প্রাঞ্জল আহমেদ, সেল্ফ স্যাটিসফ্যাকশন থাকার কারণ কি জিজ্ঞেস করতেই আসে এমন উত্তর ,” আমার এক্সপেকটেশন কম সেটা না এক্সপেকটেশন টা লজিক্যাল। আমি আমার যোগ্যতা ও ক্ষমতা অনুযায়ী এইম টা লক্ষ্য করি, যার ফলে আমি খুব একটা হতাশ হই না”।

আমি লিমিট রাখতে জানি

লিখেছেন...admin...জুন 20, 2016 , 5:09 পূর্বাহ্ন

pn

খোশগল্প.কম: মেকানিক্যালের প্রতি কি তোমার ছোটবেলা থেকেই ফ্যাসিনেশন ছিল?

প্রাঞ্জল: ছোটবেলা বলতে ক্লাস ১০ থেকে। ফিজিক্স, ম্যাথম্যাটিকস এর উপর আমার আগ্রহ ছিল। ক্লাস ১০ এর আগে আমার আগ্রহ তৈরী হয় নাই। ক্লাস ১০ এ উঠার পর ভাবলাম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করা যায়। সেখান থেকেই আসা বুয়েটে।

খোশগল্প.কম: ফিজিক্স বা এস্ট্র ফিজিক্স তো তুমি চাইলে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতেও পড়তে পারতা?

প্রাঞ্জল: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য ফ্যামিলি থেকে একটা প্রেসার থাকে। বুয়েট-মেডিকেলে না পড়লে ভালো স্টুডেন্ট এর খ্যাতিটা ধরে রাখা যায় না। এই ভালো স্টুডেন্ট খ্যাতি ধরে রাখতেই হয়তো । ছোটবেলা থেকে আমার রেজাল্ট যা ছিল মানুষ তাতেই আমার কাছ থেকে তা ডিজার্ভ করত।

খোশগল্প.কম: ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার থেকে খ্যাতিমান পেশা কি আর নেই? সেনা অফিসাররাও তো অনেক সম্মান পান!

প্রাঞ্জল: ওরা অনেক সম্মান পায় কিন্তু সে বুয়েট, মেডিকেলে পড়লে ভালো স্টুডেন্ট ছিল এটা প্রমাণ করে।

খোশগল্প.কম: বুয়েটে তোমার ২ বছর কাটছে, তোমার এমন কোন মেমোরিবল ঘটনা?

প্রাঞ্জল: তেমন কোন ঘটনা নেই। তবে প্রতিদিন বাসে করে আসা, ক্লাস করা ইনজয় করি।  ক্লাস শেষ ক্যাফে যাওয়াটা সবচেয়ে বেশি ইনজয় করি।

খোশগল্প.কম: বুয়েটের ক্যাফে নিয়ে তোমার পার্সোনাল মতামত কি?

প্রাঞ্জল: বুয়েটের ক্যাফে জোশ একটা জায়গা, বন্ধুদের সাথে নিয়ে আড্ডা মারতে অনেক মজা। স্পেশালী খাবার দাবার ও ভালো।

খোশগল্প.কম: ক্যাফের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনা যায়, তোমার দিক থেকে কি রকমের অভিযোগ আছে?

প্রাঞ্জল: ক্যাফের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নাই। এমনিতেই আমার কোন অভিযোগ গ্রো করে না। তবে ওয়াই-ফাই টা আর একটু স্ট্রং হলে ভালো হত।

খোশগল্প.কম: স্কুল-কলেজের লাইফের সাথে বুয়েট লাইফের নিশ্চয়ই উত্তরণ ঘটেছে , এর পিছনের প্রকৃতি কি?

প্রাঞ্জল: বুয়েটের লাইফটা অনেক বেশি ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড। কত সিজি পেলে হায়ার স্টাডিজ এর জন্য বাইরে যাওয়া যাবে, এগুলো নিয়ে সবসময় মনের মধ্যে চিন্তা কাজ করে। এই লাইফটা স্কুল-কলেজের থেকে বেশি ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড। এটা আসলে তৈরী হয় মেন্টাল ম্যাচুরিটি থেকে হয় ।

খোশগল্প.কম: স্কুল-কলেজের এমন কোন ঘটনা যা তোমার মেন্টাল ম্যাচুরিটি কে ডেভেলপ করেছে?

প্রাঞ্জল: কোন ঘটনা নেই। তবে ছোট ছোট ব্যাপারগুলোই ম্যাচুরিটি তৈরী করে।

খোশগল্প.কম: তুমি স্কুল-কলেজেও কো কারিকুলার একটিভিতে জড়িত ছিলে না, এখনও নেই। তোমার নিজকে খুব আবদ্ধ মানুষ মনে হয় না? 

প্রাঞ্জল: আসলে আমি টেক্সট বইয়ের মধ্যে আবদ্ধ না। আমি কিন্তু প্রচুর গল্পের বই পড়ি। শেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে সমসাময়িক লেখকদের ও। মিথোলজি নিয়ে আমার বেশ ভালো আগ্রহ আছে।

খোশগল্প.কম: ক্লাব এর একটিভির সঙ্গে তুমি খুব একটা ইনভলভড না, এ কারণে তুমি নিজকে কখনও পিছিয়ে পড়া মানুষ মনে করেছ?  কারণ ক্যারিয়ার রিলেটেড প্রশ্নে সিজিপিএ শুধু ইম্পরট্যান্ট না!

প্রাঞ্জল: ক্লাব একটিভিটি আমার নাই। কিন্তু জব করার থেকে আমার বেশি ভালো লাগে পিএইচডি করা, রিসার্চ করা এইসব। রিসার্চের জায়গা গুলোতে  খুব একটা কো কারিকুলার একটিভিটি দরকার পড়ে না।

খোশগল্প.কম: রিসার্চ করার আগ্রহের কোন কারণ আছে?

প্রাঞ্জল: না, ব্যাপারটা পড়া থেকেই। একটা ব্যাপারে যতবেশি জানা দরকার তার জন্য পড়া লাগবে, আরও বেশি গভীরে যেতে রিসার্চ করতে হবে। ২০২৫ সালের দিকে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর প্লান হচ্ছে। আমিও চাই সেই প্রজেক্টে রিসার্চার হিসাবে কাজ করব।

খোশগল্প.কম: তোমার নিজের কোন আবিষ্কার যা পৃথিবীকে কোন একটা পার্টিকুলার জায়গায় চেঞ্জ আনতে পারবে। তাহলে তুমি কোন আবিষ্কারের কথা বলবে?

প্রাঞ্জল: আমি আসলে ঐভাবে ভাবি নি। মানুষের চিরন্তন আগ্রহের ব্যাপারগুলো আমি একটা পার্ট হয়ে থাকতে চাই।

খোশগল্প.কম: পরিবারের প্রতি তোমার রেসপন্সিবিলিটি কি?

প্রাঞ্জল: আমি পরিবারের বড় ছেলে,আমার একটা ছোট ভাই আছে। অবশ্যই আমার পরিবারের প্রতি রেসপন্সিবিলিটি আছে। একটা পরিবারের বড় ছেলে হলে পড়ালেখা শেষ করে ভালো একটা চাকরিতে জয়েন করে পরিবারের দেখাশোনা করা।

খোশগল্প.কম: তোমাকে যদি সুযোগ দেওয়া হয় ১০ বছর পিছনে ফিরে যাওয়ার আবার ১০ বছর ভবিষ্যৎ এ চলে যাওয়ার তাহলে তুমি কোথায় যাবে, অতীতে নাকি ভবিষ্যতে?

প্রাঞ্জল: ফিউচারে যাব, কারণ আমার অতীতে খুব একটা চেঞ্জ নাই। আই এম স্যাটিসফাইড উইথ মাই পাস্ট।

খোশগল্প.কম: তোমার সেল্ফ স্যাটিসফ্যাকশন থাকার কারণ কি, তোমার এক্সপেকটেশন কম নাকি?

প্রাঞ্জল: এক্সপেকটেশন কম সেটা না এক্সপেকটেশন টা লজিক্যাল। আমি আমার যোগ্যতা ও ক্ষমতা অনুযায়ী এইম টা লক্ষ্য করি, যার ফলে আমি খুব একটা হতাশ হই না।

খোশগল্প.কম: তুমি কি বলবে, তোমার মধ্যে আবেগ কি খুব কম?

প্রাঞ্জল: আবেগ খুব কম সেটা না, আমি লিমিট রাখতে জানি। কোথায় আমাকে দেখাতে হবে বা না দেখাতে হইবে টা আমি জানি ।

খোশগল্প.কম: অন্য মানুষের সাথে অভিনয় অতি সাধারণ ঘটনা,  তুমি কি নিজের সাথে ও অভিনয় কর?

প্রাঞ্জল: না, আমি নিজের সাথে কখনোই অভিনয় করি না। মানুষের সাথে তো অভিনয় করাই তো লাগে।

খোশগল্প.কম: তোমার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কি?

প্রাঞ্জল: আমি খুব সহজেই মানুষ কে বিশ্বাস করে ফেলি,  এটার জন্য স্কুল-কলেজ লাইফে অনেক সমস্যায় পড়ছি। এই সাইটটা একটু উন্নতি করা উচিৎ।

খোশগল্প.কম: তুমি নিজেই বল তুমি লজিক্যাল চিন্তা কর আবার বল যে তুমি মানুষকে বিশ্বাস করে ফেল।জিনিসটা কি সেল্ফ কনট্রাডিকটরি হয়ে গেল না?

প্রাঞ্জল: হ্যাঁ এটা হয়। আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষের মধ্যে ই এমন থাকে। যাদের প্রতিনিয়ত এগুলোর সাথে যুদ্ধ করতে হয়।  যেহেতু যুদ্ধ করতে হয় তাহলে কিছু করার নাই।

খোশগল্প.কম: তোমাকে দেখলে অন্তর্মুখী মনে হয়। তোমার কি মনে হয় এক্সট্রোভার্ট হইলেএমন কিছু এচিভ করা সম্ভব সেখানে অন্তর্মুখী হওয়ার কারণে সেটা একটা অন্তরায়?

প্রাঞ্জল: অন্তর্মুখী হলে একধরনের সমস্যা হয়। এটা বোঝা উচিৎ কার কিভাবে চলা উচিৎ। অন্তর্মুখী মানে এই না যে এক্সট্রোভার্ট যা এচিভ করতে পারবে তা অন্তর্মুখী পারবে না।অন্তর্মুখী মানুষজন নিজের মোট করে নিজের রুটিন করে চলে  অন্তর্মুখী ও নিজকে ভিন্ন ভাবে প্রকাশ করতে পারবে।

 খোশগল্প.কম: সাফল্য এবং সুখ কেন পরস্পরের সমানুপাতিক হয় না, এ ব্যাপারে তোমার কোন বিশ্লেষণ আছে?

প্রাঞ্জল: এটা ঠিক, অনেক কিছু এচিভ করার পরও মানুষ সুখী হয় না। সত্যি বলতে মানুষ কি কোন সময়  পুরোপুরি সুখী হতে পারে?   হয় না। দুঃখ কাজ করবেই। যেটা হয়, সুখটা তখন দুখটাকে অতিক্রম করে। এই জন্যই মানুষ পরিশ্রম করে।

খোশগল্প.কম: তোমার কাছে সুখী হওয়ায় ক্রাইটেরিয়া কি?

প্রাঞ্জল: তুমি যদি সৎ থাক, যেটা তুমি এচিভ কর সেটা তুমি যদি ১০০%  তুমি নিজেই কর তাহলে।  আমার কাছে এচিভ করার মানেই সুখ। নিজে নিজে এচিভ করার মধ্যেই সুখ।

খোশগল্প.কম: মানুষ নিজের উপর সৎ কিভাবে থাকে?

প্রাঞ্জল: এটা আসলে ভ্যালুজ এর উপর নির্ভর করে, মূল্যবোধের উপর ডিপেন্ড করে। এটা গ্রো করে বই পড়তে পড়তে। মনে কর তুমি একটা সিটি তে পাশেরটা দেখে দেখে ২০ এ ২০ পাইলা। কিন্তু তুমি নিজে নিজেই পড়ালেখা করে ২০ এ ১৬ পেলা এটাই কিন্তু যে ২০ পাইছে তার থেকে বেশি শান্তিদায়ক।

খোশগল্প.কম: কোন লেখকের জীবন দর্শন বা আশেপাশের কোন মানুষের জীবন দর্শন তোমাকে প্রভাবিত করেছে?

প্রাঞ্জল: আমার আম্মু। সব ব্যাপারে সৃষ্টিকর্তার উপর দৃঢ় থাকে, সৎ থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে । এই ব্যাপারগুলো একটু বোঝা দরকার। আর এই সব ব্যাপারগুলো আমি আম্মুর কাছ থেকে শিখেছি।

খোশগল্প.কম: শান্তিপূর্ণ লাইফ, তুমি কি সবসময় শান্তিপূর্ণ লাইফ কাটিয়েছ?

প্রাঞ্জল: হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত এমন অশান্তির কিছুই হয় নাই।  এচিভমেন্ট যত ভালো থাকবে তত সুখী থাকব।

খোশগল্প.কম: এচিভমেন্ট ব্যাপারটা  তো আপেক্ষিক?

প্রাঞ্জল: হ্যাঁ, আমি যা চাই তাই  তা পাওয়াই আমার কাছে এচিভমেন্ট। হয়তো অন্য অনেকেই এটাকে এচিভমেন্ট বলবে না।

খোশগল্প.কম: যেই এচিভমেন্ট তোমাকে সুখ দিচ্ছে, কিন্তু সবাই তোমার কাছ থেকে আরও বেশি ডিজার্ভ করে, তখন?

প্রাঞ্জল: আমি বুঝতে পারি, তখন আমার এচিভমেন্ট বাড়ানোর চেষ্টা করি যাতে মানুষটা আমাকে নিয়ে স্যাটিসফ্যাকশনে থাকে।

খোশগল্প.কম: তোমার সবকিছু মিলিয়ে তোমার ফিউচার প্লান কি?

প্রাঞ্জল: পিএইচডি বা এমএস করার জন্য বাইরেই যাব। পিএইচডি বা রিসার্চের জন্য খুব ভালো জায়গা নেই, তাই হয়তো দেশের বাইরে যেতে হবে।

খোশগল্প.কম: তুমি বোধহয় ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলে, বুয়েট ছাড়ার পর বুয়েটকে তুমি কিভাবে মিস করবে?  মোটামুটি ৪ বছরের ২ বছর শেষ। তুমি রিয়েল লাইফে অনেক লজিক্যাল, সেক্ষেত্রে এ ব্যাপারগুলোকে কিভাবে ফেস করবে?

প্রাঞ্জল: সময় হয়তো সবকিছু বলে দিবে। প্রথম দিকে মিস করব। ক্যাফে বসে আড্ডাটাও মিস করব। সিটি, ল্যাব এগুলো মিস করব, শেষের দিকে এসে এগুলো আর প্যারা মনে হবে না।

খোশগল্প.কম: তুমি মানুষ হিসেবে নিজকে কিভাবে মূল্যায়ন কর?

প্রাঞ্জল: ৫০%  ভালো ৫০%  স্বার্থপর।স্বার্থপর হতে হয় আসলে এচিভমেন্ট আনলক করতে গিয়ে।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত