মোহাম্মদ ইউসুফ আলি ইমন, একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন মিডিয়া কর্মী। “আমি এখানে সব সফলতার গল্প বলছি, কিন্তু আমি জীবনে ব্যর্থও হয়েছি অনেক, অনেক কাজে বাধা পেয়েছি । নিজে অনেক কাজে ব্যর্থ হয়ে চেষ্টা করেছি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াব”। পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে আমার গবেষণা করার ইচ্ছা আছে। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ খরুচে প্রক্রিয়া। এই খরচের পরিমাণটা কমানো যায় সেটা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা আছে। , এটা আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন । আজ কথা হচ্ছে তার সাথে।

কথা বলার যে স্কিল এটা জবের বাজারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 26, 2016 , 12:21 অপরাহ্ন

em

খোশগল্প.কম: মানুষ হিসাবে কোন পরিচয়ে নিজকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

ইমন: নিজকে একজন ভালো মানুষ হিসাবে পরিচয় পাওয়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি মূলত একজন ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু মিডিয়াতে কাজ করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি ।

খোশগল্প.কম: তাহলে  আপনি নিজেকে মিডিয়া কর্মী হিসাবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পরিচয় দিতে চান?

ইমন: বিষয়টা একে অপরের পরিপূরক, আমার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনে থাকবে, কিন্তু পার্ট টাইম মিডয়ায় কাজ করব। মিডিয়া সৃজনশীল কাজের একটা জায়গা। ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি ভালো লাগা থেকেই আসা।

খোশগল্প.কম: পড়ছেন প্রকৌশলে, কিন্তু হুট করেই কিভাবে মিডিয়াতে ঢুকলেন, নাকি ছোটবেলা থেকেই প্লান ছিল?

ইমন: আমার পরিবার সহ অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে, এমনকি আমার পরিচিত অনেক বড় বা স্যাররা বলেন, তুমি কি করতে চাচ্ছ? আমার  প্লান হচ্ছে, একটা সেক্টরে কেউ সেভাবে আগাতে পারে না, ছোটবেলা থেকে আমার প্ল্যানিং ছিল যেন একটা সেক্টরে কাজ করলেও যেন সব সেক্টরেও আমার দখল থাকে। তাছাড়া সবসময় বিজি থাকতে আমার ভালো লাগে।

খোশগল্প.কম: প্রকৌশলে আসলেন কি নিজের ইচ্ছায়, নাকি পরিবারের চাপ ছিল ?

ইমন: সেকেন্ড ইয়ারে এসে আমার লক্ষ্য পাল্টায়। আমার তখন ইচ্ছা জাগে আমি একজন ভালো প্রকৌশলী হব। পাওয়ার প্লান্ট আর টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে আমার আগ থেকেই আগ্রহ ছিল। মিডিয়ার কাজটা সবসময়ই আমার কাছে ঐচ্ছিক হিসাবে থাকবে। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন সুনামের সহিত প্রকৌশল সেক্টরে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

খোশগল্প.কম: আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরিও চালিয়ে যাচ্ছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরি এই জায়গাটাকে কিভাবে সাম্যাবস্থায় রাখেন?

ইমন: আমি ২টা কেই ভালোভাবে চালিয়ে নিচ্ছি। আল্লাহর রহমতে আমার সিজিও ভালো। আমি যখন ঢাকায় প্রথম আসি, তখন আমি ভাবলাম যদি আমরা জব এক্সপিরিয়েন্স থাকে তাহলে আমি যখন বি এস সি শেষ করব তখন আমি অন্যদের থেকে একধাপ এগিয়ে থাকব। অলরেডি আমি সেই ফলও পেয়েছি।

খোশগল্প.কম: আপনি গ্রামীনফোনের কাস্টমার কেয়ারে চাকরি করেন, কাস্টমার কেয়ারে চাকরি করা মানে অনেক মানুষ হ্যান্ডেল করা। সে  ক্ষেত্রে কিছু অভিজ্ঞতার কথা।

ইমন: আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি কমুনিকেশন স্কিল বা মানুষের সাথে রিলেশনের যেই জায়গাটা অনেক জরুরী। যেখানে সারাদিন মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। এমন এক্সপিরিয়েন্স এর মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে যে, প্রথম দিকে আমি সিলেটের ভাষা বুঝতাম না। সিলেটের এবং চট্টগ্রামের ভাষা বুঝতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছে, এখন এটা কোন ব্যাপার না । ওভারঅল এটা ভালো একটা প্লাটফরম।

খোশগল্প.কম: কমিউনিকেশন স্কিলটাকে এত জরুরী মনে হয় কেন?

ইমন: দেখেন আপনি যখন ইন্টার্ভিউ দিতে যাবেন, তখন প্রথমত যে জিনিসটা দেখবে আপনার কমুনিকেশন স্কিল টা যথোপযুক্ত আছে কিনা?  আমার এখন বর্তমানে ফোর জি যুগে চলে এসেছি। এখন কাজ হচ্ছে কমুনিকেশন এর দক্ষতার উপরে। আপনি আপনার ক্রিয়েটিভিটি যত দিতে পারবেন আপনার আউটপুট তত ভালো আসবে । এটা আমি ছোটবেলা থেকেই বিশ্বাস করতাম।

খোশগল্প.কম: আমি মিডিয়াতে কাজ করছেন, মিডিয়া শব্দটা কিন্তু অনেক বিস্তৃত, আপনি ঠিক কোন ফিল্ডে কাজ করছেন মিডিয়াতে?

ইমন: আমি বর্তমানে একটা অনলাইন রেডিও তে নিউজ প্রেজেন্টার ও আরজে হিসাবে। প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার আমার শো থাকে ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত। একটা নিউজ চ্যানেলে হয়ে গেছে, অচিরেই নিউজ প্রেজেন্টার হিসাবে আপনার দেখতে পাবেন। আমি উপস্থাপক বা নিউজ প্রেজেন্টার হিসাবে নিজেকে মিডিয়ায় ফুটিয়ে তুলতে চাই।

খোশগল্প.কম: নিউজ প্রেজেন্টেশনের প্রক্রিয়াটায় ঠিক কিভাবে যুক্ত হলেন?

ইমন: আমি ২ জায়গায় থেকে ট্রেনিং করেছি, সেখান থেকে ট্রেনিং করার পর আমি বিভিন্ন কাজ করতে থাকি। যেমন প্রোগামে প্রেজেন্টার হিসাবে ছিলাম, ইউনিসেফের ২ টা প্রোগাম করেছিলাম। বিভিন্ন প্রোগাম প্রেজেন্ট করতে করতে কথা বলার প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়ে গিয়েছিল। মানুষ যতই জানুক না কেন, তাকে প্রথমত জানতে হবে কথা বলা, না জানলে নিজের প্রতিভাটা ফুটিয়ে তুলতে পারবে না। কথা বলার যে স্কিল এটা জবের বাজারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

খোশগল্প.কম: আপনি যে কথা বলা শিখার জন্য কল সেন্টারে চাকুরী করছেন, কথা বলা শিখার মাধ্যমে আপনি কি শুধু নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে চান নাকি অন্যকেও অনুপ্রেরণার দিতে চান?

ইমন: আমি নিজেকে অনেক ছোট মনে করি এখনও। আপনি বাংলা বা ইংরেজিতে কথা বলেন সমস্যা নাই, ভাষার সঠিক ব্যবহারটি করা উচিৎ। আমি মনে করি কেউ যদি যে কোন একটা ভাষা সঠিকভাবে বলতে পারে, সে যে কোন কাজ করে খেতে পারবে এটা আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি।

খোশগল্প.কম: আপনার পরিবারের গল্প বলেন

ইমন: আমার গ্রামের বাড়ি হচ্ছে ঠাকুরগাঁও। আমি এস এস সি পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করেছি, সৈয়দপুর ক্যন্টনমেন্টের পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে।

তারপর আমি ভর্তি হই, আই ইউ বি টি তে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ। আমি তৃতীয় বর্ষে আছি ।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা ভাবতেন কি হবেন?

ইমন: আমি ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম ইঞ্জিনিয়ার হব। আমি যে গ্রামে থাকি তার আশেপাশে কোন ইঞ্জিনিয়ার নেই, আমি যে গ্রামের সে গ্রামেও নেই। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হব। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ছিল, কিন্তু বি এস সি ইঞ্জিনিয়ার ছিল না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ার হব।

খোশগল্প.কম: আপনার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় পথে কতটা আগালেন?

ইমন: মোটামুটি ভালোই। আমি থার্ড ইয়ারে আছি, মোটামুটি আর একবছর লাগবে শেষ হতে। তারপর এম এস সি টা দেশের বাইরে করার। একবছর সেখানে থেকে আবার দেশে চলে আসব।

খোশগল্প.কম: আপনার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশন নিয়ে স্বপ্ন কি?

ইমন: পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে আমার গবেষণা করার ইচ্ছা আছে। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ খরুচে প্রক্রিয়া। এই খরচের পরিমাণটা কমানো যায় সেটা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা আছে। সেক্ষেত্রে আমার কিছু ক্রিয়েটিভ চিন্তা আছে, এটা আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন । পড়ালেখা শেষ করে এদিকে কাজ করার ইচ্ছা আছে, কিভাবে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কমানো যাবে এবং বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া যাবে সবার কাছে।

খোশগল্প.কম: এই যে অফিস, ইউনিভার্সিটি, পরীক্ষা, রেডিও, সবকিছু মিলিয়ে কিভাবে ম্যানেজ করেন দিনটাকে?

ইমন: আমার দিনটা শুরু হওয়ার আগের দিন আমি প্লান করি, কোনসময় কোন কাজটা করব, কয়টা বাজে কোথায় থাকব? এরমধ্যে আমি আবার টিউশনী করতাম, কোচিং করাতাম; সেখানেও সময় দিতাম। দেখা যেত এসব করে ফিরতে ফিরতে রাত১২ টায় বাসায় ফিরতাম।  রেগুলার ১২ টার আগে বাসায় ফিরা হয় না। তবে দিনশেষে সবকাজগুলো কমপ্লিট হলে নিজকে নিজের কাছে সেরা মনে হয়।

খোশগল্প.কম: দিনশেষে যখন হতাশ হয়ে যান, তখন কিভাবে অনুপ্রেরণা পান?

ইমন: আমি এখানে সব সফলতার গল্প বলছি, কিন্তু আমি জীবনে ব্যর্থ ও হয়েছি অনেক, অনেক কাজে বাধা পেয়েছি । নিজে অনেক কাজে ব্যর্থ হয়ে চেষ্টা করেছি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াব। আমার ২ টা সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল সে দুটো সেক্টরের কাজ করার ফল্ট গুলো থেকে এখন বাস্তবে রূপ নিতেছে। টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল সেখানে এখন কাজ করছি, হয়তো ভবিষ্যতে আরও ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করব। আর পাশাপাশি মিডিয়াতে কাজ করার স্বপ্ন টা পূরণের পথে। অনলাইন রেডিওতে কাজ করছি আবার খুব শ্রীঘই একটা নিউজ চ্যানেলে নিউজ প্রেজেন্টার হিসাবে জয়েন করছি। তো দিনশেষে এই গল্প গুলো হতাশাকে দূর করে দেয়।

খোশগল্প.কম: আপনি অনুপ্রেরণার জন্য কোন মানুষটাকেই ফলো করেন বা কি এমন জিনিস থেকে অনুপ্রেরণার পান?

ইমন: ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে আমি অনুপ্রেরণার পাই যার কাছ থেকে, তার নাম না বললেই নয়।  এ কে এম খায়রুল বাশার, উনি একজন সুপারিন্টেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার। উনার থেকে আমি এক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার পাই। আমি যখন উনার সফলতা দেখি, তখন আমার মনে হয় আমার ও এ সেক্টরে অনেক কাজ করা দরকার। মিডিয়াতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে গোলাম রাব্বি ভাই। আগে উনি সময় টিভিতে নিউজ প্রেজেন্টার হিসাবে কাজ করতেন। উনার সাথে কথা বলে আমি একটা জিনিস শিখতে পারি কিভাবে এত ব্যস্ততার মধ্যে থেকেই সবকিছু করা যায়। তারকথা শুনে আমার ও মনে হয়, ব্যস্ততার মধ্যে আমার ও এগিয়ে যেতে হবে। এই ২ টা মানুষ থেকে আমি সবসময় অনুপ্রেরণার পাই।

খোশগল্প.কম: ভালো মানুষের সংজ্ঞাটা কেমন আপনার কাছে?

ইমন: দেখেন এই যে ঢাকার শহরে কত মানুষ একে অপরকে কেউ সাহায্য করবে না। যে যার মত হাঁটবে। কারো সাথে  কথা বলে না, স্বাভাবিক ভাবে হাটে। বিপদে আপদে এগিয়ে আসে না। আমি ভালো মানুষ বলতে বুঝি কারো ক্ষতি না করা, নিজের কথা বা কাজে অন্য মানুষ যেন কষ্ট না পায়। আমি এগুলোকে ভালো মানুষের গুণ হিসাবে মনে করি। আল্লাহতালা যদি ক্ষমতা দেন, তাহলে ভবিষ্যতে এতিম এবং বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে কাজ করার।

খোশগল্প.কম: মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে, মূল্যবোধ কমে যাচ্ছে, এর পিছনের  কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

ইমন: বর্তমানে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন কমে যাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে যা মনে করি, ব্যস্ত থাকলে মানুষের আচার ব্যবহার ভালো হয়ে যায় এবং মাথায় কোন নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা আসে না। উন্নত দেশগুলোতে মানুষগুলো কাজ নিয়ে বেশি ব্যস্ততার কারণে হয়তো মানুষের মধ্যে অপরাধ কম সংঘটিত হয়।

খোশগল্প.কম: আপনি তো মানুষ হিসাবে ইন্ট্রোভাট, এই জিনিসটাই আপনার কর্মজীবন বা অন্য যে ক্ষেএের কথা বলেন না কেন,  কতটা সহযোগী বা সমস্যা করছে?

ইমন: এই ব্যাপারটা শুধু আপনি না, সবাই মনে করে। ছোটবেলা থেকেই সবাই আমাকে বলত আমি এত চুপচাপ কেন?  এ কথা আমার বহুবার শোনা লাগছে মানুষের কাছ থেকে। আমি সবসময় একটু হাসিখুশী মানুষ, আমি চাই না আমার কথা দিয়ে কেউ কষ্ট না পায়। আমার কথায় যদি কারো উপকার হয় তাহলে আমার নিজকে ধন্য মনে হয়।

খোশগল্প.কম: দিনশেষে কি আপনি সুখী মানুষ?

ইমন: হুম, আমি সুখী মানুষ। দিনশেষে আমি আল্লার কাছে সুক্রিয়া জ্ঞাপন করি।

খোশগল্প.কম: সফলতা কি সুখ নাকি সুখী মানুষ হলাটাই সফলতা?

ইমন: আমি প্রথমেই বলেছিলাম আমি ভালো মানুষ হতে চাই। একজন ভালো মানুষ হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।

খোশগল্প.কম: আপনার ফিউচার প্লান কি?

ইমন: যখন আমার গ্রাজুয়েশন শেষ করব, তখন আমি নিজকে ম্যাকানিকাল জব সেক্টরে নিয়ে যেতে চাই আর মিডিয়াতে নিজকে প্রেজেন্টার হিসাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত