একটা মানুষের জীবনে প্যাশনই সব। শুধু সেই প্যাশনকে ঘিরেই কাজ করে যাচ্ছেন, কর্পোরেট লাইফে নিজের পরিচিত জায়গা ছেড়ে।বলছিলাম শাহেদের কথা। এটিএনে অনন্ত জলিলের “ট্যালেন্ট হান্ট” রিয়েলিটি শোতে পৌঁছে গেছেন সেরা চারে।অভিনয়কে নিয়েই থাকতে চান কারন প্যাশনের উপর কিছু নাই,থাকতে পারেনা। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির খড়া কাটাতে চাওয়া এই তরুন আজ রয়েছেন আমাদের সাথে।বললেন তার কথা।

আসলে প্যাশনের ক্ষেত্রে কোন যুক্তি খাটে না

লিখেছেন...admin...মার্চ 1, 2016 , 5:23 পূর্বাহ্ন

shahed

খোশগল্প.কম: আচ্ছা কথার শুরুতেই জানতে চাই এই যে মডেলিং বা এই সব কিছুর সাথে কাজ করছেন, এটার শুরুটা আসলে কিভাবে? যেমন অনেকেই একটা প্ল্যাটফরম পায় বা কোন লিংক।আপনার?

শাহেদ: আমি আসলে বলব আমার ইচ্ছা ছিলো। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই আমার এই দিকের-অভিনয় রিলেটেড কাজগুলো ভালো লাগত। যেমন অনেক ফ্রেন্ডরাই আমার সাথের যারা কলেজে মানে নটরডেমে থাকতে আবৃত্তি, বিতর্ক,ছবি আকা এই রকম কাজ গুলো করত আমাকে এগুলো কেন জানি টানতো না। আরো নটরডেম নাট্যদলে এক বড় ভাই ছিল, উনার কাজ দেখতে ভালো লাগতো। তখন পর্যন্ত আমার এইসব শুধু ভালো লাগাই ছিলো,তখনও শুরু করিনি। তারপর ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে আমার কিছু ছবি আমার এক ফ্রেন্ডের পিসিতে ছিলো, তো সেই ফ্রেন্ডের এক নতুন রুমমেট আসে যে কিনা বিজ্ঞাপন বানাতো। সেই ভাইয়ের নাম মেহেদী ভাই। সে আমার ছবিগুলো দেখে আমাকে তার সাথে দেখা করতে বলে।আমি দেখা করি এবং সে বলে সামনে তার একটা বিজ্ঞাপনের কাজ আছে আমি ইনটারেস্টেড কিনা। এই অফারটা আমি মোটামুটি লুফে নিলাম বলতে পারেন, শুধু এটা ভেবে যে যা ভালো লাগে আমি সেটা করার সুযোগ পাচ্ছি। এইতো এই থেকেই শুরু।

খোশগল্প.কম: টিভিসি টা কিসের ছিলো মানে কোন প্রোডাক্টের?

শাহেদ: ওটা ছিলো এলিটের শীতকালীন একটি প্রডাক্ট ক্রাকার এর।

খোশগল্প.কম: এখন কি নিয়ে বিজি আছেন?

শাহেদ: আমি এখন একটা রিয়েলিটি শোতে পার্টিসিপেন্ট। ওখানেই সময় দিতে হচ্ছে।

খোশগল্প.কম: কোন রিয়েলিটি শো?

শাহেদ: এটা হচ্ছে ট্যালেন্ট হান্ট। এখানে অনন্ত জলিল তার আপকামিং মুভির জন্য সব সেক্টরেই এক্টর এক্ট্রেস নিচ্ছেন।

খোশগল্প.কম: এই শো টার পারপাসটা যদি একটু বলতেন।

শাহেদ: ব্যাপার হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি তে কিন্তু নায়ক নায়িকা এই রোলগুলোর যে গ্রহনযোগ্যতা পায় সেটা কিন্তু অন্য সাইড ক্যারেক্টার গুলো তেমন পায় না। যেমন মা,বাবা,ভাই,ভাবী এই রোলগুলো কিন্তু অনেক ইম্পর্টেন্ট একটা মুভির জন্য। কিন্তু একজন নায়ক বা নায়িকা এই সাইডগুলোতে অভিনয় করতে চায় না ,ধারনাটা এমন থাকে আমি একজন হিরো,আমি কেনো অন্য কাজগুলো করব! তো এখান থেকেই আসলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী সংকট শুরু হয়। তো এই ব্যাপার গুলো থেকে বের হতেই অনন্ত জলিল এই রিয়েলিটি শোয়ের আয়োজন করে। যেখানে বিভিন্ন বয়স,বিভিন্ন ক্যারেক্টার এর অভিনেতা,অভিনেত্রীদের খুঁজে বের করা হয়।

খোশগল্প.কম: এই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল কবে? আপনি এখন সেরা চারে যতদূর শুনেছিলাম।

শাহেদ: প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল গত বছর ডিসেম্বরে। হ্যা আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সেরা চারের একজন।

খোশগল্প.কম: তো এখানে রেজিষ্ট্রেশন কি জেনে শুনেই? বা কনফিডেন্ট ছিলেন?

শাহেদ: সত্যি বলতে আমি একদমই কনফিডেন্ট ছিলাম না,একদমই না। কারন এর আগে আমি আরেকটা রিয়েলিটি শোতে গিয়েছিলাম ওখানে আমি একশোর ভিতরেও আসতে পারিনি। তার আগেই বাদ পড়ে গিয়েছিলাম। তো ওইখানে বাদ পড়ার পর আমার ধারনাও ছিলোনা আমি এত ভালো করতে পারবো।

খোশগল্প.কম: গ্রুমিং তো হয়েছে নিশ্চয়ই, যেহেতু একটা রিয়েলিটি শো। গ্রুমিং টা কেমন ছিলো?

শাহেদ: গ্রুমিংটা আসলে অনেক ইন্টারেস্টিং ছিলো, কারন এর আগে তো কোন অফিসিয়াল গ্রুমিং এর অভিজ্ঞতা ছিলো না। আমাদের গ্রুমিং যারা করেছিলেন আমি বলবো তারা অনেক প্রমিনেন্ট ছিলো, যেমন বাকার বকুল ভাই। এখানে একজন ছেলে বা মেয়ের যাবতীয় জিনিসগুলোর খুঁটিনাটি দেখা হয়। দাঁড়ানোর স্টাইল থেকে শুরু করে,হাঁটা-চলা,কথা বলা,কিভাবে বলবে,কতটুকু বলবে সবকিছু এখানে শিখানো হয়। তো বাকার বকুল ভাই প্রত্যেককে হাতে ধরে শিখিয়েছেন। মানুষের কন্সেন্ট্রেশন গ্রাব করার একটা ব্যাপার আছেনা?আমি বলবো আমাদের গ্রুমাররা সেটা প্রপারলি পেরেছে। আর আমি অনেক কিছু শিখতে পারছি আসলে।

খোশগল্প.কম: তো এখানে মানে আপনাদের মধ্য থেকে কতজন কে নেয়া হবে?

শাহেদ: এটা আসলে স্ক্রীপ্টের ডিমান্ড অনুযায়ী। ধরুন ভিলেন বেশি লাগলে ওই জায়গায় বেশি নিবে, তবে একটা সাইড অনন্ত জলিল ডিসক্লোজ করে দিসে যে নায়ক নায়িকা স্ক্রীপ্টের দরকার অনুযায়ী দুজন করে চারজন নেয়া হবে।

খোশগল্প.কম: “অনন্ত জলিল” উনি সবসময় আমাদের কাছে পর্দার ওপারের মানুষ,তার সাথে তো দেখা হয়েছে; তো সেই ফিলিংস টা কেমন?

শাহেদ: মানুষ হিসেবে এই মানুষ এক কথায় অসাধারন। উনি অনেক ভালো। এজন্য বললাম উনি যা বলে তাই করে,এবং তার প্রত্যেকটা কাজে সততার একটা ব্যাপার আছে। আর ইন্ডাস্ট্রি তে একটা নরমাল ব্যাপার ছেলে বা মেয়েদের ক্ষেত্রে তা হলো হ্যারেসমেন্ট। এই ব্যাপারটা তার সাথে কাজ করার সময় একদমই নাই। তিনি নিজেই আমাদের তার পিএসের নাম্বার দিয়েছেন আর বলেছেন যদি কোথাও মনে হয় তোমাদের যে ইথিক্সের সাথে যাচ্ছে না শুধু আমার পিএসকে একটা ফোন দিবা। এই স্টেটমেন্ট থেকেও আসলে বুঝা যায়।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা একটা ব্যাপার জানা হয়নি, আপনাদের কম্পিটিটর কতজন ছিলো?

শাহেদ: প্রথমে কম্পিটিটর সব মিলিয়ে ছিলো ৩লাখ৬৫ হাজার জন। এখানে বিভাগীয় একটা বাছাই হয় সেখানে সবার মধ্য থেকে এরাউন্ড এক হাজার জন বাছাই করা হয় পরে ন্যাশনাল রাউন্ডের বাছাই এর পর সেই এমাউন্ট হয়ে যায় চারশো। পরে ধাপে ধাপে গ্রুমিং হতো আবার সেই স্টেজ পারফর্মেন্স হয়ে বাদ যেতো এইভাবে আল্টিমেটলি সেভেন্টি হয়; পরে একটা ফাইনাল গ্রুমিং এর ব্যবস্থা করা হয় পরে, ওখানে ওমিট করে আনা হয় চল্লিশে। পরে ওদের একটা প্ল্যান থাকে। তাহল এই চল্লিশজন নিয়ে একটা আউটডোর শ্যূটিং এর ব্যবস্থা করবে। মানে স্ক্রীন বেইসড একেকজন কে দেখা। এদের নিয়ে পরে চারটা বা পাচটা শর্টফিল্ম করা হয় মানে পুরো মুভির মতো লাইক সেখানে নাচ,গান একশন সব ছিলো।পরে ওখান থেকে মানে স্ক্রীনের সবকিছু দেখে বাদ দিয়ে পঁয়ত্রিশ জন নেয়া হয়।

খোশগল্প.কম: এই পঁয়ত্রিশ জনের মধ্যে টোটালি নেয়া হবে কতজন?

শাহেদ: এখন পর্যন্ত জানি পঁচিশ জন সবমিলিয়ে মুভি দ্যা স্পাই তে কাজ করার সুযোগ পাবে।

খোশগল্প.কম: আপনাদের মুভির সাথেই হয়তো আরো অনেক মুভি রিলিজ হবে।কী মনে হয় কম্পিট করতে পারবেন?

শাহেদ: আমি আসলে কাজের কোয়ালিটিতে বিলিভ করি।এটা সবাই জানি যে অনন্ত জলিলের স্ক্রীন কোয়ালিটি নিয়ে কারো সন্দেহ করার কিছু নাই।আর এই মুভিতে যেই আর্টিস্টরা আছে তারা কিন্তু অনেক লং প্রসেস বা গ্রুমিং এর মধ্য দিয়ে হয়তো তার কাজের জায়গাটায় যাবে। আরো অনন্ত জলিলের সবচেয়ে ভালো ব্যাপার যেটা তিনি কোয়ালিটির সাথে আপোষহীন।

খোশগল্প.কম: আপনি পড়াশুনা কোথায় করছেন?

শাহেদ: আমি ঢাকা ভার্সিটিতে বিবিএ তে পড়ছি।

খোশগল্প.কম: আপনি অনেক ইজিলি একটা কর্পোরেট লাইফ লিড করতে পারতেন যেটা অনেকেই চায়। তো এতো সুন্দর একটা অপরচুনিটি রেখে এদিকে যাচ্ছেন; সেটা বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে?

শাহেদ: আসলে প্যাশনের ক্ষেত্রে কোন যুক্তি খাটে না। আমার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে,আমাকে যদি কেউ ওয়ার্ল্ড ব্যাংকেও জব দেয় আমি করবো না। ব্যাপারটা সিম্পল।

খোশগল্প.কম: আইডল মানা হয় কাকে? বা কাদের অভিনয় ভালো লাগে নায়ক নায়িকা মিলিয়ে?

শাহেদ: নায়ক হিসেবে বলতে গেলে সালমান শাহ, আর এখনকার মধ্যে আরিফীন শুভ।। নায়িকা হিসেবে অপর্না ঘোষ। তাকে হয়তো নায়িকা হিসেবে কেউ এডমিট করে না।

খোশগল্প.কম: যেকারনেই হোক আমাদের বাংলা সিনেমা গুলো দর্শক আকর্ষন ধরে রাখতে পারছে না হিন্দী বা ইংলিশ মুভির পাশাপাশি। এই ব্যাপারে কিছু বলবেন?

শাহেদ: এখানে অনেক গুলো কাণন আছে। আমাদের এনাফ হল নাই। কিছুদিন আগেও হল ছিলো সবমিলিয়ে ৭০০ এর কাছাকাছি, এখন সেখানে মাত্র তিনশ,এটা সত্যি কথা আমরা ভালো মুভি দিতে পারছি না। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাজেটের প্লাস মার্কেটিং এর। আর ইংলিশ,হিন্দী মুভিগুলো টেলিকাষ্টের জন্য কিছু চ্যানেলই আছে যারা র‍্যান্ডম তাদের মুভিগুলোই প্রোমোশন এর কাজ করছে। তবে এখন ব্যাপার গুলো চেঞ্জ হচ্ছে, যেমন আমি অমিতাভ রেজা ভাইয়ের আয়নাবাজির কথা বলব, রাজ ভাইয়ের সম্রাট, মানে ওইগুলো যারা নতুন আসছে ইভেন এডুকেটেড মেকার। আরো একটা বিষয় হচ্ছে যখন আনএডুকেটেড মেকার আর এডুকেটেড ভিউয়ার হচ্ছে তখনই কিন্তু ক্ল্যাশটা হচ্ছে।

খোশগল্প.কম: আপনি অনেক ইজিলি একটা লিঙ্ক পেয়েছেন কিন্তু অনেকেই আছে যারা হয়তো আসলেই চায় এদিকটায় কিছু করতে। তাদের ব্যাপারে কিছু বলুন।

শাহেদ: আমি বিশ্বাস করি নিজের প্লাটফর্ম নিজেকে ক্রিয়েট করে নিতে হয়। আমি স্বপ্ন দেখে বসে থাকলাম আর স্বপ্ন পূরন হবে তা নয়। ভুল পথে পা বাড়ানো যাবে না আর যাইহোক।অনেকেই হয়তো প্রসিডিউর জানে না তাদের ক্ষেত্রে বলবো ওয়েলনোন কোন ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে কিছু ছবি তুলিয়ে রাখা, কারন এই জায়গায় ছবিই কিন্তু চাবি।আমাদের দেশের কিছু এড মেকিং হাউস আছে, এটা কিন্তু নেটে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়। সেখানে ছবি সাবমিট করে ওয়েট করতে হবে। কারণ তারা কিন্ত রোল অনুযায়ী এবং সেই সাথে পোর্টফোলিও ম্যাচ করে কিন্তু ডাক দেয়। সিস্টেমিক ওয়েতে এগুতে হবে আমি এটাই বলব।

খোশগল্প.কম: ফ্যামিলি সাপোর্ট কেমন পাচ্ছেন? অনেকেই কিন্তু এই জায়গাটা পছন্দ করে না।

শাহেদ: আমার ফ্যামিলি থেকে বিন্দু মাত্র সাপোর্ট পাইনি।তার সম্ভবত একটা কারন রয়েছে যে আমি এমন একটা জায়গায় আছি যেখান থেকে ইস্টাব্লিশড হওয়া ইজি। তবে আব্বু একদিন আমার সাপোর্টে আসবে আমি বিশ্বাস করি।

খোশগল্প.কম: আপনার এই জায়গাটার বাহিরে আর কি করতে ভালো লাগে?

শাহেদ: টুকিটাকি লেখালেখিটা আমি কন্টিনিউ করতে চেষ্টা করি। এই ব্যাপারটায় কোথায় যেনো নিজেকে খুঁজে পাই।

খোশগল্প.কম: অভিনেতা না হলে কী হতেন?

শাহেদ: আমার কর্পোরেট লাইফটাই লিড করার ইচ্ছা ছিলো আসলে। এজন্যই আসলে নটরডেমে কমার্স নিয়ে পড়েছিলাম।

খোশগল্প.কম: এখন কিন্তু লাইফ স্টাইল অনেকখানিই চেঞ্জ হয়েছে এই ব্যাপারটা কি এনজয় করা হয়?

শাহেদ: এখন পর্যন্ত হয় বলতে পারেন।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা গ্লামারই কি এখানে সব?

শাহেদ: না মোটেও না। নিজের ডেভেলপমেন্ট দরকার। আমি বলবো মিরর এই জায়গায় অনেক হেল্প করে একজন কে।

খোশগল্প.কম: আপনাদের এই শো কখন হয়? কোন চ্যানেলে হয়?

শাহেদ: এটা এটিএন বাংলায় হয় প্রতি শুক্র এবং শনিবার। রাত ৮:৪৫ মিনিটে।

খোশগল্প.কম: মানুষ শাহেদের কাছে জীবনের মানে কি?

শাহেদ: আমার কাছে জীবন মানে আসলে “এক টুকরো সুখ”

খোশগল্প.কম: সুখটা কি এইদিকে ধরতে পারি যে আপাতত আপনার ফ্যামিলি বা বাবাকে কনভিন্স করা?

শাহেদ: না আমি চাবো না কাউকে কনভিন্স করতে কারন জোর করে আসলে কাউকে দিয়ে কিছু করানোতে সার্থকতা নেই। আমি জানি তারা একদিন নিজেই বুঝবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত