I am happy withh all of my sorrows……কথাটি বলছিলেন আমিনুল হক পলাশ। স্কুল কলেজ থেকে রাজনীতিক চিন্তা নিয়ে বেড়ে ওঠা। নিজের ভব্যিষতের জন্য বাবা মার প্রয়াসে কিছুটা বিরতি আসলেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। সামনের দিনেও সেই চেতনা নিয়ে এবং নিজের মেয়েকেও সেই চেতনা দিয়েই বড় করতে চান।

এপ্লাইড ফিজিক্স নিয়ে পড়তে পারলে হয়তো বেশি খুশি হতাম আমি

লিখেছেন...admin...মার্চ 14, 2016 , 12:21 অপরাহ্ন

ড়ৃদৃুব১

খোশগল্প.কম: আপনার বুয়েটের সেশন কোনটা ছিলো?

পলাশ: ২০০৬ – ০৭

খোশগল্প.কম: স্কুল বা কলেজ লাইফ কি ঢাকাতেই কেটেছে?

পলাশ: আমার কলেজ নটরডেম কলেজ। কিন্তু স্কুল লাইফ কেটেছে ময়মংসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। কলেজ লাইফটা ছিলো অনেকটা ফটিক এর মতো, হঠাৎ করে প্রকৃতির বিশালতা ছেড়ে ইট পাথরের শহরে বন্দী হয়ে যাওয়া।

খোশগল্প.কম: এই বন্দি হওয়াটা নিজ ইচ্ছায় তো তাহলে ছিলো না  হয়তো…!

পলাশ: একদমই না। আমার ইচ্ছা ছিলো নিজ বাড়ি ছেড়ে সর্বোচ্চ ময়মংসিংহ পর্যন্ত যাওয়া। কিন্তু স্কুল লাইফ থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে বাবা মা অনেকটা জোর করেই ঢাকা পাঠিয়ে দেন।

খোশগল্প.কম: “রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা” ব্যাপারটা কি একটু ইন ডেপথ বলা যায়?

পলাশ: আমার বড় মামা সরাসরি সক্রিয় ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বাবা সরকারি চাকরিজীবী, তাই সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও প্রচন্ডরকম রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ছিলেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধু অন্তঃপ্রান। আমার মনে আছে সেই ছোটবেলাতেই আমি আব্বুর সাথে বসে রাত ৮ টার বিটিভির খবর দেখতাম, বিবিসি বাংলার নিউজ শুনতাম। আব্বা আমাকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতেন। নিয়মিত সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতেন। আমি নিজেও পড়তাম বই। এভাবেই মূলত বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা, রাজনীতির প্রতি মোহ জন্মায়।মামা যেহেতু সক্রিয়ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, তাই উনার সাথে নিয়মিত আওয়ামীলীগের বিভিন্ন মিটিং মিছিলে যেতাম। হয়তো চিন্তাটা অনেক বড় পরিসরে ছিলো না, বাট এই কাজ করতে ভাল লাগত।

খোশগল্প.কম: এই ভালো লাগা থেকে করায় মামার একটা অনুপ্রেরনা ছিলো, কিন্তু পরে সচেতনভাবে নিজেকে রাজনীতির সাথে সক্রিয়তা কবে থেকে?

পলাশ: মামার থেকে বেশি অবদান ছিলো আমার আব্বুর। মামা রাজনীতিতে থাকার কারনে আমার মিটিং মিছিলে যাওয়াটা সহজ হয়েছে। নটরডেম কলেজে থাকাকালীন সময়ে আসলে সেভাবে রাজনীতি করার সুযোগ ছিলো না। একে তো নতুন জায়গায় এসে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে, তার উপর ছিলো পড়াশোনার চাপ। আমি এইচএসসি এক্সাম দেই ২০০৬ সালে, তারপর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। এইসময়ের মাঝে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকা ছাড়া সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সুযোগ হয়নি।

খোশগল্প.কম: এটা একধরনের মানসিক ধাক্কা ঐ বয়সের যে কোন ছেলে বা মেয়ের জন্য। তো ব্যাপারটাকে কাটিয়ে ওঠা কি হয়েছিলো পরবর্তীতে?

পলাশ: ঢাকায় এডজাস্ট করাটা আসলেই একটা বড়সড় মানসিক ধকলের ব্যাপার ছিলো। আর বাংলাদেশের আর দশজন বাবা মায়ের  মতো আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো ইঞ্জিনিয়ার হবে ছেলে । সেই জন্যই বুয়েট টার্গেট করা।

খোশগল্প.কম: বুয়েট এ ভর্তি হতে হবে এমনটাই কি একমাত্র লক্ষ্য ছিলো সে সময়?

পলাশ: ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের সাবজেক্ট ছিলো ফিজিক্স। ঢাবির এপ্লাইড ফিজিক্স নিয়ে পড়তে পারলে হয়তো বেশি খুশি হতাম আমি।

খোশগল্প.কম: হলে থাকতেন নিশ্চয়ই…….

পলাশ: হুম, শুরু থেকেই হলে থাকতাম। আহসানউল্লাহ হল (পশ্চিম)

খোশগল্প.কম: বুয়েট লাইফ পার করে এসেছেন,ওই সময়ের কিছু কথা শুনতে চাই।

পলাশ: বুয়েট লাইফকে যদি এককথায় বলি, অসাধারণ। এর থেকে বেশি আমি কল্পনাও করতে পারতাম না। আমি নিয়মিত খেলাধুলা করতাম। হল ফুটবল টিম, ফ্যাকাল্টি ক্রিকেট টিমে খেলতাম।

খোশগল্প.কম: ওই কয়েক বছরের সেরা তিন এচিভমেন্ট যদি জানতে চাই!

পলাশ: এচিভমেন্ট আসলে অনেক। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর পরপর দুইবারের  জিএস এবং ভিপি। সেইসাথে ছিলো আমার প্রাণের সংগঠন বুয়েট ছাত্রলীগ। প্রথমে ছিলাম আহসানউল্লাহ হল ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি, তারপর বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতি, এবং সর্বশেষ বুয়েট ছাত্রলীগের আহবায়ক। এক কথায় বলা যেতে পারে দারুন রঙ্গীন ছিলো বুয়েটের দিনগুলো। অবশ্যই বুয়েট ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়াটাই সেরা এচিভমেন্ট। আর ব্যক্তিগত ভালো তৃপ্তি ছিলো যে রাজনীতির পাশাপাশি কো কারিকুলার একটিভিটিজ গুলোতেও সমানতালে অংশ নিতে পেরেছি, নানা ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করেছি।

খোশগল্প.কম: তাহলে তো বলতে হয় মাঝে যে বিরতিটা ছিলো সেটা আরো দ্বিগুন ভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন বুয়েটের সময় টায়..

পলাশ: হুম তা ঠিক। আমাদের ক্লাস শুরু হতে প্রায় ৭ মাসের মতো দেরি হয়। সবকিছুর একটা ফ্রেশ স্টার্টের জন্য এটা ব্রেদিং স্পেস হিসেবে কাজ করেছে।

খোশগল্প.কম: সামনে প্ল্যান কি রাজনীতি জড়িয়ে?

পলাশ: আসলে রাজনীতি আমার রক্তে মিশে আছে। তাছাড়া আমার কাছে রাজনীতির সংজ্ঞা হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে সার্বিকভাবে দেশের অগ্রগতির জন্য চিন্তা করা, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ব্রতী হওয়া।  তাই প্রতিনিয়ত একটা রাজনৈতিক চর্চার ভিতরেই আসলে দিনযাপন।  অবশ্যই আরো বড় পরিসরে রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে।

খোশগল্প.কম: আপনার তো রিসেন্টলি বাবা হয়েছেন তো মেয়েকে নিয়ে চিন্তা কেমন এই ব্যাপারে?

পলাশ: নিঃসন্দেহে বাবা হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটার অনূভুতি আসলে বুঝিয়ে বলার মতো না। পিতৃত্ব আমাকে স্বয়ংসম্পূর্ন করেছে। আমি খুব করেই চাইবো মেয়ে দেশের জন্য কিছু করুক। সেটা রাজনীতি করেই হোক বা অন্যকোন কাজের মাধ্যমেই হোক। ব্যক্তিগত ইচ্ছা সে আমার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার  আদর্শ ধারন করে বড় হবে। তাই তার নামের সাথেই নেত্রীর নামটি জুড়ে দিয়েছি। তাছাড়া আমার মেয়ের জন্মদিন আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনও একই দিনে। ওর নাম নৈঋতা হাসিন রৌদ্রময়ী।

খোশগল্প.কম: বাহ।আর ছাত্ররাজনীতিরর নাম শুনলেই কপাল কুঁচকানো একটা ব্যাপার চলে আসে,এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন…

পলাশ: দেখুন, ছাত্ররাজনীতি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অনিবার্য। এর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। হ্যা, এটা ঠিক বেশ কিছু যৌক্তিক সমালোচনা আছে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ছাত্ররাই কিন্তু দেশের যে কোন সংকটে সবার আগে ঝাপিয়ে পড়েছে। অতএব ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেউই তো ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। তাই নাক না কুচকিয়ে বরং গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক সমালোচনার মাধ্যমে সবাই ছাত্ররাজনীতিকে সঠিক পথে রাখার সুযোগ করে দিতে হবে। একই সাথে বড়দলগুলোরও তাদের ছাত্র সংগঠনের ব্যাপারে আরেকটা মনোযোগী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাদেরকে অবশ্যই অভিভাবক সুলভ আচরন করতে হবে, নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করা যাবে না। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে রাজনীতির সবচেয়ে পবিত্রতম রুপ। খেয়াল করে দেখুন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোই হচ্ছে ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার। দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেমেয়েরা এই বিশ্ববিদ্যালয় আঙ্গিনায় পা রাখে। এমন একটি ছেলে যখন উজ্জ্বল পেশাগত কিংবা নিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি উপেক্ষা করে রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করে তখন অবশ্যই সে ভাল কিছু করার আশা নিয়েই করে। এরা যেন কখনো ভুল পথে না যায় কিংবা ভুল শিরোনাম না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সকলকেই সজাগ থাকতে হবে, সহযোগিতামূলক আচরন করতে হবে।

খোশগল্প.কম: জীবনে এমন কিছু অপূর্নতা কি রয়েছে যা এখন মনে পড়ছে?

পলাশ: ব্যক্তিগত সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তি হল জাতির জনককে সামনাওসামনি দেখতে না পারা। তাছাড়া আমি যা তাই নিয়েই আমি খুশি। তৃপ্ত। I am happy with all of my sorrows. আরেকটা কথা একজনের কথা না বললে আসলে ভুল করা হবে। আমার স্ত্রী ফারহানা হক ইন্দ্রা। আমার সবকিছুই এতো চমৎকার ভাবে আগলিয়ে রাখে যা বলে বুঝানো যাবে না।  আমার জীবন কে অনেক সহজ ও সুন্দর করেছে সে। তার উপস্থতিতিই আমার সবচেয়ে বড় অণুপ্রেরনা। তার মতো একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

খোশগল্প.কম: সবার শেষে “আমিনুল হক পলাশ”  সম্পর্কে আপনার কাছে কিছু জানতে চাই।

পলাশ: “আমিনুল হক পলাশ” দোষে গুণে ভরা একজন মানুষ যে নিজের বিবেকের কাছে সবসময় পরিষ্কার থেকে একজন খাটি মানুষ হবার চেষ্টায় লিপ্ত আছে।

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত