এবারে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হস্পাটিলিটি ম্যানেজমেন্ট, ১ম বর্ষ এর ছাত্রী সাদিয়া শারমিন, যার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সবার মত তার নিজের সেক্টরে বিসিএসে ক্যাডার হওয়া আর ঢাকার বাইরে ‘নুহাশ পল্লী’র মত কিছু প্রতিষ্ঠা করা।পছন্দ করেন বই পড়তে, সর্বশেষ পড়েছেন শীর্ষেন্দু’র দুরবীন, আর এখন পর্যন্ত পড়া বইগুলোর মধ্যে ব্যক্তিজীবনে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে সমরেশে মজুমদারের ‘সাতকাহন’।কথা বলেছি সাধু-চলিত ভাষার প্রেফারেন্স, বই পড়ার বয়স স আরো অনেক কিছু নিয়ে……

এইটা ভেবে মাঝে মাঝে দুঃখ হয় আমাদের শৈশবে ইফেক্টিভ কিছু পাই নাই।

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 10:51 পূর্বাহ্ন

1511275_1009232362434377_6117106548667848610_n

 

খোশগল্প.কমঃ এখন কী নিয়ে ব্যাস্ত আছো ?

সাদিয়াঃ আমি তো ট্যুরিজম এ পড়ি, এইটা নিয়ে খুব ভালো ক্লাস হচ্ছে, এইটা নিয়ে ব্যাস্ত আছি।এখন আমাদের ক্লাস হচ্ছে ফার্স্ট এইড নিয়ে, ধরো, আমি কোন হোটেল বা ট্যুরিস্ট কোন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে আছি এখন আমার কোন গেস্ট খারাপ ভাবে ভাবে আহত হতে পারে কিংবা প্রতিষ্ঠানেই কোন এক্সিডেন্ট হতে পারে তখন তো এটা আমার দায়িত্ব, তো দ্রুত আমি কি কি করতে পারি সেটার উপর।এটার জন্য আমাদের হিউম্যান এনাটমিও প্রায় পড়িয়ে ফেলছে, এর সাথে সাইন্সের ভেলোসিটি, স্পীড, মোশানের মাঝখানে পড়ে আমাদের প্রায় ‘কী অব এভরিথিং’ বাট ‘মাস্টার অব নাথিং’ এর মত অবস্থা। নতুন বিষয় আর স্যারের পড়ানোর ভঙ্গি খুবই ইন্টারেস্টিং।আর আপাত একে একে কিছু বই পড়ছি যেগুলো বিভিন্ন সময় পড়ার ইচ্ছা ছিল।

 

খোশগল্প.কমঃ সর্বশেষ কি পড়েছো?

সাদিয়াঃ সর্বশেষ পড়েছি ‘দূরবীন’- শীর্ষেন্দুর । এই বইটা ডিফারেন্ট লাগছে এই কারণে, এই বইটাতে যেটা হয়েছে প্যারালালি দুইটা যুগ চলছে, এক পাতা এক পাতা করে সাজিয়ে, যেটা আমি , শেষে গিয়ে দুইটা প্রজন্মের সম্পর্ককে বুঝিয়েছে।

 

খোশগল্প.কমঃ ত্রিরত্ন , প্রথম আলো ও তো একই ধরণের বই।

সাদিয়াঃ ত্রিরত্নের শেষ দুইখন্ড আমার কাছে আছে, কিন্তু প্রথমটা মিসিং, তাই শুরু করতে পারছি না।আর ‘প্রথম আলো’ তে কোন চমক ছিলো না, এক সময়ের গল্প কিন্তু আলাদা আলাদা গল্প।

 

খোশগল্প.কমঃ সাহিত্যে সাধু ভাষা, চলিত ভাষা কোনটাকে প্রেফার করো?

সাদিয়াঃসাধু ভাষা বা চলিত ভাষার ব্যাপারে আমার কোন প্রেফারেন্স নাই, দুটাতেই স্বচ্ছন্দ্য বোধ করি, আসলে পড়তে গেলে মনে হয় কাহিনীর প্রেক্ষাপট এবং ওই সময়ের বিবরণে ওই জায়গায় সাধু ভাষার দরকার ছিলো, আবার যখন হুমায়ুন, হূমায়ুন আজাদ পড়ি তখন মনে হয় এখানে চলিত ভাষা ছাড়া চলতই না, আর সাধু ভাষা কে যদি আমি অপছন্দের তালিকায় ফেলি তাহলে বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় একটা অংশ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবো, অথচ পছন্দের তালিকায় সেগুলোই আগে আসবে, কারণ ভালো ভালো সাহিত্যগুলো তখনই লেখা হয়েছে।তবে হ্যা রবীন্দ্রনাথ এখনো পড়া শুরু করি নাই, রবীন্দ্রনাথ শুরু করলে কোথায় গিয়ে ঠেকে তখন বুঝতে পারবো।

 

খোশগল্প.কমঃ  রবীন্দ্রনাথ পড়লে বলতে পারবেবলতে কি বোঝাতে চাচ্ছো ?

সাদিয়াঃ অনেককে বলতে শুনেছি রবীন্দ্রনাথ এর ভাষারীতি একটু কঠিন, তাই।তবে, শরৎচন্দ্রের লেখা সাধু ভাষা হলেও অনেক সাবলীল লাগে, সাধু ভাষাটাকেও মনে হয় উনি চলিত ভাষার মত সরল করে লিখেছেন।সেজন্য শরৎচন্দ্রের লেখা আমার পছন্দ।

 

খোশগল্প.কমঃ তোমার কাছে কি মনে হয়, কোন দশকে বেশি ভালো লেখা আমরা পেয়েছি?

সাদিয়াঃ কোন দশকে পেয়েছি এটা হিসেব করে বলতে পারবো না তবে সমরেশ-সুনীল-শীর্ষেন্দু এই সময়টাতে মনে হয় ভালো লেখা পেয়েছি।

 

খোশগল্প.কমঃ বই পড়ার বয়স নিয়ে বল, ধরন অনুযায়ী বই পড়ার বয়সের কোন তারতম্য আছে কিনা।

সাদিয়াঃ এই জিনিসটা আমার সব-সময় মনে হয় বই মানুষের এইজ আর টাইমিং উপর  ডিপেন্ড করে, মানে বয়স টা একটা ইফেক্ট ফেলে, একটা বই আমি যদি বয়সের আগে পড়ে ফেলি যতটা না ভাল লাগবে , উপযুক্ত টাইম বা উপযুক্ত বয়সে পড়লে সেটা খুবই কাজে দেয়, বিশেষ করে আমার অপছন্দের কোন একটা বই আমি যদি আমার ভালো কোন সময়ে পড়ি বা, আমার নিজের কোন ঘটনার সাথে যদি আমি রিলেট করতে পারি তখন আমার পড়তে ভাল লাগবে ।যেমন আমি ‘সাতকাহন’ পড়েছি আমার এস.এস.সি পরীক্ষার বন্ধের ছুটিতে, কারণ আপি আমাকে বলেছিল তুমি এই বইটা আগে পড়বানা, এস.এস.সি’র বন্ধে পড়বা। তো আমিও ছোট যাকে যাকে পাই এইভাবে বলে দেই যে “তোর কিন্তু এটা এস.এস.সি’র বন্ধেই পড়া লাগবে’। সময় নিয়ে বইটা পড়ার কারণে ওইটা আমাকে খুব ইন্সপায়ার করেছে, যেটা এখনো আমার মনে পড়লেই আমি খুব ইন্সাপায়ারড হই।দিন বাই, রাত নাই, আমি বইটা পড়তাম।

 

খোশগল্প.কমঃ ছবি/মুভি নিয়ে বল।

সাদিয়াঃ ছবি নিয়ে বলতে গেলে বলতে হবে বাংলা ছবি গুলোর মধ্য হূমায়ুন এর ধারাটা ভাল লাগতো, আর এখন কলকাতার আর্ট ফিল্ম।হুমায়ুন আহমেদ ‘আউট অব দি বক্স’ চিন্তা করতে পারতেন, তাই উনার ছবির মধ্যে সেই বিষয়গুলো ছিলো।আর আমাদের সময়ে ওই রকম শিশুতোষ ছবি কিন্তু ছিলো না, এখন বাচ্চাদের যেমন অনেক ছবি আছে দেখার মত, তখন এইটা ছিলো না, বা আব্বু আম্মুরাও ওইরকম সচেতন ছিলো না, ইন্টারনেট ও ছিল না, বা বড় ভাই-বোন ও ছিল না যে আমাদের কে আমাদের বয়সী কার্টুন বা মুভি দেখাবে।এখনকার বাচ্চাদের ট্যাংগেল্ড, আইস এজ, মিনিয়ন আছে, এটা-সেটা কতকিছু দেখতে পাচ্ছে, ওদের রিক্রিয়েশন এর জায়গাটা অনেক বড়, সেই তুলনায় কিছুই পাই নাই, ইন ফ্যাক্ট আমরা মনে হয় গাধা-গরূর মত ছিলাম, এত হ্যাবলা ছিলাম কিছুই বুঝতাম না।এইটা ভেবে মাঝে মাঝে দুঃখ হয় আমাদের শৈশবে ইফেক্টিভ কিছু পাই নাই।

হ্যা, বইটা ছিলো, এইটা মিসিং নাই।

 

খোশগল্প.কমঃ এইরকম স্পেসিফিক কোন কিছুর কথা মনে হয় যেটা আমাদের শৈশবে থাকলে ভালো হত?

সাদিয়াঃ মাঝে মাঝে ইন্টারনেটের কথা মনে হয় যে থাকলে ভালো হত, আবার এইটা নিয়ে বাচ্চাদের এবিউজ দেখলে মনে হয় ভালোই হয়েছে যে ছিলো না।

 

খোশগল্প.কমঃ নেক্সট পাঁচ বছরের জন্য কি কি ভাবে রেখেছো?

সাদিয়াঃ এখন আপাতো ভাবছি পড়াশুনাটা আসলেই ভালোভাবেই করতে হবে, কারণ সিজিপিএ খুব বেশী ম্যাটার না করলেও করে তো।ওই রকম সিজিপিএ তো পেতেই হবে।

 

খোশগল্প.কমঃ আর অন্যান্য বিষয়ে ?

সাদিয়াঃ গানটা শিখতে চাই খুব তাড়াতাড়ি, নিজের জন্য অল্প কয়েকটা গান হলেও, বাট যে কয়টা শিখবো ঠিক-ঠাক ভাবে, পারফরম্যান্স কিংবা জনসম্মুখে তালি পাওয়ার জন্য না।আর ফ্রেঞ্চ কোর্স করছি, এইটা ভালোভাবে শিখবো।স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য কয়েকটা কোর্স করবো ভেবে রেখেছি।‘এক্টিভ সিটিজেনস’ এর  একটা ট্রেইনিং করেছি, ওখান থেকে সমাজসেবামূলক একটা প্রজেক্ট রান করার কথা, ওইটাতে ইনভলব হওয়ার ইচ্ছা আচ্ছে, কারণ ট্রেইনিং করেছি অথচ কিছু করতে পারছি না, এইটা আমার দুঃখ, ওইটা করবো ভাবছি।আর সর্বশেষ আমি আর আপি মিলে ইয়ুথ লীডারশীপ বেইজড লং-টার্ম একটা বিজনেস প্লাস সোশ্যাল ওয়ার্কের আইডিয়া প্লান করেছি সেটা স্ট্যাবলিশ করবো।

 

খোশগল্প.কমঃ কি ধরণের প্লান?

সাদিয়াঃ সেটা এখন রিভিল করতে চাচ্ছি না।ওইটা নিয়ে ভিশনটা অনেক বড়, ইনিশিয়েট কাজ গুলো হলে তখন হয়তো বলতে পারবো।

আর সামনে যে অপরচ্যুনিটি গুলো আসবে সেগুলোও এক্সেপ্ট করবো যদি না বিয়ে-টিয়ে হয়ে যায়।

 

খোশগল্প.কমঃ নিজেকে নিয়ে শেষ ভিশন কি বা কোথায় দেখতে চাও?

সাদিয়াঃ পড়াশুনা শেষ করে নিজেকে নিয়ে দেখতে চাই দুটো জায়গায় এখন। এক. ট্যুরিজম রিলেটেড বড় কোন জায়গায় আর দুই. বি.সি.এস এ।এখন যেহেতু আমার নিজস্ব ক্যাডার তৈরী হয়েছে ট্যুরিজম সেক্টরে, তো এটা একটা এডভান্টেজ যে এখন আমি জেনারেল, নিজস্ব দুটো ক্যাডারই পাবো, এইটাই খুব ইচ্ছা যে এই দুইটা জায়গার একটাতে যাই।

আরেকটা ইচ্ছা আমার আছে, জানিনা আমি করতে পারবো কিনা, আমার নিজের যদি অনেক টাকা-পয়সা অনেক হয় তাহলে আমি শান্তি-নিকেতন বা নুহাশ-পল্লীর মত কিছু একটা করবো।ওরকম পুরোপুরি পারবো কিনা জানি না, তবে ওইরকম নিবিড় কোন জায়গা, এটা আমি নিজের জন্য করার ইচ্ছা আছে সেটা আমার যত বয়সই হোক না কেন।

 

খোশগল্প.কমঃ এরকম করে ভেবেছো কেন ?

সাদিয়াঃ এটা আমার এক ধরনের প্রচন্ড শখ, মানুষের তো কত ধরনের শখ থাকে।

 

খোশগল্প.কমঃ কোথায় করবে এটা?

সাদিয়াঃ অবশ্যই ঢাকার বাইরে করবো, জায়গা ঠিক করে রাখি নাই, তবে দ্রুত যেতে পারবো এমন কোন জায়গায়।

 

খোশগল্প.কমঃ তুমি শৈশব নিয়ে আফসোস করছিলে, এখনকার জীবন-যাত্রা নিয়ে কিছু বল।

সাদিয়াঃ এখনকার জীবনযাত্রা টা আবার বেশী প্রযুক্তির কারণে অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে।যেমন এত ক্ষণ ধরে আমরা আছি অথচ একবারও আমাদের সেলফি বা চেক-ইন দেয়ার কথা মনে হয় নি।বাট এখন সিচুয়েশন এমন দাড়িয়েছে যে আমরা প্রয়োজনটার তুলনায় আড়ম্বর করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।এমন কিন্তু না সবাই এইভাবেই ভাবছে বাট অন্যরা তাল মিলাতে গিয়েও জোর করে কাজটা করছে।আর সবার মধ্যে অধীর হয়ে যাচ্ছে, অনেকটা সামাজিক হয়েও অসামাজিক।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত