আণিকা ফারিহা তাহসিন, পড়ছেন ইডেন কলেজে গণিত বিভাগে।পরিবার বলতে মা-বাবা-ভাই এর বাইরে আর কিছু নেই বলে মনে করেন।IELTS, ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ক কোর্স, বিসিএস এরকম বহুবিধ পরিকল্পনা নিয়ে সামনে হাঁটছেন।

আসলে আমি আমার মত, কাউকে অনুকরণ করার ইচ্ছা আমার নাই

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 11:16 পূর্বাহ্ন

anik

খোশগল্প.কম: ব্যস্ত আছেন কী নিয়ে?

ফারিহা: আপাতো পড়ালেখা করছি, সামনে ফাইনাল এক্সাম।আর অনেক প্লান সব আসলে পরীক্ষার পরে।

 

খোশগল্প.কম: কী প্লান?

ফারিহা: এখন যেহেতু গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে যাবে, বিসিএস দেয়ার চিন্তা আছে, বিসিএসের জন্য পরিকল্পনা ছিলো না, যেহেতু মা-বাবা, আন্টি চায়।জবে ঢুঁকে পড়বো।জবের জন্য ট্রাই করবো, বিসিএস টা করলে দেখা যাবে সব গুলা চাকরীর জন্য আমার প্রিপারেশন নেয়া হয়ে যাবে।এই জন্য বিসিএস টা করবো।আমার তো বিসিএস এর চিন্তা আসছে কিছুদিন হইলো, আমার অনেক আগে থেকে একটা ইচ্ছা আছে ফ্যাশন ডিজাইনের এর উপরে একটা কোর্স করা, ঐটা করতে চাই আর পাশাপাশি ছোট একটা জব হলে খুব ভালো হয়, সেখান থেকে যদি আমার সময় থাকে, সবকিছু যদি অনুকূলে থাকে তাহলে ফ্যাশনের কোর্সটা করবো।দেখা যাক কি হয়।

 

খোশগল্প.কম: আপনার বায়োগ্রাফীতে ছিলো আপনি দেশের বাইরে চলে যাবেন……

ফারিহা: হ্যাঁ, আমার খুব ইচ্ছা দেশের বাইরে যাওয়ার, কিন্তু সেক্ষেত্রে যাওয়ার খরচসহ একটা মোটা অংকের টাকা আমাকে বেয়ার করতে হবে।তারপর একটা প্রিপারেশন এর ব্যাপার আছে।আমি যদি IELTS করি তাহলে আমার ইন্টেনশন থাকবে যাতে আমার হয়ে যায়।তারপরে স্কোর এর একটা ব্যাপার আছে, এই জন্যেই গ্রাজুয়েশনের পর পরই চাকরী করতে চাই যাতে ম্যানেজ হয়ে যায়।আর ফ্যামিলির একটা সাপোর্ট ও দরকার, আমার বাবা-মা চাচ্ছে না মেয়ে বিদেশ যাক, এখন দেখি ঐ ভাবে সব প্রিপেয়ারড হইতে হবে, সময়ও লাগবে।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ভাই এবং আপনি দুজনের মধ্যে কথা বলা, এপেয়ারেন্স অনেক মিল আছে, এইটা কী প্রভাব না অবেচেতনভাবে অনুকরণ?

ফারিহা: জানিনা, আসলে আমি আমার মত, কাউকে অনুকরণ করার ইচ্ছা আমার নাই।মানে হচ্ছে কী থাকতে থাকতে মনে হয় ঐ রকম হয়ে যায়।একই বাসায় থাকতে থাকতে হয়ে যায়, এখন তো ওরকম সময়ই হয় না ওর সাথে কথা বলার, অনেকে আশ্চর্য হয়ে যায় ওর সাথে আমার দেখাই হয় না শুনে।ওর ব্যাপারে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বলতে হয় জেনে এসে জানাবো।ইভেন আমি এটাও জানি না ও এখন কোন সেমিস্টারে, জানি যে শেষের দিকে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি আপনার বায়োগ্রাফীতে নিজের অনেক সমালোচনা করছেন-এইটা কেন?

ফারিহা: কিছু জিনিস আসলে বয়সের সাথে সাথে চেইঞ্জ হয়ে যায়, আমি আগে কোন কিছু দেখলে চুপ থাকতে পারতাম না, এইটা আবার রাদিব পারে, যেইটা আমার কাছে বিরক্ত লাগে আমি প্রকাশ করে ফেলি।সিচুয়েশনের কারণে, বয়সের কারণে এখন কিছুটা রিজার্ভ থাকি, আমার যে সমস্যা ছিলো যখন যেটা বলার দরকার, যে জায়গায় বলার দরকার সেই জিনিসটা আমার আসলে হয় না।পরে গিয়ে মনে হয় এইটা বলা উচিৎ হয় নি, বা এইটা না বলে এইটা বললে ভালো হইতো।এগুলা নিয়ে সবসময় চিন্তা করি।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।আপনি অনেক দিন থেকেই নিজে কিছু করতে চান, তো গ্রাজুয়েশন এ থাকাকালীন কোন কিছু করার কথা ভাবেন নাই?

ফারিহা: আসলে তখন স্টুডেন্ট পড়াতাম তো, তো অতটা জরুরী মনে হয় নাই।আমি ভাবছিলাম যে ফ্যাশনে কোর্স করবো।আমার মা’র খুব ইচ্ছা ছিলো আমরা দুই ভাই-বোনের একজন ল’তে পড়বো।আমার সমস্যা আমি কোন কিছুতে স্থির থাকতে পারি না।শুধু ফ্যাশন, আর ইঞ্জিনিয়ারিং এর দুইটার শখ ছিলো ছোটবেলা থেকে।তো ভাবছিলাম যে পড়াচ্ছি দেখি এগুলার পাশাপাশি দেখি কী হয়।পারিপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে সব কিছু মিলায়া আসলে হয় নাই।বাট এখন দেখি রাদিবের ও ইচ্ছা, আমারো, একজন IELTS করে একজন গিয়ে বাকীদের ও নিয়ে যাবো।দেশে আত্নীয়-স্বজন, ফ্রেন্ড আছে বাট দেশে থাকতেই হবে এমন কোন পিছুটান আসলে নাই।

 

খোশগল্প.কম: মেয়ে হিসেবে পরিবারে কখনো বিয়ে, চাকরী এগুলো নিয়ে সীমাবদ্ধতায় পড়েন নি? কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন?

ফারিহা: আপাতো আমার সামনে ওরকম বলা হয় না।আর আমার মা চান বা আমার নানুর সাপোর্ট যেটা যে  গ্রাজুয়েশন শেষ করার আগে বিয়ে দিতে না।তাদের কথা পড়া-লেখা করবো, চাকরী-বাকরি করবো তারপরে অন্য কথা।তারপরে মেয়ের মা যেহেতু একটা টেনশন থেকেই যায়।বাট ওভার অল বলা যায় এরকম হলে আমাকে জানায় না।তারপরেও এরকম একটা প্রস্তাব আসছিলো, আমাকে বায়োডাটা দিতে বলছিলো, আমি দেই নাই।আমার মনে হইছে একবার দিলে আবারো দিতে হবে বা পার্সোনাল জিনিসটা অনেকের হাতে চলে যাবে।

 

 

খোশগল্প.কম: আপনার ব্যাপারে আপনার পরিবারের চিন্তা-ভাবনা কী?

ফারিহা: নিজের ভালো-মন্দ আমার চাইতে অন্যরা বেশী বলতে পারবে।আমার মনে হয় আমি বেশী আবেগ-প্রবণ, আর অল্পে খুব কষ্ট লাগে, দেখা যায় খুব অল্পেই আমার চোখে পানি চলে আসে, পানির ব্যাপারটা আগের চাইতে এখন কমে গেছে।চোখের পানির কারণে অনেক বড় বড় জায়গায় ছাড় ও পেয়ে গেছি হা হা হা।ওন কোচিং এ ভর্তি হতে গেছি, ফ্রেন্ড হতে পারছে, আমি পারি নাই দেখা যায় ওখানে কেঁদে দিছি।পরে দেখা গেলো স্যার বললো আচ্ছা তুমি পরের দিন থেকে আসো।তখন তো বাচ্চা ছিলাম।আর আমি মানুষটা মিলেমিশে থাকতে চাই।আর কে আমাকে ভুল বুঝুক এইটা আমার পছন্দ না।আমার কথা হচ্ছে কারো সাথে প্রবলেম হলো তুমি ডিরেক্ট আমাকে বলো।আর আমি শর্ট টেম্পার।মা বলে যে আমার মেধা নাকি ভালো, যদি ইউটিলাইজ করতে পারতাম তাহলে অনেক ভালো জায়গায় থাকতে পারতাম।আর বাবা প্রায়ই বলে সঙ্গের একটা প্রভাব আছে।আমার একটা ফ্রেন্ড ছিলো যে ভালো বাট ওর সাথে সারাদিন যেহেতু থাকা হতো দেখা যেতো যে ও যা করছে তাই করছি।তো মনে হয় ঐ টাইমটায় ওর সাথে থাকা উচিৎ হয় নাই।এই জন্য রেজাল্ট খারাপ হইছে।অবশ্য এটা নিয়ে আমার আফসোস নাই কারণ আমি পড়ি নাই, তাই আমার রেজাল্ট ভালো হয় নাই।রেজাল্ট আরো খারাপ হইতে পারতো সেই তুলনায় ভালোই হইছে।বাট ইন্টারটা নিয়ে আফসোস আছে।আমি আমার জীবনে সবথেকে বেশী পড়ে, প্রিপারেশন নিয়ে যে পরীক্ষাটা দিছি সেইটা হচ্ছে ইন্টার, পরীক্ষাও ভালোই দিছিলাম বাট ভাগ্য বলে একটা ব্যাপার আছে।আর এডমিশনের ব্যাপার হচ্ছে আমার ইচ্ছা ছিলো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার, আর আমার স্যার বলছিলেন যে ‘তুমি যদি ভালো বা পছন্দমত কোন সাবজেক্টে পড়তে চাও অবশ্যই তোমাকে ঢাকার বাইরে যাইতে হবে, ঢাকায় থেকে পড়ার চিন্তা করলে হবে না’।বাট ভর্তি হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমার বাবা বললো যে ‘যেইভাবে পড়ার দরকার পড়ো, যেইভাবে প্রিপারেশন নেয়ার দরকার নাও, কিন্তু তোমাকে ঢাকার ভেতরে পরীক্ষা দিতে হবে, ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দিতে পারবা না’ তখনই আমি মেন্টালি অনেক হার্ট হই।আমার গোলটাই নষ্ট হয়ে গেলো।আমার যদি সুযোগ থাকতো তাহলে হয়তোবা আমি ঢাকার বাইরে ঐভাবে চেষ্টা করতাম।

 

খোশগল্প.কম: এখন কী ভাবেন?

ফারিহা: এখন যে জিনিসটা আমার মনে হয় বয়সের সাথে সাথে তো মানুষের ম্যাচিউরিটি বাড়ে আমার মনে হয় কমতেছে।এখন আমার ইচ্ছা আছে M.BA করবো।আমার মামা বলছে বায়িং হাউসে শাইন করতে পারবো, কথা বলার প্রবণতা বেশি তো, তো ওখানে নাকি এইভাবে শাইন করা যাবে।উনি বলছেন সিভি দিতে।তো সিভি দেয়ার পর যদি হয়ে যায়, তাহলে তখন তো ফ্যাশনেএর কোর্স টা করব।তারপর হচ্ছে নিজের জন্য কী করবো জানি না, কিন্তু মা’র শখ গুলো পূরণ করার, নিজেদের জীবনটা গুছায়া আনা।আমার চিন্তা আসলে আমার পরিবার কেন্দ্রিক, আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত পরিবার বলতে আমার মাথায় আসলে আমাদের চারজনের কথাই মনে আসে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি ফেইসবুকে মাঝে মাঝে লেখালেখি করেন, বাট সেগুলো খুবই দূর্বোধ্য থাকে, এটা কেন করেন? ইচ্ছে করেই?

ফারিহা: আমার আসলে ইউনিক জিনিস পছন্দ, আমার মনে হয় যে আমি কথা গুছায়া বলতে আরি না, আমার ইচ্ছা করে যে কোন কিছু ইউনিক ভাবে প্রেজেন্ট করতে।তারপরে চিন্তা করি যে আমি এত পেঁচাই যে মানুষ আমার কথা বুঝবে না, তাই চিন্তা করি মানুষ বুঝুক না বুঝুক আমি আমার অনুভূতি গুলো শর্টে করে লিখার চেষ্টা করি।

 

খোশগল্প.কম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেবার জন্যে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত