সঙ্গীতা দত্ত, ভালোবাসেন গান গাইতে, নাচতে এবং অভিনয় করতে ।তারমতে, “মানুষ চিনা আসলে খুব সহজ নয়, প্রতি টা মানুষ ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ভাবনা, ভিন্ন ফিলসফি নিয়ে বেড়ে উঠে ।মাঝে মধ্যে কাউকে যোগ্যাতার অনেক বেশি ভেবে ভুল করেছি, আবার কাউকে তার যোগ্যতার কম ভেবে ভুল করেছি । কাউকেই ঠিক ভাবে বুজে উঠতে পারা যায় না ।এটাই বলা যেতে পারে যে, মানুষ চিনা খুব দায়” ।

আমি জানি না পড়ালেখা আমার রক্তে মিশতে পারছে কিনা, কিন্তু গান আর নাচ আমার রক্তে মিশে আছে

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 27, 2016 , 9:17 পূর্বাহ্ন

sangita

খোশগল্প.কম: আপনার পরিচয় কিভাবে দিতে পছন্দ করেন?

সঙ্গীতা: আমি সঙ্গীতা, এটাই আমার পরিচয়। আর একটু ডিটেলস এ বলতে গেলে হাসতে ভালো লাগে,হাসাতেও ভালো লাগে। ন্যাচারের কাছাকাছি থাকতে ভালো লাগে।

খোশগল্প.কম: ন্যাচারের কাছাকাছি থাকতে বলতে একটু ডিটেলস এ বলেন ।

সঙ্গীতা: আমি ছোটবেলা থেকে নিজেকে যেভাবে দেখে বড় হয়েছি, নিজকে ঠিক সেভাবেই প্রকাশ করতে পছন্দ করি কোন ভণিতা ছাড়াই। নিজকে নিজের বাইরে প্রকাশ করতে ভালো লাগে না। আমার কাছে নিজের বাইরের সবকিছু আর্টিফিশিয়াল লাগে। নিজেকে কোথাও ভিন্ন ভাবে প্রকাশ করতে পারি না ।

খোশগল্প.কম: নিজেকে সহজভাবে প্রকাশের ভঙ্গি কিভাবে তৈরি হল ?

সঙ্গীতা: এটা আমার ভিতর থেকেই এসে পড়ে।

খোশগল্প.কম: সঙ্গীতা নামের পেছনের গল্প কী ছিল ?

সঙ্গীতা: নামের উপর আমার কোন হাত নেই। বাবা মা চাইতো আমি আসলে গান শিখি, বাবা-মা হয়তো নিজের ইচ্ছাটা আমার মধ্যে ইমপ্লিমেন্ট করতে চেয়েছিলেন ।

খোশগল্প.কম: শৈশব নিয়ে কিছু বলেন

সঙ্গীতা: আমার জন্ম যশোরে, কিন্তু ময়মনসিংহে ছিলাম ২ বছর পর্যন্ত। তারপর বাবা পি এইচ ডি করতে ইংল্যান্ড এ গেলেন। আবার ময়মনসিংহে ফিরে আসা, এসএসসি পর্যন্ত ময়মনসিংহে ছিলাম। তারপর ইন্টার হলিক্রস এ শেষ করলাম। তারপর বুয়েটে । হলে ছিলাম ৫ বছর। তারপর একটা পি এইচ ডি প্রোগামে ইউএসএ তে যাই। ৬ মাস পর প্রোগামটাতে ফান্ডিং নিয়ে ঝামেলা হল, আমি আর কিছু দিন অপেক্ষা করলাম সেখানে। কিন্তু অবশেষে সমস্যা সমাধান না হওয়ায় এক বছরের মাথায় আমি চলে আসি। তারপর ভাবলাম সময় এমনিতেই নষ্ট হয়েছিল অনেক, তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম বি এ তে ঢুকে গেলাম।

খোশগল্প.কম: ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনের ছাএ-ছাএীদের একটা ট্রেন্ড হচ্ছে দেশের বাইরে চলে যাওয়া, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

সঙ্গীতা: আমি ও সেই ট্রেন্ড এ পি এইচ ডি করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কখনোই আমার স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা ছিল না, আমি অবশ্যই শেষ করে চলে আসতাম। আমার বাবা-মা আর নিজের দেশ রেখে থাকার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না।

খোশগল্প.কম: কি কি বাদ্যযন্ত্র পারেন?

সঙ্গীতা: হারমোনিয়াম আর তানপুরা । আমি আসলে সঙ্গীত শিল্পী না, আমি গান গাইতে পারি। ছোটবেলায় আমি বাসায় সারাদিন গান গেয়ে আর নেচে বেড়াতাম। মা তখন আমাকে গান শিখানোর জন্য ভর্তি করে দেন। আমার যখন ২ বছর, বাবা তখন ইংল্যান্ড চলে গেলেন পি এইচ ডির জন্য। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরি তারপর দেখলাম ছোট ছোট বাচ্চার হারমোনিয়াম বাজায়। এটা দেখে, আমি ইন্টারেস্ট ফিল করি, তারপর আমাকে শিল্পকলায় গানের জন্য , নজরুল একাডেমীতে নাচের জন্য আর পারফেকশন অফ আর্টে ভর্তি করে দেন অভিনয়ের জন্য।

খোশগল্প.কম: শেষ পর্যন্ত কি অভিনয়টা কতটুক করেছিলেন।

সঙ্গীতা: অভিনয়ের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমার এটা হাস্যকর এক্সপেরিয়েন্স আছে অভিনয়তে। আমি আর আমার বড় ভাই অভিনয় শিখতাম নতুন কুড়ি তে। লাস্ট স্টেজ পর্যন্ত আমরা গেলাম, কিন্তু কিছুই হতে পারলাম না, পরে শুনলাম চতুর্থ হয়েছি। সে দিক থেকে আমার অভিনয় পারার কথা ছিল। কিন্তু আমি আসলে অভিনয় পারি না। হিমেল আমাকে একবার অভিনয় করতে বলেছিল, সেখানে আমি নায়কের বড় বোনের চরিএে ছিলাম। নায়ককে কিছু ডায়লগ বলতে হবে দূর থেকে, “তুমি হাসছ কেন”? এটুকুই বলতে গেলে আমার হাসি চলে আসত। আমি হাসি আটকাতে পারতাম না। সেখানে যারা ছিল সবাই তো হাসতে হাসতে শেষ, এমনকি আমার পরিবারের সদস্যরাও । বেশির ভাগ শট হিমেল কে অনেকবার করে নেওয়া লাগত ।

খোশগল্প.কম: এখন কী করছেন?

সঙ্গীতা: আমি এখন মেট লাইফে আছি, এটা একটা আমেরিকান ইনস্যুরেন্স কোম্পানি।

খোশগল্প.কম: এখন কি গানের চর্চা করা হয়?

সঙ্গীতা: না, খুব একটা না। কেউ প্রোগামে গাইতে বললে গাই।

খোশগল্প.কম: কি ধরণের প্রোগামে গান করেন?

সঙ্গীতা: অন দ্যা ওয়ে যে সব প্রোগাম পড়ে। যেমন অফিসের নানা রকম প্রোগামে। বুয়েটে থাকতে বুয়েটের কালচারাল প্রোগামে। কোন পার্টিকুলার কোন প্রোগামে কেউ গাইতে বললে গাই।

খোশগল্প.কম: গান গাওয়া তো ছোটবেলায় আগ্রহের জায়গায় ছিল, পরে এটা কোন আলাদা অর্থ পেয়েছে ?

সঙ্গীতা: আমার মেইন প্লান ছিল নাচেই। গান শিখতাম ,একজন ওস্তাদজি ছিলেন বাসায় আসতেন। আমি জানি না পড়ালেখা আমার রক্তে মিশতে পারছে কিনা, কিন্তু গান আর নাচ আমার রক্তে মিশে আছে । এতদিন যা পড়ে আসছি তা ঢুকছে কিনা জানি না, কিন্তু যা ধারন করছি তা দিয়েই এখন জীবিকা নির্বাহ করছি । আমি আমার নিজেকে জানছি ঐ নাচ, গান থেকেই । কি করতে ভালো লাগে, কি হতে চাই এই সব কিছুই ।

খোশগল্প.কম: গান নিয়ে আপনার বেশ আগ্রহ আছে, তো আপনার কি মনে হয় না এই জায়গাটাকে আর ও একটু বেশি প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে ?

সঙ্গীতা: আমি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। আমি আগে বেশ লম্বা লম্বা প্লান করতাম, ৫/৭ বছরের প্লান। এসব প্লান সব ঠোঁটের আগায় থাকত, কিন্তু কাজের খুব একটা কিছু হয় নাই। তাই আমি এখনকার প্লান শেয়ার করতে আগ্রহী না। আমি চলছি, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু সব প্লান তো ফুলফিল হয় না, কারণ লাইফ তো আমার হাতে না, লাইফ তো নিজের ইচ্ছামতো চলে। আমি আমার সবোর্চ্চ চেষ্টা করে যাব, পথের মধ্যে যা কিছু হয় মেনে নিতে হবে। তো সে দিক থেকে চিন্তা করলে কিছু করার ইচ্ছা আছে গান নিয়ে।

খোশগল্প.কম: নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান নিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যই ?

সঙ্গীতা: আমার তখন ইচ্ছা ছিল আর্কিটেকচার, মেকানিক্যাল ড্রয়িং নিয়ে পড়া। আমার আর্ট নিয়ে অনেক ভালোবাসা ছিল, ছোটবেলা থেকেই আমি আট শিখতাম। বুয়েটে ভর্তি হবার আগ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা ছিল না।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় কি খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলেন?

সঙ্গীতা: না খুব একটা না, ৬/৭ এর মধ্যে থাকতাম, আমার ইচ্ছা হলে পড়তাম, না হলে পড়তাম না। কোন সময় বাঁধা ছিল না। আমি আসলে ভালো রেজাল্টের জন্য পড়তাম না।

খোশগল্প.কম: গান, নাচ এগুলি বুঝে করার জন্য কি আপনার মধ্যে এক ধরনের দ্রুত ম্যাচুরিটি বা স্থিরতা চলে এসেছে ?

সঙ্গীতা: আমি হয়তবা স্থির, তবে আমি ফান করতে ভালো লাগে । আই বিলিভ আই হ্যাভ এ গুড সেন্স অব হিউমার । আমি নরমালি সবকিছুই খুব চিন্তা ভাবনা করে করি, দাবার গুটির মত । আমার গান শেখা নিয়ে আমার বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল । মাঝে মধ্যে ভাবি এর বেশি কিছু করা উচিৎ । আমার এছাড়া অভিনয় দেখতে ভালো লাগে, আবৃতি ও ভালো লাগে ।

খোশগল্প.কম: গান, নাচ নিয়ে এর কি কি করার ইচ্ছা আছে ?

সঙ্গীতা: গান,নাচ আমার ভিতরে যেভাবে আছে, বাইরে সেভাবে কাজ করে না। মাঝখানে আমি ছায়ানট এ ভর্তি হলাম, অফিসের জন্য শেষ করতে পারলাম না । আর ও একটা কারণ হচ্ছে আলসেমি । শুক্রবার দিন সকালে শাড়ি পরে বাইরে যেতে হবে,ক্লাস করতে হবে। এই সব আলসেমির জন্য আর হল না ।আমি ছায়ানট পছন্দ করি, আমি ছায়ানট এর পার্ট হওয়ার চেষ্টা করি ।

খোশগল্প.কম: আপনার ছেলেকে নিয়ে কি স্বপ্ন?

সঙ্গীতা: ও যা ইচ্ছা করবে, যেভাবে বাচতে চায় বাঁচবে । তবে আমি ওর মধ্যে সততা আর ন্যায়, অন্যায় বুঝাতে পারি তাহলে আমি সার্থক ।

খোশগল্প.কম: আপনার বাবা মাও তো আপনাকে যা ইচ্ছা করার স্বাধীনতা দিয়েছেন ?

সঙ্গীতা: আমার মা বাবাও অনেক ভালো মানুষ, আমি যা ইচ্ছা করেছি, যা ভালো লাগছে করেছি । আমাকে কেও কিছু চাপিয়ে দেন নাই ।

খোশগল্প.কম: আলটিমেটলি আপনার প্যাশনের জায়গা কোনাটা?

সঙ্গীতা: ক্রিয়েটিভ থিংস, যে কোন রকমের নতুন কিছু। যেমন, ঘর গুছানো, ছবি আঁকা ইত্যাদি। যে কোন নতুন কিছুই করতে ভালো লাগে। এক কাজ বেশিদিন করতে ভালো লাগে না । যেহেতু আমি একটা চাকরী করি, তাই আমার অনেক কাজই বারবার করতে হয় তাই আমি প্রতি কাজের শেষে নতুন কিছু রাখি যা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয় ।

খোশগল্প.কম: জীবনের এ প্রান্তে আসে এখন মনে হয় কি কি ভুল করেছেন ?

সঙ্গীতা: ভুলও তো অনেক করেছি ।

খোশগল্প.কম: এখন পর্যন্ত নেওয়া কোন কাজ টা বা কোন ডিসিশন নিয়ে ঠিক করেছেন।?

সঙ্গীতা: পি এইচ ডি থেকে ফিরে আসা। কারণ বলতে গেলে অনেক কিছু। আমি আসলে খুব ফ্যামিলি সিক, আমার মনে কুলচ্ছিল না। আমি পরিবার ছাড়া থাকতে পারি না । আমার আসলে পরিশ্রম করার মানসিকতা ছিল, আমি এখন যেখানে চাকরী করি সেখানেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু পরিবার থেকে দূরে থাকাটাই আসলে কষ্টকর ছিল ।

খোশগল্প.কম: আপনার লাইফের কোন মানুষকে কৃতজ্ঞতা বেশী দিবেন?

সঙ্গীতা: অসম্ভব কৃতজ্ঞতা আমার মায়ের উপর, আমাকে ছেলে-মেয়ের কনসেপ্ট থেকে বের করে আনার জন্য। আমার বাবারও ছেলে-মেয়ে কনসেপ্ট নিয়ে যা ছিল তার থেকেও বের করে এনেছেন। আমি ঠিক ছেলে-মেয়ে পার্থক্য টা বুঝে উঠতে পারি নি। কাজ করার ক্ষেত্রেও এ পার্থক্যটা বুঝে উঠতে দেন নি। আমার বাবা অনেক পড়ুয়া মানুষ ছিলেন, অনেক বই পড়তেন । পেপারে মুখ গুজে রাখতেন অফিস থেকে এসে, তারপর রাত ১০ তার পর থেকে আমাদের সাথে আড্ডা দিতেন । আমার বাবা সব দিকে বলতে পারেন, ভূগোল হোক, সেটা বিজ্ঞান হোক । আমি এরপর সম্মান করি আমার ঠাকু মাকে। তিনি প্রচণ্ড মেধাবী ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে বৃত্তি পাওয়া একজন মহিলা, পেপার পড়ুয়া একজন মহিলা, পেপার শুধু পড়তেন না আত্মস্থ করতেন । পেপারে যা যা বিজ্ঞাপন দিত, কোন কোম্পানি কি স্পন্সর করেছে একদম সব পড়তেন । আমাদের ধর্মের গীতা, রামায়ণ এর সবকিছু ওনার মুখস্থ । এত সুন্দর করে সবকিছু বুঝিয়ে বলতেন, সবাই এখানে এসে বসে শুনত। গতবছর বাবার মৃত্যুর ১৩ দিন আগে সে মারা যান । আমরা গতবছর একসাথে আমাদের পরিবারের ২ জন স্টার কে হারাইছি । ঠাকুমা ও সব কিছুতেই জ্ঞান রাখতেন, বাবার মত সবকিছুতেই জ্ঞান ছিল। সবখান থেকেই বলতে পারতেন । আমার বাবা ও এই গুন টা পেয়েছেন ।

খোশগল্প.কম: আপনি আসলে কার মত হয়েছেন ?

সঙ্গীতা: আমি আসলে কারও মত হয়নি, পুরাপুরি গুবলেট বলতে পার ।

খোশগল্প.কম: সুখী হতে কি কি লাগে ?

সঙ্গীতা: মনের সুখই প্রধান জিনিস ।

খোশগল্প.কম: আপনি কি সুখী ?

সঙ্গীতা: হুম, বলা যেতে পারে ।

খোশগল্প.কম: জীবনে এত দূরে এসে আপনার ফিলসফিক্যাল ফিনিশিং কি বলে মনে হয় ?

সঙ্গীতা: আমাদের গীতায় বলা আছে, প্রতি টা মানুষ ই একটা কিছু করার জন্য জন্মায় ।সে যতক্ষণ না কজা টা খুঁজে পায় না, সে ততক্ষণ অনেক কিছুই করতে থাকে। আমি এখনও খুঁজে পাই না, তাই নানা রকম কিছুর দিকে ফোকাস করে বুঝার চেষ্টা করছি আমি ঠিক কোনটা করার জন্য জন্ম হয়েছে । মানুষ চিনা আসলে খুব সহজ নয়, প্রতি টা মানুষ ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ভাবনা, ভিন্ন ফিলসফি নিয়ে বেড়ে উঠে ।মাঝে মধ্যে কাউকে যোগ্যতার অনেক বেশি ভেবে ভুল করেছি, আবার কাউকে তার যোগ্যতার কম ভেবেছি । কাউকেই ঠিক ভাবে বুজে উঠতে পারা যায় না ।এটাই বলা যেতে পারে যে, মানুষ চিনা খুব দায় ।

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ ।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত