চারুকলার সামনে চুড়ি বিক্রি করছেন স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে, প্রথমে স্ত্রী হামেলার সঙ্গে কথা বললেও মাঝপথে এসে স্বামীও সঙ্গ দিলেন।ছয়টি বড় ছেলে সন্তান থাকা স্বত্ত্বেও কাজ করেন এখনও।বছরের প্রথম ছয়মাস ঢাকায় চুড়ি বিক্রি করেন দু’জনে মিলে, বাকী ছয় মাস নিজেদের গ্রামে।

একটা দোকান দিতে তো মা বহু টাকা লাগে

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 3, 2016 , 5:31 পূর্বাহ্ন

20160121_121502

খোশগল্প.কম: আপনি কি এইখানেই থাকেন?

হামেলা: এই জায়গায়ই থাকি।

 

খোশগল্প.কম: মানে রাতেও এইখানেই থাকেন?

হামেলা: এই জায়গায় দুকানদারি করি, থাকি আদাবর।

 

খোশগল্প.কম: আদাবর কোথায়?

হামেলা: কী জানি, ঐ আদাবর বাজারের সঙ্গে।

 

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় থেকেই ঢাকায় না অন্য জায়গা থেকে আসছেন?

হামেলা: না না, জামালপুর।

 

খোশগল্প.কম: ছেলেমেয়ে আছে না?

হামেলা: আছে! ছেলেমেয়ে আছে।

 

খোশগল্প.কম: ছেলেমেয়ে কী করে?

হামেলা: ছেলেমেয়ে মনে করেন কাজ করে।

 

খোশগল্প.কম: কয় ছেলে কয় মেয়ে?

হামেলা: আমার ছয় ছেলে, দুই মেয়ে।

 

খোশগল্প.কম: মেয়ে বিয়ে দিছেন?

হামেলা: একটা বিয়ে দিছি, আরেকটা সিয়ানা।

 

খোশগল্প.কম: ছয় ছেলে থাকতে আপনি কাজ করেন কেন?

হামেলা: এইতো কাজ করি।মাগো, ভাইগ্য বুঝেন না?

 

খোশগল্প.কম: আর আপনার স্বামী?

হামেলা: ঐ যে!

 

খোশগল্প.কম: উনিও কি চুড়ির দোকানেই?

হামেলা: চুড়ির দোকান করে, কসমেটিকসের দোকান করে।সব দোকানই করে।

 

খোশগল্প.কম: উনি কোথায় বিক্রি করেন?

হামেলা: ঘুইরা বিক্রি করে, এইজায়গায় বহে।

 

খোশগল্প.কম: কতদিন ধরে এই কাজ করতেছেন?

রাজা: এইডা বহুদিন ধইরা।

রাজা: অনেক দিন।

 

খোশগল্প.কম: দুইজনেই জামালপুরের?

হামেলা: হ হ, দুইজনেই জামালপুরে থাকি মা।

 

খোশগল্প.কম: জামালপুর থেকে ঢাকা আসছেন কবে তাইলে?

রাজা: আসছি মনে করেন ছয় মাস হইছে, সিজিনমতন আসি।

হামেলা: আমরা সিজিনমতন আসি মা, এই যে বৈশেখি মেলা হবো, ঐ মেলা পন্তি থাকবো।

 

খোশগল্প.কম: তারপরে আবার জামালপুরে চলে যাবেন?

রাজা: আবার চইলি যাবো।

 

খোশগল্প.কম: ঐখানে যেয়ে আবার কী করবেন?

রাজা: ঐখানে থাহি আবার দুহানদারি করি।

 

খোশগল্প.কম: তাইলে বাড়িতেই তো আপনাদের সবকিছু আছে

রাজা: হ, ঘরবাড়ি আছে।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের বিয়ে হইছিলো কত বছর আগে

রাজা: বিয়ে আমাদের না হইলেও চল্লিশ বছর আগে হইছিলো।

 

খোশগল্প.কম: চল্লিশ বছর আগে!

হামেলা: হ্যাঁ।

রাজা: তহন আমার বয়স উনিশ থেকা আঠারো।

 

খোশগল্প.কম: এত অল্প বয়সে বিয়ে করছিলেন?

হামেলা: হা হা, আর কয়ো না, শরম পাবো!

রাজা: হ।

 

খোশগল্প.কম: আর আপনার বয়স?

রাজা: আমার বয়স হইছে এহনে মনে করেন আটপঞ্চাশ চলতাছে।

 

খোশগল্প.কম: আর খালা আপনার বয়স?

রাজা: হের বয়স বোধহয় পঞ্চাশ।

 

খোশগল্প.কম: তাইলে বিয়ের সময় আপনার বয়স কত ছিলো?

রাজা: তার বিয়ার সময় কত? ১০-১২ আছেলো।

 

খোশগল্প.কম: বিয়ের সময় আপনারা কী করতেন?

রাজা: তখন আমরা ফেরি দুকান করতাম, লেইস ফিতা।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের কি পাশাপাশি গ্রাম ছিলো?

রাজা: হ, একজায়গায়ই, আপন ফুবাতো বোন ছিলো।

 

খোশগল্প.কম: ও তাইলে নিজেদের মধ্যে

রাজা: হ, ফুবাতো

 

খোশগল্প.কম: ছেলেরা কে কি করে খালা?

রাজা: ছেলেরা মনে করেন সেলুনে কাজ করে, বাজারে কাজ করে আরদে থাকে।

 

খোশগল্প.কম: জামালপুরে থাকে?

রাজা: জামালপুরে থাকে।

 

খোশগল্প.কম: এই সময় কেমন লাভ হয় খালা ছয়মাস যে থাকেন?

রাজা: মনে করেন খায়া পরতে মাসে পাঁচহাজারও থাকে, সাতহাজারও থাকে।

 

খোশগল্প.কম: চুড়ি কিনে নিয়ে আসেন কোথা থেকে?

রাজা: এইডা বাংলাদেশ থেকেই কিনি।

 

খোশগল্প.কম: বাংলাদেশেরই। কোনজায়গায়?

রাজা: এইডা ঢাকা, চকে চকবাজার।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা তাইলে তো আপনাদের ভালোই লাভ হয়?

রাজা: হ, খায়া খরচা বাদে সাত/আট হাজার থাকে।

 

খোশগল্প.কম: যেইখানে থাকেন ঐখানে বাসাভাড়া কত?

রাজা: অনে বাসা ভাঁড়া হইলো আমাদের তিনহাজার টাকা।

 

খোশগল্প.কম: তাইলে আপনারা একবারে চইলা আসেন না কেন?জামালপুরে যাওয়ার দরকার কী?

হামেলা: অনে ছেলেমেয়ে আছে, বাড়িঘর আছে, থাহন লাগে।

 

খোশগল্প.কম: তাইলে এই ছয়মাসে আর বাড়ি যাবেন না?

রাজা: যাই, এই যে ছয় তারিখে যামু।সাপ্তাহখানি থাইকা আবার চইলা আসমু।

 

খোশগল্প.কম: সারাজীবনই কি এই কাজই করবেন?

রাজা: মনে করেন আয়ু যেতদিন আছে, হেইতুরি আমাদের দুহানদারি কইরা খাওন লাগবো।আমগর তো মনে করেন হাল, গিরস্থি নাই।

 

খোশগল্প.কম: জমিজমা নাই?

রাজা: না, জমিজমা নাই।

 

খোশগল্প.কম: এইটা শুরু করছেন কবে থেকে?

রাজা: এইটা শুরু করছি না হইলেও বিশ থেকা পঁচিশ বছর।

 

খোশগল্প.কম: এইকাজ কি আপনাদের আগে ফ্যামিলতে কেউ করতো?

রাজা: না।আমগোরে এহনকার আত্মীয়স্বজনরা করে।আমগো পূর্ব ফ্যামিলিরা জামালপুরে লেস, ফিতার দোকান করে, অগর অবস্থা-চল ভালো।অরা মার্কেটে দুকান নিয়া দুকান দিছে, আল্লাহ আমাদের অর্থ দেয় নাই।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, আপনার আব্বা কী করতেন?

রাজা: আমার আব্বা আগে কসাইগিরি করতো, গরুটরু জবাই কইরা বিক্রি করতো।

 

খোশগল্প.কম: আপনি তো ঐ পেশায় যাইতে পারতেন?

রাজা: অইডা আমি শিখি নাই।এইডা মনে করেন সিজিনমতন করি, পাঁচ-ছয় মাস ব্যবসা করি আবার দেশে চলে যাই।কিছুদিন দেশে থাকি।

 

খোশগল্প.কম: আপনারা এক সিজনের টাকা জমায়া তো একটা দোকান দিতে পারেন?

রাজা: একটা দোকান দিতে তো মা বহু টাকা লাগে পজিশুন লাগে, দুই-তিনলাখ টাকা লাগে।

 

খোশগল্প.কম: অতবড় দোকান না।ছোটখাটো, এইখানে বসেন, এইখানে তো মনে হয় পুলিশ ঝামেলা করে

হামেলা: হ, দোকানই দিতে দেয় না।অনেক সময়ই বাইড়ায়া বুইড়ায়া উঠায়া দেয়।আগের বৈশেখীতে আমগোর অনেক চুড়ি ভাঙ্গা গেছে।

 

খোশগল্প.কম: এইখানে যারা চুড়ির দোকান দিছে আশেপাশে, সবাই পরিচিত না?

হামেলা: হ, সবাই চিনা।

 

খোশগল্প.কম: এইযে কাস্টমার আসলে যে ডাকাডাকি করে সবাই মিলে, এইটা নিয়ে সমস্যা হয় না?

হামেলা: হয়! ঝড়গা হয়! আমরা যেমুন ঝড়গা করি না।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত