তার মতে জীবনে অনেক কিছু দেখে এসেছে এখন শুধু নিজের মেয়ে দুটিকে মানুষ হিসেবে দেখতে চান।বলছিলাম একজন আর্মি সৈনিকের কথা,জীবনের চড়াই উতরাই গুলো কোন বাকে কেমন ছিল তা আজ সে বলবে খোশগল্প টীম কে।

আমি খাতার অভাবে পেন্সিল এর লেখা মুছে আবার অই পাতায় লিখতাম

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 4:39 অপরাহ্ন

12508804_193138301037332_8798541375585540021_n

খোশগল্প.কম: আসসালামুয়ালাইকুমকেমন আছেন?
আরব আলীঃঅলাইকুমুচ্ছালাম।আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

 

খোশগল্প.কম: ব্যস্ততায় আছেন কি?
আরব আলীঃ না সমস্যা নাই।বলেন,শীতকালীন এক্সারসাইজ এ গেছিলাম ওখান থেকে একরাতের ছুটিতে বাসায় আসলাম আজকে।

 

খোশগল্প.কমঃএই শীতে!!উত্তরবংগে তো অনেক শীত পড়ে অন্যদিকের তুলনায়আপনারা ওখানে থাকেন কিভাবে?
আরব আলীঃতাবু করে থাকতে হয় ফাকা মাঠে।আমরা যখন কোন এলাকায় যাই তখন ওখানকার মানুষ গুলো সাহায্য করে অনেক।আর শীত কাবু করে না মা।জীবনে কত কিছু দেখলাম এটা তো শুধু আল্লাহর খেল।

 

খোশগল্প.কমঃআপনাদের এই জায়গা গুলোয় কখন যেতে হয়?
আরব আলীঃবছরে দুইবার।বর্ষাকালীন আর শীতকালীন।

 

খোশগল্প.কমঃসবাই যেমন বলে আপনাদের অনেক রুলস,রেগুলেশনতো এতো বাধ্যকতা কি ভালো লাগে?
আরব আলীঃপড়াশুনা সল্প করে এই চাকুরী ছাড়া আর কি করতে পারতাম তখন।তাও আল্লাহ মাবুদ আমাকে অনেক ভালো রাখছে।

 

খোশগল্প.কমঃচাকুরী করছেন কতদিন?
আরব আলীঃ১৯৯১ এ চাকুরী তে ঢুকি আঠারো বছর বয়সে।

 

খোশগল্প.কমঃএতো অল্প বয়সে?
আরব আলীঃএতিম দের যা হয় মা।জন্মের সময় বাবা আর যখন ৬ বছর তখন আমার মাকে আমার ভাবী মেরে ফেলে তারপর থেকে তাদের সাথেই থাকতাম।পড়াশুনার ইচ্ছা ছিলো অনেক,হাতের লেখাও ভালো ছিলো কিন্তু ভাই ভাবী করতে দিলো না।সকালে স্কুল যাওয়ার সময় নাস্তা বানায়,ছাগল সাথে নিয়ে স্কুলে যেতাম।তারপর ছুটি না হতেই চলে আসতে হত দুপুরের রান্না করার জন্য।এভাবেই গেছে আর কি।মা আপনারা তো এখন বান্ডিল বান্ডিল খাতা কলম পান আমি খাতার অভাবে পেন্সিল এর লেখা মুছে আবার অই পাতায় লিখতাম।আরো কত কি।এক ঈদে ভাই বাসা থেকে বের করে দিছিলো পরে দেখি বগুড়া ক্যান্টে এমন সিরিয়াল দিয়ে নিয়োগ দিচ্ছে আর্মিতে।পরে ওখানেই কোন কিছু না ভেবে জয়েন করি।সেই থেকে এইতো আজো আছি।তোমার আন্টি আর আমার দুই মাকে নিয়ে।

 

খোশগল্প.কমঃআপনার দুই মেয়ের কথা বলছেন?
আরব আলীঃহ্যা আমার দুই মেয়ে।

 

খোশগল্প.কমঃকি করছে তারা এখন?
আরব আলীঃ পড়াশুনা।বড় মেয়ে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে আর ছোট মেয়ে এডমিশনের চেষ্টা করছে।

 

খোশগল্প.কমঃতাদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা কি?
আরব আলীঃতাদের নিয়ে চিন্তার কিছু নাই মা।আমার থেকে বেশি চিন্তা তারা করে।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।আমি জীবনে পড়াশুনা করতে পারিনি তারা যতদূর পড়াশুনা করতে চায় আমি তাদের করাবো।আমার সব কিছু দিয়েও মেয়ে দুইটাকে পড়াবো।

 

খোশগল্প.কমঃছোটবেলা কোথায় ছিলেন?বগুড়া??
আরব আলীঃ না না আমাদের বাসা ছিল রংপুর পরে আব্বা আম্মা মারা যাওয়ার পর ভাই ওখানকার সব কিছু বেচে দিয়ে বগুড়ায় চলে আসে তখন থেকে বগুড়ায়।

 

খোশগল্প.কমঃআপনাদের তো ট্রান্সফারেবল জবকোথায় ঘুরেছেন?কেমন লাগে?
আরব আলীঃথাকা খাওয়ার কষ্ট রে মা।দেশের অনেক জায়গায় ঘুরছি আসলে চাকুরীর জন্য এছাড়াও একবার মিশনে গেছিলাম ২০০১ সালে।সিওরালিয়নে গেছিলাম এক বছরের জন্য।
এছাড়া মেয়ে দুইটাকে সামলানো ওর মাকে একাই দেখতে হইছে সবসময়।ওই মানুষটাও অনেক কষ্ট করছে এই পর্যন্ত।

 

খোশগল্প.কমঃসামনে কি করতে চান?বা নিজের কোন ইচ্ছা?
আরব আলীঃঐ যে আগেই বলছি আল্লাহ তায়ালা আমাকে অনেক সুখে রেখেছে মাশাল্লাহ।আর কিছু না আল্লাহর খেদমত করতে আর মেয়ে দুইটাকে সুখী দেখতে চাই সবকিছুর ওপর।ওরা ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকব।এছাড়া আর কিছু চাওয়ার নাই মা।

খোশগল্প.কমঃশুভকামনা আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য
আরব আলীঃ দোয়া রাখবেন।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত