মোঃ ইয়াসিন , ১৭ বছর ধরে খাবারে ব্যবসা করছেন । তারমতে, “আমাদের দেশে খাবারের কালচারটা আগে ছিল না। এখন কিন্তু এটা একটা কালচার হয়ে দাঁড়াইছে। রান্না টা বিশাল একটা কালচার”।

আমি পলিটিক্যাল সাইন্সের ছাএ ছিলাম, কিন্তু মাথায় বিজনেসই ছিল

লিখেছেন...admin...মার্চ 28, 2016 , 6:48 পূর্বাহ্ন

yasin

খোশগল্প.কম: ব্যবসায়িক ব্যাস্ততা কেমন যাচ্ছে?

ইয়াসিন: খাবারের দোকানের সাথে সংযুক্ত তো, তাই একটু বেশিই ব্যস্ততা। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা তো খুব একটা ভালো না। মোটামুটি আছি।

খোশগল্প.কম: ব্যবসার অবস্থা খারাপ কেন?

ইয়াসিন: দেশ তো অনেক ডেভেলপ হচ্ছে, কিন্তু মধ্যবিত্তদের ব্যবসা বাণিজ্য তাই অনেকটা স্থবির হয়ে যাচ্ছে।

খোশগল্প.কম: আপনি কি কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিলেন?

ইয়াসিন: না।

খোশগল্প.কম: পড়াশোনা করেছেন , কিন্তু চাকরি করবেন না, এটা কি আগ থেকেই প্লান ছিল?

ইয়াসিন: হুম, আগে থেকেই প্লান ছিল ব্যবসাই করব । চাকরি করব না।

খোশগল্প.কম: বিজনেস স্টাডি বা ঐ লাইনে পড়া হয় নাই কেন?

ইয়াসিন: প্রথম ঐ ভাবে চিন্তা করি নাই। পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমি পলিটিক্যাল সাইন্সের ছাএ ছিলাম, কিন্তু মাথায় বিজনেসই ছিল ।

খোশগল্প.কম: ব্যবসা করার চিন্তাটা কখন থেকে আসল?

ইয়াসিন: এটা হঠাৎ করেই আসল, কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। সেখান থেকে এসেই ব্যবসা শুরু করলাম।

খোশগল্প.কম: ছাএজীবন থেকেই কি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন?

ইয়াসিন: হুম, আমাদের ফ্যামিলিগত কারণে ছাত্র জীবন থেকেই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম।

খোশগল্প.কম: কত বছর ধরে আছেন এই ব্যবসায়ে?

ইয়াসিন: এই ব্যবসায় ১৭ বছর ধরে আছি।

খোশগল্প.কম: দীর্ঘ সময়, এই সময়ের অভিজ্ঞতাটা যদি বলতেন?

ইয়াসিন: এটা তো খাবারের দোকান, বেইলী রোডেই আছি ১৭ বছর ধরে । বেইলী রোডে যখন নাট্যমঞ্চ ছিল তখন অনেক রকমের মানুষ আসত। বেইলী রোড তো অনেক বিখ্যাত একটা স্থান। খাবারের ব্যবসা আগে এতটা জমজমাট ছিল না। আগে আমরা যখন ব্যবসা শুরু করি তখন তো অল্প কয়জন ছিলাম, এখন তো অনেক ব্রান্ড চইলা আসছে। এখন নাটক পাড়ার চেয়ে খাবার পাড়া বলা ভালো ।

খোশগল্প.কম: এতবছর ধরে বেইলী রোডে আছেন, এখানে তো একটা প্রতিযোগিতার বাজার। এখানে টিকে থাকতে আপনাকে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে?

ইয়াসিন: অনেক কঠিন পরিশ্রম করা লাগছে। এখানে তো এখন প্রতি মুহূর্তে স্ট্রাগল করতে হয়। বাংলাদেশের মধ্যে এটা একটা মোস্ট এক্সপেনসিভ খাবারের এরিয়া। এখানে বিভিন্ন খাবারের দোকানের সমাগম, তারমধ্যে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে টিকে আছি।  অনেকেই এসেছে আবার চলেও গেছেন । আমরা টিকে আছি এখনও ।

খোশগল্প.কম: অনেক ছোট অবস্থার থেকে ব্যবসার এখনকার এই অবস্থা, এর পেছনের গল্পটা যদি বলেন..

ইয়াসিন: আমি প্রথমে যখন এই ব্যবসা দিয়ে বসি, মানুষ তখন হাসছে। মানুষ বলছে কয়দিন পরই হয়তো দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। কিছুই ধারণা ছিল না আমাদের । আস্তে আস্তে হাঁটিহাঁটি পা করে করে আগালাম। খাবারের কোয়ালিটি মেইনটেইন করা, আশেপাশের দোকানের তুলনায় খাবারের কোয়ালিটি মেইনটেইন করা। মূলত এখানে কাস্টমার সার্ভিসটা মেইন। এখন স্কাইলার্ক সবাই চিনে। এটার পিছনে অনেক শ্রম আছে অনেক কিছু আছে ।

খোশগল্প.কম: শুরু করেছিলেন কি দিয়ে?

ইয়াসিন: দোকানটা আগে ছোট ছিল। তখন অল্পকিছু ফাস্টফুড খাবার দিয়ে শুরু করি, আর কেক। তারপর বাড়তে থাকে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী।

খোশগল্প.কম: এত ব্যবসা থাকতে খাবারের ব্যবসায় কেন ঢুকলেন?

ইয়াসিন: এই ব্যবসায় মানুষের সমাগম, পাশাপাশি মানুষের রিএকশান তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে খাবারের কালচারটা আগে ছিল না। এখন কিন্তু এটা একটা কালচার হয়ে দাঁড়াইছে। রান্নাটা বিশাল একটা কালচার। বেইলী রোডে অনেক রকমের খাবার চলে আসছে। এটা প্রতি মানুষের আগ্রহ, আনন্দ, উদ্দীপনা সবই আছে।

খোশগল্প.কম: কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আপনাদের কি রকমের স্ট্রাটেজি ধরে রাখতে হয়?

ইয়াসিন: কাস্টমার ধরে রাখা মূলত কঠিন একটা ব্যাপার। কোয়ালিটি মেইনটেইন করা উচিৎ সবার আগে। কাস্টমারদের সাথে গুড রিলেশনশিপ ধরে রাখতে হবে। কোয়ালিটির সাথে এইটা অপরিহার্য।

খোশগল্প.কম: বাধাবিপত্তি কি কি ছিল?

ইয়াসিন: নানারকম বাধাবিপত্তি ছিল। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার মধ্যেও আমাদের টিকে থাকতে হয়েছে।

খোশগল্প.কম: খাদ্যে ভেজাল তো আমাদের দেশে একটা আলোচিত সমস্যা, আমাদের দোকানে এটা কিভাবে মেইনটেইন করেন।

ইয়াসিন: এটা এখন একটা সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আসলে এ ব্যাপারে অনেক সচেতন। সবাই সচেতন হলে সমস্যাটা আর থাকত না। আমরা সবসময় হাইজেনিক খাবারটা দেওয়ার চেষ্টা করি।নিজেদের সচেতনতা থেকেই আমরা এসব করি। আমার বাচ্চা যদি এখন এ খাবার খেতে চায় বা এই খাবারটা খেতে দেই, এ চিন্তা করলেই হয়তো আর ভেজাল মিলানো সম্ভব না ।

খোশগল্প.কম: তরুণরা যারা এখন ব্যবসায় আসতে চাচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

ইয়াসিন: অবশ্যই, মোস্ট ওয়েলকাম। খাবারের ব্যবসা এটা একটা আনন্দময় ব্যবসা । যদি সততার সাথে নীতি মেইনটেইন করে করতে পারে তাহলে খুব ভালো ব্যবসা।

খোশগল্প.কম: আপনার দোকানে কতজন কর্মচারী আছে।

ইয়াসিন: প্রায় ১২/১৪ জন ।

খোশগল্প.কম: এক সময় খুব ছোট অবস্থা থেকে এত বড় ব্যবসা এখন একা চালাতে কত খানি বেগ পেতে হচ্ছে ?

ইয়াসিন: আমি একা না, আমার বড় ভাই আছে আমার সাথে । মানুষ একসময় কিছু জানে না, তারপর সবকিছু একসময় শিখে যায় ।

খোশগল্প.কম: যখন শুরু করেছিলেন তখন যতটা শ্রম দিতেন, এতদিন পর এসে এখন যতটা শ্রম দিতেছেন। পার্থক্য কতখানি? নাকি আগের থেকে বেশি দিচ্ছেন?

ইয়াসিন: শ্রম কখনোই কমে না একটা বিজনেসে। তবে পরিধিটা পাল্টে যায়, প্রথম প্রথম যে কাজটা করতে ১০ ঘন্টা সময় লাগত এখন করতে ২ ঘন্টা সময় লাগবে । সবকিছুই পাল্টেছে, খাবার প্রসেসিংয়ে অনেক আধুনিকতা এসেছে।  এসব ব্যবসার সাথে সবসময় সময় দিতে হয়।

খোশগল্প.কম: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ব্যবসা নিয়ে?

ইয়াসিন: যতদিন সুস্থ আছি, ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাব।

খোশগল্প.কম: আপনার ছেলেমেয়েকে ব্যবসায় আনার মেন্টালিটি আছে?

ইয়াসিন: সময় বলে দিবে! কারণ আজকালকার ছেলেমেয়েরা তো আমাদের থেকে ভিন্ন করকম। ওরা স্বাধীনভাবে যে পেশায় ইচ্ছা যাবে।

খোশগল্প.কম: স্বাধীন ভাবে ব্যবসা করছে খুব কষ্ট করে, কতটুকু সুখী মানুষ হতে পেরেছেন?

ইয়াসিন: অনেক সুখী মানুষ। জবাবদিহিতা নিজের কাছে নিজের আছে, বিবেকের কাছে আছে। কিন্তু তৃতীয় কোন ব্যক্তির কাছে  জবাবদিহিতা নাই। অপ্রত্যাশিত কোন হস্তক্ষেপ নাই কারো, এটা খুব ভালো লাগে ।এ দিক থেকে স্বাধীন। জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে স্বাধীন না । খাবারের কোয়ালিটি খারাপ হলে নিজের কাছে নিজের জবাবদিহিতা করতে হয়।

  খোশগল্প.কম: একজন ব্যবসায়ী হিসাবে দেশের উন্নয়নে কতটা অবদান রেখেছেন?

ইয়াসিন: জানি না ছোট্ট পরিসরে একটা দোকান দিয়ে এত বড় বাংলাদেশে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

খোশগল্প.কম: পরিবারকে কতটা সময় দিতে পারেন ?

ইয়াসিন: এ ব্যাপারে পরিবার থেকে অনেক অভিযোগ আগে থেকেই। তবুও যতটুকু সময় দেওয়া যায়, তততুকু ভালভাবেই দেই ।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত