পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য। সাদী। পড়াশুনা করছেন দেশের একটি নামী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করার প্যাশন পিছে ফেলেছে ফুটবল এবং ক্রিকেটকে। নিজেকে,নিজের দেশকে নিয়ে যেতে চান সফটওয়্যার খাতে শীর্ষে। আরও দিতে চান আইটি ফার্ম। জীবনে কি চান জিজ্ঞেস করতেই সদা হাস্যময় এই তরুন সহাস্যে জবাব দিলেন সবার ভালোবাসা। সবার ভালোবাসাগুলোকে মূলধন করে স্বপ্ন গুলো ছুঁয়ে দিতে চান নিজের।

গার্মেন্টস শিল্পের মতো সফটওয়ার শিল্পও বাংলাদেশকে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করবে

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 24, 2016 , 4:04 পূর্বাহ্ন

sadyy

খোশগল্প.কম: এখন সবকিছুর মধ্যে কী করছেন আপনি?

সাদী:বর্তমানে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে পড়াশুনা করছি।

খোশগল্প.কম: এখানেই পড়ার ইচ্ছা ছিলো?

সাদী:আসলে আমার আমার ইচ্ছা একজন ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ইচ্ছে ছিল বুয়েটে সিএসই নিয়ে পড়াশুনা করার। কিন্তু এইচ এস সি তে বাংলা আর ইংরেজীতে A+ না পাওয়ার কারনে সেখানে পরীক্ষা দিতে পারিনি ।আর ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার কারনে পরিবার থেকেও ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দিতে দেয়নি । তখন আহসানউল্লাহকেই বেছে নেই আমার সপ্ন পূরনের জন্য ।

খোশগল্প.কম:গ্রামের বাড়ি কোথায়? মানে ছোটবেলা কেটেছে কোথায়?

সাদী: গ্রামের বাড়ি নেই । ঢাকার রামপুরায় আমার দাদার বাড়ি ।ছোটবেলা থেকে এখানেই বড় হয়েছি।

খোশগল্প.কম: বললেন সফটয়্যার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তো ইতিমধ্যেই কি কোন স্টেপ নেয়া হয়েছে?বা সেই রকম কোন কাজ কি করা হচ্ছে পড়াশুনার পাশাপাশি?

সাদী: জি ।আমি এখন প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছি । গত ১লা ফেব্রিয়ারী আমদের ভার্সিটিতে “Intra AUST Project Show & Robot Race” প্রতিযোগিতা হয়.  সেখানে আমি আর আমার ২ জন বন্ধু মিলে একটি সফটওয়ার প্রজেক্ট প্রদর্শন করেছিলাম ।আমরা ওই প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন   করি । এইটাই আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রেরনা হিসেবে কাজ করবে ।  ভবিষ্যতে আরো ভালো সফটওয়্যার প্রদর্শন করার ইচ্ছা আছে ।

খোশগল্প.কম:অভিনন্দন আপনাকে। কিন্তু সব কিছু বাদ দিয়ে সফটওয়ার রিলেটেড কিছুই করতে চাচ্ছেন কেনো?

সাদী: ধন্যবাদ । আসলে যদিও বাংলাদেশ আইটি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তাও এখনো অনেক যায়গা আছে যেখানে উন্নতির দরকার ।তাছাড়া আমদের প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের ৩ নম্বর সফটওয়্যার রপ্তানীকারক দেশ । কিন্তু আমাদের দেশ এখনো এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে।আমদের দেশের অনেক বড় বড় সফটওয়্যার প্রজেক্ট গুলা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।শুধুমাত্র ভালো আইটি ফার্মের অভাবে।আমি মনে করি এমন এক দিন আসবে যেদিন বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করবে । গার্মেন্টস শিল্পের মতো সফটওয়ার শিল্পও বাংলাদেশকে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করবে।সেই সোনালী দিনের আনার জন্য কিছু করতে চাই ।তাই সফটওয়্যারকেই বেছে নিয়েছি।

খোশগল্প.কম: বাহ ভালো উদ্যোগ। তবে মনে হয়না যে এই ক্ষেত্রে সারভাইভ করা কিছুটা জটিল হবে?

সাদী: হ্যা তা তো অবশ্যই । তবে মহান আল্লাহর সাহায্য,ইচ্ছাশক্তি এবং অধ্যবসায় থাকলে মনে হয় না ততটা জটিল হবে ।

খোশগল্প.কম: নিজের ফার্ম দেয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে কি?

সাদী: হ্যা ইচ্ছে আছে ।প্রায় সময়ই এই চিন্তা টা মাথায় আসে ।এমনকি ভার্সিটিতে বন্ধুদের সাথেও আলোচনা করি এই বিষয়টা নিয়ে । দেখা যাক আল্লাহ আমাকে তৌফিক দান করেন কিনা ।

খোশগল্প.কম: দোয়া করি আপনার স্বপ্ন পূরন হোক। পড়াশুনার পাশাপাশি আর কিছু করা হয়?

সাদী: পড়াশুনার পাশাপাশি মাঝে মাঝে একটু প্রোগ্রামিং ও করি ।তাছাড়া ক্রিকেট আর ফুটবল খেলতেও পছন্দ করি।

খোশগল্প.কম: তার মানে অবসর মানেই ক্রিকেট বা ফুটবল?

সাদী: জি ভালোলাগার একটা জায়গাও বলতে পারেন।

খোশগল্প.কম: সব থেকে বেশি সময় দেয়া হয় কোনটায়?

সাদী: ক্রিকেট।তবে ভার্সিটিতে উঠার পর প্রোগ্রামিং এ সময় দিতে হচ্ছে।

খোশগল্প.কম: ফ্যামিলি সাপোর্ট টাও পাচ্ছেন তাহলে তেমন বলা চলে?

সাদী: অবশ্যই। ফ্যামিলির সবাই আমাকে সাপোর্ট করেন ।তাছাড়া আরেকটা কথা বলা হয় নি । আমার আব্বুর ও ইচ্ছে আমাকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বানানোর ।

খোশগল্প.কম: আপনার বাবা কী করছেন?

সাদী: আব্বু আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকুরী করত ।গত বছর অবসরে চলে এসেছেন।

খোশগল্প.কম: জীবনে এমন কোন মজার ঘটনা যা আমাদের সাথে শেয়ার করতে চান?

সাদী: ঠিক মনে করতে পারছি না ।

খোশগল্প.কম: বাসায় আর কে রয়েছে?

সাদী: আম্মু,আব্বু,ভাইয়া আর বোন।

খোশগল্প: ভাই বোনরা কী করছেন?

সাদী: লভাইয়া বর্তমানে এম বি এ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।আর এক বোনের বিয়ে হয়ে গেছে,আরেক বোন এইবার বিসি এস এর প্রিলিমিনারিতে চান্স পেয়েছে ।এখন রিটেন এর জন্য পড়াশুনা করছেন।

খোশগল্প.কম: সবাই মোটামুটি স্টাবলিশড। আপনি সবার ছোট,তো সেই হিসেবে তো অনেক আদর আপনার একার দখলে তাই না?

সাদী: হি হি ।   হ্যাঁ তা তো অবশ্যই ।কিন্ত দায়িত্বও অনেক।

খোশগল্প.কম: কেমন?

সাদী: এইযে আব্বু অনেক আশা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছে ।ছোট ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবে ।  ভাই বোনরাও অনেক আশা করে আমাকে নিয়ে ।তো এইসব চিন্তা ভাবনাগুলো মা্থায় ঘুরে বেড়ায়।তাছাড়া পরিবারের অনেক ছোট খাট কাজগুলোও দেখাশুনা করার লাগে।

খোশগল্প.কম:ব্যাপারটা খারাপ না কি বলেন? এখন থেকেই জেনে বুঝে রাখছেন সব!

সাদী: হ্যা। দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে ।। হি হি ।

খোশগল্প.কম: কি হতে চান তা জানলাম তবে কি পেতে চান জীবনে?

সাদী: সবার ভালবাসা।

খোশগল্প.কম: কথা বলে ভালো লাগলো আপনার সাথে।

সাদী: আমারও। দোয়া করবেন।

 

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত