সুবর্ণ আদিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের এসিট্যান্ট প্রফেসর।শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, আর বাস্তবতার সমান্তরালে বলেছেন চমকপ্রদ সব জীবনমুখী কথা, “আমি কী পাইলাম, পাইলাম না এটা ম্যাটার না, কিছু করে যেতে পারলে যেটা মানুষের জীবনে কাজে লাগবে এবং মানুষই এটার মধ্যে দিয়ে মনে রাখবে, দ্যাট উইল বি মাই এচিভমেন্ট”

মানুষের জীবনে যত লার্নিং হয় তার 80%ই আসে ট্রাভেলিং থেকে!

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 27, 2016 , 3:20 পূর্বাহ্ন

12144950_10153030596880981_580456447242461086_n

খোশগল্প.কম: স্যার প্রথমে পরিচয়টা নিতে চাই পাঠকদের জন্য

সুবর্ণ: আমি একজন টিচার এইটাই সবচাইতে বড় পরিচয়।আমি ফাইন্যান্স পড়াই, যদিও আমি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের এসিট্যান্ট প্রফেসর, কিন্তু ডেজিগনেশনটা মেইন ব্যাপার না।আমি নিজে শিখি এবং ছেলেমেয়েদের শিখানোর চেষ্টা করি, আমি শিক্ষক এইটাই বড় পরিচয় আসলে।এর চাইতে আর বেশী কিছুতো বলার নাই।

 

খোশগল্প.কম: স্যার আপনি ঢাকা ইউনিভার্সিটিরই স্টুডেন্ট ছিলেন?

সুবর্ণ: হ্যাঁ, আমি ফাইন্যান্স থেকে।

 

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় কী এখানেই থাকতেন?

সুবর্ণ: ছোটবেলায় চিটাগাং ছিলাম, এইচ.এস.সি পর্যন্ত চট্টগ্রামে, তারপর এখানে বিবিএ তে ভর্তি হয়েছিলাম, বিবিএ এমবিএ শেষ করে বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি।তারপর এখানে এসেছি।

 

খোশগল্প.কম: স্যার চট্রগ্রামের ঐ সময়ের কথা শুনি, স্কুল-কলেজ নিয়ে

সুবর্ণ: আমার আব্বা-আম্মা চিটাগাং থাকতেন, ঐটাতো নিজেদের বাড়ি, আমাদের বাড়ি রাউজান এলাকায়।বাসা সদরঘাট এলাকায়, বাবা-মা আমরা সবাই তখন চিটাগাং থাকতাম।আমি এইচ.এস.সি করেছি চিটাগাং কমার্স কলেজ থেকে।তারপর তো এখানে, আমার ছোটভাই, ঔ চিটাগাং থাকতো, এখন বুয়েটের টিচার, বড় বোন চিটাগাং পড়াশুনা করছে, এখন সোনালী ব্যাংকে আছে।এখন  আসলে সবাই ঢাকা, এক্সেপ্ট বাবা আর মা।উনারা দুইজন চিটাগাং থাকেন।

 

খোশগল্প.কম: নাইন-টেনে কি শুরু থেকেই কমার্সে ছিলেন?

সুবর্ণ: আমি এস.এস.সিতে সাইন্সে ছিলাম, তারপরে ডাইভার্ট করে বিজনেস স্টাডিজে আসছি।বিজনেস স্টাডিজে আসার দুইটা কারণ ছিলো।প্রথম, প্রধান কারণ ছিলো, এখন যেমন বিবিএ, এমবিএ এত স্যাচুরেটেড, বিবিএ এমবিএ এর সাপ্লাই অনেক বেশী, ডিমান্ড আছে বাট আস্তে আস্তে কমছে, আমাদের সময় ডিমান্ডটা ছিলো রাইজিং।আগে একটা ইন্টেনশন ছিলো যে বিজনেসে পড়বো, এটার কারণে এস.এস.সি পর্যন্ত সাইন্সে পড়ার পর ইন্টারমিডিয়েটে গিয়ে ডাইভার্ট করলাম।

 

খোশগল্প.কম: আর দ্বিতীয় কারণটা স্যার?

সুবর্ণ: আর দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে একজন মানুষের সে যে সাবজেক্টেই পড়ুক না কেন, যে বিভাগেই পড়ুক না কেন মিনিমাম বিজ্ঞান তার জানতে হবে, বেসিক সাইন্স না জানা এটা একধরণের অপরাধ;যারা একটা মিনিমাম লেভেল পর্যন্ত সাইন্স পড়ে না তারা একটা বিশাল গ্যাপের মধ্যে থাকে।ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ম্যাথ পড়তে হবে, এগ্রিকালচার সাইন্স পড়তে হবে, সব সাইন্সই দরকার আছে।এই যে সবধরণের সাইন্সের একটা মিনিমাম ধারণা রাখে না তারা কিন্তু পরবর্তী জীবনে তাকে বিজনেস পড়তে দিলেও সে পারবেনা, তাকে কলা পড়তে দিলেও সে ভালো করতে পারবে না।বিজ্ঞান একটা মৌলিক নলেজ, এই মৌলিক জ্ঞানটা প্রতিটা মানুষেরই কিছু না কিছু জানা প্রয়োজন।সেই হিসেবেই নাইন-টেনে সাইন্সে পড়ে আমার বেসিকটা অন্তত ডেভেলপ করর চেষ্টা করছি।

 

খোশগল্প.কম: তাহলে স্যার নাইনে থাকতে সচেতনভাবেই আপনি সাইন্স নিছিলেন যে ইন্টারমিডিয়েটে গিয়ে আমি বিজিনেসে সুইচ করবো?

সুবর্ণ: সচেতন ভাবে যেটা বললেন ঐটা ছিলো যে বেসিক নলেজটা নিতে চাইছি।আর টেনের শেষের দিকে চিন্তা করলাম যে এখন তো বিজনেস রাইজিং, এবং ভাবলাম এইটা আমার কী উপকারে লাগবে এবং ভেবে দেখলাম এইটা আমার যথেষ্ট উপকারে লাগছে, পরে কনফার্ম হইছি বিজনেসে যাব।আর আমার যারা মেন্টর ছিলেন আমার একজন টিচার, হাইস্কুল লেভেলে ইংলিশের টিচার, সেকেন্ড কারণটা উনি উপলব্ধি করতেন বিধায় উনি আমাকে গাইড করেছিলেন তুমি সাইন্সে পড়ো, পরে তুমি যেখানেই মাইগ্রেট করো না কেন এইটা তোমার কাজে লাগবে, ভালো করতে পারবে।

 

খোশগল্প.কম: হ্যাঁ, ঐ বেসিক সাইন্সটা এত কমন যে ঐটা সাধারণ যে কোন কিছু বুঝতে গেলেই লাগে, সেটা বিসিএস বা চাকরীর যে কোন পরীক্ষার ক্ষেত্রেও হলেও; কিন্তু স্যার সাধারণভাবে এই বোধটা তো ঐ সময়ে সবার মধ্যে গ্রো করবে না, তাহলে এখন যারা বিবিএ, এমবিএ করছে তারা কী করবে?

সুবর্ণ: নাইন-টেনে আসলে বিজনেসে কিছুই পড়ানো হয় না, আমি পার্সোনালি মনে করি যে ম্যাথ মাস্ট বি মেন্ডেটরি ফর অল, প্রত্যেককে ফিজিক্স পড়তে হবে, প্রত্যেককে বায়োলজি পড়তে হবে; যেমন এখন আমরা আমাদের বিবিএ প্রোগ্রামে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি পড়াচ্ছি, আমরা এখানে জেনারাল সাইন্স পড়াচ্ছি, তো তারা তখন যখন পড়ে নাই তারা কিন্তু এখানে একদম নতুন, দ্য ওয়ে উই টিচ, সব তো ইংরেজিতে, পড়ানো-বই, তো এইগুলো তার ক্যাপচার করতে কষ্ট হয়, একজন স্টুডেন্ট নাইন থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত চার বছর যখন একাউন্টিং আর ব্যবসায় নীতি প্রয়োগ করতে করতে মাথা যখন ঝালাপালা হয়ে যায় তার মাথা থেকে বিজ্ঞান চলে যায়, গণিত চলে যায়;এগুলো পড়তে পড়তে অভ্যস্ততা হয়ে যায়, বিজ্ঞান এর কথা তার ধারণা থেকেই চলে যায় যে এটা কীভাবে বুঝতে হয়, কীভাবে দখলে নিতে হয়, এই এবিলিটিই তার মধ্যে থাকে না।তারপর যখন আমরা বিবিএ তে জেনারেল সাইন্স পড়াই, এটাতো ইংরেজি বই, নোট ইংরেজি তখন অলমোস্ট ৮০/৯০% স্টুডেন্টের এইটা ক্যাপচার করতে খুব কষ্ট হয়ে যায়।এই জ্ঞানটুকু যদি এস.এস.সি তে পড়ে আসতো তাহলে তাদের এই কষ্টটা হইতো না।এখন এইটা তো তাদের দোষ না, শুধু সিস্টেমের দোষ না, আমাদের এডুকেশন সিস্টেমের দোষ, এইটা নিয়ে অনেক কাজ করার আছে।

 

 

খোশগল্প.কম: স্যার আপনি এখন বেশ ডেডিকেটেডলি টিচিং প্রফেশনটা করছেন, আপনি যখন পড়তেন তখন কী টিচিং প্রফেশনই আপনার এইম ছিলো?

সুবর্ণ: না, আমি খুব একটা সিরিয়াসভাবে টিচিং এর প্রতি টার্গেট করে পড়ি নাই, বিবিএ তে প্রথম তিন বছর তো একেবারেই পড়ি নাই, ফোর্থ ইয়ারে মনে হইছে যে টিচিংটা হতে পারে।তখন তিনবছর অলেরেডি চলে গেছে, ঐ রেজাল্ট তো ভালো করার আর কোন উপায় নাই, তখন ভাবলাম যট্টুক সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করি তারপরে দেখা যাবে।মাস্টার্সে আমি খুব সিরিয়াসলি পড়ছি।

 

এখানে আমি প্রথমে জয়েন করি নাই, পাশ করে প্রথমে ‘ইন্সটিটিউট অফ মাইক্রোফাইন্যান্সে’ রিসার্চে এসিটেন্ট ডিরেক্টর ছিলাম, এটা ডিএফআইডি ফান্ডের একটা ইন্সটিটিউট, ওখানে আমি ৩-৪ বছর রিসার্চ শিখছি আগে।তারপরে ইউনাইটেড ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেছি টিচার হিসেবে, তারপরে জগন্নাথে ছিলাম, তারপর এখানে, অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়েছে।ঘুরে আসার বিভিন্ন কারণ আছে।আমি যে কারণে রেফারেন্সটা আনলাম, একটা হলো আমাদের দেশে মানুষ-জন মাস্টার্স পাশ করে টিচার হয়ে যায়, আমাদের দেশে টিচিং কোয়ালিটি ইম্প্রুভ না করার এইটা একটা বড় কারণ, একটা ছাত্র মাস্টার্স পাশ করছে দুইদিন হয় নাই, কোর্স একটা দিয়ে তাকে ক্লাসে পাঠাই দিলাম, সে নিজেই তো এখন পর্যন্ত স্টুডেন্টের ফ্লেভারটা ছাড়তে পারে নাই, সে নিজেও তো ক্লাসরুমের বাইরে কিছু জানে না।তাকে একটা বই দিয়ে পাঠাই দিলাম যে যাও একগাদা স্টুডেন্টকে পড়াই আসো, দিস ক্যান নট বি এন ওয়ে।একটা মাস্টার্স পাশ করা স্টুডেন্টকে মিনিমাম ২-৩বছর কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, এসিট্যান্ট হিসেবে হোক বা রিসার্চার হিসেবে হোক।এটা একটা সমস্যা, আরেকটা সমস্যা হচ্ছে রিসার্চ পারে না, ভালো রিসার্চ করা টাফ হয়ে যায়।অনেক বছর পরে গিয়ে হয়তো ঐ স্কিলটা ডেভেলপ করে কিন্তু ঐ জিনিসটা আমি উপলব্ধি করে প্রথমে রিসার্চ শিখছি তারপরে টিচিং এ গেছি, টিচিং এ যখন শুরু করছি তখন কিন্তু সরাসরি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আসি নাই, বাট আমার টিচিং এর প্রতি প্যাশন ছিলো, আমার মনে হইছে যে আমি যদি ভালো টিচার হই সেটা আমি জগন্নাথে হই আর ইউনাইটেড এ পড়াই ডাজেন্ট ম্যাটার, আমার প্যাশন পড়ানো, আমি যেখানে পড়াই না কেন লোকে আমাকে চিনবে, জানবে যে অমুক ভালো পড়ায়।জামাল নজরুল ইসলাম চিটাগাং ইউনিভার্সিটি থেকে ফেমাস হইছেন না? ড. ইউনুস চিটাগাং ইউনিভার্সিটি থেকে ফেমাস হইছেন না? সবাই কি ঢাকা ইউনিভার্সিটির? সুতরাং টিচিং এর প্রতি ডেডিকেশন আছে বিঁধায় অন্যান্য জায়গায় করেছি, এখানে হয়েছে তারপরে চলে এসছি।

 

খোশগল্প.কম: স্যার রিসার্চের কথা বললেন, এখন কী নিয়ে কাজ করছেন?

সুবর্ণ: এখন একটা কাজ করছি, বছরে তো দুইটার বেশী রিসার্চ করি না, ভালো কাজ করতে গেলে সময় লাগে, কষ্ট হয় অনেক।এই মূহুর্তে একটা করছি, ইতোমধ্যে অনেকগুলা করা হইছে, আর্টিকেল পাবলিশ হইছে, রিসার্চ প্রজেক্ট সুপারভাইজ করছি।

 

খোশগল্প.কম: পড়ানোটা যদিও প্যাশন তবু কখনো বোরডম আসে না পড়াতে গিয়ে বা রিসার্চে যে এত পড়িয়ে আমার কী লাভ?

সুবর্ণ: আমার পড়াতে আসলে অখনো বোরিং লাগে নাই, রেয়ার কেইস।বোরিংনেসটা পড়ানোর জন্য না, কাজ করতে করতে ক্লান্তি আসে।তখন একটা ব্রেক দরকার হয়, তখন কোথাও ঘুরে আসি।

 

খোশগল্প.কম: এই প্রসঙ্গে আসতাম, ফেইসবুকে দেশের বাইরে আপনার বেশ কিছু ছবি দেখলাম, এগুলো কি কাজের প্রয়োজনে না নিতান্তই ঘুরতে গিয়ে

সুবর্ণ: না না।ওগুলো বেড়াতে গিয়েছিলাম।আমি প্রতিবছর ঘুরতে যাই, আমার টার্গেট হচ্ছে বয়স ৫০ ফুরোনোর আগে আমি পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশ ঘুরে ফেলতে চাই।গত বছর সাতটা দেশ ঘুরছি।

 

খোশগল্প.কম: কোন কোন দেশ ছিলো সেগুলো

সুবর্ণ: থাইল্যান্ড ছিলো, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, সিংগাপুর ইন্দোনেশিয়া।

 

খোশগল্প.কম: স্যার এগুলো কী বছরের শুরুতে পরিকল্পনা করে নেন নাকি সময় অনুযায়ী

সুবর্ণ: যখন সময় হয়, সেমিস্টার ব্রেক হয় তখন।এই বছরে এখনো ওয়েট করছি, একটু আগেও মেইল চেক করছিলাম, যদি ভিসা হয়, পরশুদিন সকালে দুবাই যাবো।

 

খোশগল্প.কম: এটা কী ঘুরতে যাচ্ছেন?

সুবর্ণ: এটা কনফারেন্স প্লাস ঘোরাঘুরি।দুবাই থেকে এসে অদি ভিসা হয় অস্ট্রেলিয়া যাবো, এপ্লাই করেছি, এই সপ্তাহে রেজাল্ট চলে আসার কথা।

 

খোশগল্প.কম: স্যার এত ঘোরাঘুরি করেন, ৫০ পেরুনোর আগে অনেক দেশ ঘুরে ফেলবেন, এই  চিন্তার পেছনে কী মনস্তত্ত্ব কাজ করছে মানে এই চিন্তা আসছে কোথা থেকে বা কী থেকে?

সুবর্ণ: পৃথিবীতে কী আছে আপনার? ইজ দেয়ার এনিথিং এলস? আপনি টাকা ইনকাম করবেন, কোটি-কোটি টাকা, হোয়াট ইজ ইউর বেনিফিট? এই টাকা দিয়ে করবেনটা কী আপনি? একসময় আপনি মরে যাবেন, এই টাকা দিয়ে করবেনটা কী আপনি, রেদার সী দ্য ওয়ার্ল্ড, দুনিয়া দেখেন, অনেক কিছু শেখার আছে।একটা কারণ হলো ফিলোসফিকাল কারণ, আমি মনে করি, আমার বয়স এখন ক্লোজ টু থার্টিফাইভ, আমাদের দেশের গড় আয়ু সত্তর বছর, ফিফটি পার্সেন্ট জীবন আমি কাটায় ফেলছি, আফটার ফিফটি আমি সহজে মুভ করতে পারবো না, তাইলে আমার কাছে জীবন আছে মাত্র পনেরো বছর, এই দুনিয়াতে কত কিছু দেখা বাকী রয়ে গেলো।এখন যে অবস্থা যে কোন সময় মারা যেতে পারি, আমি যদি মারাই যাই আমার যে এই যে কষ্ট এগুলো কে নিবে, আমার যা এক্যুমুলেটেড এসেট এগুলো সামওয়ান এলস উইল বি কনজিউমিং, আমি এত কিছু করলাম কিন্তু আমি আমার নিজের মত করে জীবনকে উপভোগ করলাম না তাইলে হোয়াট ইজ দি বেনিফিট? এইটা একটা কারণ, যাতে আমি মরে যাবার আগে আমার মধ্যে আফসোস না থাকে, আমার মনে হবে আমি অর্থ ছাড়াও অনেক কিছু আর্ন করছি।দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে মানুষের জীবনে যত লার্নিং হয় তার 80%ই আসে ট্রাভেলিং থেকে।বাকী  হয়তো বই থেকে।আপনি একশোটা বই পড়েন কিন্তু আমি একটা দেশ ঘুরবো, একটা দেশ ঘুরে আমি যে অভিজ্ঞতা পাবো আপনি সেই বই পড়ে সেই অভিজ্ঞতা আপনি পাবেন না।দিস ইজ দ্য রিয়্যালিটি, এইটা যে রিয়্যালিটি বুঝতে হলে আপনাকে ঘুরতে হবে।আপনি এই বছর গিয়ে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসেন, ঘুরে আসার পর আপনি বুঝবেন যে একটা ট্রাভেলিং করার পরে সাতদিন আপনি দেখবেন আপনি কী শিখছেন।মানুষের জীবনে কত বৈচিত্র, সমাজব্যাবস্থা, এই যে আপনি আমার আপনি আমার সাথে কথা বলছেন আপনি আমার কাছ থেকেও কিছু ইনপুট পাচ্ছেন, কিছু শিখছেন, আমিও যখন এত দেশের মানুষের সাথে কথা বলি, মিশি, আমিও এরকম অজস্র জিনিস শিখি, তাদের কালচার, লাইফ লিড নানান কিছু, এইটা বই পড়ে কখনো নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারতাম না।এক এক দেশ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে গোছানো, বালিতে গেলে আপনি দেখবেন ওদের কালচার ডিফারেন্ট, ওরা একটু ধার্মিক, আবার সিংগাপুরে ধর্ম নিয়ে এত মাথাব্যাথা নাই, আবার মালদ্বীপ গেলে সেখানে ডিফরেন্ট;মালদ্বীপ খুবই দরিদ্র দেশ আমরা এই দেশের মানুষ জানি, আমি ভাবতাম ওদের ঐখানে গেলে জেলেপাড়া ছাড়া আমি কিছু দেখতে পাবো না, ওখানে গিয়ে দেখলাম ওদের রাস্তায় এক ফোঁটা ময়টা নাই এবং ওদের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ওদের কোন ভাড়া লাগে না, ইটস ফ্রী ফর অল, এক একটা দ্বীপে জনসংখ্যা মাত্র এক থেকে দেড় হাজার, মানুষ এত কম সেখানে কিন্তু রাস্তাঘাট এত নীট এন্ড ক্লিন।দেশের বাইরে গেলে অনেক অভিজ্ঞতা হয় আর কি, সোসাইটি সম্পর্কে জানা যায়, ঘরে বসে, এত বই পড়ে আপনি কখনো সেটা পাবেন না।

 

খোশগল্প.কম: স্যার বললেন যে সাতদিন পর্যন্ত একটা লার্নিং প্রসেস এর মধ্যে থাকেন, তো দেশে ফেরার পরে এই লার্নিং থেকে আফটার ইফেক্টটা কী থাকে

সুবর্ণ: আসলে আমরা যে দেখে আসি, শিখে আসি এগুলোতো আমার একার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব না, কিন্তু দেখে আসার ফলে জানাটা হয়।ফর এক্সাম্পল, জ্যাম না হওয়ার জন্য কি ধরণের রোড কমিউনেকেশন ডেভেলপ করতে হবে আমি তো জানতাম না, সিঙ্গাপুর গিয়ে দেখে আসছি বিঁধায় জানতে পারছি।আমাদের দেশে আজকে বলছে মেট্রোরেল হবে, আমি সিঙ্গাপুর গেছি বলে আমি জানি মেট্রোরেল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক জিনিস, জাপানে গেলে আপনি দেখতে পারতেন পৃথিবীর হাই স্পীড যেটাকে বুলেট ট্রেন বলছে এটা কেমন।আমি দেখে এসেছি বলে বুঝতে পারছি বিষয়টা কেমন হবে, আমি একটা উদাহরণ দেই, মেট্রোরেল মেইন্টেইন করার জন্য যে পরিবেশ আর যে প্রিপারেশন লাগবে এটা আমি গিয়ে বুঝছি, তার প্রেক্ষিতে বলছি আমাদের দেশে মেট্রোরেল চালু করার পরও বেশীদিন এটা সাস্টেইন করবে না, কারণ মেট্রোরেল মেইন্টেইন করার জন্য স্টেশনগুলোতে, পুরো রেইল ট্র্যাকে যে এনভায়রণমেন্ট লাগে এগুলো আমাদের দেশে করা যাবে না।দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর পর একেবারে ইমিডিয়েটলি এফেক্টটা হচ্ছে ধুলাবালি, জ্যাম বিরক্ত লাগে, একদিন, দুইদিন যাওয়ার পর আবার এডজাস্ট হয়।পরে একটা হতাশা কাজ করে ওরা এত সুন্দর করে রাখছে, ঐ যে বললাম মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার মত একটা দেশ, এরা তো আমাদের চাইতে খুব একটা উন্নত দেশ না, ওরা কোথায় চলে গেছে আর আমরা কোথায় পড়ে আছি, তো হতাশা কাজ করে।তো এই হতাশা গুলো থেকে ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন স্টেপ নিতে নারাজ, আমি মনে করি যে যারা এইটার পরিবর্তনটা আনতে পারে আমার মত অনেক লোক কথা বলতেছে, চেষ্টা করতেছে কিন্তু তারপরও পরিবর্তনগুলা আনা সম্ভব হচ্ছে না কারণ আমাদের ক্ষমতা একটা জায়গায় গিয়ে শেষ হয়ে যায়, করার ক্ষমতা যাদের আছে তারা করছে না, করবে না এবং আগামী ৫০/১০০ বছরেও সম্ভব না।আমি বাঁচবোই আগামী ১৫-২০ বছর আমার এত টেনশন করে লাভ কি।আমার ফিলোসফি ইজ ভেরি সিম্পল, এই দেশে আমার কাজ কি? আমার কাজ হচ্ছে পড়ানো, আমি আমার কাজে মনযোগ দিই, আমি পড়াবো, দুই-তিন বেলা খাবো, সংসার মেইন্টেইন করবো, সুযোগে দেশ-বিদেশ ঘুরবো, দিস ইজ মাই লাইফ, এর চাইতে বেশী কিছু তো দরকার নাই।

 

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।স্যার আরেকটা বিষয় আপনার সুযোগ ছিলো বা আছে দেশের বাইরে যাওয়ার যেহেতু মুভমেন্টে আপনার সমস্যা নাই; পড়ালেখা, রিসার্চ করে তো আপনি চলে যেতে পারতেন

সুবর্ণ: আমি ২০০৯ সালে এপয়েন্টমেন্ট পাইছিলাম, স্কুল অফ ইন্ট্যারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড ফাইন্যান্স, এটা হচ্ছে ইউনিভারসিটি অব মালয়শিয়ার, লেকচারার হিসেবে।ঠিক ঐ মোমেন্টে আমার জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতেও এপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, তো ওরা হোটেল রিজেন্সিতে ভাইবা নিছিলো, ২২ জনের মধ্যে আমি ফার্স্ট হইছিলাম আমি যাইনাই শেষ পর্যন্ত, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতে ঢুকছি, ইট ইজ অনলি বিকজ অব প্যাট্রিওটিজম।স্টিল এখনো পর্যন্ত এই বোধ কাজ করে, আমি  অস্ট্রেলিয়া যাবো বলছি পিএইচডির জন্য, গেলেও আমি ফিরে আসবো।দেশের বাইরে আমার পক্ষে টেকা সম্ভব না, এটা অসম্ভব কারণ এই দেশে আমার পরিবার, বন্ধু, সমাজ, আমি যেভাবে চলি, আমার লাইফস্টাইল এটা তো আমি ওখানে মেইন্টেইন করতে পারবো না।আরেকটা বড় লার্নিং উন্নত দেশগুলো থেকে, লাইফ ইজ এক্সট্রিমলি ম্যাকানিক্যাল, আই ডোন্ট ওয়ান্ট এ ম্যাকানিক্যাল লাইফ, আই ওয়ান্ট এ হিউম্যান লাইফ, যেখানে আবেগ থাকবে, যেখানে আমার বাসায় কেউ আসলে আমি আপ্যায়ন করে খাওয়াবো, বন্ধু বলছে চলো বেড়াইতে যাই, কাজকর্ম ফেলায়া ২ ঘণ্টার জন্য বেড়াইতে যাবো।অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এখানে টাকা ছাড়া কোন কথা নাই, সিস্টেমের বাইরে কেউ ২ ঘণ্টা বসে কথা বলবে এইরকম সময় কারো নাই, এভ্রিথিং ইজ ভেরি টাইম স্ট্রাকচারড, আপনি গেছেন কারো সঙ্গে কথা বলতে, সে বিজি, সে বলে দিবে কথা বলতে পারবে না, যখন টাইম হবে তখন সে কথা বলবে।জীবনকে এত কমপ্লেক্স করার দরকার কী ! আমরা সাধারণ জীবন-যাপন করবো !

 

 

খোশগল্প.কম: স্যার এই আন্তরিকতা প্রশ্নে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবো যেহেতু ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত আপনি ঢাকার বাইরে কাটিয়ে এসছেন।ঢাকায় যারা বড় হয় এদের তুলনায় যারা মিনিমাম ইন্টারমিডিয়েট ঢাকার বাইরে করে ইউনভার্সিটিতে এসে ভর্তি হয় বা শৈশবটা ঢাকার বাইরে কাঁটিয়ে আসে, এই ছেলেমেয়েরা ঢাকার ছেলেমেয়েদের চাইতে বেশী আন্তরিক হয়, সরল হয়।আপনার কী মনে হয় স্যার

সুবর্ণ: এভাবে আমি কখনো চিন্তা করে দেখি নাই, ঐ পয়েন্ট অব ভিউ থেকে এসেসমেন্ট করি নাই বিঁধায় আমার বলা কঠিন।এগুলো জায়গাভেদে কিছুটাতো ভেরি করেই।ইউনিভার্সিটিতে আমার ঢাকার বন্ধু, ঢাকার বাইরের বন্ধুও ছিলো।তবে ঢাকার ছেলেমেয়েদের সাথে বাইরের সাথে খুব বেশী এডজাস্টমেন্ট হয় না, হয় না তা বলছি না কিন্তু।যেমন আমার ক্লাসে ঢাকার বাইরে থেকে আসা ছেলেদের সাথে ঢাকার ছেলেদের খুব ক্লোজ ফ্রেন্ডশিপ গড়ে ওঠে নাই, হ্যাঁ ফ্রেন্ডশিপ হইছে।আমার সাথে কার বন্ধুত্ব হইছে? যশোর থেকে আসছে, সাতক্ষীরা থেকে আসছে, আমরা একে অপরের জন্য যতটুকু করছি, ঢাকার যারা ছিলো ওরা আবার নিজেরা নিজেরা ওরকম ক্লোজ।বাই ন্যচারালি তো আমাদের ঢাকা সিটিটা তো অনেকটা ঐ যে বললাম না ম্যাকানিক্যাল লাইফ।যেমন আমি যখন প্রথম ঢাকায় আসি আমার আব্বার সাথে আমাদের একজন আত্মীয় ছিলেন, আমার আব্বার মামার বাসা।ছোট বাসার মধ্যে থাকেন, আমরা গেছি ঐখানে আমার আব্বাকে আব্বার মামা, আপন মামা জিজ্ঞেস করতেছে ‘তোমার জন্য ভাতের চাল দিবো কিনা’! দ্যাট লেভেল অব ক্রুয়েলটি! এটা সে জিজ্ঞাসা করতে পারছে! এখানে লাইফ এত কঠিন, সাস্টেইন করা এত টাফ, কাউকে আমি ১০০ টাকার নাশতা বানায় খাওয়াবো এটাও আমার জন্য কস্টলি হয়ে যায়, ইটস নট বিকজ দ্যাট মানুষগুলো খারাপ, তাদের মধ্যে বিহেভিয়ার এর প্যাটার্নটা এভাবে গ্রো করছে।এখানে টাকা ইনকাম করা কঠিন, সকালে ৯টা বাজে যাবেন, জ্যামট্যাম ঠেলে ফিরবেন রাতে, কত পরিশ্রম করে মানুষ টাকা উপার্জন করে।দেখা যায় এদের মধ্যে এই নেচারটা বিল্ট ইন হয়ে যায়, আপনাকে এত টাকা খাওয়ায়ে লাভ কী, টাকা সেইভ করতে হবে।সুতরাং তাদের পরিবারের সন্তান যারা আসবে তারা তো এরকম হবে এটা খুব ন্যাচারাল!

 

খোশগল্প.কম: তখন ঢাকায় আসছিলেন কি ইউনিভার্সিটি এডমিশনের সময়?

সুবর্ণ: না না, এটা তারও অনেক আগে।

 

খোশগল্প.কম: স্যার সাক্ষাৎকারের শেষের দিকে চলে আসছি, লাস্ট সেমিস্টারের আপনার একজন ছাত্রী অন্যরকমে ইন্টার্ন করছে, আপনার পড়ানো এবং শেখানোর ব্যাপারে ব্যাপক প্রশংসা করছিলেন; আপনার টিচিং প্রফেশনের বয়স যদিও খুব বেশী না, এই পড়ানো আর রিসার্চ থেকে আপনার অর্জন কী মনে হয়

সুবর্ণ: আমার এখনো কোন অর্জন নাই আসলে।অর্জন এতটুকুই আমার ছাত্ররা যারা বের হয়ে চাকরি-টাকরি করে এরা এসে বলে যে স্যার আপনি যা শিখাইছেন এগুলা অনেক কাজে লাগছে।এটার আমার অর্জন, অনেস্টলি স্পীকিং! এর বাইরে আমার আর কোন অর্জন নাই।বাংলাদেশে স্টক মার্কেটে আমি এবং আরো কয়েকটা মানুষের কন্ট্রিবিউশন অনেক বেশী, কিন্তু আমি মিডিয়া ফোকাসড না, অনেকগুলা কাজ আমি এখানে করছি, এখনো করছি;এগুলোকে আমি অর্জন হিসেবে দেখি না।ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয় যে বলার মত অর্জন এখনো হয় নাই, আমার স্টুডেন্টরা যদি কিছু শিখতে পারে এবং সেটা কাজে লাগাতে পারে সেটাই আমার অর্জন, কারণ এর বেশী কিছুতো করতে পারি নাই।ধরেন ৬ বছর ধরে আমি টিচিং প্রফেশনে আছি, আর ৩-৪ বছর ধরে রিসার্চ করছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি ‘এ স্টার’ রেটেড কোন জার্নালে পাবলিকেশন করতে পারি নাই, ‘এ স্টার’ রেটেড একটা জার্নালে আমার একটা পাবলিকেশন যাওয়া মানে আমি হার্ভার্ডের স্কলারশিপ পেয়ে যাওয়া পিএইচডির জন্য, তারপরে পৃথিবীর যে কোন ইউনিভার্সিটিতে টিচিং এর দরজা খোলা আমার জন্য; আমি অর্জন বলতে মনে করি এই ধরণের মৌলিক কিছু করা, আইনস্টাইন করতে পারছেন, নিউটন করতে পারছেন, অমর্ত্য সেন করতে পারছেন, সুবর্ণ বড়ুয়া করতে পারে নাই, এন্ড আই ডোন্ট সী এ ব্রাইট হোপ।

 

খোশগল্প.কম: কেন স্যার?

সুবর্ণ: আমরা যখন ছাত্রজীবনে ছিলাম তখন আমাদের টিচাররা বলতেন এইদেশে কিছুই হবে না, এখন আমি বুঝি আসলেও এই দেশে কিছু হবে না।এইখানে একটা ভালো রিসার্চ করতে যাবো ফ্যাসিলিটিস নাই, এখনো আমি আমার কম্পিউটার থেকে ভালো জার্নাল একসেস করতে পারি না, একটা রিসার্চ করতে গেলে ফান্ড নাই, মৌলিক গবেষণা হয় না ফান্ডের অভাবে, কোথাও থেকে ড্যাটা কালেক্ট করতে গেলে কেউ ড্যাটা দেয় না, এইখানে আপনি যত ভালো টিচার হবেন, যত ভালো রিসার্চার হবেন তত আপনি পেছনে পড়ে থাকবেন।হোয়েন ইউ উইল বি এ গুড রিসার্চার, গুড টিচার আপনি কখনো লেজুড়বৃত্তি করতে পারবেন না, ভালো শিক্ষক, মেধাবী গবেষক মন থেকে কখনো লেজুড়বৃত্তি করতে পারবেন না।এ দেশের সবজায়গায় জাতীয় পলিটিকস ছাড়াও অর্গাইনাইজেশনাল পলিটিকস ঢুঁকে গেছে এগুলোর সামনে এখন আর কোন উদ্যোগ কাজ করে না।আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভালো কাজের কোন ইন্সেন্টিভ নাই, কেউ বলে নাই মাইক্রোফাইন্যন্স মডেলের অল্টারনেটিভ মডেল যদি কেউ দাঁড় করাইতে পারে তাকে এই একটা প্রবেশন দেয়া হবে, নাই তো কিছু! আমার উৎসাহ একটাই, যেটা আমি অনার্স লাইফ থেকে ফিল করি জীবনে একটা কিছু করে যাওয়া, মানুষের জীবনে আঁচড় কেটে যাওয়ার মত কিছু একটা করে যাওয়া, আমি কী পাইলাম, পাইলাম না এটা ম্যাটার না, কিছু করে যেতে পারলে যেটা মানুষের জীবনে কাজে লাগবে এবং মানুষই এটার মধ্যে দিয়ে মনে রাখবে, দ্যাট উইল বি মাই এচিভমেন্ট।কিন্তু অর্গানাইজেশন, ফ্যামিলি, ঢাকায় সাস্টেইন করা, ইনকাম করতে হবে এই রকম সিচুয়েশন এর মধ্যে কী ক্রিয়েটিভিটি, কী এচিভমেন্ট দেখাবো।এক্সপেক্টেশান আগে অনেক ছিলো, নামাই নিছি এখন, সম্ভব না! আমাদের মিডলক্লাস ফ্যামিলি, মিডলক্লাস কান্ট্রিতে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্যে যে পরিমাণ টেনশন করতে হয় এগুলো করে আসলে ক্রিয়েটিভ কিছু করা টাফ!

 

খোশগল্প.কম: স্যার এই বাইন্ডিংগুলো তো সবসময়ই থাকবে, এই বৃত্তের বাইরে গিয়ে তো সাধারণ জীবনযাপন সম্ভব হয় না

সুবর্ণ: সত্যি কথা বলতে এগুলো নিয়ে আসলে কিছু করাও সম্ভব না, আমার জন্য পারফেক্ট পরিবেশ হচ্ছে, সবচাইতে ভালো হইতো যদি আমি একা থাকতে পারতাম, এবং যেখানে ভালো কিছু করার জন্য তার রিকগনিশন থাকবে এরকম একটা পরিবেশ দরকার।ফর এক্সাম্পল আমার এখন ‘সি’ রেটেড জার্নালে পাবলিকেশন আছে, এখানে 90%  টিচারদের সেটা নাই, আমি 10% এর মধ্যে।এখানে প্রমোশন হয় ৩বছর পার হইলেই, বিদেশে কী হবে জানেন? মিনিমাম ৫ বছরের টিচিং এক্সপেরিয়েন্স লাগবে, ৬টা পাবলিকেশন লাগবে, যার মধ্যে ৩টা হইতে হবে ‘বি’ রেটেড জার্নালে, একটা হতে হবে ‘এ’ স্টার জার্নালে;একটা ‘এ’ স্টার জার্নালে পাবলিশ করতে লাগবে ১০ বছর যে কারণে আমার অনেক সিনিয়র সিনিয়র টিচার অস্ট্রেলিয়াতে লেকচারার হিসেবে রিটায়র্ড করছেন, আরেকজন চাকরীই পান নাই এখন পর্যন্ত!থিংস আর নট দ্যাট মাচ ইজি!

 

খোশগল্প.কম: স্যার আপনাকে ধন্যবাদ এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য।

সুবর্ণ: আপনাকেও ধন্যবাদ। অনেক ব্যক্তিগত কথা বলে ফেললাম।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত