহ তোমার মধ্যে কেন বা কবে থেকে গ্রো করলো?

বিত্ত: সত্যি কথা হচ্ছে প্রতিটা বাবা-মাই কিন্তু এইভাবে করার চেষ্টা করে কিন্তু সবাই হয়তো হয় না।দেখা গেছে একজন অনেক ভালো টিচার এর সন্তান অনেকক্ষেত্রে কিন্তু ভালো হয় না যদিও তিনি তাকে পুশ করছেন।তো আমার এই ব্যাপারটা গ্রো করছে ফ্রাংকলি যদি বলি ক্লাস ফাইভে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ফার্স্ট হয়ে, আমার এখনো মনে আছে আমি আমার সেকশনে এমনিতেই ফার্স্ট হইতাম,  তো আইডিয়াল তো অনেক বড় স্কুল, সবার মধ্যে কম্পিটিশন, বিদ্বেষ কাজ করে।আমি এর আগে চিন্তা করতাম আমি এরকম হইতে পারি কিন্তু কখনোই গাঢ় হয় নাই কারণ একজন খুব নামকরা স্টুডেন্ট ছিলো যে কন্টিনিওয়াসলি হচ্ছিলো, তো একবার যখন হইলো, মানে মানুষ একবার যখন বেস্ট হয় তখন ঐটা তার সেনসিভিটি বাড়াই দেয়, কমপ্লেক্স আরো বাড়াই দেয়, সেই কারণে আমার মধ্যে গ্রাজুয়ালি মনে হইলো আমার এইটা ধরে রাখতে হবে, এর জন্য পরের বার থেকে এইটা কন্টিনিউ করার চেষ্টা করলাম এবং বলতে গেলে স্কুল লেভেলে সফলই ছিলাম।কিন্তু যখন সেভেনে গেলাম এইটা একটু মজার, কারণ আমাকে সবাই আগে ভাবতো আমি রবোটিক কিছু যার সব ক্রিয়েটিভিটি গড়গড় করে মুখস্থ বলার মধ্যে, আমার ব্যাপারে এইটাই সবার ইম্প্রেসন ছিলো, ইভেন আমি নিজেও আমার নিজের ব্যাপারে এইভাবে ভাবতাম।ক্লাস সেভেন এর শেষের দিকে একসময় আমার আব্বা আমার জন্য ডিবেটিং ক্লাবের ফরম আনছে, এই জিনিসটা আমার জন্যে একটু অন্যরকম ছিলো।আমি কখনো ভাবিনাই পড়ালেখার বাইরে আমার আব্বা-আম্মা আমার জন্য কিছু করবে।কারণ ক্লাস ফোরে আমি যখন স্কাউটিং করলাম তখন বাসা থেকে সাপোর্ট ছিলো কিন্তু ঐরকম না যে নিজে থেকে এসে সাপোর্ট করবে, এবং আমি যে স্কাউটিং ছাড়লাম ওটারও কারণ ছিলো আমার ক্লাসটিচার আমাকে বলছিলেন যে তুমি হচ্ছো ফার্স্ট বয়, তুমি করো স্কাউটিং? এই যে একটা কথা।তারপর আমি ডিবেটিং ক্লাবে ঢুকলাম অনেকটা আগ্রহ নিয়ে, অনেকটা শখের বশে, সো আমি ঢুঁকে যেটা হলো যে খুব দ্রুত আমি সফল হলাম, মানে ‘এলাম, দেখলাম জয় করলাম’ টাইপের।আমার লাইফের উত্থান-পতন এই ডিবেট লাইফে।আমার লাইফের যে বড় শিক্ষা গুলো এগুলো আমি ডিবেটিং লাইফ থেকেই পাইছি, অন্তত এখন পর্যন্ত।তো শুরুর দিকে এসে দেখলাম আমার ব্যাচের জাহিদ ছিলো আর মেহেদী।জাহিদ ছিলো খুবই নিষ্পাপ বা সবার কাছে ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিতি ছিলো, এবং ডিবেটের প্রতি ডেডিকেটেড।তো আমি দেখতাম প্রতিটা ডিবেটের স্ক্রিপ্ট লিখতো এবং জমিয়ে রাখতো, আমরা কিন্তু স্ক্রিপ্ট পুরো লিখি না, বা সব জেনে যাওয়া সম্ভব হয় না, আমরা শুধু মেইন লজিকগুলো লিখে রাখতাম।আমি অবাক হয়ে দেখতাম একটা ছেলে কীভাবে ডেডিকেটেড হয়ে সব লিখতেছে এবং তা জমা করতেছে।সিনিয়র যারা ছিলো তারা খুবই ভালো ডিবেট করতেন, আমি ক্লাসে ঢুঁকে দেখতাম যে ওনারা ডিবেট করছেন।কিন্তু আমাদের ব্যাচে জাহিদকে বেস্ট ধরা হইতো।শুরুতে এসেই সাফল্য পাওয়ায় অনেকক্ষেত্রে সিনিয়রদের মনে হইতো বিত্ত কিছু অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে কারণ ক্লাসের যে মডারেটর ছিলেন উনি ছিলেন আমার ক্লাসের ক্লাস টিচার।মজার ব্যাপার হচ্ছে তারপরও আমার সাফল্য কিন্তু অব্যাহত ছিলো, এইটা এই কারণে না যে স্যার আমাকে প্রায়োরিটি দিচ্ছেন।পরের বিতর্কগুলোতে ভাইয়ারা লক্ষ্য করলো যে বেস্ট স্পিকার হচ্ছি।ইন্টার সেকশন ডিবেটে প্রথম ডিবেটে আমি ছিলাম ফার্স্ট স্পীকার, তুমি মনে হয় জানো যে দলনেতা থাকেন থার্ড স্পীকার, আমি যেহেতু নতুন ছিলাম তো ফার্স্ট স্পীকার ছিলাম এবং ফার্স্ট স্পীকার হয়েই বেস্ট স্পীকার এর পুরস্কার পেলাম।সচরাচর যেটা হয় না, থার্ড স্পীকারই বেস্ট হন।তো এটা দেখে সবার মনে হলো যে হ্যাঁ বিত্তকে থার্ড স্পীকার করাই যায় এবং পরে যখন ফাইনাল পর্বে ভাইয়াদের সাথেও আমরা জিতলাম এবং আমি বেস্ট স্পীকার হইলাম।এর পর ভাইয়াদের মনে হলো টিচাররা আমার দলের প্রতি ফেভার করছেন, কারণ বিত্ত দলে আছে।এইটা আংশিক সত্যি কারণ সব টিচাররা আমাকে চিনতো।আর তাছাড়া ঐ পর্বে এক্স ডিবেটররা ছিলেন, তারা আমার ভূয়সী প্রশংসা করলেন যে ‘আমরা মনে হয় একজন ফিউচার গালিব ভাই পাইতে যাইতেছি’ গালিব ভাই মানে আমাদের চেয়ে অনেক ব্যাচ সিনিয়র,  উনি আইডিয়ালেরে এক্স স্টুডেন্ট, রাজউকে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে উনি একজন লিজেন্ডারি ডিবেটার, বাংলা ডিবেট সার্কিটে উনি ওয়ান অফ দ্য ফেমাস ডিবেটর, সাকসেসফুল ডিবেটর। আমি তখন গালিব ভাইকে ওরকমভাবে চিনতাম না, তো শুরুতে এসেই এই যে একটা কমপ্লিমেন্ট, এইটা আমাকে ইন্সপায়ার করছে, আর ঐটা ছিলো এমন একটা ফাইনাল যখন আমার সামনে অজস্র অডিয়েন্স।সবাই দেখলো যে আমি ডিবেট ভালো ভাবেই করছি, স্বাভাবিকভাবেই তুমি ঐ কাজটাই ভালো ভাবে করবা যে কাজটাতে তুমি সাকসেস্ফুল হচ্ছো।মানুষ আগ্রহ হারায় কখন যখন সে ব্যার্থতা ফেইস করে।তো ডিবেটে এসে বুঝলাম যে হ্যাঁ আমি তো এইখানেও বেস্ট হইতে পারি।তখন আমার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের বাসনা পাকাপাকি ভাবে এইখানেও গ্রো করলো।

 

 

খোশগল্প.কম: তুমি বলছিলে তোমার প্রতি শিক্ষকের অনুরাগ-এইটা কেন?

বিত্ত: এইটা কারণ ঐ যে সব সময় ফার্স্ট ছিলাম।

 

 

খোশগল্প.কম: বাট নিশ্চয়ই অন্য কোন ডিবেটর ফার্স্ট তো ও ছিলো?

বিত্ত:কন্টিনিয়াসলি আমি হতাম আর আরেকটা বিষয় আমাদের ইন্সটিটিউশন এর ট্রাডিশনে যেটা হইতো খুব ভালো স্টুডেন্টরা এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিসে খুব বেশি ইনভলব হইতে পারে না কারণ তাদের মধ্যে এইটা কাজ করতো আমাকে ফার্স্ট হওয়ার যে বিষয় এটাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

 

 

খোশগল্প.কম: আরেকটা বিষয় বললা, ‘এলাম দেখলাম জয় করলাম’ শুরুতেই এইটা কীভাবে সম্ভব হলো?

বিত্ত: এটা আমি জানি না, এটা আসলে আল্লাহর রহমত ছিলো জন্যেই আমি পেরেছি।আর ন্যাচারালি আমার যেটা মনে হয় আমার ভয়েসটা একটু কাজ করেছে এক্ষেত্রে।আর লজিকালি আমার যেটা মনে হয় আমি একটু ভালো ভাবে কোন বিষয় কে এক্সপ্রেস করতে পারি।আর একদম ফার্স্টে টিচারদের ফেভার কথাটাও আংশিক সত্যি।

 

 

খোশগল্প.কম: তোমার আব্বু স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ডিবেটের ফরমই এনে দিলেন কেন-তোমার কি মনে হয়?

বিত্ত: এইটা আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, এইটা আমিও জানি না কেন।তবে আমার যেটা মনে হয় আমার আব্বা আগে রাজনীতির সাথে একটু ইনভলব ছিলো, এর জন্য সাবকনশাসলি হয়তো মাথায় আসছে।প্রতিটা বাবা-মার ই কিন্তু তার নিজের সন্তানের ব্যাপারে ওভার-রেটেড ধারণা থাকে যে আমার সন্তান বুঝি অন্যদের চাইতে একটু বেশী ইউনিক কেউ।তো আমার ব্যাপারেও আমার আব্বা-আম্মার এই চিন্তাটা গাঢ় হইলো যখন আমি ফার্স্ট হইলাম, বা অভিভাবক সমাজে আব্বা-আম্মা একটু বেশী রেস্পেক্টেড হইতে থাকলেন।বাট এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে আমার আব্বা এইটা কেন করলেন।

 

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা তুমি যে ক্রমাগত ফার্স্ট হতা এই তাড়নাটা কীভাবে, মানে বাবা-মা অলওয়েজ পুস করা বা ঐরকম এনভায়রনমেন্ট ক্রিয়েট করতেন নাকি অন্যদের দেখে যে আমাকে ভালো করতে হবে?

বিত্ত: বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞতা আছে কিন্তু তারপরও আমার নিজের তাড়নাটা বেশি ছিলো।

 

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা ইন্ট্যা. রাজনীতিতে তোমারও আগ্রহের জায়গা আছে যেটা তোমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখলে মনে হয়, এইটা কি কোন দল সমর্থন কেন্দ্রিক বা নৈতিক সমর্থন এর জায়গাই বা কোনটা?

বিত্ত: আদর্শগত দিক থেকে কোন গোষ্ঠীকে আমি সমর্থন করি না, আগে হয়তো অনেক ক্ষেত্রে ছিলো বাট এখন যেটা মনে হয় প্রগতিশীল অর মৌলবাদী কোন গোষ্ঠীকে আমি সমর্থন করি না, দুই দিন আগে বাট্রান্ড রাসেলের একটা বই এ পড়ছিলাম  মানুষ আসলে রাজনৈতিক যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে সেখানে প্রথমত তার ব্যাক্তিস্বার্থ থেকেই সেটা পুঁজিবাদী হোক বা সমাজতান্ত্রিক।এইটা আসলে ছোটবেলায় ফিল করতে পারতাম না।আমার পার্সোনাল লাইফে অনেক ঘটনা ফেইস করার কারণে বা বয়সের কারণে এখন অনেক কিছু ধরতে পারি।রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও ব্যাক্তিস্বার্থই প্রধান থাকে, যেটা আদর্শের কথা বলে ঐটা আসলে দলবদ্ধ করার একটা উপায় মাত্র, যে আমার অধীনে যাতে অনেকগুলা মানুষ থাকে, এইটা এই কারণে না যে কল্যাণের উদ্দেশ্যে।সুতরাং নৈতিক গ্রাউন্ড থেকে যদি বলতে হয় আমার পক্ষে কোন দল বা মতই সাপোর্ট করা সম্ভব না।আমার কাছে মনে হয় না সামষ্টিক কল্যাণ যেইটা আনবে সে ব্যাপারটার সাথে প্রতিটা আদর্শের খুব বেশী সম্পর্ক আছে।প্রতিটা আদর্শের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক দিক ও আছে, নেতিবাচকতাও আছে।পরিস্থিতির সাপেক্ষে হয়তো সাময়িক ভাবে কোন গোষ্ঠী পছন্দের জন্য অগ্রাধিকার পেতে পারে কিন্তু সর্ব যুগে সর্বকালে পুরোপুরি কল্যাণকর এমন আদৌ কোন সংগঠন আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

 

 

খোশগল্প.কম: তাহলে কি রাজনীতির চাইতে রাজনীতির ভেতরের কূটনীতিক বা অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তোমার বেশী আগ্রহের জায়গা?

বিত্ত: না রাজনীতির প্রতিও আমার আগ্রহ আছে। রাজনীতির কোন ইনসিডেন্ট বা রাজনীতির মানুষের সাইকোলজি এইগুলো নিয়ে আগ্রহ আছে।আর অর্থনীতিতেও আগ্রহ আছে, ডিবেটের জন্য জানাশোনা থাকতে হয়, তবে আমাকে প্রিফার করতে বলা হলে আমি রাজনীতিই প্রিফার করবো।আমার নিজের পক্ষে হয়তো কখনো রাজনীতিতে সরাসরি থাকা সম্ভব না, ছোটবেলা থেকেই আমি খুব সহজ সরল আর ভীতু টাইপের।এখন হয়তো একটু মোডিফিকেশন হইছে।মেন্টালি আমি খুব স্ট্রং পার্সন না যদিও আমি আগে মনে করতাম আমি খুব কনফিডেন্ট একটা পার্সন।আর রাজনীতিতে ডমিনেটিং বিষয়টা থাকতে হয়, আমার মধ্যে ঐ জিনিসটা নাই।ডমিনেটিং দুই ধরনের, একটা হচ্ছে সাফল্য দিয়ে ডমিনেট করা যে মানুষ আমাকে ভালোভাবে চিনলো আরেকটা হচ্ছে নিজের আচরণ দিয়ে করা, জুনিয়রদের নিজের আন্ডারে রাখা, প্রথমটা আমার মধ্যে অলওয়েজই থাকে, এখনো আছে ।সেকেন্ডটা আমি আসলে বুঝতামই না, এখন বুঝি, এটার গুরুত্ব কত বেশী, আসলে মানুষের ব্যাক্তিত্বের মধ্যে এই জিনিসটা থাকতে হয় নাইলে সবাই আমার উপর প্রভাব বিস্তার করে চলবে।আমি বোধ হয় বোঝাতে পেরেছি, একটা হচ্ছে প্রতিরক্ষা আরেকটা এট্যাক করা, এই যে আক্রমনাত্নক মনোভাব যেটা আমার ডিবেটের মঞ্চে থাকে কিন্তু পার্সোনাল লাইফে এটা অলওয়েজ অনুপস্থিত ছিলো।

 

 

খোশগল্প.কম: এইখানেই তোমাকে একটা প্রশ্ন করতাম, এই যে অলওয়েজ ফার্স্ট হয়ে থাকবার যে চেষ্টা এটার জন্য তোমার মধ্যে কোনটা কাজ করতো-আমাকে অন্যদের চাইতে বেটার হতে হবে নাকি অন্যদের আমার থেকে নিচে রাখতে হবে?

বিত্ত: আমাকেই বেটার থাকতে হবে, আমি কখনই অন্যদের নিয়ে ডিল করি না।একদম সত্য কথা যেটা মানে অমুক কি করলো এর চেয়ে বড় আমি কি করেছি।আমাদের প্রত্যকের ব্যার্থতার পেছনে আমরাই থাকি।

 

খোশগল্প.কম: নভেম্বর আপু একবার বলছিলেন তোমার হাঁসি-ঠাট্টা এটা আসলে অন্যরকমেসময়টুকুই, এর বাইরে তুমি আসলে খুব সিরিয়াস ধরনের এটা নিয়ে তুমি কি বলবা?

বিত্ত: এটা আসলে সত্য কথা, আমি আসলে হাঁসি-তামাশার মানুষ না।এর গভীরতর কারণ খুঁজে বের করাটা আমার নিজের কাছেই কঠিন।তবে আমার কাছে মনে হয় যেটা আমি ছোটবেলা থেকেই বন্ধু তৈরির ক্ষেত্রে একদম আনাড়ি, আমার আনসোশ্যাল।আমি সুখী মানুষ ছিলাম না।আমার উপর সবাই জেলাস ছিলো, আমার স্কুলে খুব কম মানুষ ছিলো যারা আমার সাথে ভালো আচরণ করতো, বন্ধু তৈরী না হওয়ার পেছনে আমার ব্যার্থতাই বেশী।আমার মধ্যে আভিজাত্যবোধ কাজ করতো, আমি ভাবতাম যারা আমার ফ্যান তাদের সাথে মিশলে আমার প্রতি তাদের আকর্ষণ কমে যাবে।এই যে আভিজাত্যবোধ যেটা জেনারালি মেয়েদের মধ্যে কাজ করে এই জিনিসটা আমার মধ্যে ভুল ছিলো।আমি যদি এভাবে না ভাবতাম, নিজে চেষ্টা করতাম তাহলে নিউট্রাল ক্লাসমেট ছিলো যারা ফ্রেন্ড হইতে পারতো।আমি আসলে ঐভাবে সোশ্যাল হওয়ার প্রয়োজনই বোধ করি নাই।পরে বিভিন্ন ইনসিডেন্ট আমি এই জিনিসটা বুঝতে পারি।প্রতিটা মানুষের মধ্যে অন্যকে নীচে দেখানোর জন্য একটা তাড়না কাজ করে, কিন্তু আমার মধ্যে অলওয়েজ কাজ করতো আমি কম্পিটিশনে জিতেই ভালো করতে হবে, পার্সোনালি আগাতে হবে।

 

 

খোশগল্প.কম: আভিজাত্যবোধই তো তোমার ফ্রেন্ড তৈরির ক্ষেত্রে বড় অবস্টেকল?

বিত্ত: না, কারণ এমন খুব একটা ছিলো না যে যেচে আমার সাথে কেউ ফ্রেন্ড হইতে আসতো, সবাই কম্পিটিটর ছিলো, স্কুলে অনেকেই আমাকে পছন্দ করতো না।আভিজাত্যবোধ এর চাইতে আমার সম্পর্ক তৈরী করতে পারার অদক্ষতার কথাই আমি বলবো।সবাই কিন্তু স্বার্থপর, কোন সম্পর্কের কথাও যদি বলি সম্পর্কের গভীরতাও নির্ভর করবে আমি কতটুকু সময় দিচ্ছি সেখানে তার উপর।সেটার উপর ডিপেন্ড করে অপর পক্ষের এক ধরনের কৃতজ্ঞতাবোধ হয়, তখন তার দায়বদ্ধতা তৈরী হয়।

 

 

খোশগল্প.কম: অদ্ভূত বিষয়, আভিজাত্যবোধ এর চর্চা তোমার মধ্যে কীভাবে আসলো, এইটা গার্ডিয়ানের মধ্যে থেকে আসে, তোমার বেলায় তো সেটা আসে নাই। তাহলে?

বিত্ত: হ্যাঁ, আমার আব্বা-আম্মা এইরকম ছিলো না।কি বলব আমি আসলে ফিলই করি নাই আমার ফ্রেন্ড রাখতে হবে, আমি এই ব্যাপারে হতাশ ছিলাম যে আমার ফ্রেন্ড নাই।সাবকনশাসলি মনে হয় এইটা ভাবতাম আমি মানুষের সাথে না, মানুষই আমার সাথে মিশবে।আভিজাত্যবোধ এর পেছনে কিছুটা শিশুতোষ মনোভাবও ছিলো আমি বলবো।

 

 

খোশগল্প.কম: তাহলে কি মানুষের সাথে কম মেশার ইফেক্টই তোমার মধ্যে ম্যাচুরিটি দেরীতে গ্রো করছে?

বিত্ত: হ্যাঁ, আমি আসলে মানুষের মনোভাব বুঝতে পারি না।random যে ঘটনা গুলা ঘটে এগুলার ডেপথে ভাবার যে প্রবণতা এইটা আমার ছিল না।এই যে অপরিপক্বতা এটাকে ব্যালেন্স করার জন্যই মনে হয় কলেজে উঠে ‘লা শ্যাটেলিয়ের’ নীতি অনুসারে আমি হাঁসি-খুশী হইতে শুরু করলাম।একটা কথা পড়েছিলাম সেই সবচেয়ে বেশী হাসে যার দুঃখ বেশী, তো দুখী মানুষ থেকেই হঠাত আমি হাঁসি-খুশী হয়ে উঠছি।

 

 

খোশগল্প.কম: তুমি সবকিছু থেকে একটা ফিলসফিকাল ফিনিশিং এ আসো কিংবা একটা মরাল নিয়ে ফিরো, এটা কি সচেতন ভাবেই করো?

বিত্ত:এইটা একটা ভালো প্রশ্ন, ছোটবেলা থেকে আমার এচিভমেন্ট এগুলার পরও আমি কেন বন্ধুত্বের গুরুত্ব ফিল করলাম, কেন সোশ্যালাইজেশন এর গুরুত্ব ফিল করলাম, কারণ এগুলা পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে আমার এচিভমেন্টের জন্য বাঁধার মত ছিলো।অনেক ক্ষেত্রে আমি দেখেছি আমি স্বীকৃতি পাচ্ছি না, বা আমার অর্জন গুলোকে মানুষ অবহেলিত করছে তখন আমি বুঝতে শুরু করলাম তখন হঠাত করে আমার মনে হলো মানুষের সাইকলজি নিয়ে আমার আরেকটু জানা-শোনা দরকার ছিলো।আমার যখন একটা ব্যার্থতা আসে আমি তখন চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে যাই, সত্যি কথা হচ্ছে আমি মানুষটাই চিন্তাক্লিষ্ট।আমার সাথে যদি কেউ বিরূপ আচরণ করে আমি চিন্তায় পড়ি আমার সাথে কেন এমন করলো, আমি কেন পাইলাম না এগুলো নিয়ে অলওয়েজ ভাবতে থাকি।

 

 

খোশগল্প.কম: তোমার স্ট্যাটাস দেখে আমার মনে হয়েছে সবসময় তুমি নিজের মানসিক গঠন নিয়ে ব্যাস্ত থাকো, চর্চায় রাখো এইটা কি ঠিক? এখনই বা কি নিয়ে ভাবছ?

বিত্ত: হ্যাঁ এইটা ঠিক, যেই জিনিসগুলা চর্চা করছি তার মধ্যে একটা সম্পর্কের গভীরতা তৈরী করা।আমার ব্যাপারে আমার ফ্রেন্ড দের একটা অভিযোগ আছে আমি কাউকে ট্রিট দেই না, তো এখন আমি ডেভেলপ করার চেষ্টা করছি।দ্বিতীয়ত আমার প্রতি অনেকের বিদ্বেষ আছে, এখন আমি যেটা চেষ্টা করি আমার প্রতি তাদের নূন্যতম একটা ফিলিংস তৈরী করতে।যেভাবেই হোক আমার প্রতি সেই মানুষের একটা ভালো অনুভূতির তৈরির চেষ্টা।মূল কথা সামাজিকীকরণ চির্চা করছি।আরেকটা যেটা আগে মোটেও ছিলো না আত্নপ্রচারণা, আমার আসলে আত্নপ্রচারণার দরকার পড়তো না।ঐ সময় আমার ছোট জগতে আমিই একটা গুরত্বপূর্ণ একটা অংশ ছিলাম, এই কারণে আমার আত্নপ্রচারণার দরকার পড়ে নাই।কলেজে উঠে যখন দেখলাম ভালো করছি কিন্তু ফার্স্ট হচ্ছি না, ডিবেট এ সাফল্য পাচ্ছি কিন্ত আগের মত না তখন আমি ফিল করলাম আমার জায়গাতে অবনতি হচ্ছে, ভালোমতই হচ্ছে, আমি আর আগের জায়গায় নাই, মানুষ আমাকে যা ভাবতো আমি তা না, যখন তুমি ব্যর্থ হবা তখন তোমার পূর্ব অর্জন নিয়ে তোমারই সন্দেহ হবে।মানুষ যখন আত্নপ্রচারণা করে তখন অনেক ক্ষেত্রে ইইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স কাজ করে, এই ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স দুই রকমের, অন্য মানুষের কথার ইনফিরিয়র, আরেকটা হচ্ছে অতীতে আমি যা ছিলাম তা নিয়ে ইনফিরিয়র, সো আমার মধ্যে গ্রাজুয়ালি কাজ করলো আমি তো আর আগের মত নাই, আমি গুটিয়ে পড়ছি, তখন হয়তো এটাকে ব্যালেন্স করার জন্য ফেইসবুকে ঢুকলাম, আসলে কিন্তু আমি আত্নপ্রচারণার পক্ষে না, যা জানবার মানুষ এমনিই জানবে, আমি যখন দেখি একাডেমিকালি আমি আর আগের মত নাই তখন মনে হয় ডিবেট দিয়ে আমার এই জিনিসটাকে ব্যালেন্স করতে হবে।তো তখন থেকে ডিবেটের এচিভমেন্ট নিয়ে স্ট্যাটস দেই, কারণ মানুষ আমাকে শ্রদ্ধা করবে, সম্মান দিবে কি কারণে দিবে, এইটার কারণে দিবে।ক্লাসে মানুষ দেখবা বিভিন্ন কারণে রেস্পেক্ট পায়, কি কারণে তারা হয়তো একটা জিনিসকে অন্যদের খুব ভালো বুঝাতে পারে,  আমার মধ্যে এগুলার কিছুই ছিলো না।আমার মধ্যে ক্লাসে লেকচার রেগুলার ফলো করার ব্যাপারগুলা কিন্তু কম, আমার কথা হচ্ছে কালকে পরীক্ষা, ওকে ফাইন এই পরীক্ষা ভালো করার জন্যে আমার কি  কি করার দরকার আমি সবকিছু এডপ্ট করে আমার পরীক্ষায় বেস্টটাই দিতে হবে।আমার ফোকাস অলওয়েজ সবকিছুর রেজাল্টের দিকে, এই কারণে ফেইসবুকে যতটুকু আত্নপ্রচারণা করি পুরাটাই ব্যালেন্স করার জন্য, অনেকের সাথেই নতুন ফ্রেন্ডশিপ এক্ষেত্রে এই আত্নপ্রচারণা ইনিশিয়াল একটা রিকগনিশন দেয়।আমার অধ্যে যেহেতু আন্তপ্রচারণার বিষয়টা ঐ ভাবে প্রোথিত না তো আমার কাজটা আমাকেই করতে হবে, অন্য কেউ কিন্তু করে দিবে না। তুমি যাতে সমাজে কিছুটা পাত্তা পাও, সমীহ পাও এইটা তোমার নিজের ই অর্জন করে নিতে হবে।একেবারে প্রচারবিমুখ থাকাটা আমি পছন্দ করি না, আবার নির্লজ্জের মত প্রচারণাও আমার পছন্দ না।

 

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। এই ট্রিট এর বিষয়টাও কি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার একটা প্রয়াস?

বিত্ত: হা হা হা।হয়তো, হয়তো অবেচেতনভাবে।

 

 

খোশগল্প.কম: আপাতদৃষ্টিতে তোমাকে আবেগীয় ব্যাপার গুলোতে তোমার দখলদারিত্ব কম মনে হলেও আসলে এই বিষয়গুলোতে তোমার বেশী সেন্সিটিভি কাজ করে-এইটা কী ঠিক?

বিত্ত: হ্যাঁ, এইটা ঠিক।আমি আসলে ছোটবেলা থেকে ভালোবাসাহীন একটা পরিবেশে বড় হইছি, বাবা-মার ক্ষেত্রে না।সত্যি বলতে মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার সময় আমার মনে হইতো আমি একটা জাহান্নামে যাচ্ছি, এত সাকসেসফুল একটা মানুষ যখন এভাবে ভাবে তখন তোমাকে বুঝতে হবে একটা মানুষ আসলে কতটা সাইকলজিকাল ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।আমি প্রচুর ডিপ্রেসড ছিলাম।আমি মুখে হাঁসি নিয়ে সবার সাথে হয়তো কথা বলতাম কিন্তু আমি ঠিকই বুঝতাম অমুক মানুষটা আসলে আমাকে নিয়ে মনে মনে কি ফিল করে।এই নিয়ে আমার একুরেসি খুবই ভালো, আমি অনেকদিন মেশার পর একটা ডিসিশন এ আসি, এই জিনিসগুলা আমি কেয়ার করতাম।মনে হইতে পারে আমি স্বার্থপর, কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষই কিন্তু পাগলের মত ভালোবাসা খুঁজে, সে ভালোবাসা যেখানে পায় সেখানেই যাইতে চায়, হয়তো আভিজাত্যবোধের কারণে বন্ধুত্ত্ব তৈরী করতে পারতাম না, কিন্তু এগুলা আমাকে ভাবাইতো যে আমি অমুকের ক্ষতি করি নাই।

 

 

খোশগল্প.কম: আমি এই প্রশ্নে আসতাম, তোমার কিছু জিনিস দেখে মনে হয়েছে তুমি মানুষের অবহেলা, বিশ্বাসাঘাতকতা, সাপোর্ট না পাওয়া এই জিনিসগুলার মধ্যে দিয়ে অনেকবার গেছো।

বিত্ত: হ্যাঁ, অনেকদিন ধরে মিশছি হুট করে দেখলাম যে তারা আমাকে পোক কছে বিভিন্ন ভাবে বা আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে মিশছে আমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য, এই জিনিসগুলা যখন আমি দেখতাম তখন আমি ডিপ্রেসড হয়ে যাইতাম যে আলটিমেটলি কেউ ই আমার খুব কাছের না।কলেজে ফ্রেন্ড পাইছি কিন্তু স্ক্লুলে আমার ওরকম ফ্রেন্ড ছিলো না।ডিবেটের জাহিদের কথা বলছিলাম ওকে আমি আমার ফ্রেন্ড ভাবতাম কিন্তু আমার প্রতি ওর ফিলিংস ততটা ছিলো না যতটা ওর প্রতি আমার ছিলো।ও আমাকে সব ক্ষেত্রে হেল্প করতো কিন্তু ওর কাছে সবাই সমান ছিলো।এই জিনিসটা যখন বুঝলাম তখন মনে হলো আমি তো আসলে আমি বন্ধুহীন, আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু আসলে আমি নিজে অথবা ঈশ্বর।বাবা-মাও ওরকম ফ্রেন্ড ছিলো না, আমি সব শেয়ারও করতাম না আবার শেয়ার করলে এ খুব ভালো গাইডলাইন দেয়াটা এটাও পাইতাম না।আমার লাইফের যে ফিলোসফিকাল যে চেইঞ্জ টা এইটা আসলে আমার নিজের।আমি দেখছি খুব খুব বই পড়া মানুষগুলো খুব হতাশ ধরনের হয়, কারণ তারা লাইফের বাস্তবতাটা আগে ভাগেই বুঝতে পারে, যদিও তারা অত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় নাই, আমার লাইফে এই বাস্তবতা গুলো আমি প্রাক্টিকালি করে বুঝছি এই জন্য আমার সাহিত্য পড়ার দরকার হয় নাই।

 

 

খোশগল্প.কম: তোমার কি মনে হয় সাহিত্যপড়ুয়ারদের থেকে তুমি কি বেশী ডিপ্রেসড নাকি কম ?

বিত্ত: কিছু জায়গায় কম কিছু জায়গায় বেশি।জীবনের পরিধি কিন্তু অনেক বড়, কিন্তু আমাদের দেখার ক্ষমতা তত বেশী না।সাহিত্যপড়ুয়াদের যেটা হয় ওনারা আদর্শকে ধরে রাখতে গিয়ে বাস্তবতা থেকে বিচ্যূত হয়ে যায়, আর আমার বোঝার ক্ষেত্রে আমি বলবো কিছু এচিভমেন্টেই তো জীবন সীমাবদ্ধ না, আবেগ বা পেশা বা যাই হোক এইসব ক্ষেত্রে আমার জ্ঞানের পরিধি বা বোঝার পরিধি অনেক কম সেক্ষেত্রে সাহিত্যপড়ুয়ারা অনেক এগিয়ে আছেন।আমার মধ্যে সেনসিং পাওয়ার কাজ করে, ইন্টুইশন পাওয়ার আমার মধ্যে কম, সাহিত্যপড়ুয়ারা কিন্তু একজন মানুষ নিয়ে আন্দাজ করতে পারে এই মানুষটা কেমন হইতে পারে কিন্তু আমি কিন্তু শুরুতেই এমন ইন্টুইশন দেখাইতে পারি না।আমি একটা লিমিটেড টাইম মানুষের সাথে মিশি তারপর ঐ টাইমে আমি চিন্তা করে করে বের করি ঐ মানুষটা আসলে কেমন।

 

 

খোশগল্প.কম: ‘ভালো থাকা মানে ভুলে থাকা’-হিমালয় ভাইয়া আরো অনেক কিছুই তো বলেন কিন্তু এইটাই কেন তোমার এত ভালো লাগল ?

বিত্ত: কারণ আমাদের লাইফে অনেক নেগেটিভ ঘটনা ঘটে, যখন আমাদের অতীতের ঘটনা স্মরণ হয়, মানে নেগেটিভ কিছু তখন তোমার মনে হবে আমি আসলে কেন বেঁচে আছি, আমরা তো আসলে কোন না কোন সময় মারা যাবো, এই যে স্বল্প সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসলাম তারপর এই ধরনের ঘটনা ফেইস করলাম আমার কি বেঁচে থাকাটা স্বার্থক? আমি তো কারো উপকারেও আসছি না, তাহলে আসলে কেন আছি আমি।এই যে ভুলে থাকার অভিনয় এগুলা কিন্তু আমরা সবাই করি, এট দি এন্ড অফ দ্যা ডে  আমরা কিন্তু কোন না কোন ইনসিডেন্ট ভুলে থাকতেই হয়।

 

 

খোশগল্প.কম: সাক্ষাৎকার এর শেষে চলে আসছি, তোমার কোন ইন্সপিরেসনাল ক্যারেক্টার আছে?

বিত্ত: হ্যাঁ, আমার অনেক মানুষ আছেন ইন্সপিরেশন এর জায়গায়।বেশির ভাগই বিতর্কের জগতে, পার্সোনাল লাইফে ও অনেক আছে, সোহাগ ভাইয়া ও অনেক ইন্সপিরেসনাল ক্যারেক্টার, প্রেরণা এই জন্য না যে তার সাথে সম্পর্ক করতে হবে, এই জন্য যে উনি অনেকটা প্রেরণার জায়গায় আছেন।সোহাগ ভাই মেইনইস্ট্রিম চিন্তা করেন নাই, এমন না যে উনি ভালো স্টুডেন্ট ছিলেন না, উনি টপার ছিলেন।বুয়েটের মত জায়গায় থেকেও নিজের একটা প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবছেন, গড়ে তুলছেন খুবই লিমিটেড সোর্স থেকে, জেনেরালি আমরা কিন্তু রিয়েলস্টিক চিন্তা করি এন্ড এইটাতে সফল হওয়ার প্রবাবিলিটি হিসেব করে আগাই, সোহাগ ভাই এইটা করেন নাই।এখানে ধৈর্য্য এর ব্যাপার আছে, লেগে থাকার ব্যাপার আছে।এইটা আমরা নরমাল মানুষ দেখাতে পারি না।এইটার পেছনে উনি যে পরিশ্রম, ইফোর্ট দিছেন এইটার জন্যই উনি আইডল।

 

 

খোশগল্প.কম: তুমি ব্যারিস্টারিতে আগ্রহের কথা বলছিলে-এইটা নিয়ে সামনে কিছু করার ইচ্ছা নাই?

বিত্ত: এইটা নিয়ে সিরিয়াস ভাবে আমি আসলে ভাবি নাই, হূট করে আমি আসলে এডপ্ট করত পারবো না, এইটা করতে যে অপরিসীম মানসিক শক্তির দরকার এইটা আমার নাই।এট দ্য এন্ড অফ ডে আমি আসলে খুবই রিয়েলস্টিক।

 

 

খোশগল্প.কম: অসংখ্য ধন্যবাদ পরীক্ষার মাঝখানেও এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্যে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত