আইরিন সুলতানা । একটা কাজের প্রতি ভালো লাগা। যেখানেই যাই না কেন ভালো লাগাটা থাকবে এবং প্রতিনিয়ত সেটা নিয়ে কাজ করে যাওয়া টাই হচ্ছে প্যাশনের সংজ্ঞা তার কাছে ।

আমি বড় ভাইয়াকে দেখে শিখি কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়

লিখেছেন...admin...মার্চ 15, 2016 , 12:57 অপরাহ্ন

aireen

খোশগল্প.কম: আপনার ছোটবেলা থেকেই কোন স্পেসিফিক ফিল্ডে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল?

আইরিন: না, এমন কোন ইচ্ছা ছিল না। একটা সাধারণ চাকরি করার ইচ্ছা । ব্যাংকে হলে ভালো হয়। তবে প্যাশন বলতে গেলে আঁকাআঁকি আমার ভালো লাগে। এটা শেখাও হয় নি, এমনকি একা একাই শিখেছি।

খোশগল্প.কম: আপনার পড়ালেখার সাবজেক্ট কি আঁকাআঁকি  রিলেটেড?

আইরিন: না, সম্পূর্ণ আলাদা। আমি মার্কেটিং এ পড়ি। এখানে তো আর সাবজেক্ট ইচ্ছামতো পছন্দ করা যায় না। মার্কেটিং সাবজেক্টে টা একটু আলাদা অন্য বিষয় থেকে। যেমন অন্য বিষয়ে কি কি করা লাগবে, পড়া লাগবে বলে দেওয়া থাকে। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা ভিন্ন ।নতুন নতুন বিষয় পড়তে হয় ।

খোশগল্প.কম: একজন মেয়ে হিসাবে পরিবারের সবাই আপনার কাছে কতটা সফলতা আশা করত?

আইরিন: আমার দুই ভাই রীতিমত অনেক সফল মানুষ। আমার পরিবারের সবাই অনেক সফলতার হাই লেভেল দেখে ফেলছে। তো আমার উপর এমন কোন এক্সপেকটেশন ছিল না। আমার উপর কোন প্রেশার ও দেওয়া হয় নি কখনোই। এমনকি এখন ও দেওয়া হয় না।

খোশগল্প.কম: চাপিয়ে না দেওয়ার ফলে যে স্বাধীনতা পেয়েছেন এটা কতটা ইতিবাচক ছিল?

আইরিন: না আমি অনেক বেশি উপভোগ করেছি। এটা ইতিবাচকই ছিল ।

খোশগল্প.কম: প্যাশনের সংজ্ঞাটা এক এক জনের কাছে এক এক রকম, আপনার কাছে কীরকম?

আইরিন: আমার কাছে মনে হয় একটা জিনিসের প্রতি ভালো লাগা। যেখানেই যাই না কেন ভালো লাগাটা থাকবে। এবং প্রতিনিয়ত সেটা নিয়ে কাজ করে যাওয়া।

খোশগল্প.কম: আপনি অন্যরকম বিজ্ঞান-বাক্স নিয়ে কাজ করেছেন অনেক, আপনার কাছে বাচ্চাদের বিজ্ঞান শেখানোর এই অভিনব ব্যাপারটা কেমন লেগেছে?

আইরিন: প্রথম ব্যাপার হচ্ছে এটা অনেক বড় একটা উদ্যোগ। এটা বাচ্চাদের শেখানোর জন্যই বাজারে আনা হয়েছে। এমন না একটা প্রোডাক্ট করলাম আর বাজারে ছেড়ে দিলাম। বিদেশে যে সকল সাইন্স কিট আছে সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে সবচেয়ে ভালো জিনিস টা দেওয়ার চেষ্টা করে এরা। এরা সবচেয়ে গবেষণাটা বেশী করে, সব বিষয় নিয়ে।

খোশগল্প.কম: এমন কোন ঘটনা যা আপনাকে এখন ও প্রভাবিত করে?

আইরিন: আমি ইউনিভার্সিটি কয়েকটা ঘটনায় বেশ প্রভাবিত হয়েছি। জগন্নাথের বেশিরভাগ ছাএছাএীরাই গ্রাম থেকে আসে। এরা ম্যাচে থাকে সাথে টিউশনি করে যাচ্ছে। আবার ভালো রেজাল্টও করে যাচ্ছে। আমাকে এই ব্যাপারটা খুব ভাবাত যে এরা এত কষ্ট করে আর আমি! এদের থেকে কত সুখে আছি। এদের থেকে আমি অনেক শিখেছি।

খোশগল্প.কম: আপনার জীবনে অনুপ্রেরণার মানুষ কে?

আইরিন: আমার ভাইয়ারা ।

খোশগল্প.কম: এমন কোন বন্ধু আছে যাদের দেখে বিভিন্ন ভাবে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন?

আইরিন: আমার এক বন্ধু আছে । সে প্রথম থেকে ভালো রেজাল্ট করে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত করে যাচ্ছে । আমার খুব অদ্ভুত লাগে মানুষ মাঝে মধ্যে তো একটু খারাপ করে আবার ভালো করে,কিন্তু সে একটা ভালো করে যাচ্ছে। সে বিয়েও করে ফেলছে। সে সবকিছুই সামলাতে পারে। আর আমি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, এদের দেখে আমি এখনও শিখি।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটি লাইফ শেষ হলে মানুষ মরার প্রস্তুতি শুরু হয়, অফিসে দেখা যায় কোন বন্ধু বা কোন সহপাঠী থাকে না। একা একা একটা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ব্যাপারটা একটু কষ্টকর হয়। এ কথাটা আপনার কি সত্য মনে হয়?

আইরিন: আমার কাছে মনে হয় না। যারা ভার্সিটি লাইফ ইনজয় করে তাদের ক্ষেএে সত্য হতে পারে। আর এই অফিসটা অত কর্পোরেট না। আমি এখানেও আসি আর যাই। কিছু পরিচিত মানুষ ছাড়া কারোর সাথেই কথা হয় না।

খোশগল্প.কম: আপনি অনেক ইন্ট্রোভাট মানুষ, ইন্ট্রোভাট হওয়াটা কি এক ধরনের দুর্বলতা?

আইরিন: অবশ্যই দুর্বলতা। আমি যদি আমার প্রবলেম, কথাগুলো শেয়ার করতে না পারলাম। তাহলে যে কোন ক্ষেত্রেই আমি পিছিয়ে গেলাম ।

খোশগল্প.কম: আপনার কাছে ভালো থাকার সংজ্ঞাটা কি?

আইরিন: আমি আমার জায়গা থেকে নীচের দিকের মানুষের দিকে তাকাই। তাহলে আপনার আক্ষেপ কম হবে। আর যদি আপনার থেকে উপরের দিকে তাকান তাহলে হয়তো সুখী হওয়া যাবে না।

খোশগল্প.কম: আপনার চশমা পড়ার কারণ কি, অনেক বেশি বই পড়ার কারণ?

আইরিন: না, হঠাৎ করেই ক্লাস টেন থেকে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। বই দেখি না। তারপর ডাক্তারের কাছে গেলাম, ডাক্তার চশমা দিলেন। তারপর থেকে এখন ও ।

খোশগল্প.কম: বই পড়ার উপর কোন ফ্যাসিনেশন আছে?

আইরিন: আছে, হুমায়ুন আহমেদের বইগুলো তো প্রথমেই আছে, তারপর আহসান হাবীবের বই। আর ডিটেকটিভ বই গুলো।

খোশগল্প.কম: বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সদস্যদের  থেকে দেখে দেখেই  ব্যক্তিত্ব তৈরি করে। আপনার ক্ষেত্রে তো আপনার অনুপ্রেরণার ছিল আপনার ভাইয়া, তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব-বোধের জায়গাটা কিভাবে পেয়েছেন?

আইরিন: আমার ২ ভাইয়া ২ রকমের। আমি বড় ভাইয়াকে দেখে শিখি কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ভাইয়া কোন ডিসিশনে একেবারেই ফিক্সড থাকেন। সবকিছুতেই সে ডিসিশন মেকিং এ সে ভালো পারে। আর ছোট ভাইয়া সব কিছুতেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়। সবকিছু পজিটিভ দিক খুঁজে বের করতে পারে।

খোশগল্প.কম: মূল্যবোধের অবক্ষয় বেড়ে যাচ্ছে, এর পিছনে আপনি প্রধান কারণ কি মনে করেন?

আইরিন: অনেক কিছুই। তবে আগে যে খারাপ কিছু হত না ব্যাপারটা এমন না। আগে হয়তো এত টা উঠে আসত না ঘটনা গুলো। আমরা জানতাম না। এখন ও ভালো মানুষ আছে।

খোশগল্প.কম: একটা মানুষের মধ্যে প্রতিযোগীতা নাকি সহযোগীতার প্রবণতা থাকা উচিৎ? 

আইরিন: আমি মনে করি সহযোগিতা।

খোশগল্প.কম: আপনি সমালোচকদের পছন্দ করেন নাকি তোষামোদকারীদের পছন্দ করেন?

আইরিন: অবশ্যই সমালোচকদের, তবে সমালোচনা তো গঠনমূলক হতে হবে।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত