”মেয়ে, তুমি মেয়ে মানুষ”, এই লাইন গুলো শোনা হয় অহরহ।কথাগুলো হয়তো আমাকে, আমার মাকে, বোনকেই বলা হচ্ছে।এছাড়াও আছে নিপীড়ন,নির্যাতন।আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের অবস্থান এবং কি করণীয় বা ছোট থেকেই বাচ্চাদের লালন পালনের ধরণ হয়তো বদলে দিতে পারে এই অবস্থা।এই বিষয় নিয়েই কথা বলা হয়েছিলো মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছন্দা কর্মকারের সঙ্গে।যিনি বললেন- একজন ‘মেয়ে মানুষ’ না, ‘মানুষ’।

একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় তখন খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা কোন পারপাসে ফ্রেন্ডদের সাথে মিশছে

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 25, 2016 , 2:02 অপরাহ্ন

12592308_201848350166327_813497314528811869_n

খোশগল্প.কম: আসস্লামুয়ালাইকুম ম্যাম।

ছন্দা কর্মকার: ওয়ালাইকুমুসসালাম।

 

খোশগল্প.কম: ম্যাম আমি আপনার সাথে সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট বা ইভটিজিং এই ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাচ্ছিলাম।

ছন্দা কর্মকার: অবশ্যই বলো।

 

খোশগল্প.কম: আমি এদিক দিয়ে আসার সময় দেখছিলাম যে রাজু ভাস্কর্যে বড় করে একটা প্যান্ডেল করা আর সেখানে লিখা “যৌন নিপীড়ন বিরোধী কনসার্ট” তো ম্যাম এই যে এই কনসার্টগুলো বা এই যে দেখানো আমরা এগুলো করছি এই ব্যাপারগুলো আদৌ কী এই হ্যারেসমেন্ট গুলো কমাতে পারছে?

ছন্দা কর্মকার: আমার মনে হয় এগুলো মেন্টালিটিকে চেঞ্জ করার একটা ওয়ে হতে পারে বাট বাস্তবে যা আমরা দেখি এগুলো আসলে কমছে না বা এমনো হতে পারে যারা এই প্রোগ্রাম গুলো এটেন্ড করছে তারাই সেক্সুয়ালী হ্যারেস করছে।এই প্রোগ্রাম গুলোতে যে মেয়েরা আসছে বা দেখবেন ক্রাউডি প্লেসে এই জিনিস গুলো খুব বেশি হচ্ছে, রিসেন্টলি যে ব্যাপারটা হলো যে পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে রিক্সা থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, ফ্রেন্ডদের সামনে বা সবার সামনে হ্যারেস করছে ব্যাপার এটাই যে ক্রাওডি প্লেসে এই জিনিসগুলো বেশি হচ্ছে।সো কনসার্টে, আমার মনে হয় এটলিস্ট তাদেরকে আমরা চেঞ্জ করতে পারবোনা।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা ম্যাম কনসার্ট টা যে ঢাকা ভার্সিটি এরিয়ার মধ্যে হল তো এখানে তো দেখা যায় ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট বা আশেপাশের কলেজের স্টুডেন্টরাই আসছে তাহলে ম্যাম এটা কী এমন কিছু সাইন দিচ্ছে যে এটা শিক্ষিতদের মধ্যেই বেশি হচ্ছে বা তারাই বেশি করছে?কারন এই এরিয়ার বাইরের বা ধরলাম ড্রপাউট একটা ছেলে তার কাছে কিন্তু এই কনসার্ট টা যাচ্ছে না।

ছন্দা কর্মকার: যেহেতু ইউনিভার্সিটি এরিয়ার মধ্যে এটা নট নেসিসারি যে শুধু স্টুডেন্টরাই বা এডুকেটেডরাই এখানে আসছে আর দেখছে।এখানে রিক্সাওয়ালারা আসছে, বাদামওলারা আসছে, টোকাইরা আসছে কাদেরকে নিয়ে তুমি কনসার্ন!মমতা্জের গান কিন্তু সবাই শোনে, জেমসের গান শুনতেও কিন্তু অনেকেই আসে সো এই ফিচারটা দেখে আসলে লাভ নাই।ওপেন প্লেস তো, তো এখানে শিক্ষিতরাও আসে অশিক্ষিতরাও আসে আর এটা আমরা স্পেসিফিকভাবে কখনোই বলতে পারবোনা যে কোন একশ্রেনীর কেউ কিছু করে।এছাড়াও আমরা রিসেন্ট ঘটনার কিছু স্ট্যাটিস্টিক্সগুলো দেখি দেখা যাবে ঢাবি, তিতুমীরের বা জগন্নাথের অনেক ছেলেরাই এখানে অকারেন্স গুলোর সাথে জড়িত আছে আবার অনেক শিক্ষকদের ও দেখি এই সব ব্যাপারগুলোয়।

 

খোশগল্প.কম: তার মানে এটা বলাই যায় এখানে শিক্ষাটাই মেইন না নৈতিকতাও অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট।

ছন্দা কর্মকার: ডেফিনেটলি।নৈতিকতাটা কিন্তু শিক্ষার সাথে রিলেটেড বাট এদের কী হচ্ছে সেই নৈতিকতাটা ডেভেলপ হচ্ছেনা।যেটা আমরা এক্সপেক্ট করি শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের নৈতিকতাটার বিকাশ হবে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় কোন চেঞ্জ তাদের মধ্যে আসছে না।

 

খোশগল্প.কম: আপাতত যদি এই ব্যাপারটা বাদ দেই যে আমরা মোটামুটি সচেতন হয়েই এই ইউনিভার্সিটি লেভেলে আসি কিন্তু এর আগে আমাদের গতানুতিক কিছু শিক্ষা যেমন বাংলা পড়তে হবে, ইংলিশ পড়তে হবে, ধর্ম পড়তে হবে, সমাজ পড়তে হবে এর আশেপাশে কী মনে হয় পরিপূর্ণ নৈতিকতার ব্যাপারটাও যে ছিল তা কী আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের দিতে পারি?

ছন্দা কর্মকার: শোন, নৈতিকতা ব্যাপারটা হুট করে স্কুল বা কলেজ থেকে গড়ে উঠেনা এটা অনেকটা ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড, একদম চাইল্ডহুড থেকে দেখতে হবে বাবা মা তাদের কী শিক্ষা দিয়েছে,কতটুকু সময় তার সাথে স্পেন্ট করেছে সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু তার নৈতিকতাটা ডেভেলপ হবে।এরপর যখন আমরা স্কুলিংটা শুরু করি তখন ডেভেলপটা আরেকটু ইম্প্রুভ হয় সো বেসিকটা কিন্তু তোমার ছোটবেলার, যে ছোটবেলায় তুমি কী শিক্ষা পেয়েছো আরেকটা ব্যাপার যেটা দেখা যায় বাবা মা খুব রেস্ট্রিক্টেড হয় এই কথা গুলো বলা যাবেনা, মেয়েদের সাথে মেশা যাবেনা এই রেস্ট্রিকশনের কারণেও তাদের ভেতর একটা কৌতুহল তৈরী হয়।একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় তখন খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা কোন পারপাসে ফ্রেন্ডদের সাথে মিশছে।যেমনটা ধরো পর্নোগ্রাফি।বন্ধুরা মিলে একসাথে দেখছে,বাবা মা……

 

খোশগল্প.কম: বাবা মা দেখলে হয়তো বকা দিবে বা তাদের দেখানোই যাবেনা…

ছন্দা কর্মকার: হ্যা এই ব্যাপারগুলোই।আমার বাচ্চা স্কুলে গেলো- আসলো,ভালো রেজাল্ট করলো নট নেসিসারি।তার বন্ধুরা ইভেন তাদের বাবা মার সাথেও আমার এটাচমেন্ট বা রিলেশনশীপ গড়ে তোলাটাও দরকার।যেন তাদের কোন প্রোগ্রামে আমরা প্যারেন্টসরা যেয়ে জয়েন করতে পারি আর আমি যেন জানি আমার বাচ্চার বন্ধুরা কারা।

 

খোশগল্প.কম: মানে বাচ্চার সব ব্যাপারগুলোয় একটু খোঁজ খবর রাখা?

ম্যামঃহ্যা আমি যেটা বলেছি প্যারেন্টিংটা মোস্ট ইম্পরটেন্ট।

 

খোশগল্প.কম: প্যারেন্টিং ইম্পরট্যান্ট তা ঠিক বাচ্চা যখন স্কুলে যাচ্ছে তখন সহশিক্ষা ব্যাপারটায় অনেকে বলে যে কিছু মাত্র নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট ফেলছে এখানে আপনি কী বলবেন?

ছন্দা কর্মকার: আমারতো অপোজিট মনে হয়, এক সাথে পড়াশুনা করলে ওরা মেয়েদের সাথে মিশতে পারবে, তাদের সম্পর্কে জানবে অনেক ফ্রেন্ডলি একটা এটমোস্ফেয়ার গড়ে উঠবে এখন তুমি যদি ওকে বলো যে মেয়েদের সাথে মেশা যাবেনা……

 

খোশগল্প.কম: বা বয়েজ স্কুল গুলো দেখা যায় তাদের কিন্তু মেয়েদের সম্পর্কে আলাদা একটা কৌতুহল কাজ করে।

ছন্দা কর্মকার: হ্যা সেটাই মেয়েদের মেয়ে হিসেবে না দেখিয়ে আমরা যদি ছোট থেকে তাদের ফ্রেন্ড বা মানুষ হিসেবে বুঝাই তাহলেও কিন্তু সমস্যাগুলো অনেকটা কমে যাবে।

 

খোশগল্প.কম: ম্যাম এই যে বিভিন্ন মানব বন্ধন, সভা সেমিনার এগুলোয় দেখা যায় দেড় দুই হাজার মানুষ হয় তাদের মাঝেও কিন্তু মেয়েদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে আর মেয়েরা যাও থাকে তাদের কাজ হয়তো ঐ রাজু ভাস্কর্যের সামনে মোমবাতি হাতে নিয়ে দাঁড়ায় থাকা পর্যন্তই, এই প্রব্লেম গুলো ঠেকাতে আমরা মেয়েরা কতটুকু সচেতন?দেখা যায় আমিই হয়তো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই কেউ আমাকে কিছু বললেই হয়তো আমি নিজেই চুপ করে যাই এটা ভেবে যে থাক তার সাথে লেগে কী হবে।

ছন্দা কর্মকার: এখানে আসলে যে ব্যাপারটা কাজ করে সেটা হলো ইনসিকিউরিটি।ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের এমনভাবে ট্রীট করা হয় যে কিছু বলোনা তাহলে বিপদটা তোমারই আসবে, বাদ দাও, ছেড়ে দাও।মেয়েদের আসলে কিন্তু এভাবেই গড়ে তোলা হচ্ছে আর সমাজে যারা প্রতিবাদ করছে তারাই কিন্তু ভিক্টিমাইজড…..

 

খোশগল্প.কম: হয়তোবা যার বিপক্ষে বলা হলো সে আজকে ছেড়ে দিলো পরে কিন্তু জেদের বসেও মেয়েটার ক্ষতি করে ফেলে।

ছন্দা কর্মকার: ঠিক বলেছো।এখন আমরা অনেক সচেতন আমরা চাই প্রতিবাদ হোক বাট অনেক মেয়েরাই এখান থেকে পিছিয়ে আসছে এই যে এতো ঘটনা ঘটছে কই কোন মেয়ে তো পুলিশে কমপ্লেইন করেনি কারণ সমাজ আমাকে কী বলবে, ঐ ছেলেটাকে কেউ খারাপ বলবেনা সবাই আমাকে খারাপ বলবে বাট এখন সময় আসছে আমরা ছেলে মেয়ে সবাই মিলে যদি প্রতিবাদ করি তাহলে হয়তো কিছু হলেও হতে পারে।মানে কম্বাইনলি করতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: আরেকটা সমস্যা ম্যাম যেটা প্রায়ই শুনতে হয় যে তোমাকে ঐ ছেলেটা কিছু বলছে তার মানে তোমারই দোষ, তোমারি ড্রেসে সমস্যা, তুমি কেন ঐ ভিড়ে গেছো বা তুমি কেন ঐ ক্রাউডে গেছো তুমি তো অন্য রাস্তা দিয়েও যেতে পারতে-ম্যাম এই জিনিসগুলো কী আসলে লজ্যিকাল একটা মেয়েকে হ্যারেস করতে?

ছন্দা কর্মকার: আমার কাছে মনে হয় এটা যারা চিন্তা করে তাদের ওগুলো বিকৃত চিন্তা ভাবনা ছেলেদের পাশাপাশি অনেক মেয়েদেরও এমন চিন্তা থাকে যেমন পহেলা বৈশাখের ঘটনায় অনেক কেই বলতে শুনেছি কী দরকার ছিলো বিকালে বের হওয়ার??তার মানে কী আমরা বিকালে বের হবনা?তাহলে কী আমরা সেই আদিম যুগে চলে যাচ্ছি যেখানে কী হতো-ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা, মেয়েরা শুধু ঘরের কাজই করবে আর সন্তান জন্ম দিবে।

 

খোশগল্প.কম: হ্যাঁ তাদের কথা মেনে নিলাম যে আমার বিকালে বের হওয়া যাবেনা কিন্তু যখন একটা ক্লাস টু এর বাচ্চা রেপ হচ্ছে সে কীভাবে একজনের যৌন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করছে?

ছন্দা কর্মকার: সেটাইতো আমার কাছে মনে হয় যে কাজ গুলো করছে ব্যাপারটা তাদেরই বিকৃত মনোভাবের বা বিকৃত মস্তিস্কের বলতে পার।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে যা দাড়ালো সমস্যা টা রুট থেকে।

ছন্দা কর্মকার: হ্যা একদম রুট থেকে, ছোটবেলা থেকে তাদের ফ্যামিলি কেমন কোন এনভায়রনমেন্টে বড় হচ্ছে এবং মেয়েদের সে কীভাবে দেখছে এটা শুধু এডুকেটেড বা এডুকেটেড না এমন না।অনেক শিক্ষিত লোকই কিন্তু তার ওয়াইফকে রেস্পেক্ট করেনা,একটা বাচ্চা যখন দেখছে তার বাবা তার মাকে রেস্পেক্ট করছেনা, ঘরের কাজের মানুষ হিসেবেই দেখছে তখন কিন্তু বাচ্চাটা ভেতরে ঐ ধারণা টা ডেভেলপ করবেনা যে মেয়েরাও মানুষ।

 

খোশগল্প.কম: ম্যাম এটা তো গেলো বাহিরের কথা একদিক দিয়ে যদি দেখতে যাই আমরা মেয়েরা তো আমাদের নিজেদের বাসাতেও সেফ না হয়তো আমারি ভাইয়ের বাজে দৃষ্টি আমার উপর পড়ছে কিন্তু আমি কিছু করতে পারছিনা এখানে কী করা উচিত?

ছন্দা কর্মকার: এটাতো সেক্সুয়াল এবিউজ।।এখানে অনেক গুলো কজ থাকে যেটা আমি প্রথমে বলেছি প্যারেন্টিং টা সেটা এমন হতে হবে যে- আমার এটা বিলিভ করাতে হবে যে বায়োলজিক্যাল ফাদার ছাড়া আমি কারো কাছে সেফ না সো সেখানে আমি আমার বাচ্চাকে এমন জায়গায় কখনোই রাখবোনা যে আমি বাসায় নাই আমার হাজবেন্ড বাসায় নাই সেখানে হুট করে আমার বাসায় কেউ ঢুকে গেলো সো সেখানে আমার কনশাস থাকতে হবে একটা টাইম পিরিয়ড আছে যে পর্যন্ত আমার বাচ্চাকে মেইনটেইন করতে হবে সে যেখানে যায় তার সাথে সাথে যেতে হবে এছাড়াও জবস্ট্রেস বা বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস এবং অনেক সময় লো সোশিও ইকোনমিক কালচারেও এই ব্যাপারগুলো ঘটে থাকে।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা ম্যাম এটাতো গেলো মেয়েদের বেলায় ছেলেদের বেলায় করণীয় কী?

ছন্দা কর্মকার: আমি যেটা আগেও বলেছি বাবা মার মাঝে আন্ডারস্ট্যান্ডিং টা অবশ্যি ভালো হতে হবে,বাবা মার ম্যারিটাল এডযাস্টমেন্টটা অনেক বেশি দরকার পাশাপাশি ছেলেমেয়ে যেই হোক না কেন তাকে মেয়েদের সম্পর্কে কন্সেপ্ট টা তুমি কেমন দিচ্ছ।আমরা কী করি মেয়েদের পুতুল দিয়ে বসিয়ে রাখি ছোট থেকে একজায়গায় বসে খেলতে হবে সেখানে ছেলেদের বল ব্যাট দিয়ে ছেলেদের খেলতে পাঠানো হয় আর মেয়েদের খুব ছোটবেলা থেকেই ঘর, সংসার, বিয়ে এই ব্যাপারগুলো ঢুকিয়ে দেয়া হয় সো এই ব্যাপারগুলো আমাদের আস্তে আস্তে চেঞ্জ করতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: অনেকেই দেখা যায় বাচ্চাদের সাথে ফ্রি হওয়ার ব্যাপারগুলোতে কনফিউজ থাকে যেমন সবাই একসাথে বসে টিভি দেখছে এইসময় সময় হঠাত করেই দেখা যায় স্যানিটারী ন্যাপকিনের কোন এড চলে বাচ্চা হয়তো জিজ্ঞেস করে বসে মা এটা কী বা বাবা এটা কী তখন দেখা যায় বাবা মারা বুঝে উঠতে পারেনা কী বলা উচিত পরে না পেরে হয়তো বকাঝকাই করে বসে এখানে ব্যাপারগুলো কিভাবে ইজি করা যায়?

ছন্দা কর্মকার: এটা আসলে বয়স উপযোগী এখন ৩ বছরের বাচ্চা এটা যদি আস্ক করে তখন তাকে এটা নরমাল ন্যাপকীন হিসেবে বুঝানো যায় একটা বয়সের পর আস্তে আস্তে ব্যাপার গুলোকে ডিস্ক্লোজ করতে হবে কারন ১৩, ১৪ বছরের পর যদি আমি হঠাত করে ফ্রি হতে চাই তখন তো ফ্রি হওয়া সম্ভব না আমাদের জেনারেশনে আমাদের বাবা মা রা এতো ফ্রি ছিলোনা কিন্তু আমরা সেটা এখন মেইন্টেইন করছি।বাবা বা মা কার সাথে তার রিলেশন টা ভালো এটার উপর ডিপেন্ড করেও ব্যাপারগুলো হাল্কা করা যায় এর পর বাচ্চারাতো স্কুলে যায় ওখানে তার নতুন পরিবেশ পায় সেখানে কিছু ব্যাপার ও বুঝবে, নিজে থেকেই বুঝবে এছাড়া আউটিং এর ব্যাপারটা আসে সো আস্তে আস্তে এই ডেভেলপমেন্টগুলো হয়ে যায়।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা ম্যাম শেষ করার আগে ইভটিজিং এ বা রাস্তায় বের হচ্ছি তখন আমি নিজেকে কীভাবে সেফ করবো?
ছন্দা কর্মকার: আসলে আমি তো সমাজে একা থাকিনা।এক হতো আমি এখানে রিচফ্যাক্টর আমার একাকে নিয়ে সমাজ তখন হয়তো আমি একটা কিছু প্রটেক্টিভ ওয়ে বলতাম যেহেতু আমি একা না সেখানে হোল এনভাইরনমেন্টটাকে চেঞ্জ করতে হবে সেখানে আমরা টিভিতে কিছু বিজ্ঞাপন দিতে পারি, কিছু সেমিনার করতে পারি যাদের সাথে হয়েছে তাদের ঘটনার তদন্ত করতে পারি বা ঘটনা ঘটার সাথে সাথে যদি তার পানিশমেন্টের ব্যাবস্থা আর সাথে সবাইকে যদি জানানো হয় আমি ভিক্টিম আর সে কালপ্রিট……

 

খোশগল্প.কম: জ্বী ম্যাম আসলে সেটাই কিছু করতে না পারি এটলিস্ট জোরে চিৎকার তো করতে পারি।
ছন্দা কর্মকার: আমি এই কাজ টা যদি করি বা ইমিডিয়েট যদি শাস্তির ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে হয়তো সে আর পরে ভয়ে ওই কাজ গুলো আর করবেনা।আর সবাইকে নিয়ে প্রটেস্ট করার সেই এটমোস্ফেয়ারটা থাকতে হবে আর পরে যদি এই ব্যাপারগুলো আর না হয় সে ক্ষেত্রে আমরা সেমিনার করতে পারি টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারি, মিডিয়া কিন্তু এখন অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট।

 

খোশগল্প.কম: অনেক কথা জানলাম ম্যাম।অনেক ধন্যবাদ।
ছন্দা কর্মকার: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সময় এখনি।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত