জায়েদ তন্ময়, কাজ করছেন অন্যরকম গ্রুপের …… শৈশবের দুরন্তপনার বহিঃপ্রকাশ ছিলো স্কুল পালিয়ে ভিডিও গেইমসের দোকানের নিয়মিত উপস্থিতি, বড়বেলায় এসেও সেই ধারাবাহিকতা অটুট, ভিডিও গেইমসের সব সংস্করণে সরব উপস্থিতি! ভার্চুয়াল সময়ের বাইরেও জীবন নিয়ে আছে অসামান্য উপলব্ধি!- “আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটা একটা পারপাস নিয়ে জন্মায়, যে ক্ষেত্রেই হোক প্রত্যেকটা মানুষের আসলে সে কি রোল প্লে করতে আসছে এটা খুব তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করা দরকার”

ক্লাস সিক্স থেকে ম্যাট্রিকের টেস্ট পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ম্যাথ এ কোনদিন পাশ করি নাই

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 6:26 পূর্বাহ্ন

jayed

খোশগল্প.কম: যেহেতু আপনার ব্যাপারে কিছু জানি না, আপনি নিজের ব্যাপারে নিজে বলেন।

জায়েদ: জন্মসূত্রে আমি ঢাকাবাসী, বড়ও হইছি ঢাকায়, খিলগাঁও এ, ছোটবেলা থেকে ছিলাম ব্যাড বয় যাকে বলে আর কি, দুরন্ত, বরাবরই ঐ টাইপের ছিলাম, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি।এখন হয়তো কাজের ক্ষেত্রে এসে শান্ত-শিষ্ট থাকতে হয়।আমার কারণে আমার প্যারেন্টস এর অনেক সাফারিং পোহাইতে হইছে।ওরে মারছি, ওরে ধরছি এইভাবে প্রচুর বিচার আসতো বাসায়।তারপরে স্কুলে পালাইছি ছোটবেলা থেকে।প্রাইমারী স্কুলে পালাই নাই, কিন্ডারগার্টেন এ পালানোর তেমন সুযোগ ছিলো না, হাই স্কুলে ওঠার পর মনে হয় থার্টি পারসেন্ট ক্লাস করছি।এত পালাইতাম যে আমাদের জন্য শেষে স্কুলের গেইট বন্ধ করে রাখতো, তখন হচ্ছে বারান্দা থেকে ঝুলে নীচে লাফায় লাফায় পরতাম।খিলগাঁও হাই স্কুলে ছিলাম, গর্ভ: স্কুলে ছিলাম।ঐ সময়ে ভিডিও গেইমের একটা ট্রেন্ড ছিলো, প্রচুর ভিডিও খেলতাম, দেখা যেতো যে সকাল বেলায় গিয়ে গেইমের দোকানে ঢুকতাম বের হইতাম বিকেলে স্কুল ছুটির সময়ে।তারপর ঐ দোকানে ভাত ও খাইতাম, মানে ওরাই ভাত খাওয়াইতো, মানে এত টাকা খরচ করতাম।প্রতিদিন ধরো প্রায় ২০০ টাকার খেলতাম, কেউ যদি প্রতিদিন ২০০ টাকার খেলে অনেক সময়, শেষে খেলতে খেলতে এমন হইছিলো, ডুয়েল খেলা যাইতো তো দেখা যাইতো আমার সাথে খেইলা খেইলা অনেকেই হাইরা হাইরা চইলা যাইতো, তো আমারে এক সময় ফ্রীই খেলাইতো, এনজয় করতাম।

 

খোশগল্প.কম: এত টাকা পেতেন কীভাবে?

জায়েদ: স্কুলের টিফিনের পয়সা জমাইতাম, আব্বার পকেট থেকে চুরি করতাম, ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট খেইলা টাকা আর্ন করতাম, তারপর ভাড়ায় মারামারিও করতে গেছি।এইভাবে টাকা কামাইছি, ঐ সময় জীবনে কি হইতে চাই বা টার্গেট ওরকম কিছু ছিলো না।একদম ছোটবেলায় যদি কেউ জিজ্ঞেস করতো কী হইতে চাই, বলতাম পাইলট হইতে চাই, একটু বড় হওয়ার পরে-আমি ছোটবেলায় ভালো ছবি আঁকতাম, মানে মোটামুটি, মানে পেন্সিল স্কেচটা চেষ্টা করলে পারা যাইতো, তো একসময় মনে হইতো ছবি-টবি আকবো।একটা সময় আইসা মনে হইলো যে রবার্ট স্টিফেনসন এর ট্রেজার আইল্যান্ড পড়ছিলাম, ট্রেজার আইল্যান্ড পড়ার পর বড় বড় যারা নাবিক বা এধরনের যারা ছিলো প্রত্যকের জীবনী পড়া শুরু করলাম, তো তখন মনে হইতো যে চাকরী করবো, সমুদ্রে।আল্টিমেটলি নাইনে ওঠার পরে আর্টস নিয়ে নিলাম, কারণ ততদিনে ইংলিশ লিটারেচার এর প্রতি আমার একটা ঝোঁক চইলা আসছে, লিটারেচার পড়ি তখন অনেক।আরেকটা জিনিস ক্লাস সিক্স থেকে ম্যাট্রিকের টেস্ট পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ম্যাথ এ কোনদিন পাশ করি নাই।ম্যাথমেটিক্স বরাবরই একটা বিরক্তিকর জিনিস ছিলো।তারপর ইন্টার পাশ করলাম আর্টস নিয়ে।

ইন্টার পাশ করার পর ইচ্ছা ছিলো ইংলিশ লিটারেচার নিয়ে পড়বো, ঢাকা ইউনিভার্সিটি আর জাহাঙ্গীরনগরে পরীক্ষা দিলাম, জাহাঙ্গীরনগরে ইংলিশ লিটারেচার চান্স পাইলাম আর ডিইউ তে আই.ই.আর ডিপার্টমেন্টে।আমার আব্বার ইচ্ছা ছিলো তাঁর অন্তত একটা ছেলে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ুক।আমার আরেকটা ভাই আছে, আমরা দুই ভাই তো ওরে নিয়ে আর রিস্ক নেই নাই।আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইলাম, আর চারুকলাতে পড়ার একটা ইচ্ছা ছিলো সেটাতো আশপাশ দিয়েও যাওয়া যায় নাই, ঐটা বাদ।আই.ই.আরে ভর্তি হইলাম।তো ভর্তি হওয়ার পরে আমার ফ্যামিলি হচ্ছে পলিটিকাল ফ্যামিলি, ছোটবেলা থেকে মারামারি দেখে ঐ যে ডানপিটে স্বভাবটা তৈরী হইছে।একটা ফ্যামিলিতে যখন একটা ছেলে এগুলা দেখে বড় হয় তখন ওর মধ্যে কিন্তু ঐ জিনিসগুলা ঢুকতে থাকে।আমার এমন ছিলো এ এই এরিয়ার মধ্যে আমাকে ধরার মত কেউ নাই, ইউনিভার্সিটিতে ঢুকার পর ঐ জিনিসটা আবার ব্যাক করে, ইচ্ছা করে আমি পলিটিক্সে ঢুকি, পলিটিক্স করি।এখন দেশের ভালো করার জন্যে পলিটিক্স করি ঐ জিনিসটা কিন্তু এখন নাই, এখন মানুষ পলিটিক্স করেই ঐ পাওয়ারটার জন্যে, মানে ক্ষমতা, অর্থ যেটাই হোক।তো আমার আব্বা সেটা করতে দেয় নাই, সে খুব টেকনিক্যালি পলিটিক্স থেকে আমাদের দুই ভাইকে দূরে রাখছে।কারণ আব্বার ধারণা সে খুব কুল হেডেড ম্যান, আব্বা খুব ঠান্ডা মাথায় ডিসিশান নিতে পারে।আমাদের দুই ভাই এর মাথা খুব গরম।সে চিন্তা করছে আমরা দুই ভাই পলিটিক্স করলে আমরা নানা রকম প্রব্লেমে পড়বো, মানুষের জন্যে প্রব্লেম তৈরী করবো।সো হি ওয়ান্টেড আস টু বি আউট অব দি বক্স, ফ্যামিলির যে চেইনটা ছিলো সেটার বাইরে রাখার চেষ্টা করছে।সুন্দর চাকরী-বাকরি করবো, দিন আনবো দিন খাবো টাইপের জীবনই চাইছে।ইভেন সে আমাদের যে ফ্যামিলি বিজনেস আছে সেখানেও ইনভলব হইতে দেয় নাই।

 

 

খোশগল্প.কম:  ফ্যামিলি বিজনেস ইনভল্বমেন্টে কী প্রব্লেম ছিলো?

জায়েদ: আমার যে টেন্ডেন্সিটা ঐ সময় আমার বাবা দেখছে, এখন যেটা ঐভাবে নাই।আমি যদি অনেক টাকা-পয়সা কামাই আমি পলিটিক্সে ঢুইকা যাবো।টাকা-পয়সা যদি বেশী নাড়া-চাড়া করি তাইলে দেখা যাবে যে ভালোর চেয়ে খারাপটাই বেশী করতেছি, এজন্য আব্বা সব সময় একটা স্ট্রাকচার এর ভেতর ঢুকানোর চেষ্টা করছে।চাকরী-বাকরি করো, সফিস্টিকেটেড লাইফ লিড করী, বেশী টাকা পয়সার দরকার নাই।সো এখন যে লাইফটা লিড করছি আমার কাছে মনে হয় অনেকটা চিড়িয়াখানায় যেমন প্রাণীকে খাঁচার ভেতর আটকে রাখে অনেকটা ঐ রকম।মাঝে মাঝে খারাপ লাগে, দম বন্ধ লাগে।

 

 

খোশগল্প.কম: আপনার কাছে সীমাবদ্ধ জীবন কোনটা এইখানে?

জায়েদ: আমি তোমাকে এইভাবে বুঝাই, প্রত্যকেটা প্রাণির কিন্তু একটা কমফোর্ট জোন আছে, মানে ঐ এরিয়ার মধ্যে সেই সব।তো আমি আমার এমন একটা ছোট ওয়ার্ল্ড চাইছিলাম, যেখানকার পুরা কন্ট্রোলটা আমার থাকবে, এইটা কিন্তু পাশবিক ভাবে না।এইটা আসলে হয় না।আমি যদি এখন ওরকম লাইফে মুভ করতে চাই দেখা যাবে অনেক স্ট্রাগল করতে হইতেছে, অনেক কিছু, নিয়ম-কানুন ভাইঙ্গা ফেলতে হইতেছে।আমার এই ইচ্ছার আগুনে ঘি ঢালছে মারিও পূজোর ‘গডফাদার’ উপন্যাস।এইটাতে একটা মানুষ সোসাইটি-দেশের যে সিস্টেম এই সিস্টেম এর প্যারালালি তার নিজের একটা সিস্টেম তৈরী করে, মাফিয়ার মত।ওয়ার্ল্ডের ওয়ান অব দ্য ক্রাইম সিন্ডিকেটর।আমি জানি না আমাকে কোন একটা ক্রাইম করেই করতে হবে নাকি।বাট এখন বিপরীত একটা লাইফ লীড করছি, হয়তো কষ্ট হচ্ছে, ইচ্ছার এগেইনস্টে সব কিছুর সাথে এডজাস্ট করতে হচ্ছে।

 

 

খোশগল্প.কম:  এরকম লাইফের জন্য আপনার কোন পরিকল্পনা ছিলো?

জায়েদ: ঐ উপন্যাসে একটা কথা আছে ‘মানুষের ক্ষমতা কিন্তু মানুষের সাথে সম্পর্ক খারাপ করার মাধ্যমে আসে না, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করার মাধ্যমে আসে’ ক্ষমতা বলতে একটা মানুষকে ধরলা-পিটলা-মারলা ঐটা না কিন্তু।আমাদের টেরররা যেটা করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে এইটা ভোগাস জিনিস।আমার ইচ্ছা ছিলো আমার যে গ্রামের বাড়ি আছে, প্রচুর লোক হচ্ছে খুব নিডি ফ্যামিলি দিন আনে দিন খায় অবস্থা।আমার গ্রামটা হচ্ছে একদম গ্রাম, পিরোজপুরে, সুন্দরবনের কাছাকছি এলাকা।আমার খুব ইচ্ছা ছিলো যে আমি ঢাকা বা ঢাকার বাইরে একটা বড় একটা জায়গা নিবো, ঐখানে আমি বাড়ি করবো, আশে পাশের জায়গা যা আছে ঐখানে গ্রাম থেকে একদম নিডি ফ্যামিলি গুলো এনে তাদের স্টাবলিশ করার ব্যাবস্থা করবো, এবং তারা আমার আশে পাশেই থাকবে।সো দ্যাট আই ক্যান হেভ এনি ইনফ্লুয়েন্স ওভার দেম।আমিও তাদের কাজের লাগবো, তারাও আমার কাজে লাগবে।বাট এগুলো একটা সময়ের প্লান।এগুলো জাস্ট বোঝানোর জন্য বললাম।

 

 

খোশগল্প.কম: অনেকটা জমিদারদের মত কিন্তু নেতিবাচক ভাবে না

জায়েদ: হ্যাঁ, নেতিবাচক ভাবে না।বাট ঐটা কোন এক সময়ের।এখনো হয়তো ভেতরের কোন এক কোণে পইড়া রইছে।মি. জেকিল এন্ড মি. হাইডের মত।মি. জেকিল টা বাইরে, হাইডা বাইরে রয়ে গেছে।এখন যেটা চাচ্ছি ছোট ভাই দেশে নাই, বাইরে এমবিএ করতে গেছে, আব্বার বয়স হইছে, পলিটিকালি খুব একটা মুভ করতে পারে না।তো আমি এখন চাই এখন মোটামুটি ছা-পোষা একটা জীবন ধারণ করতে, চাইনা আমাকে পালন করতে হচ্ছে, করতে হবে।

আরেকটা জিনিস বলি, ইদানিং আমার যেটা বিশ্বাস হচ্ছে আমাদের জীবদ্দশায় আমরা ওয়ার্ল্ডের একটা ম্যাসিভ ডেস্ট্রাকসন দেখতে পারবো, ডেস্ট্রাকসন বলতে থার্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার হইতে পারে, আমাদের দেশের গৃহ-যুদ্ধ হইতে পারে।আমাদের দেশের প্রত্যেকটা প্রজন্ম একটা বড় ওয়ার দেখছে, মুক্তিযুদ্ধ একটা প্রজন্ম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, আমাদের প্রজন্মেও হয়তো এরকম কিছু একটা হবে, সেটার পরে মানুষের জীবনের গতিপথ কোনদিকে আবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

 

 

খোশগল্প.কম: অইটার উপর কী আপনার কিছু ডিপেন্ড করছে?

জায়েদ: হ্যাঁ, অনেক কিছু।অই সময়টাকে যদি ভালো ভাবে ইউটিলাইজ করতে পারি।প্রত্যেকটা যুদ্ধেই দুইটা পক্ষ থাকে অলওয়েজ।যেমন ধরো আমি সেক্যুলার বাংলাদেশের পক্ষে, তো এখন কিন্তু ইন্টেনশনালি এই গুলোর বিপরীতেই কাজ হচ্ছে, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড একটা ওয়েভ আসছে আইএস এর, বাংলাদেশেও যদি এরকম কিছু হয় তো ওদের এগেইন্সটেও তো একটা শক্তি দাঁড়াবে, ঐ বিরোধী শক্তিতে আমি অবশ্যই থাকবো।প্রত্যেকটা মানুষের নির্দিষ্ট কিছু আইডোলজি থাকে।

 

 

খোশগল্প.কম: আপনার ব্যাপারে নোট নেয়ার জন্য যখন রাদিব ভাইয়ার কাছে জিজ্ঞেস করলাম উনি ঘুরে ফিরে একই কথা বলছিলেন যে আপনি মানুষের সাথে নিজে থেকে খুব মেশেন, আপনাকে সবাই পছন্দ করেন, যেটা হয়তো আপনার প্রফেশনালি দরকার না।তো এটা কি আপনার সেই ক্ষমতায়নের জন্য একটা সাবকনশাস এটেম্পট?

 

জায়েদ: ব্যাপারটা হচ্ছে আমি আগ বাড়ায়া কথা বলতে পারি না কিন্তু কেউ যখন নিজে থেকে আমার সাথে কথা বলে তখন আমি পুরাটা দিয়েই মিশি।তখন তাদের ভাল-মন্দ এই দিক গুলা খেয়াল রাখি।যদি অতটা আপন নাও হই তার সাথে, তবু খেয়াল রাখি তার কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, কেউ আপসেট থাকলে চিয়ার আপ করার চেষ্টা করি।আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি উই ওনলি লিভ ওয়ান্স, আমরা একবারই বাঁচি, যতটা সময় টেনশন কইরা কাটাবো, পুরাটাই লস।টেনশন কইরা তো কোন স্যলূশন আসবে না।কেউ হয়তো জিরো থেকে কোটিপতি হইছে, আবার হয়তো কোটিপতি থেকে জিরো হইছে সে কিন্তু ঐটা রিকভার করতে পারবে কারণ সে জীবিত।আমি জীবনটা এভাবেই দেখি, ইউ ক্যান স্টার্ট ফ্রম এনিহয়্যার।আমি যেরকম ঐরকম ভাবেই মিশি।

 

 

খোশগল্প.কম: কোন কিছুর চর্চা করেন?

জায়েদ: আমি প্রচুর বই পড়ি, চর্চা না অভ্যাস আছে।আমি একজন গেইমার, মোটামুতি প্রো লেভেলের গেমার।এখনো পর্যন্ত গেইমের যতগুলা জেনারেসন আসছে সব জেনারেশন আমি খেলছি।এইটা নিয়ে একটা ফেসিনেশন আছে।

 

 

খোশগল্প.কম: আপনি মে বি কুকুর পুষেন

জায়েদ: আমার দুইটা বিড়াল আছে দুইটা, কুকুর ছিলো, মেরে ফেলা হইছে।কুকুর পালছি, খরগোশ পালছি, বিড়াল তো পাকতেছিই কিছু না কিছু পালতেই থাকি সবসময়

 

খোশগল্প.কম: কোন স্পেসিফিক লজিক আছে?

জায়েদ: সত্যি কথা বলতে আমি যদি দেখি একটা মানুষকে পিটাইতেছে আমার খারাপ লাগে কিন্তু তার থেকে অনেক বেশী খারাপ লাগে যখন দেখি একটা কুকুরকে পিটাইতেছে।আমার লজিক হচ্ছে মানুষ প্রটেস্ট করতে পারে, বলতে পারে, কুকুর-বিড়াল বলতে পারে না।আল্লাহ যেহেতু ওদের ঐ হিসেবে সৃষ্টি করছে মানুষের কোন অধিকার নাই যে ওদের অধিকারটা নষ্ট করে দেয়ার।পৃথিবীটা সবার বসবাসের জন্যে, শুধু মানুষের জন্যে না।ইকোসিস্টেমের বাইরে একটা কুকুরের উপর গরম তেল ঢেলে দেয়া কোন এন্টারটেইনমেন্ট হইতে পারে না।আর পশু-পাখির জন্য মায়া জেনেটিকালি বাবার মাধ্যমে পাইছি।

 

 

খোশগল্প.কম: শখ আছে কোন?

জায়েদ: হ্যাঁ আছে, পৃথিবীর কিছু জায়গা দেখার ইচ্ছা আছে।ইটালির কিছু রোড, প্যারিস, ইজিপ্ট, আমাজানে ঘুরার ইচ্ছা আছে।ডীপ সী ডাইভিং এর ইচ্ছা আছে।বাংলাদেশে সিলেট, বগুড়া, রাজশাহী, চিটাগাং, কক্সবাজার‌ বরিশাল তো অভিয়াসলি গেছি।আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে কক্সবাজার যাবা না তোমার বাড়িতে যাবা, আমি আমার বাড়িতে যাইতে চাবো।আমার বাড়িটা হচ্ছে একদম আলাদা, আমি বাড়িতে গেলে মনে হয় আমি যেরকম চাই ঐরকম জায়গায় আছি।আমি বন-জঙ্গল পছন্দ করি।আমাকে যদি কেউ থাকা খাওয়া এশিউর করতো তাইলে আমি খুশি মনে চইলা যাবো।

 

 

খোশগল্প.কম: ব্যতিক্রম কোন উপলব্ধির কথা বলতে পারেন যেটা আপনি উপলব্ধি করেন?

জায়েদ: আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটা একটা পারপাস নিয়ে জন্মায়, যে ক্ষেত্রেই হোক তার একটা রোল প্লে করার কথা, রোলটা তো অবশ্যই পজিটিভ হইতে হবে।তো প্রত্যেকটা মানুষের আসলে সে কি রোল প্লে করতে আসছে এটা খুব তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করা দরকার,যাতে সে কাজটার জন্য ব্যালেন্স করতে পারে।আরেকটা জিনিস হচ্ছে যে যে কাজটাই করুক, যেমন আমি কিন্তু চাকরী করি খুব ইচ্ছার সাথে না, চাকরী জিনিসটাই আমার অপছন্দ।কিন্তু যতক্ষণ করবো ফুল ডেশিকেশন থাকতে হবে, কারণ এখান থেকে আমাকে পে করা হচ্ছে সেটা যেখানেই হোক, যেটা কন্ট্রাকট হক, কাজ হোক যাই হোক, লয়াল থাকতে হবে।

 

 

খোশগল্প.কম: অদ্ভুত কোন ইচ্ছা?

জায়েদ: হ্যাঁ আছে, আমার একটা বাঘের বাচ্চা পালার ইচ্ছা আছে।আমার যদি কোন দিন ওরকম সম্ভব হয়, তারে নিয়ে হাঁটবো, জগিং এ যাবো এইতো।

 

 

খোশগল্প.কম: যথেষ্ট অদ্ভুত! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেবার জন্যে।

জায়েদ: তোমাকেও থ্যাংকস।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত