“ফুটবল ম্যানিয়াক্স অব বাংলাদেশ” যা বীর দর্পে এগিয়ে চলছে ৮০ হাজার ফলোয়ার নিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র ফুটবল ভিত্তিক ওয়েবসাইট হিসেবে। কিছু তরুন শুরু করেছিলো এই উদ্দ্যোগ। তাদের মধ্যেই একজন প্রিন্স মুহাম্মদ সজল। তার সাথে কথা বলতে গেলেই বোঝা যায় তার নামের প্রিন্স অংশটুকুর সার্থকতা। পড়াশুনার পাশাপাশি কোচিং এ ক্লাস নেন,লেখালেখি করেন এবং দলসহ বা দলছাড়া ভাবে বেরিয়ে পড়েন গন্তব্যহীন পথে। তার সম্পর্কে তাকেই জিজ্ঞেস করা হলে খানিক ভেবাচেকা খেয়ে বললেন “আই এম এ মাস্টার অব স্লগ অভার”

আসলে আমার ইচ্ছা ছিল ইবনে বতুতা হওয়ার

লিখেছেন...admin...মে 14, 2016 , 1:56 অপরাহ্ন

sj

খোশগল্প.কম: পড়াশুনা করছেন কোথায়?

সজল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট।

খোশগল্প.কম: আপনাদের একাডেমীক পড়াশুনা সম্পর্কে যদি একটু জানাতেন..

সজল: আসলে পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিষয়টা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরী।এটা একটা মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট হওয়াতে আমাদের ইকনোমিক্স,সোশিওলজি,এনথ্রোপলজি থেকে শুরু করে ফিজিওলজি অ্যানাটমি সবই পড়তে হয়।

খোশগল্প.কম: নটরডেমে পড়াশুনা করেছেন।সেই দুই বছর একজন নটরডেমিয়ানের কাছে অনেক কিছু যা জানি।সেই ক্ষেত্রে কিছু বলুন..

সজল: নটরডেমে পড়ার অভিজ্ঞতাটা ছিল সত্যিকার অর্থেই অনন্য অনুভুতি।একই সাথে এত মজা এবং এত স্ট্রেস একসাথে অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।দুঃখজনক ভাবে আমি টেস্ট পরীক্ষাতে ফেল করেছিলাম।নটরডেম ছাড়া অন্য কোন টপ র‌্যাংকিং কলেজ হলে এইচএসসিতে অ্যালাউ করতো কি না জানি না।আমি আমার কলেজের কাছে কৃতজ্ঞ,একটা অসাধারণ পরিবেশ,আর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেবার জন্য।

খোশগল্প.কম: নটরডেম নিয়ে তো সবারই কম বেশি অনেক মজার অভিজ্ঞতা থাকে,তার মাঝ থেকে দুই একটা কি শেয়ার করা যায়?

সজল: ক্লাসে এক ছেলের পিঠে রেগুলার বাংলাদেশের মানচিত্র আকতাম।মাঝে মাঝে “পাত্রী চাই”,টাইপ বিজ্ঞাপন লিখে দিতাম,কখনও আবার লিখে দিতাম বড়সড় কোন বানী চিরন্তনী। আসলে সত্যিকারের মজার যেসব অভিজ্ঞতা তা বলা যাচ্ছে না।ব্লক খেতে পারি।

খোশগল্প.কম: যে ছেলের পিঠে লিখতেন সে কিছু বলতো না?

সজল: অসহায় আত্মসমর্পন করেছিল।কয়েকবার স্যারের কাছে নালিশ দিয়েছে,লাভ হয় নাই।

খোশগল্প.কম: বুয়েট মেডিকেল ভার্সিটিতে আপনাদের কলেজের এখনও একক আধিপত্য….

সজল: এটার কারন এই না যে নটরডেমে সেরা শিক্ষকরা পড়ান।এটার কারন হল নটরডেমে সেরা শিক্ষার্থীদের নেয়া হয়। নাগরদোলা ডিগ্রি কলেজে পড়লেও এদের বেশিরভাগ সেরা ভার্সিটিতেই টিকবে।

খোশগল্প.কম: কিছুটা ভিন্নতা তো রয়েছেই তবুও…

সজল: যেটা আছে সেটা হচ্ছে একটা থিম।আপনি কোন কিছুই সহজে পাবেন না।আপনাকে খেটে অর্জন করে নিতে হবে। তবে মানসিক চাপটা অনেক বেশি।অনেকেই সেটা নিতে পারে না।

খোশগল্প.কম: মানসিক চাপ বলতে?

সজল: আপনি ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন,মাঝখানে দুই ঘন্টার বেশি ফ্রি টাইম পাবেন না।তারপর বাসায় ফিরে আর কিছু ভাল লাগে না। এরমধ্যে কিছু ব্যতিক্রম থাকে।যারা এই চাপ এড়াতে পুরোপুরি পড়ালেখা ছেড়ে দেয়।আমি তাদের একজন।

খোশগল্প.কম: তাহলে তো এডমিশনের সময় বেশ ধকল পেরুতে হয়েছে…

সজল: আই অ্যাম মাস্টার অফ স্লগ ওভার। অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য ছিল।

খোশগল্প.কম: ভালো বলেছেন। হলে থাকা হয়?

সজল: গড়ে সপ্তাহে দুই দিন

খোশগল্প.কম: অবসরে কি করেন?

সজল: পুরোটা জুড়ে পড়াশোনা আর ঘোরাঘুরি। লেখার জন্য পড়তে হয় প্রচুর।

খোশগল্প.কম: লেখার ব্যাপারটায় আসছি তার আগে শুনি ঘুরাঘুরির ব্যাপারটা…

সজল: আসলে আমার ইচ্ছা ছিল ইবনে বতুতা হওয়ার।ব্যালেন্স সংকটের কারনে সেটা সম্ভব না।তাই সামর্থ্য ও সময়ের মধ্যে হলে বের হয়ে পড়ি,দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ২৪টাতে যেতে পেরেছি এখন পর্যন্ত

খোশগল্প.কম: সফরসঙ্গী তবে কারা?নাকি একাই বের হয়ে যাওয়া হয়?

সজল: ভার্সিটির ফ্রেণ্ডরা,স্কুল-কলেজের ফ্রেণ্ডরা…মাঝে মাঝে একাই বের হই।

খোশগল্প.কম: নেক্সট তবে প্ল্যান কোথায়?

সজল: সিলেট এর হিল ট্রাক্স।

খোশগল্প.কম: লেখালেখি নিয়ে কিছু বলছিলেন…..

সজল:  কন্টিনিউ করা হয় নাই।এখন আবার শুরু করবো ভাবছি।

খোশগল্প.কম: সোশাল সাইটে নোট আকারে আপনার লেখা গুলো ভালোই চোখে পরে,সেগুলো নিয়ে কিছু বলুন

সজল: ওগুলো এক ক্ষুদ্ধ তরুনের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর সমাজ পর্যবেক্ষনের কিছু প্রতিচ্ছবি ছাড়া কিছুই না।

খোশগল্প.কম: সমাজব্যবস্থার প্রায় প্রতিটা অংশই হিপোক্রেসিতে ভরা।যার ফলে সবচাইতে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিশু কিশোর ও তরুণদের।

সজল:সমাজ আমাদের সত্য বলতে বলে,কিন্তু শেখায় ডাবল স্ট্যাণ্ডার্ড,কারন সত্য হজম করার ক্ষমতা এই সমাজের নাই।

খোশগল্প.কম:এই পুরো দায়ভার একা সমাজের?

সজল: রাষ্ট্র,সমাজ,পরিবার,ব্যক্তি,সবার দায় আছে।

খোশগল্প.কম: তবে?

সজল: হিপোক্রেসির শুরুটা সমাজ-রাষ্ট্রই করে।

খোশগল্প.কম: কোচিং এর সাথে রিলেটেড সম্ভবত আপনি?

সজল: তা তো বটেই।

খোশগল্প.কম: কোন কোচিং?ক্লাস নেন না পরিচালনায়?

সজল: কোচিংয়ে মূলত শিক্ষকতা করি।পরিচালনায় নেই।

খোশগল্প.কম: কোচিং এর এই শিক্ষকতা নিয়ে কিছু মতান্তর প্রায়ই দেখা যায়।সেক্ষেত্রে কিছু বলুন…

সজল: ওরা নিজেরা করে চুরি বাটপারি আর কথা বলতে আসে কোচিং নিয়ে।এই সিস্টেম তো ওরাই তৈরি করেছে।

খোশগল্প.কম: তবে কোচিং সেন্টারগুলোও বেশ কিছুটা ব্যাবসা নির্ভর।তাই নয় কি?

সজল: দুনিয়াটাই যেখানে ব্যবসা নির্ভর সেখানে কোচিংয়ে ব্যবসা হলেই দোষ?

খোশগল্প.কম: তা না অবশ্যই। হয়তো কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন তকমা গায়ে লাগছে।

সজল: দিনশেষে কোচিং একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই।আইডিয়াল স্কুলের মত।  একটা কোচিং তো ব্যবসা করার জন্যই চালানো হয়।কিন্তু তার ব্যবসার স্বার্থেই তাকে কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে হয়,যেটা শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল কলেজ থেকে পায় না।কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে এই গ্যাপটা দূর করতে হবে। অ্যাডমিশন কোচিংয়ের ব্যাপারটা আমি মনে করি ভিন্ন।মানুষ কিন্তু অ্যাডমিশনের জন্য স্যাট,আইইএলটিএস,টোফেল করনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে।তাহলে আমাদের ভার্সিটিগুলোতে ভর্তির জন্য কোচিং করলে সমস্যা কি?

খোশগল্প.কম: জি তা অবশ্যই। তো ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি আপাতত?

সজল: ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনার্স শেষ করে দেশের বাইরে হায়ার স্টাডির জন্য যাওয়া।

খোশগল্প.কম: চাকরী বাকরী করে থিতু হওয়ার ইচ্ছে কি নিজের ডিপার্টমেন্ট নিয়েই?

সজল: অবশ্যই।আমাদের সাবজেক্ট রিলেটেড চমৎকার জব সেক্টর আছে এবং তারচাইতে বড় কথা আমি আমার সাবজেক্টকে এনজয় করি। পাশাপাশি লেখালেখিতে আসার পরিকল্পনা আছে।আগে টুকটাক অভিনয় করতাম কিন্তু ফুটবল ওয়েবসাইটের কারনে ওদিকটায় আর যাওয়া হবে না মনে হয়।

খোশগল্প.কম: ফুটবল ওয়েবসাইট?

সজল: বাংলাদেশের প্রথম পুর্নাঙ্গ ফুটবল ওয়েবসাইটটি আমাদের হাতে গড়া। “ফুটবল ম্যানিয়াক্স অফ বাংলাদেশ।”

খোশগল্প.কম: ব্যাপারটির বিস্তৃতি কেমন?

সজল: আসলে ওয়েবসাইটের বয়স মাত্র ছয় মাস,তাই এখনও ভিজিটরের সংখ্যা খুব বেশি না,তাছাড়া বিষয়টা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পুর্ন নতুন।নতুন কিছু শুরু করাটা একটু কঠিনই বটে। কিন্তু আমাদের ফেসবুক গ্রুপের মেম্বার ৮০ হাজারেরও বেশি,তাদের ফিডব্যাক চমৎকার,আমাদের ঢাকার বাইরে ছয়টি কেন্দ্র আছে,তাই খুব দ্রুতই আমাদের সাইটটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে আশা করছি।

খোশগল্প.কম: ঢাকার বাহিরে কোথায়?

সজল: মার্চ মাসে চাটগাতে গেট টুগেদার হয়ে গেল,অক্টোবরে সিলেট-রাজশাহীতে গেট টুগেদার হল,রংপুরে শীঘ্রই হতে যাচ্ছে,কুমিল্লা-ফেনী ও বরিশালেও একটা করে বেস আছে আমাদের।খুব শীঘ্রই প্রতি বিভাগে একটা করে বেস আমরা ঢাকা থেকে ফিক্সড করে দেব যারা ম্যানিয়াকের ঐ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার কারনে তা একটু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আমরা চাই না ফুটবল চর্চা করতে গিয়ে ছোটদের পড়াশোনা নষ্ট হোক।

খোশগল্প.কম: “ফুটবল ম্যানিয়াক্স অফ বাংলাদেশ” এর এক্টিভিটি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

সজল: আমাদের ওয়েবসাইট একটি পুর্নাঙ্গ বাংলা ওয়েবসাইট যেখানে ফুটবল রিলেটেড সকল ডেইলি আপডেট,ইউরোপিয়ান ফুটবল লীগ গুলো বিশেষ করে স্প্যানিশ লীগ,ইংলিশ লীগ,ফ্রেন্ঞ লীগ,সিরি আ,বুন্দেসলীগার সব আপডেট পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ,ন্যাশনাল অ্যাণ্ড ইন্টারন্যাশনাল সব ফুটবল ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের আপডেট দেই,বাংলাদেশে একমাত্র আমাদেরই আছে একটি লাইভস্কোর অপশন যেখানে ঢুকে আপনি যে কোন ম্যাচের লাইভ ষ্কোর কত তা জানতে পারবেন যে কোন সময়। ফুটবল ব্লগিংকে ম্যানিয়াক্স অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে প্রায় এক বছর হল।আমাদের সবচাইতে বড় সম্পদ আমাদের বিশাল লেখক কমিউনিটি যাদের হাতে গড়ে উঠেছে আমাদের দুশোর বেশি ডক,যার প্রতিটি আর্টিকেল চমৎকার একেকটা ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের উদাহরন।

খোশগল্প.কম: আপনি এটির সাথে শুরু থেকেই জড়িত?

সজল: হ্যাঁ।গ্রুপ তৈরির আইডিয়াটা ছিল আমার,কিন্তু এখানে অন্যদের অবদান আমার চাইতে বেশি।শোভন ভাই,অভি ভাই,রাকিব ভাই,মাসুম ভাইরা অনেক খেটেছেন শুন্য থেকে গ্রুপটাকে ৮০ হাজারে আনতে। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে অভি ভাই ও জেসন ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমটাই মূখ্য।আমি মূলত লিডিং আর্টিকলগুলো লিখি।তবে সেজন্য আরও একঝাক লেখক আছে আমাদের।

খোশগল্প.কম: ওয়েবসাইট নিয়ে প্ল্যান কি তবে?

সজল: গত দুই তারিখ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সাথে কথা হয়েছে আমাদের।উনি এ মাসে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।দেশে ফিরলেই আমরা এ ব্যাপারে চুড়ান্ত আলোচনার জন্য বসবো ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি কিংবদন্তী ফুটলার কায়সার হামিদ,আমিনুলরাও আছেন আমাদের সাথে।

খোশগল্প.কম: বাহ তবে তো আলোর পথ খানিক সামনেই…..

সজল: ম্যানিয়াক্স একদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে ইনশাআল্লাহ। সেই দিন খুব দুরে নয়।

খোশগল্প.কম: অবশ্যই। সর্বশেষে নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।

সজল: আমি একজন আগাগোড়া স্বাধীনচেতা মানুষ।নিজের আইনে চলে অভ্যস্ত। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি,আমাদের সমাজ ছেলেদের টাকা বানানো মেশিনের বাইরে কিছু ভাবে না। সমাজের এই ভাবনার সাথে আমরা ছোট বয়স থেকেই জড়িয়ে যাই। টাকা বানানোর মেশিন হওয়ার এই প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে স্রোতের প্রতিকূলে দাড়িয়ে নিজের জীবনকে সাজানোটাই আমার লক্ষ্য। পরকালে বিশ্বাসী হলেও ইহকাল যে একটাই,এটা আমার মাথায় সবসময়েই থাকে,তাই একেবারে লাগামহীন জীবনযাপন না করে যতটা উপভোগ করা যায় ততটাই করতে চেষ্টা করি। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুর্ববর্তী প্রজন্মের রেখে যাওয়া মানুষদের পৃথিবীটার চাইতে একটু সুন্দর একটা পৃথিবী যদি রেখে যেতে পারি,নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।

 

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত