“একের রক্তে অন্যের জীবন

রক্তই হোক আত্মার বাঁধন।”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে এক ভলান্টিয়ার অর্গানাইজেশন। হাজারো স্বদ্যোগী তরুণ নিজেদের মনুষ্যত্বের তাড়নায় এগিয়ে আসছে বিভিন্ন ব্রাঞ্চের ইউনিটগুলোতে। তাদেরই একজন নূর মোহাম্মদ হৃদয়। ক্যাম্পাসে পা রাখার প্রথম থেকেই উদ্যমী এ তরুন সাথে ছিলেন এবং এখন অধিষ্ঠিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিতে।পড়াশুনা,ক্যারিয়ার নিয়ে বাস্তববাদী এই তরুণের আর এক নাম রয়েছে “স্বপ্নের রূপকার”, হাজারো কষ্ট উপেক্ষা করে নিজ এলাকায় যান কোচিং এ ক্লাস নিতে। এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে ওখানে কেন যান,সুযোগ তো এখানেও রয়েছে-এই প্রশ্ন করতেই উত্তর দিলেন “ওখানে ওই ছেলেমেয়ে গুলো যে এই যুদ্ধ পার করতে ক্যাপাবল আমি শুধু সেইদিকে নজর দেই এবং এটি কাজ করে”

আসলে আমি নিজেকে চিনি, আমি কী চাই সেটা জানি

লিখেছেন...admin...জুন 12, 2016 , 5:26 পূর্বাহ্ন

hy

খোশগল্প.কম: বাঁধনের সাথে জড়িত কবে থেকে?

হৃদয়: 2012 সালের শেষ থেকে প্রায় চার বছর।

খোশগল্প.কম: তার আগে জেনে নেই আপনি বাঁধনে কোন পদে প্রতিনিধিত্ব করছেন?

হৃদয়: আমি বর্তমানে বাঁধন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ইউনিটের জোনাল প্রতিনিধি , বাঁধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি এবং সর্বোপরি বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ্-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছি।

খোশগল্প.কম: অনেক দায়িত্ব তবে……

হৃদয়: হ্যাঁ।

খোশগল্প.কম: সামাল দিতে সমস্যা হয় না?

হৃদয়: প্রথম দিকে একটু সমস্যা হত, তাছাড়া যে কোন বিষয়ে উপদেষ্টা বড় ভাইদের পরামর্শ নেই আর আমাদের অনেক উৎসাহী কর্মী আছে যাদের মাঝে দায়িত্ব বন্টন করে দেই। আমি শুধু সমন্বয়ের কাজ করি।

খোশগল্প.কম: বাঁধনের কাজ নিয়ে আমরা সবাই কম বেশি জানি হয়তো, তারপরও আপনার কাছে শুনতে চাচ্ছি….

হৃদয়: বাঁধনের কাজ শুরু হয় মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে । 1997 সালের 24 অক্টোবর শহীদুল্লাহ হলের একজন উদ্যমী ছাত্র শাহিদুল ইসলাম রিপন ভাইয়ের হাত ধরে । বাঁধন একটি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন যা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত । বাঁধনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল “বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিজের রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে” বর্তমানে বাঁধন 34 টি জেলার 46 টি স্নাতক ও স্নাতকত্তোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত।

খোশগল্প.কম: কাজ কি আসলেই সব ব্রাঞ্চে সেভাবে করা হচ্ছে যা আপনারা চাচ্ছিলেন?

হৃদয়: আসলে বাঁধনে ব্রাঞ্চ বলা হয় না, এখানে পরিবার, ইউনিট ও জোনের মাধ্যমে কাজ হয়। আর আমরা বলতে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নাকি কেন্দ্রীয় পরিষদকে বুঝানো হচ্ছে? এখানে সবাই মানবিক দিক থেকে কাজ করে।আর কিছু ভাল মানুষ সব জায়গায় থাকে। তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বাঁধনকে এগিয়ে নিতে। বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করলে আমাদের পজিটিভ দিকগুলোই চোখে পড়ে। তবে কিছু সমস্যা থাকবেই। আমরা কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে চেষ্টা করছি সমাধান করার জন্য।

খোশগল্প.কম: হাসপাতালগুলোতেও কি আপনারা যোগাযোগের মাধ্যমে ব্লাড দেয়ার ব্যবস্থা করেন?

হৃদয়: আসলে হাসপাতালে ওভাবে যোগাযোগ করা হয় না । হাসপাতালগুলোতে ব্লাড প্রয়োজন হলে বাঁধনে যোগাযোগ করতে বলা হয় । আমাদের কাছে রোগীর লোকেরা আসলে আমাদের ডোনার লিস্ট থেকে ডোনারদের সাথে যোগাযোগ করে ব্লাড ম্যানেজ করার চেষ্টা করি।

খোশগল্প.কম: ডোনারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক?

হৃদয়: হ্যাঁ। আগে মানুষ ব্লাড দিতে চাইত না কিন্তু এখন এই প্রবণতাটা কমে গেছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষার সময়, রমজান মাস ও ছুটির সময় ব্লাড ম্যানেজ কঠিন হয়ে যায়।

খোশগল্প.কম: সচেতনতার অভাব ব্যাপারটিও কি জড়িত নয়?

হৃদয়: আমার মনে হয় কিছুটা জড়িত, তবে মানুষের একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও জড়িত যে” পরীক্ষার সময় ব্লাড দিলে যদি অসুস্থ হয়ে যাই ”

খোশগল্প.কম: ব্যাপারগুলো যদি আপনার দিক থেকে কিছুটা ক্লিয়ার করে দিতেন…

হৃদয়: রমজানে দিনের বেলা ব্লাড দেয়া যায় না কিন্তু সন্ধার পর চাইলে ব্লাড দিতে পারবে কিন্তু অনেকে মনে করে রোজা থাকতে সমস্যা হবে।

খোশগল্প.কম: অনেক জায়গায় ব্লাড নেয়ার ব্যাপারে যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নেয়া দরকার তা কিন্তু মেনে চলা হয় না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি আপনাদের উপযুক্ততা প্রমাণ করছেন?

হৃদয়: এটা অনেকেই বিশ্বাস করবে না এখন পিজি বা ঢাকা মেডিকেল বা ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের আধুনিকায়নের সাথে বাঁধন পরোক্ষ ভাবে জড়িত। আমরা বার বার জানাতাম ডোনারের ব্লাড দানে অসুবিধার কথা। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়েছে। সর্বোপরি ডোনারবান্ধব একটা ট্রানফিউশন সেন্টার গড়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

খোশগল্প.কম: পদক্ষেপে সফলতা কি আসছে?

হৃদয়: পুরোপুরি আসে নাই। আর আমরা ডোনারদের কথা বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের 2য় তলায় আন্তর্জাতিক মানের ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার নির্মান করতে যাচ্ছি।

খোশগল্প.কম: ভালো পদক্ষেপ অবশ্যই।আপনাদের অফিসটি কোথায়?

হৃদয়: আমাদের ঢা বি জোন অফিসটি ও বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের অস্থায়ী অফিসটি টিএসসি তে অবস্থিত । প্রতিটি হলে বাঁধনের অফিস আছে। তাছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বাঁধনের অফিস আছে।

খোশগল্প.কম: এতো গেলো সংঠনের কথা, এছাড়াও তো আপনি একটি কোচিং এর সাথে জড়িত!

হৃদয়: হ্যাঁ, এখন তো অনেক কাজ মোবাইলে করা যায় । আর আমি সমন্বয়ের কাজ করি এগুলো খুব সহজে মোবাইলে করা যায়।

খোশগল্প.কম: ucc তে ক্লাস নেন কতদিন যাবত?

হৃদয়: আমি প্রথম বর্ষ থেকে। আর আমি ক্লাস নেয়ার সময় আলাদা করে বের করি।

খোশগল্প.কম: ঢাকাতেই?

হৃদয়: না। শুধু বগুড়া শাখায়।

খোশগল্প.কম: নিজের একাডেমিক সেক্টরে হ্যাম্পার হয় না?

হৃদয়: আসলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ার চাপ টা কম, পরীক্ষার আগে দুই একদিন পড়লেই ভাল রেজাল্ট করা যায়। আর আমার Dept এর রেজাল্টও ভাল আছে।

খোশগল্প.কম: তবে তো বেশ ভালোই। অনেকেই তো টিউশনি প্রেফার করে, তো সেখানে আপনি এতদূর যেয়ে ক্লাস নেয়ার ব্যাপারটা?

হৃদয়: আসলে আমি কোচিং বাদে অন্য সময় টিউশনি করি । আর কোচিং টা সিজোনাল। এখানে কম সময়ে ভাল আয় করা যায়।

খোশগল্প.কম: মফস্বলের ছাত্ররা কম চান্স পায় এটাই বক্তব্য সবার। সেক্ষেত্রে আপনাদের পদক্ষেপ কি?

হৃদয়: মফস্বলের ছাত্রদের motivation ও আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে। আমি মূলত কাজ করি এই দিকটায়। শুধু Ucc তে না আমি যার সাথে কথা বলি তাকেই motivate করার চেষ্টা করি। আমাদের যে স্টুডেমট কোয়ালিটি বেটার না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু তারা প্রোপার নার্চারিং পায়না।

খোশগল্প.কম: কাজ কি হয় সেখানে?

হৃদয়: সবাই তো চান্স পায় না; এটা depend করে Quality উপর । অনেকের Quality থাকে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস থাকে না, আমি সেই জায়গায় জোর দিই; এবং এটা ভাল কাজ দিছে। তারা একটা শক্তি পায় হয়তো। জেনে খুশি হবেন আমাদের ব্রাঞ্চ থেকেও এখন অনেকেই চান্স পাচ্ছে, তাদের মেরিট পজিশনও সামনের দিকে থাকে।

খোশগল্প.কম: ভবিষ্যতে টিচিং প্রফেশনের ইচ্ছা আছে?

হৃদয়: না। টিচিং এ ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা নাই।

খোশগল্প.কম: তবে?

হৃদয়: আমি Accounting এ প্রফেশনাল ডিগ্রি নিতে ইচ্ছুক এবং এখানেই ক্যারিয়ার গড়তে চাই।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা কেমন কেটেছে আপনার?

হৃদয়: আমি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত গ্রামে লেখাপড়া করছি । তারপর উপজেলা শহরে আসি। ছোটবেলা থেকেই বাবা মা শাসনে রাখত, তবে আমার পছন্দ কে প্রাধান্য দিত। আমার বাবা মা science পড়াতে চাইছিলো, কিন্তু আমি ব্যবসায় নিয়ে পড়ি।

খোশগল্প.কম: বাবা মার এই চাওয়া সবাইকে ঘিরেই থাকে কমবেশি,তার কারণ কী বলে মনে করেন?

হৃদয়: নিজেদের অপূর্ণ ইচ্ছাকে নিজের ছেলে মেয়েদের মাধ্যমে পূর্ণ করার একটা ব্যর্থ প্রয়াস।

খোশগল্প.কম: তো তখন কমার্স নিয়ে পড়ার ডিসিশন কেন নিলেন?

হৃদয়: আসলে আমি নিজেকে চিনি, আমি কী চাই সেটা জানি; আমার Science ভাল লাগে না। অনেকের সাথে কথা বলে ব্যবসায় সম্পর্কে জানলাম, পরে ডিসিশন নিলাম এটার যোগ্য আমি।

খোশগল্প.কম: “যোগ্য” “অযোগ্য” ব্যাপারগুলো কিছুটা সময় নির্ভর ব্যাপার নয়?

হৃদয়: হ্যাঁ, তবে সেই সময় আমি লেখাপড়ার বিষয়ে ততটা সিরিয়াস ছিলাম না আর এখানে লেখাপড়ার চাপটাও কম। তাছাড়া ব্যবসায় স্টুডেন্ট দের জব মার্কেট ভাল আছে, চলছে।

খোশগল্প.কম: পড়াশুনা কি শেষের সীমানায়?

হৃদয়: না,কেবল শুরু;  MBA করছি। এরপর 3-4 বছর CA করতে সময় লাগবে।

খোশগল্প.কম: সি এ কি ম্যান্ডাটরি?

হৃদয়: আসলে বাজারে BBA- MBA অনেক আছে, সবার থেকে একটু আলাদা হতে হবে, নিজেকে ভাল জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

খোশগল্প.কম: নিজেকে সব মিলিয়ে দশে কত দিবেন?

হৃদয়: ৬

খোশগল্প.কম: কেনো?

হৃদয়: এখনো অনেক কিছু শেখার আছে জানার আছে। নিজের অনেক দুর্বলতা আছে, সেগুলো কাটিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হতে হবে।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত