মকিবুর রহমান হিসাম।পড়াশুনা আইন বিষয়ে করলেও কথা বলে জানা গেলো ভবিষ্যতে ছোটখাটো একটা চাকুরী হলেই হবে যা দিয়ে নিজের পরিবারকে সুখে রাখতে পারবেন।অবসরে সময় কাটে টিভি দেখে,ফেসবুকিং করে।সেই ফেসবুক এক্টিভিটি একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক বিবৃতি। সে মনে করেন সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ফেসবুক একটি বিরাট জায়গা জুড়ে রয়েছে এবং এই ভাবেই সে বিভিন্ন রেফারেন্স মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সকলকে জানাতে চান।

আমি যেখানে থাকি এর আশে পাশে কোন বন্ধুর বাড়ি নেই

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 20, 2016 , 5:21 পূর্বাহ্ন

hsm

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন??

হিসাম: আলহামদুলিল্লাহ। আপনি??

খোশগল্প.কম: জি ভালো।কী করছিলেন?

হিসাম: ফেসবুকেই আছি। আপাতত কোন কাজ নেই।

খোশগল্প.কম: পড়াশুনা করছেন কোথায়?

হিসাম: IBAIS University. Department of Law.

খোশগল্প.কম: কোন ইয়ার চলছে??

হিসাম: আমাদের সেমিস্টার সিস্টেম। আমি ১০ম সেমিস্টারে আছি।

খোশগল্প.কম: আর কিছু দিন পর তো তবে উকিল পাড়ায় দেখা যাবে আপনাকে……

হিসাম: অনেস্টলি বলি। বর্তমানে উকিল হওয়ার ইচ্ছা নাই। শুরুতে প্রচন্ড রকম ইচ্ছে ছিলো। ছোট খাটো কোন জব পেলেই লাইফটা কাটিয়ে দিবো।

খোশগল্প.কম: হঠাৎ ইচ্ছার এমন ডাইভার্সন??

হিসাম: অনেকটা অনীহা চলে আসছে। এই আর কি।

খোশগল্প.কম: শুরুতে সব কিছু বাদে আইন বিষয়টি নিয়ে পড়ার ইচ্ছার কারন কী?

হিসাম: আমার SSC এবং HSC এর Background হচ্ছে Humanities। তাই law ছাড়া অন্য কোন বিষয় চয়েজ করতে পারি নাই।

খোশগল্প.কম: এসএসসি এইচএসসি কোথায় পড়েছেন?

হিসাম: SSC: সৈয়দপুর ক্যান্ট বোর্ড হাই স্কুল। HSC: ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সৈয়দপুর।

খোশগল্প.কম: সৈয়দপুরে আপনার বাসা??

হিসাম: না, বাবা আর্মিতে জব করতেন তাই ওখানে ছিলাম। গ্রামের বাড়ি বরিশাল।

খোশগল্প.কম: বাবা আর্মিতে ছিলেন সেই হিসেবে তো তবে অনেক জায়গায় ঘুরতে পেরেছেন……

হিসাম: হুম। ছোট বেলা থেকে কম বেশি অনেক এলাকাতেই যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

খোশগল্প.কম: সেই দিনগুলো কেমন ছিলো যদি বলতেন!!

হিসাম: দিনগুলি ছিলো স্বপ্নের মত। ক্যান্টনমেন্টের ভিতর থাকা চলা। আলাদা ফিলিংস।

খোশগল্প.কম: স্বপ্নের মতো বলতে?

হিসাম: স্বপ্নের মত হচ্ছে নিজেকে অন্য কোথাও আবিস্কার করতাম। বাহিরের জীবনের চেয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরের জীবনকে মনে হত সব চেয়ে উন্নত। সেটা অনেকটা ঠিক, তবে পরে বুঝতে পারলাম ক্যান্টনমেন্টের লাইফটা গরুর খোয়ারের মত। ইচ্ছা মত কিছু করা যেত না। বন্দি একটা জীবন।

খোশগল্প.কম: আর স্কুল কলেজের সময়টা?

হিসাম: খুব মিস করা হয়। বিশেষ করে স্কুল লাইফটি। যখন স্কুলে পড়তাম তখন ভাবতাম কবে কলেজে উঠবো। আর যখন কলেজে উঠলাম তখন ভাবতাম কবে ইউনিভার্সিটিতে পা দিবো। আর এখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে মনে হচ্ছে স্কুল লাইফটাই বেস্ট।

খোশগল্প.কম: কি মিস করা হয় বেশি স্কুল লাইফ নিয়ে??

হিসাম: যেটা সবাই করে। বন্ধুদের সাথে ক্লাস পালিয়ে আড্ডা, ক্লাস,দুস্টামি,সাথে মারামারি, মেয়ে দেখা সব কিছুই বলতে গেলে। সাথে স্যারদেরও।

খোশগল্প.কম: কোন মজার ঘটনা যা শেয়ার করা যায়?

হিসাম: মজার ঘটনা বলতে স্কুলের কাঁঠাল পেরে খাওয়া। কাঁঠাল পাকলে আমরাই চুরি করে লুকিয়ে রাখতাম। পরে ছুটি হলে সবাই মিলে খেতাম। একবার এক স্যারের হাতে ধরা খেয়েছিলাম। তিনি কাঁঠালের বিচি নিবে বলে আর কিছু বলে নাই।

খোশগল্প.কম: মজার তো। ফ্রেন্ড সার্কেল কেমন ছিলো?

হিসাম: আমরা ৭ বন্ধু এক সাথে ঘুরতাম। এটাই একটা গ্রুপ। স্কুলে কোন প্রবলেম হলে আমাদের দিকে আগে আঙ্গুল আসতো।

খোশগল্প.কম: এখন কেমন যায় দিন?

হিসাম: এখন একদম একা। তবে কিছু কিছু বন্ধুর সাথে মোবাইলে কিংবা ফেসবুকে কথা হয়। বেশি কথা হয় স্কুল লাইফ নিয়েই।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটি লাইফের ফ্রেন্ড সার্কেল?

হিসাম: হুম রয়েছে কিছু সংখ্যাক। ওই ক্লাস করতে গেলে হাই হ্যালো। আর ক্লাস শেষে আড্ডা, ব্যস এটুকুই। এছাড়া ওদের সাথে ঘুরা হয় না।

খোশগল্প.কম: এমন দুরত্বের কারন কি কিছু রয়েছে?

হিসাম: হুম কারন আমি যেখানে থাকি এর আশে পাশে কোন বন্ধুর বাড়ি নেই। সবাই দূরে দূরে থাকে।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

হিসাম: খুবই ছোট। বড় কোন স্বপ্ন দেখি না। ছোট খাটো কোন জব করে যাতে খেয়ে পরে বাঁচতে পারি পরিবারের সবাইকে নিয়ে। তবে নিজের একটা বাড়ি থাকবে এটুকু স্বপ্ন দেখতেই পারি।

খোশগল্প.কম: পরিবারে কে কে রয়েছে?

হিসাম: বাবা-মা আর দুই ভাই। ১জন আমার বড় আরেক জন আমার ছোট।

খোশগল্প.কম: অবসরে কি করা হয়?

হিসাম: টিভি দেখা, না হয় ফেসবুকে ঢু মারা হয় বেশি।

খোশগল্প.কম: আপনার ফেসবুকে লেখা গুলো বলতে গেলে একটা ক্রাইটেরিয়া মেইন্টেইন করে,সে ব্যাপারে কিছু বলুন।

হিসাম: আমি তিন ধরনের লেখা পোস্ট করি। ১/ ফান পোস্ট। ২/ আবেগ তাড়িত পোস্ট। ৩/ রাজনৈতিক পোস্ট। কারন অনলাইনে আমি বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করি।

খোশগল্প.কম: রাজনৈতিক পোষ্ট গুলোর কিছু বোধয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাই না?

হিসাম: হুম মুক্তিযুদ্ধ এবং দলের প্রচার নিয়ে যখন যেটা দিতে মনে চায়।

খোশগল্প.কম: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার লেখা গুলো অনেক বর্ননাবহুল। আমরা সবাই কমবেশি যদিও জানি, তারপরো এতো বিশদ জানা হয় না।আপনি জানার পরিধি এতো ব্যাপক কিভাবে?

হিসাম: আমি বই পড়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন রেফারেন্স কালেক্ট করে তারপর সঠিক ইতিহাসটাই লিখার চেস্টা করি। যাতে আমার লেখা পড়ে কেউ ভুল ইতিহাস না শিখে এই আরকি।

খোশগল্প.কম: এই জেনারেশন কি সঠিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা করছে বলে মনে হয়?

হিসাম: সত্যি কথা বলতে ৫০% করছে বাকি ৫০% এর ভিতর ৩০% মুক্তিযুদ্ধের দিবস গুলা পালন করে। বাকি ২০% আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেরর সম্পর্কে অজ্ঞ। সেটা তাদের ভুল না। তারা ছোট বেলা থেকেই ওভাবে না জেনে বড় হইছে।

খোশগল্প.কম: কিন্তু এই চর্চাতো সবার দরকার!!

হিসাম: অবশ্যই দরকার। কারন আমাদের দেশটা আমরা এমনি এমনি পাইনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তাদের জানতে হবে, জানাতে হবে। যারা জানে না তাদের জানানোর দ্বায়িত্ব আমাদের। জানি এতে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে। মানুষের অনেক কটাক্ষ শুনতে হবে। তারপরেও পিছে তাকানোর সুযোগ নাই।

খোশগল্প.কম: ওই কাজটা কিভাবে করা যায় বলে আপনার মনে হয়?

হিসাম: বর্তমানে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম এবং এতে সব ধরনের মানুষেরই আনাগোনা থাকে। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারের চেয়ে বর্তমানে বেস্ট আর হয় না। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক বই রয়েছে বাজারে। সবাইকে সেই বই পড়ার জন্যও উদ্ভুদ্ধ করা যেতে পারে।

খোশগল্প.কম: জি অবশ্যই এটি ভালো উদ্যোগ।আপনার চেষ্টাও কিন্তু প্রশংসনীয়…….

হিসাম: ধন্যবাদ। আরেকটা কথা আমরা যদি নিজ নিজ পরিবার থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে চর্চা করি তাহলে ছোট থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গুলি সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে বেড়ে উঠবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত