শিবলী আহমেদ, মূল পরিচয়ের জায়গা লেখালেখি।ফেসবুক ভিত্তিক রম্য, ছড়া লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।এখন কাজ করছেন প্রিয় ডট কমে কন্টেন্ট রাইটিং নিয়ে।বই আকারে লেখা প্রকাশের পরিকল্পনা না থাকলেও এবছর থেকে নিজের লেখাগুলো মলাটবদ্ধ করার পরিকল্পনা আছে।লেখালেখিকে জন্মগত প্রতিভা মনে করলেও সেই প্রতিভা বিকাশের জন্য যোগ করলেন অল্প কিছু পড়া আর জানাশোনাকে।

আমি তোমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবো, লোভ না!

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 1, 2016 , 2:09 অপরাহ্ন

10968564_722294261223236_1392727149317266062_n

খোশগল্প.কম: কি করছেন?

শিবলী: এখন আপাতত প্রিয় ডট কমে কাজ করছি।দাইয়ান মাল্টিমিডিয়ার ‘রসুইঘর’ এ ফুডের উপর কাজ করতাম এক সময়।তারপরে যে কোন কারণে ছেড়ে দেই।

খোশগল্প.কম: এটা কি অনলাইন বেইসড ছিলো?
শিবলী: না, না।এটা প্রিন্ট মিডিয়া ছিলো।

খোশগল্প.কম: বেসিক কিছু প্রশ্ন করি, পড়ালেখা কোথায় করছেন, হোম ডিস্ট্রিক্ট
শিবলী: আমার পড়ালেখা ঢাকাতেই, হোম ডিস্ট্রিক্ট ঢাকায়, আমরা এখানেই স্থানীয়, ঐরকম গ্রাম নাই। গ্রামের বাড়িতে না গেলেও বিভিন্ন গ্রামগুলায় যাচ্ছি ফ্রেন্ডদের নিয়ে ঘুরতে।

খোশগল্প.কম: যেমন?
শিবলী: এখন পর্যন্ত শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এই সব জায়গায় গিয়েছি।আবার একেক জায়গায় অনেক সময় দুইবার গিয়েছি, ভালো লাগছে, দুইবার গেছি!মূলত গ্রাম দেখা তো একটা উদ্দেশ্য অবশ্যই, তার উপরে ফ্রেন্ডদের সাথে চার-পাঁচ দিন কাটানো ছিলো মজার কারণ।এখন যখন ফ্রেন্ডরা বিজি হয়ে গেছে এখন আর একা একা কোথাও যাওয়া হচ্ছে না, আর ফ্যাক্ট ইজ, চার-পাঁচজন ফ্রেন্ড তো, একজন যদি বিগড়ে যায় যে যাবো না, তাহলে আর যাওয়া হয় না।

খোশগল্প.কম: এভাবে যাওয়াটা কি প্লান করে শুরু করছিলেন?
শিবলী: প্ল্যান করেই শুরু করা, দেশের পরিস্থিতি যখন বেশী খারাপ ছিলো তখন এলাকার মধ্যে আড্ডা দিলে পুলিশ-টুলিশ ঝামেলা করতেছে বা বিভিন্ন ঝামেলা হয়;বাসার নীচে আব্বু-আম্মু থাকতে দিচ্ছে না, বিনোদনের তো দরকার আছে।তো আমরা কী করবো? আমরা সবাই ঘুরতে যাবো।কোথায়? প্রথমে ঢাকার ভেতরে, যেসব জায়গায় খোলা জায়গা আছে, ভাকুর্তা, গাজীপুর এরকম।হঠাৎ করে প্লান হইলো এখন আর ঢাকার ভেতরে আর ঘুরবো না, এখন একটু বাইরের দিকে যাবো।কক্সবাজার, সিলেট এইগুলার নাম আসলো, তখন আমরা বললাম যে না, যেখানে সবাই যায় সেখানে আমরা যাবো না।আমরা বাংলাদেশের প্রকৃত রূপটা দেখব, যেটা রিয়্যাল গ্রাম, যেখানে এখনো কারেন্ট যায় নাই, আধুনিক টয়লেট নাই, একদম ঐখানকার জীবনযাত্রার সাথে মিশে যাবো।এখানে হয়তো পাকা রাস্তা নাই, কাদা পাড়া দিয়ে দিয়ে যেতে হচ্ছে।এরকম গ্রাম যেখানে যেখানে পাইছি, গেছি এবং ভবিষ্যতে যাওয়ার আশা রাখি।

খোশগল্প.কম: যখন বিষয়টা রেগুলার হইলো, নিয়ম করে যাওয়া শুরু করলেন তখন মূল উদ্দেশ্য কী দাঁড়াইলো? পথ সুন্দর, ঘর সুন্দর বিষয়টাতো শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না
শিবলী: উদ্দেশ্য তেমন কিছু নাই আসলে।আমরা যে কয়জন ফ্রেন্ড ছিলাম, আমরা বেশী মানুষের জায়গা অপছন্দ করতাম বা এখন যদি বলি কক্সবাজারের কথা এখানে দশ জনের মধ্যে ছয় জন বলবে দেখছি, কিন্তু আমি যদি বলি সিরাজগঞ্জের গারাদহ গেছি, ঐখানে নদীতে গোসল করছি, ঐখানটা দেখে আসছি, তখন কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে জায়গাটা কেমন, এটা একটা এক্সট্রা এক্সপেরিয়েন্স।

খোশগল্প.কম: এতগুলো জায়গা দেখে আসার পরে এখন কী মনে হচ্ছে, মানে এখন তো অনেকদিন যাবৎ যান না, তো এখন যখন দি স্মৃতি রিকল করেন, কী মনে হয়?
শিবলী: হ্যাঁ, এইটা বলা যায়।যেমন আমরা যখন কোন এলাকায় যাইতাম তখন আমাদের পরিচিত কারো কেউ ঐ গ্রামে থাকলে তাদের আগে থেকে জিজ্ঞেস করে নিতাম, আমরা আসতেছি, আমাদের রাখা যাবে কি না? তো আমরা আশা নিয়ে যাইতাম, আমাদের জাস্ট একটা রুম দিবে, আমরা আমাদের মত রান্না করবো, খাবার কিনে আনবো।কিন্তু ঐখানে যাওয়ার পর গ্রামের মানুষরা এরকম যে, আমরা শুনি না সহজ-সরল? আসলে তারা কত সহজ-সরল হইতে পারে সেটা দেখে আসছি, এইটাই আসলে অর্জন! মানুষ কীভাবে হইতে হ্য় এইটা শেখার জায়গা।যেমন আমরা যখন গেলাম মনে হচ্ছিলো আমরা বোধহয় অনেক বড় কিছু তাদের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর মত তারা আমাদের আপ্যায়ন শুরু করছে, ‘বাবা তোমরা সকালে কী খাবা, রাত্রে কী খাবা’ দেখা যাচ্ছে ঘরের নতুন চাদর বিছাচ্ছে, পুরা বাড়ি একবার ঝাড়ু দিয়ে ফেললো, আজকে গরুর দুধটা তারা বিক্রি করতে নিয়ে যাবে না হাটে, গেস্ট আসছে বাড়িতে, এটা তারা খাবে, একদম খোয়াড়ের বড় মোরগটা জবাই করতেছে এই ধরণের আতিথেয়তা পাইছি, যেটা দেখছি যে, কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়, এটা অন্তত শেখা যায় তাদের কাছে।

খোশগল্প.কম: লেখালেখি করেন ফেসবুকে, এটা কী ফেসবুকভিত্তিকই না আরো আগেই শুরু করছিলেন?
শিবলী: না, লেখালেখি শুরু হইছে একদম ছোটবেলায়, আব্বা স্লেট এর উপরে ‘অ’ লেখে দিতেন, আমি ঐটার উপরে হাত ঘুরাইতাম।ঐ থেকে লেখালেখি জীবন শুরু।ঐ কাগজ-খাতা কেজি দরে বিক্রি করে দিত আম্মা।তো যখন ফেইসবুক আসলো, এইখানে লিখলে দেখলাম এইখানে আর হারাচ্ছে না, তারপরে কাগজ-কলম বাদ দিয়ে ফেইসবুকেই লিখা শুরু করলাম।মানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, কাঁটাকাঁটি হইলেও সমস্যা নাই, এডিট করা যাচ্ছে যেকোন সময়, হাতের লেখা বিশ্রী হইলেও সমস্যা নাই এইভাবে লেখা শুরু করলাম।প্রথমে ফানি কর্মকান্ড করলাম।হয়তো কৌতুক লিখতাম, যেটা নিজেকে নিয়ে ফান করা যায়।আসলে আমি কিন্তু অন্য কাউকে নিয়ে ফান করতে পারবো না, ফান করার জন্য যবচেয়ে উপযুক্ত হলো নিজে, একটা মানুষের সেলফ, আমি একটু মোটা হইলাম আমি কিন্তু বলতে পারবো আমি খাসী হয়ে গেছি, কেউ রাগ করবে না, কিন্তু আপনাকে যদি বলি আপনি কিন্তু রাগ করবেন, ইগোতে লাগবে।তো আমি নিজেকে নিয়ে ফান করতাম, এইটা কিন্তু খুব কম মানুষ করে, নিজেকে নিয়ে মানুষ ফোকাস করতে চায় যে আমি ভালো, নিজের দোষটা এড়াইতে চাই।কিন্তু ভালো-মন্দ মিক্স কইরাই তো মানুষ।তো এই ফান করতে করতে একটা সময় মনে হইলো আমি সাহিত্য করতে পারি, যেটা ছোটবেলায় আমার ভেতর ছিলো।লেখালেখি আমি করতে পারি, তো লেখালেখি করতে করতে দেখলাম যে গদ্য পদ্য বিভিন্ন প্যাটার্নের হয়, লিখতে লিখতে একসময় গদ্য, ছড়া, কবিতার জন্য আমি ছন্দ শেখা শুরু করলাম, পড়াশুনা করে ঐ অনুযায়ী লিখতে শুরু করলাম।

খোশগল্প.কম: তাহলে লেখা যতই ছোট হোক, লেখালেখির শুরু করার জন্যে আপনার প্রস্তুতি ছিলো, ছন্দ শেখা বা বিভিন্ন মাধ্যমে
শিবলী: হ্যাঁ, আমি ছোটবেলায় করতাম কী, কোন লেখা রবীন্দ্রনাথ বা অন্য যে কারো কোন লাইন আমার পছন্দ হইলো আমি দাগ দিয়ে রাখতাম, ফিলোসফিগুলো।যেমন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটা লাইন আছে ‘লোটা কম্বল’ এর মধ্যে “যে যেখান থেকে পেরেছে, পৃথিবীটাকে জটিল করে রেখেছে” এইটা ভাল্লাগছে, আসলেই প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যেকটা জায়গায় জটিল করে রাখছে, খাতায় তুলে রাখছি।যখন ইন্টামিডিয়েটে পড়লাম “যাহা দিলাম, তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম” রবীন্দ্রনাথের, এই লাইনগুলা ভালো লাগতো, আন্ডারলাইন করতাম।করতে করতে একসময় মনে হইলো আমিও এই ধরণের কিছু লিখি।এরকম কিছু যেটা ফার্স্ট লুকেই মানুষের মনকে টাচ করবে, এই থেকেই কবিতা-টবিতা লেখা।

খোশগল্প.কম: আপনার ফেসবুকে অধিকাংশ লেখা কবিতা, কবিতা কেন প্রেফার করলেন?
শিবলী: কবিতা লিখা প্রেফার করছি এইজন্যে যে, আমার দুর্বলতা হচ্ছে, একটানা যে মানুষ লিখে যায় না? মাসের পর মাস ধরে লিখেই যাচ্ছে, এই প্যাশেন্স আমার মধ্যে খুব কম।কবিতা হচ্ছে একটা বিশাল জিনিসকে স্বল্প পরিসরে, অল্প মূহুর্তে ফুটাই তুলতে পারতেছি।আকস্মিক একটা মনোভাব ফুটাই তুলতে পারতেছি শর্ট মাধ্যমে।ফ্যাক্ট ইজ, দ্রুতই তো চিন্তাভাবনা বদলায় মানুষের, আমি এখন বসে ভাবছি যে আমি একটা রম্য লিখবো, আমি কিন্তু পরে যেয়ে রম্য লিখতে পারবো না, আসবে না, ঐটা আসার জন্য বসে থাকতে হবে।কবিতা কিন্তু সেটা না, আমি একবসায় লিখতে পারি, হ্যাঁ অনেকে আছে ঘরে বসে একলাইন, অফিসে যেয়ে আরেকলাইন লিখছে, তারপর আইসা জোড়া দিয়া কবিতা করছে।আমি সেটা কখনোই করি না, আমি বসি, ইন্সট্যান্ট লিখি।সেটা ভালো হোক, মন্দ হোক লিখি।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।এত ডেডিকেটেডলি লিখেন সেটা আলাদা কোন কিছুতে লিখেন না? মানে খাতা বা পুস্তক আকারে
শিবলী: না, আলাদা করবো করবো বলতে বলতে হয়ে উঠতেছে না।এইবার টার্গেট নিছি যে এই বছর ফেইসবুকে লিখবো কম, এইবার একটু কাগজের দিকে ঝুঁকবো।

খোশগল্প.কম: লিখে তারপর কী করবেন? বই হিসেবে প্রকাশ করবেন কিনা
রেখে দেবো।বই তো আসলে একটা বিশাল কনসেপ্ট, মলাটবদ্ধ করবো আর কি!

খোশগল্প.কম: নিজের জন্য?
শিবলী: হ্যাঁ, নিজের জন্যে হলেও।

খোশগল্প.কম: আপনি কন্টেন্ট রাইটিং করতে চাচ্ছেন, আমার ধারনা লেখালেখির বিষয়টা স্বতঃস্ফুর্ত জিনিস, তো আপনাকে যখন ফরমায়েশ দিয়ে কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লিখতে বলা হবে, এইটা কী মান ধরে রাখতে পারবে বা ততটা জীবন্ত হবে?আপনার কী মনে হয়?
শিবলী: আচ্ছা।আসলে আমার জন্যে শুধু না, প্রত্যেকটা মানুষের জন্যেই সব লিখা স্যুট করবে।এখন অনেকে বলতে পারে কবিতা এভাবে লিখে, গদ্য এভাবে লিখে, কন্টেন্ট এভাবে লিখে।লেখার আসলে কোন নিয়ম নাই, এগুলা কিছু না, কোন লিখা যদি ক্ষতিকর কিছু না হয় তাহলে সেইটাই ভালো লিখা।কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য এভাবে লিখতে হবে, সেভাবে লিখতে হবে এমন না।তবে হ্যাঁ, পাবলিক ডিমান্ড বলে কিছু আছে, পাবলিক কী ধরণের লিখা চায় সেইটা ফলো করা যাইতে পারে, যে পাবলিকের কাছে কেমন ভাবে লিখতে হবে।এখন আপনার প্রশ্ন আমার ঐরকম পাবলিক ডিমান্ডের লিখা লিখার মত ক্যাপাসিটি আছে কিনা, তাইতো?

খোশগল্প.কম: না, না, এইটা বাণিজ্যিক প্রশ্ন হয়ে যায়।আমার প্রশ্ন ছিলো ফরমায়েশ দিয়ে লিখিয়ে নেয়া বিষয়টা আপনি নিজে আত্মস্থ করতে পারবেন কিনা, লিখার পর আপনার ঐ স্যাটিসফ্যাকশনটা পাবেন কি না যেটা রম্য বা কবিতা লিখে পাইতেন এবং সেক্ষেত্রে লেখাটা প্রাণবন্ত থাকবে কিনা।
শিবলী: হ্যাঁ, অবশ্যই আনন্দ পাবো।রম্য লিখে আনন্দ পাই এটা ঠিক কিন্তু এর মানে এই না আমি অন্য কিছু লিখে আনন্দ পাই না।অন্যান্য লিখা লিখলেও আমার ভালো লাগে, মোট কথা কলম চললেই আমার ভালো লাগে।সেটা কন্টেন্ট রাইটিং, গদ্য, পদ্য যাই হোক।

খোশগল্প.কম: আপনি যখন অন্য প্রফেশনে ঢুকবেন তখন লেখালেখিটা আপনার সাথে কতটুকু সম্পৃক্ত থাকবে?
শিবলী: কঠিন প্রশ্ন করছেন।লেখালেখি করে আসলে জীবনধারণ করা বাংলাদেশে খুবই কঠিন, তবে লেখালেখি বিষয়টাকে আবার তুচ্ছ করেও দেখা যাবে না।এটা দিয়ে আপনার চাহিদা পূরণ করা যাবে কিন্তু আপনার লোভ পূরণ করা যাবে না।আমি হচ্ছি চাহিদা পূরণের জন্যে লিখালিখি করি, আমি আমার ফ্যামিলি, বাচ্চা-কাচ্চা এদের বলেই নিবো যে “বাবা আমি তোমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবো, লোভ না”।

খোশগল্প.কম: এইটা কী বুঝিয়ে নিবৃত্ত করা সম্ভব?
শিবলী: আমি জানি, আমি পারবো।আমি ভালো হিপটোনাইজ করতে পারি।আমার কনভিন্সিং পাওয়ার ভালো, সেটা ছেলে-মেয়ে সব ক্ষেত্রেই।এই ক্ষমতা বেসিকালি সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু টেকিনিকটা সবাই জানেনা।

খোশগল্প.কম: হা হা হা।আচ্ছা, যে প্রশ্নে ছিলাম সম্পৃক্ততার কথা
শিবলী: আমি কিন্তু এই লেখালেখিতেই ছিলাম, বললাম না সাংবাদিকতা করতাম।

খোশগল্প.কম: তো আপনি এই লেখালেখিই প্রফেশনেই থাকবেন?
শিবলী: হ্যাঁ, এই লেখালেখি রিলেটেড কাজেই থাকবো।এবং এটার খাত কিন্তু বাড়বে, যত কিছুই হোক আপনাকে কিন্তু আপনার শিকড়ে ফিরে আসতে হবে ভাই!হাতে ট্যাব ঘষে, স্ক্রল ডাউন করে কিন্তু বইয়ের ফিলিংস আপনি পাবেন না।সো বইয়ের প্রভাব কিন্তু কমে যাবে না এবং আপনাকে রুটে ফিরে আসতে হবে।এইটা হচ্ছে দুনিয়ার চক্র।আপনি যতই আধুনিক হোন, আপনাকে রুটে ফিরে আসতে হবেই, কাগজের লিখায় আসতেই হবে, উপায় নাই।

খোশগল্প.কম: তাহলে আগের প্রশ্নটাই আবার আসছে যে আপনি যখন লেখালেখি কাজ হিসেবে নিবেন আপনার চাপ তৈরী হচ্ছে, এবং আপনি আপনার শখের জায়গাটা নষ্ট করছেন
শিবলী: হ্যাঁ, এটা হয়।নেশাকে কখনো পেশা বানাইতে হয় না।বাট ফ্যাক্ট ইজ আমি যদি অন্য কাজ করি সেখানেও কিন্তু আমার প্রেশার আসবে, তাহলে যেহেতু লেখালেখি আমার ভালো লাগে তো এখানে থেকেই আমি চাপটা নিতে চাই।হ্যাঁ, তখন কোয়ালিটি অবশ্য নষ্ট হবে, আপনি বলতে পারবেন না রবীন্দ্রনাথের সব লিখা ভালো, হুমায়ূন আহমেদের সব লিখাই ভালো।তাঁরা এখন কিংবদন্তী হয়ে গেছেন তাই তাঁদের ফেলে দেয়া লেখাটাও ভালো হচ্ছে।লেখার ঐরকম কোয়ালিটি নাই, আপনার কাছে ভালো না লাগলেও অন্য কারো কাছে সমাদর পাচ্ছে।“ফাইট্টা যায়” টাইপের গান আপনার আমার কাছে ভালো না লাগলেও গ্রামে কিন্তু সেটা খুব ফিল নিয়ে শুনছে।

খোশগল্প.কম: তাহলে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ, লেখকের আত্মতৃপ্তি না পাঠকদের আনন্দ?
শিবলী: যখন আমি আমাকে প্রকাশ করতে চাবো গল্প, কবিতার মাধ্যমে তখন মেজরিটি পাবে লেখকের আত্মতৃপ্তি, যে লেখক এটা লিখে স্যাটিসফাইড কিনা।তারপর পাবলিক না খাইলে নাই!আর কমার্শিয়াল রাইটিং যেগুলা ওখানে রাইটার এর স্যাটিসফ্যাকশন বলে কিছু নাই, তখন পাবলিকের কানের দিকে নজর রাখতে হবে।এরকম লিখা অহরহ লিখতে হয়, আমি জানি যে আমার লিখতে ভাল্লাগতেছে না, এইখানে আমি নাই, এইটা আমি না তবুও আমাকে ফিচারটা লিখতে হচ্ছে পাবলিকের দিকে তাকায়া।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।লেখালেখির জন্য কোনটা দরকার, পড়াটা বেশী দরকার নাকি নিয়ম জানাটা?
শিবলী: আমি এই প্রশ্নটা আশা করছিলাম যে আপনি এইটা করেন যে লেখালেখির ক্ষেত্রে কী প্রয়োজন।একটা হচ্ছে জন্মগত প্রতিভা, যেটা মানুষ জন্ম থেকে নিয়ে আসে, রবীন্দ্রনাথকে তৈরী করা যাবে? যাবে না।তাহলে তাঁর ভেতর কী ছিলো? জন্মগত প্রতিভা, এই জন্মগত প্রতিভা যদি কারো ভেতর থাকে সে যদি অল্প একটু পড়ে সে অনেক বিশাল কিছু করতে পারবে।আরেক ধরণের চর্চা হচ্ছে আমি পড়ে পড়ে লিখবো, যেমন আমরা অক্ষরজ্ঞান শিখছি বলে এখন পুরো বাক্য পড়তে, লিখতে পারি।ঐটারে আমি লেখক বলবো না, বলবো সাহিত্যকর্মী।সাহিত্যস্রষ্টা আর সাহিত্যকর্মীর মধ্যে পার্থক্য আছে।আপনার ভেতরে কিছু আছে লিখার মত এইটা যদি টের পান, আপনি পড়েন, আপনি পারবেন;আপনাকে নকল করতে হবে না, পড়ে আপনি ছন্দ শিখবেন তখন আপনি এর মধ্যে ফিলোসফি দিয়ে নিজেই একটা কবিতা লিখতে পারবেন।এজন্য আপনি পড়বেন।কিন্তু কারো যদি জন্মগত প্রতিভা না থাকে কিন্তু ইচ্ছা হয় যে আমি সাহিত্য তৈরী করবো, হয়তো হবে, হয়তো আপনার আত্মীয়-স্বজন ১০/১৫টা বই পড়বে, কিন্তু আপনি স্যাটিসফ্যাকশন পাবেন না।

খোশগল্প.কম: আপনি কোন দলে?
শিবলী: আমার মনে হয় যে আমি জন্মগতভাবে এইটা নিয়ে আসছি।কারণ সত্যি যেটা আমি কিন্তু খুব কম পড়া, খুবই কম।এর পরও যে আমার মাথা থেকে দুইটা লাইন বের হচ্ছে এইটা আমার ভাল্লাগে।দ্যাটস হোয়াই আমি এটাকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চাই।এবং যেটা করতেছি যেহেতু প্রফেশনে গেলে একদম কম পড়া দিয়ে হবে না তাই এখন একদম গণহারে পড়তেছি, প্রায় ২-৩ বছর ধরে।কারণ কোন ইন্সটিটিউশন এত ডীপ ভাবে চিন্তা করবে না, জন্মগতভাবে কে কট্টুক প্রতিভাবান, তারা চিন্তা করে কে কয়টা বই পড়ছে, আমার খুব মেজাজ খারাপ লাগে যখন বলে কয়টা মুভি দেখছেন, কয়টা বই পড়ছেন।রবীন্দ্রনাথ কয়টা বই পড়ছিলো?

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।সাক্ষাৎকারের শেষে চলে আসছি, শেষ প্রশ্ন, যদি নিজের ব্যাপারে বলতে বলি কী বলবেন?
শিবলী: নিজের ব্যাপারে বলতে বললে বলবো আমি একজন ভালো মানুষ, একজন মানবিক মানুষ।আমার সাথে কেউ খারাপ বিহেভ করলে আমি খুবই কষ্ট পাই!আমার মনটা খুবই সফট।আমার মনে আছে ক্লাস টেনে থাকতে স্কুলে যাওয়ার সময় আমার ব্যাগ নিয়ে এক ভদ্রলোক বেশ কড়াভাবে বলছিলো যে “এই ছেলে, ব্যাগ গোছায়া আনতে পারো না?” আমি স্কুলে না গিয়ে কাঁদছিলাম, উনি আমার সাথে এমন ব্যাবহার করলো কেন?আমি অন্যদের থেকে ভালো ব্যবহার আশা করি এবং এইজন্য আমি নিজে ভালো ব্যবহার করি।এইজন্য আমি আমার পৃথিবী ছোট রাখি যেহেতু সবাই আমার সাথে ভালো ব্যবহার করবে না।দশটা ফ্রেন্ডের চাইতে দুইটা ভালো ফ্রেন্ড যথেষ্ট।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত