ভালো মানুষ সংজ্ঞায়িত করতে অনেকটা লেখকদের বোঝালেন, আর পছন্দের ব্যাক্তিত্ব উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বইয়ের লেখক ও শিক্ষক আজমল স্যার।মহাভারতে তার পছন্দের চরিত্র ‘কৃষ্ণ’, ‘অর্জুন’ ‘বিকর্ণ’।শৈশব থেকে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার বাইরে আর কিছু ভাবেননি।নাম অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পড়ছেনও আহসানউল্লায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম বর্ষে। শুরু করি তার আলাপচারিতা-

কে কেমন স্বভাবের এইটাই আমি বুঝতে পারি না

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 11:04 পূর্বাহ্ন

11058600_1647056932230765_2157500804647791438_o

খোশগল্প.কমঃ তোমার পছন্দের কোন মানুষের কথা বল।

অন্নপূর্ণাঃ আমার পছন্দের মানুষ বলি আর ব্যাক্তিত্ব বলি আজমল স্যার।

 

খোশগল্প.কমঃ প্রানীবিজ্ঞান বইয়ের লেখক আজমল স্যার ?

অন্নপূর্ণাঃ হ্যা, স্যার যা পড়াতেন সবসময় একটা বাস্তব উদাহরণ দিতেন। পড়াশুনার মধ্যে বাস্তব উদাহরণ না থাকলে পড়ার মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় না, এটার কারণে এখনো ওই পড়াগুলো এখনো আমার খুব ভালোভাবে মনে আছে, পড়া বাদ দিয়েও মানবিক সব বিষয়গুলোতেই স্যারকে আমার আদর্শ মনে হয়।খুব কম টিচার আছেন যারা পড়ালেখার বাইরে আমাদের আলাদা ভাবে কিছু শেখান।আর আমার কাছে মনে হয় লেখকরাও মানুষ হিসেবে ভালো হন।

 

খোশগল্প.কমঃ লেখকরা কেন?

অন্নপূর্ণাঃ মানবিকতা ঠিক না, আবার স্পেসিফিকভাবে বলতেও পারবো না, বাট মনে হয় লেখকরা ভাল মানুষ হন।

 

খোশগল্প.কম   একসময় তোমার সব ধর্ম গুলো গ্রন্থ পড়ার ইচ্ছা ছিলো, এটা কি এখনো আছে?

অন্নপূর্ণাঃ আছে, তবে আমার মনে হয় পড়া ঠিক না।

 

খোশগল্প.কমঃ কেন?

অন্নপূর্ণাঃ কেন ঠিক না বলি, আমার একটা ফ্রেন্ড আছে, ওর ও এক সময় পড়ার ইচ্ছা ছিলো। কো-ইন্সিডেন্সলি ছোটবেলা থেকেই ওর বেশীরভাগ ফ্রেন্ড হিন্দু অথবা বৌদ্ধ।আমিও ওর ওর ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলাম।ও এখনো বেদ-গীতা পড়ে নাই, কিন্তু যেটা হয়েছে ও সাহস করতে পারছে না।

 

খোশগল্প.কমঃ সাহস করতে পারছে না বলতে?

অন্নপূর্ণাঃ মানে এখন যে বিষয়টা হয়েছে, একটা দরজা দিয়ে ঢুকলে আরেকটা জানালা দিয়ে পালায়।ও অন্য ধর্ম শুনে শুনে অনেক কিছু জেনে ফেলেছে, এবং মনে হয় খানিকটা বিশ্বাস ও করতে শুরু করেছে।এতে ও নিজের ধর্মকে গুলিয়ে ফেলছে অথবা ধর্মকে গুরুত্ব দিতে পারছে না।

 

খোশগল্প.কমঃ মেয়েটা কোন ধর্মের ? আর ব্যাপারটা অনেক অবিশ্বাস্য না ?

অন্নপূর্ণাঃ মেয়েটা মুসলমান।আর ওর অন্য ধর্মের ফ্রেন্ড অনেক বেশি ছিলো, সো এটা ইফেক্ট করেছে।

 

খোশগল্প.কমঃ  তুমি তো মহাভারত পড়েছো, তোমার কাছে মহাভারতের কোন চরিত্রটা বেশী ভালো লাগে?

অন্নপূর্ণাঃ ‘কৃষ্ণ’ ঠাকুরকেই ভালো লাগে, তারপরে ‘অর্জুন’ কে।আর ‘বিকর্ণ’।

 

খোশগল্প.কমঃ বিকর্ণ’ কেন?

অন্নপূর্ণাঃ বিকজ, একশ’ত ভাইয়ের একমাত্র বিকর্ণই চাইতো এই ৯৯ ভাইকে  চেইঞ্জ করার জন্য।‘দূর্যোধন’ ও জানতো ধর্ম কি, কিন্তু সে তার বাকি ৯৯ ভাইকে কিছু বলেও নাই, তার মধ্যে লোভ ছিলো রাজ্যের। আর ‘বিকর্ণ’ জানতো ধর্ম কি, চাইতো এবং চেষ্টা করেছে কিন্তু সে তার অন্য ভাইদের জন্য পারে নাই, কিন্তু তার মধ্যে কিন্তু ভাল হওয়ার ইচ্ছাটা ছিলো।

তাছাড়া ‘দ্রৌপদীর’ যখন বস্ত্রহরণ করা হইছিলো তখন ১০০ ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র বিকর্ণই বাঁধা দিয়েছিলো, সে বাঁধা দিয়েছিলো কিন্তু সে প্রতিরোধ করতে পারে নাই তার ৯৯ ভাইএর জন্য।তবে হ্যা সে রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে পারতো, কিন্তু সেটা সে করে নাই।

 

খোশগল্প.কমঃ তুমি আগে থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইতে-এটা কেন?

অন্নপূর্ণাঃ বাবা আসলে ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হবে, বুয়েটে পড়তে হবে, তখন আর অন্য কিছু হওয়ার চিন্তা মাথায় আসে নাই, সাপোজ, আমাকে বলা হত কি করবা তখন আমার ভাববার একটা জায়গা ছিলো, এভাবে শুনে শুনে বড় হয়েছি তো আমিও ঠিক করে রেখেছি ইঞ্জিনিয়ারিং এই পড়বো।আর এইকারনেই ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মাইছে, নতুবা আমার ভালোবাসা জন্মাইতো না, এই কারণে আমার ম্যাথ ওরকম পছন্দ না।বাট, বাবা বলতো ডাক্তার হচ্ছে মাথা নষ্ট, তখন মাথায় ঢুকেছে যেহেতু বাবা বলেছে ডাক্তারি ভালো না সো ডাক্তারি পড়া যাবে না।

 

খোশগল্প.কমঃ তাহলে নর্থ-সাউথে সিএসই ছেড়ে এখানে আসলে কেন?

অন্নপূর্নাঃ আমার বাবা পড়ছে EEE তে, তো আমার ইইই, সিভিল বা মেকানিক্যাল এর জন্য মাইন্ড সেট-আপ ছিলো।বাট এনএসইউ তে সিএসই পেয়ে ওখানে ভর্তি হই, পরে আনন্দ পাচ্ছিলাম না, আর পড়াশুনা জিনিসটা বোঝা মনে হচ্ছিলো, আর ওখানে আমার নিজেকে ওদের থেক আলাদা মনে হত, আর পড়াশুনার বিষয়টা আমি কিছুদিন ক্লাস করার পর মনে হচ্ছিলো সিএসই পড়ার জন্য একচুয়ালি ক্রিয়েটিভিটি দরকার, আর ক্রিয়েটিভিটি নানা রকমের হইতে হয়, সেইটা আমার নাই, এক সেমিস্টার পড়ার পর বুঝতে পারলাম যে আমার ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রামিং এর উপর না, তাই পরে আহসানউল্লায় ‘সিভিলে’ ভর্তি হই, আর ‘সিভিল’ নিয়ে বলতে হইলে আমি এখনো বিরক্ত হই নাই।

 

খোশগল্প.কমঃ নিজেকে নিয়ে কি কি স্বপ্ন দেখো?

অন্নপূর্ণাঃ ওই ভাবে ভাবি নাই, তবে দেশের বাইরে যেয়ে একটা পি.এইচ.ডি করার ইচ্ছা আছে, আর নিজেকে এমন জায়গায় দাড় করাতে চাই আমি বললে যেন ১০জন মানুষ শোনে, এই ইচ্ছাটা অবশ্য সবার আছে।

 

খোশগল্প.কম: স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি ৩টা সময়  নিয়ে বল।

অন্নপূর্ণা: স্কুল বা কলেজে আসলে নর্দমা বা নালার মধ্যে সাঁতার কাটতাম, কিন্তু ভার্সিটিতে আসার পর আমার মা-বাবা মনে হয় আমাকে একেবারে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ে ফেলে দিছে, সবসময় মা সাথে থাকায় দুনিয়া-দারী নিয়ে একেবারেই অজ্ঞ ছিলাম, এখন অকূল সমুদ্রে পড়ে কূল পাচ্ছি না।

 

খোশগল্প.কম: কি সমস্যা বোঝাতে চাচ্ছো?

অন্নপূর্ণা: জগতটা হঠাত করে বড় হয়ে গিয়ে অনেক নতুন ধরনের মানুষ, আমি মানুষকে বুঝতে পারি না, কে কেমন স্বভাবের এইটাই বড় সমস্যা।সবাইকেই ভালো মনে হয়, আবার খারাপ।আমার পরিসর বড় হইছে তার সাথে মনে হয় আমার বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে, আগে ভাবতাম সময়ের সাথে কাটিয়ে উঠতে পারবো, বাট আসলে পারছি না।

 

খোশগল্প.কম: এখন তো পারছো?

অন্নপূর্ণা: আমি এখনো পারছি না।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত