মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইংরেজী সাহিত্য বিষয়ে পড়ছেন শেষ সেমিস্টারে।স্কুল, কলেজ নোয়াখালীতে শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ঢাকায় এসে।ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে বাংলা সিনেমার ভিলেন হিসেবে টিভির পর্দায় দেখতে।আরেকটা স্বপ্ন ছিলো, ক্রিকেট কে পেশা হিসেবে নেবার, পারিবারিক অসম্মতি এগুতে দেয় নি ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন ছুঁতে….

একজন মানুষ তার আশেপাশের মানুষের জন্যই জন্মায়

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 18, 2016 , 4:25 অপরাহ্ন

12246599_544314055725141_8701227690609319505_n

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

হাসান: ভালো আছি।

 

খোশগল্প.কম:  আপনার ছোটবেলা কোথায় কাটিয়েছেন?

হাসান: আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী, আমি হইছি ঐখানে।আমরা ৭ ভাই, আমি সবার ছোট।যখন বোঝার বয়স হইলো ৫ বছর, তখন আমার ভাই নিয়ে আমাকে স্কুলে ভর্তি করাই দিলো।তো স্কুলে পড়া শুরু হইলো।স্কুল লাইফে আমি খুব লাজুক ছিলাম, আমি সবার মাঝে থাকতাম কিন্তু কথা কম বলতাম।ঐ সময় মোটামু্টি ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম, এই জন্য কিছু ফ্রেন্ড হয়ে গেছিলো আর কী।খুব ভালো না, মোটামুটি ভালো।আর ক্রিকেট খেলতাম অনেক, ঐখানেও অনেক ফ্রেন্ড হইছিলো।ক্রিকেট খেলাটা মোটামুটি ভালোবাসতাম।এখনো, গ্রামে গেলে এখনো খেলি।ক্রিকেট খেলার জন্য অনেক মাইর-টাইর খাইছি ছোটবেলায়।তো এইভাবে পড়ালেখা করতে করতে যখন ক্লাস এইটে উঠলাম তখন আমার সাথে একটা মেয়ে ছিলো, আমার সাথে পড়তো।তখন ওকে ভাল্লাগতো।তো তখন সময়টা ছিলো এরকম, কারো প্রেম না থাকলে সে আর কি পিছায়া আছে!তখন কিন্তু কেউ ঐভাবে প্রেম-ভালোবাসা বুঝতো ও না।তো ওর সাথে আমার মোটামুটি ভালোই রিলেশান হয়ে যায় ঐ বয়সে।আমি আবার আমার মা’র কাছে আইসা বইলা দেই।তো আমার মা আবার বিশ্বাস করে না, তখন তো ছোট, তো মা অত পাত্তা দেয় না।পরে ঐ মেয়ের সাথে তো আমার কথা-টথা চলতেছে।২০০৯ তে ঢাকা আসি।ঢাকা আসার পর এসময় শুনি ওর বিয়ে ঠিক হইতেছে।গ্রামে যাই, বিয়ের  দুই দিন আগে ওর সাথে দেখা করি।তখন ও একটা কাপড়ের মধ্যে সোনা, টাকা পয়সা নিয়ে চলে আসছে বিয়ে করবো বলে।তারপরে আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না, আমার মা ঐ অবস্থায় রাজি ছিলোনা।আমি আমার মায়ের অনুমতি ছাড়া কিছু করি না।পরে ওর বিয়ে হয়ে যায়।

 

খোশগল্প.কম: আপনি ক্রিকেট নিয়ে এত ক্রেজি ছিলেন, প্রফেশনালি এইটাকে নেয়ার কথা ভাবেন নাই?

হাসান: খুব বেশী ইচ্ছা ছিলো, ২০০৬ সালে আমি ঢাকা আসছিলাম।বিকে.এস.পি তে ভর্তি হওয়ার জন্য চুরি করে আসছিলাম বাড়ি থেকে, সেভেনে না এইটে পড়ি তখন।বাড়িতে না জানায়া এক কাকার সাথে আসছিলাম, উনি আমাকে বলছিলো যে ভর্তির যে খরচটা উনি আমাকে দিবে, সমস্যা নাই।আমার ফ্যামিলি থেকে, মানে আমার আম্মা রাজি না এইটাতে।ঢাকায় ১০-১২ দিন ছিলাম, পরে সব ফর্মালিটি শেষে বি.কে.এস.পি থেকে বলতেছে কী, এগুলা তো এমনে হয় না; আপনাকে যদি ভর্তি হইতে হয়, অফিসিয়ালি সব কিছু মেইন্টেইন করার পর আরো ২ লাখ টাকা দিতে হবে।তারপর আমার ভাইয়া, মা, বাবা কেউ রাজি ছিলো না।আর হয় নাই আর কি।

 

খোশগল্প.কম: খেলার চর্চা বা মাধ্যম ছিলো কী আপনার?

হাসান: আমরা জেলা পর্যন্ত খেলছিলাম, ডিভিশন মানে বিভাগীয় পর্যায়ে যখন খেলা তখন আমি ইনজুরিড তো তখন আর খেলা হয় নাই।তারপরেও এখনো ইচ্ছাটা তীব্র ভাবে আছে।

 

খোশগল্প.কম: এখন কী ফিল করেন?

হাসান: সব সময়ই এইটা নিয়ে আফসোস হয়।এই জন্যে বাড়িতে গেলে সবাই মিলে আর কী খেলা হয়।

 

খোশগল্প.কম: এখন তো বিভিন্ন ক্লাব আছে, প্রফেশনালি না নিয়েও খেলতে পারেন

হাসান: ইচ্ছা ছিলো, যোগাযোগ ও করছিলাম।মিশু নামে আমার একটা ফ্রেন্ড আছে, টিম রকমারির ম্যানেজার; ওখানে খেলার জন্য।কিন্তু ওখানে বা সব জায়গায়ই যে সিস্টেম, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আসলে খেলা কন্টিনিও করা সম্ভব না।

 

খোশগল্প.কম: ক্রিকেটার হওয়া ছাড়া আর কী হইতে চাইতেন বা চান?

হাসান: একটা হাসির কথা বলি, ছোটবেলায় আমি ভিলেন হইতে চাইতাম।গ্রামের মানুষ শুক্রুবারে ছবি দেখে না? আগে তো বিটিভিই দেখতো।তখন ভাবতাম আমি যখন অভিনয় করবো, শুক্রুবারে সবাই মিলা টিভিতে আমারে দেখবে, এই আর কি।

মানে আমি ভিলেন হইতে চাইতাম, ওদের সবাই ভয় পাইতো, মারামারি করতে পারতো এই জিনিসগুলা মজা পাইতাম।

 

খোশগল্প.কম: কোন কিছুর চর্চা করেন বা করতেন?

হাসান: কবিতা লিখার চর্চা করতাম।দুই লাইন, সর্বোচ্চ তিন লাইন লিখছি, পুরোপুরি কখনো লিখতে পারি না।

 

খোশগল্প.কম: ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সময় পর্যন্ত বলছিলেন, তার পরে

হাসান: প্রথম হচ্ছে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে তো চান্স পাই নাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিলো তো এই খানে ভর্তি হইলাম।এইখানে ভর্তি হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে এইখানে আমার এক বড় ভাই পড়তো, এর পরে ঐ ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তো খুব বেশী জানতাম না ঢাকা সম্পর্কে, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে।উনি বললো ভালো, আলহামদুলিল্লাহ, আমিও বললাম আলহামদুলিল্লাহ! এর পরে ভর্তি হইলাম।ভর্তি হওয়ার পরে আমার ফ্রেন্ড শুভ’র মত অবস্থা আমার, ভর্তি হওয়ার পরে জানলাম যে,এই ক্যাম্পাসে মেয়েরা নাই, শুনলাম আর কি পৃথিবী তে মেয়ে ছেলে আলাদা! হা হা হা।

ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হওয়ার পর ভাব-সাবই আলাদা।দুই দিন পরে বাড়ি গেছি।দুই দিন থাইকা চইলা আসবো তখন আমার মা বলে কি ঢাকা যায়া দরকার নাই, তুই এইখানে থাইকা যা, এইখানে ভর্তি হ! পরে মা’কে অনেক কিছু বুঝায়া চলে আসলাম।পরে তো ঢাকায় থাকি, মেসে উঠলাম।২ বছর মেসে ছিলাম, মেস জীবন খুব বেশী ভাল্লাগে আমার।সব ফ্রি, ইচ্ছে মত ঘুমানো যায়, খাওয়া যায়! না খাওয়া যায় না।বাট এখনো ভাল্লাগে।

 

খোশগল্প.কম: গ্রাজুয়েশন শেষের দিকে, পরিকল্পনা কী?

হাসান: এখন ভাবি ভালো একটা বিজিনেস করবো।যখন ভালো একটা অবস্থানে যাবো, আমি আমার ফ্যামিলিকেও হ্যাপি করতে পারবো।

 

খোশগল্প.কম: আপনি মে বি এখনি বিজনেস করেন একটা

হাসান: এখন যেটা করি শেয়ার বিজনেস, বিনিয়োগ করি, লাভের অংশ পাই।এইটা তো লং টার্ম ধরে করা যাবে না, ইচ্ছে আছে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট এর বিজনেস করার, অনেক বেশি ইচ্ছা আছে, দেখি কী হয়।

 

খোশগল্প.কম: আর ক্রিকেট?

হাসান: ক্রিকেট তো ক্রিকেট ! সারাজীবন ক্রিকেটকে ভালোবাসি, ভালোবাসবো।

 

খোশগল্প.কম: এই পর্যন্ত এসে কোন কিছু নিয়ে আফসোস হয়?

হাসান: আছে মানে, বলা উচিৎ কি না জানি না।আমি যে মেয়েটাকে পছন্দ করি, আমি এখনো ভাবি কি মাঝে মাঝে, ও আমাকে বলতো যে ওর যদি কখনো হাজবেন্ডের সাথে না থাকে তারপরে আমরা আবার বিয়ে করবো।এটা কখনো সম্ভব না আমি জানি।তো আমার এখনো এই ইচ্ছাটা জাগে, জানি এই রকম হবে না তবুও মনে হয় ও আসলে…

 

খোশগল্প.কম: তখন আপনি আপনার পরিবারকে কীভাবে ম্যানেজ করবেন?

হাসান: তখন অবস্থার প্রেক্ষিতে যা করা যায় করবো।কারণ আমি আবেগ থেকে না বাস্তবতা থেকে বলছি ও যে কোন সময় যদি আসে ওয়েলকাম! যে কোন সময়!

দীর্ঘদিন মানে বড় হওয়ার সময়টা একসাথে ছিলাম, ও খুব সুন্দরী ছিলো না কিন্তু আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মেয়ে।

 

খোশগল্প.কম: মানুষ হিসেবে জন্মেছেন, কী মনে হয় কেন জন্মেছেন? কোন পারপাস আছে মনে করেন?

হাসান: আমি মনে করি, একজন মানুষ তার আশেপাশের মানুষের জন্যই জন্মায়।প্রত্যেকটা মানুষ জন্মায় তার পাশের মানুষকে দেখার জন্যে, সাথে থাকার জন্যে।আর এইটা স্পেশালি তখনই যখন সব মানুষ সমানভাবে থাকতে পারে না।তখন ব্যালেন্স করার জন্য অন্য মানুষরা সাহায্য করবে।আমার কাছে আমার জন্মাবার কারণ এইটাই মনে হয়।আমি জন্মাইছি মানুষের সেবা করার জন্য, এইটা আমার বাবার আদেশ, আমি এইটা পছন্দ করি।

 

খোশগল্প.কম: আপনি রাজনীতিতে করেন অনেক দিন থেকে, এটা কী পারিবারিক আবহ নাকি কোন আদর্শিক অবস্থান?

হাসান: না, আমার ফ্যামিলিতে রাজনীতি করা অনেক মানুষ আছে, আমরা চাচাতো ভাই-বোন মিলে প্রায় ৫০ জন, এদের মধ্যে ২ জন বাদে বাকি সবাই আওয়ামীলীগ করেন।এই দুইজন হচ্ছে আমার এক ভাই আর আমি।আমার আওয়ামীলীগে থাকার কারণ হচ্ছে, আমি ছোটবেলায় দেখছি আমার এক চাচাতো ভাই বিএনপি করতো, বিএনপি ক্ষমতায় আর উনি ছিলো যুবলীগের থানা সম্পাদক।তো ওনাকে বিশৃঙ্খলভাবেই দেখতাম, ড্রাগসহ নানাভাবে।তখন মনে হইতো আমি আর যাই করি বিএনপি করবো না।আদর্শগত দিক থেকে আমি বঙ্গবন্ধুকে সাপোর্ট করি, এজন্যই রাজনীতি করা, তবে রাজনীতিকে প্রফেশনালি নেয়ার ইচ্ছা নাই।

 

খোশগল্প.কম: ধন্যবাদ এতক্ষণ সময় দেবার জন্য।

হাসান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত