মিহাল রাহমান, কাজ করছেন অন্যরকম ইলেকট্রনিক্স এর ব্রান্ডিং এন্ড মার্কেটিং এ। নিজকে ভুল গুলো কে তৃতীয় চোখে দেখে নিজের ভুল গুলো কে শুধরান নিজেই, নিজকে অন্য কারো সাথে তুলনা করেন চান না, নিজকে নিজের সাথেই তুলনা করে নিজের টার্গেট এবং ভবিষ্যৎ প্লান সফল করতে চান ।

আমি হ্যাপি মানেই আমি সাকসেসফুল

লিখেছেন...admin...মার্চ 2, 2016 , 3:49 পূর্বাহ্ন

mehal

খোশগল্প.কম: শীত কেমন উপভোগ করলেন ?

মিহালঃ আমরা যারা সবে পড়ালেখা শেষ করেছি,তাদের মধ্যে এখনও ক্যাম্পাসের ব্যাপার গুলো বেশি ফিল হয় । শীতকালে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হচ্ছে শীতের সকাল ।আমি সাধারনত অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠি ।কিন্তু শীতকালে আমি খুব ভোরে উঠতাম শুভ কুয়াশা ঢাকা ভর দেখার জন্য । আর আমাদের ক্যাম্পাসে তো জোশ লাগে ।আমি ছোটবেলা থেকেই ঘরমুখো মানুষ অথচ শীতের সকাল দেখতে বের হয়ে যেতাম ।

খোশগল্প.কম: ঘরমুখো মানুষ বলতে কি একেবারেই বাইরের জগতের সাথে বিচ্ছিন্নতা ?

মিহালঃ আমি ছোটবেলায় খুব দুষ্ট ছিলাম,কিন্তু ইউনিভার্সিটি তে উঠার পর পুরো ঘরমুখো হয়ে গেছি।এখনও ঘরমুখো আছি ! আমাকে কেউ যদি বলে ,তোমাকে ১ হাজার টাকাসহ ঘুরতে দিব আর একটা ল্যাপটপ ইন্টারনেট সহ দেওয়া হল ,তুমি কোনটা নিবে? আমি অবশ্যই ল্যাপটপ নিব ,আমার বাইরে ঘুরতে ভালো লাগে না এত একটা ,সে দিক থেকে ঘরমুখো।কাজ ছাড়া বের হতে ভালো লাগত না ।নিজের একটা জগত ছিল সেটা নিয়েই থাকতাম ।

খোশগল্প.কম: শৈশব কাল হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে সোনালি সময় ,শৈশব কাল থেকে কিছু গল্প বলেন ?

মিহাল: ছোটবেলার আমি আর এখনকার আমির মধ্যে অনেক ব্যবধান আছে । আমার ছোটবেলার কোন গল্পই আমার মনে নাই, সব কিছুই মা আর বাবার কাছ থেকে শোনা । ক্লাস সেভেন পর্যন্ত আমার বাবা একটা ডায়েরিতে সব কিছু টুকে রাখতেন , আমি ডায়েরি পড়ে  অনেক কিছু জানছি । আমি আসলে ছোটবেলায় অন্য ১০ তা বাচ্চার থেকে দুষ্ট ছিলাম, আমার মা যখন রান্না করত আমাকে তখন খাটের পায়ার সাথে বেঁধে রাখতেন । আমার বই ছিঁড়ার খুব নেশা ছিল তখন । আমার ছোট চাচারা তখন বি।সি।এস এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । আমি তাদের সব বই ছিড়ে ফেলতাম । আমি তেলাপোকাকে তখন খুব ভয় পেতাম , তো চাচারা তেলাপোকা মেরে দরজার সামনে রেখে দিত, যার ফলে আমি আর যেতাম না ভয়ে । ছোটবেলায় আমি একটু ব্যাক বেঞ্চার ছিলাম ।অনেক ক্রিকেট খেলতাম, এমনও হইছে আমার পরীক্ষা ১২ টায় কিন্তু আমি ক্রিকেট খেলতে চলে আসছি । বাবা মা অন্যদিকে খুঁজতে বের হয়ে যেতেন । এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে যেতাম ।

খোশগল্প.কম:ডায়েরীর প্রসঙ্গে আসি, আঙ্কেল কি আগ থেকেই ডায়েরী লিখতেন নাকি আপনার জন্যই লিখলেন ?

মিহাল:আব্বা অনেক আগ থেকেই ডায়েরী লিখতেন, সবকিছু লিখে রাখতেন। আর আমার জন্মের পর আমার শৈশবের কথা লিখে রাখার জন্য বাবা ডায়েরী লিখতেন । বাবা যদি না লিখতেন আমি হয়তো আমার শৈশবের অনেক কিছুই জানতাম না। আমারা এই জায়গাটায় নিজকে ভাগ্যবান মনে হয়। আমার।

খোশগল্প.কম: ক্রিকেট থেকে সরে আসলেন কেন ?

মিহাল: আমি তখন আমার পরিবারকে বুঝাতে পারি নাই যে ক্রিকেট খেলে ক্যারিয়ার হয়, সফল হওয়া যায় ।এখনকার বাবা-মা রা সবাই চাই তার ছেলে প্রাণ গোপালের মত ডাক্তার হোক, খুব কম বাব-মাই চায় ছেলে ক্রিকেটার হোক। নানা কারণে অবশেষে ক্রিকেট থেকে সরে আসা হল ।

খোশগল্প.কম: সফলতাকে কিভাবে দেখেন ?

মিহাল: শুধুমাত্র হ্যাপিনেস । আমি হ্যাপি মানেই আমি সাকসেসফুল ।

খোশগল্প.কম: তাহলে হ্যাপিনেস এর সংজ্ঞা কি ?

মিহাল: সোজা কথা আমি প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোন অপরাধবোধ নিয়ে ঘুমাতে যেতে চাই না। আমি আমার নিজকে যেখানে দেখতে চাই সেখানে দেখতে চাওয়াটাই সুখ। এতে আমার কি থাকল, কত টাকা হল এসব আসলে মুখ্য না ।

খোশগল্প.কম: দিনশেষে নিজকে কিভাবে মাপেন ?

মিহাল: আমি নিজকে অন্য কারো সাথে তুলনা করি না , আমি নিজকে নিজের সাথেই তুলনা করি। আমি হিসাব করি গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমি কত টা এগিয়ে আসলাম, কতখানি শিখলাম ।

খোশগল্প.কম: হতাশা হলে, কিভাবে অনুপ্রেরিত হন ?

মিহাল: সেলফ মোটিভেশন, আমি নিজকে নিজে মোটিভেটেড করি। একটা গল্প বলি, আমি একটা কারণে হতাশ ছিলাম । আমার এক বন্ধু আসে আমাকে বলেছিল, যারা হতাশা থেকে ফিরে আসতে পারে তারাই উদাহরণ হয়ে থাকে, সব সফলতা উদাহরণ হয়ে থাকে না ।এই কথাটা আমাকে অনেক বেশী অনুপ্রেরিত করে এখনও।

খোশগল্প.কম: কর্মজীবন কিভাবে শুরু করছেন ?

মিহাল: আমার তো মাত্রই শেষ হল পড়ালেখা, পুলিশে কাজ করতে চাই। বি সি এস এর প্রিপারেশন নিতে নিতে এম বি এ টা শেষ করে ফেলতে চাই ।

খোশগল্প.কম: প্রকৌশলে পড়ে শেষ করে প্রশাসনে যাচ্ছেন কেন ?

মিহাল: প্রকৌশল মানুষ কে শিখায় কিভাবে ক্যালকুলেটিভ ভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়।

খোশগল্প.কম: চিন্তার রাজ্যে প্রাধান্য পায় কি ?

মিহাল: নিজের টার্গেট এবং নিজের ভবিষ্যৎ প্লান কিভাবে সফল করব, সেটাই খুব বেশি প্রাধান্য পায় ।

খোশগল্প.কম: নিজের সবচেয়ে বড় সফলতা কি এখন পর্যন্ত ?

মিহাল: উদ্ভাসের টিচার হওয়া, নিজে বুয়েটে এ না পড়ে অজস্র বুয়েটিয়ান তৈরি করা ।

খোশগল্প.কম: নিজের ভুল গুলো কে কিভাবে শুধরাতে চেষ্টা করেন ?

মিহাল: নিজের ভুল গুলো কে তৃতীয় চোখে দেখে নিজের ভুল গুলো কে শুধরানো

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত