বড় পরিচয়ের জায়গাটা ফেইসবুকে,  নাম জাবেদ পারভেজ।লেখালেখি করেন অর্থনীতি, ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স ইত্যাদি ইন্টারেস্টিং এবং সচরাচর আলোচিত হয় না এমন সব বিষয় নিয়ে। RUET থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে রিসার্চ করছেন মালয়সিয়ান ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে।নেশা মুভি দেখা আর নতুন নতুন দেশ ঘোরা।এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ঘুরে ফেলেছেন।ধর্ম, ব্যাংক, বিজনেস নিয়ে বললেন ইন্টারেস্টিং সব গল্প।

‘টাকা স্যাক্রিফাইস করতে পারবো, সম্মান পারবো না’

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 4:49 অপরাহ্ন

10661972_936734306340405_3046733366731572763_o

খোশগল্প.কমঃ পড়ালেখা নিয়ে বলেন, কি করছেন?

জাবেদঃ আমি ১৩ এর শেষে গ্রাজুয়েসন কমপ্লিট করছি। ১৪ তে কিছুদিন জব করছি, ১৪ এর সেপ্টেম্বারে মালায়সিয়া আসছি। এক বছর হইলো আসছি। আশা করতেছি আগামী মার্চে শেষ হবে। পড়ি আর পড়াই।

 খোশগল্প.কমঃ কি নিয়ে রিসার্চ করছেন?

জাবেদঃ মেম্ব্রেন ডিস্টিলেসন, Membrane distillation.

খোশগল্প.কমঃ কটু সহজপাচ্য করে বলেন

জাবেদঃ Membrane distillation প্রসেস ওয়ার্ল্ডে সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয় পানি পরিশোধনের কাজে।যেমন সিংগাপুর, দুবাই এইসব দেশে প্রায় ৯৯% ব্যাবহ্বত পানিই এখন এই পদ্ধতিতে সাগর থেকে পিউরিফাই করা হয়।অন্য অনেক এপ্লিকেসন আছে।যেমন ion separation, desalination ইত্যাদিএই প্রসেসে বিভিন্নরকম মেম্ব্রেন ইউজ করা হয়।একেক রকম মেমব্রেনের একেক রকম ধর্ম, আমি ব্যাবহার করতেছি PTFE membraneএই মেম্ব্রেন হলো হাইড্রোফবিক।অর্থাৎ মেম্ব্রেনের মধ্যে দিয়ে পানি পাস করতে পারেনা।মেম্ব্রেনের দেয়ালে এসে,পানির অনুগুলি বিভাজিত হয়ে বাস্প হয়ে যায়শুধুমাত্র বাস্পই মেম্ব্রেন দিয়ে পাস করে।

মেম্ব্রেনের মধ্যে দিয়ে পানি পাস করতে পারেনা।মেম্ব্রেন একটা ছাকনি হিসেবে কাজ করে।মেম্ব্রেনের অপর পাশে থাকে একটা হিট রিজেক্টর।বাস্পগুলি ওই হিট রিজেক্টরে গিয়ে হিট ছেড়ে দিয়ে আবার পানি হয়।এইভাবে পানি পরিশোধিত হয়।

খোশগল্প.কমঃ আপনার ক্লাস থাকে কখন আর আপনি পড়ান কখন?

জাবেদঃ আমার কোন ক্লাস নেই, রিসার্চ ডিগ্রি করছি। এখানে শুধু গবেষণা করতে হয়। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ল্যাবে থাকি, গবেষণা করি।বৃহস্পতিবার সকালে  আর শুক্রবার সকালে ২টা ক্লাস নেই।এই দুই দিন ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস শেষে ল্যাবে যাই।সারাদিনই ফেইসবুকে  থাকি, ধরো আমার ল্যাবে ম্যাসিনে রিডীং নিতে হয়। এক একটা রিডিং আধা ঘন্টা পরপর নিতে হয়। একটা রিডিং নিয়ে ফেসবুকে বসে থাকি, মাঝে তো আর কোন কাজ নাই,আমি খুব অলস টাইপের মানুষ আরকি।

খোশগল্প.কমঃ ফেইসবুকে নিশ্চয় সারাদিন থাকেন না?

জাবেদঃ আসলে নেটে সারাদিন থাকি, সাথে একটা ট্যাবে ফেসবুক খোলাই থাকে। ফেসবুকের ট্যাব ক্লোজ করে দিতে দম বন্ধ বন্ধ লাগে, সাফোকেটেড ফিল হয় ।

খোশগল্প.কমঃ রিসার্চ কি একা একা করতে হয় নাকি আমাদের প্রাক্টিকাল এর মত বেশ কয়েকজন মিলে।

জাবেদঃ কিছু কিছু বড় প্রোজেক্টে অনেকজন একসাথে কাজ করে, কিন্তু আমি একাই করছি,বাংলাদেশে প্রাইভেট জবের যেয়ে অনেক ইজি ।

খোশগল্প.কমঃ কিরকম?

জাবেদঃ এইটা তোমাকে বোঝানো সম্ভব না। যদি কখনও নিজে এক্সপেরিয়েন্স করো তখনই কেবল বুঝবা। দেশে জব করেছিলাম কিছুদিন। সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে কোনরকম খেয়েদেয়ে ফ্রেস হয়ে সাড়ে ছয়টার মধ্যে বাসা থেকে বের হতাম। ঠেলাঠেলি যুদ্ধ করে লোকাল বাসে উঠতাম।১০ কিলো রাস্তা জ্যামে ২ ঘণ্টা লাগাইয়া অফিসে পৌছাইতাম।৯টার এক মিনিট পরে অফিসে ঢুকলে অইদিনের বেতন কাটা যেতো।প্রায় এক হাজার টাকা কাটা যেতো।তারপর সারাদিন গাধা খাটুনি করে ৬ টায় অফিস থেকে বের হতাম। ৫টায় ছুটি হয়, কিন্তু কোনদিনও ৫টায় বের হতে পারিনি। তারপর আবার দুই আড়াইঘন্টা জ্যাম ঠেলে, বাসে ঠেলাঠেলি করে বাসায় পৌছাইতাম রাত ৯টায়। তারপর গোসল করে খেয়ে ঘুম। কারণ পরেরদিন আবার সকাল ৬টায় উঠতে হবে, এই ছিল লাইফ। এখন প্রায় সব প্রাইভেট কোম্পনাইতেই এইরকম।

খোশগল্প.কমঃ বাট এইটার সাথে কমপেয়ার করলেন কেন?

জাবেদঃ এইটার সাথে কম্পেয়ার করলাম কারণ এখানে না আসলে এখন হয়তো আমার প্রাইভেট চাকরিই করা লাগতো।খুব কষ্টের লাইফ, আর সবথেকে বড় কথা আমার বাঁচার জন্য অক্সিজেন আর খাদ্যের পাশাপাশি আরও ২টা জিনিস লাগে; গান আর মুভি। এই দুইটা ছাড়া আমি বাঁচবোনা।দেশে সেই সময় পেতাম না। এখানে আমার সেই সময় আছে।

খোশগল্প.কমঃ ফিউচার প্লান ?

জাবেদঃ আগে পিএইচডি করবো, তারপরে ডিসাইড করবো কোথায় সেটেল হবো। দেশে ফিরলেও আর এইসব জব করবো না। একাডেমিক জব করবো। লেকচারার হিসেবে কোন ইউনিতে জয়েন করবো, ওইটা অনেক সম্মানের জব।লাইফে আমি টাকার চেয়ে সম্মানটা আগে চাই, টাকা স্যাক্রিফাইস করতে পারবো, সম্মান পারবো না।আর সবথেকে বড় কথা গবেষণা ফিল্ডটা আমার খুব ভালো লাগে।

আমি হইলো সেফ ক্যারিয়ার পাথ বাইছা নিছি, চ্যালেঞ্জ ট্যালেঞ্জের মধ্যে যাইনাই।মিডিলক্লাস ফ্যামিলির ছেলে, রিস্ক নেয়া আমার জন্য মানায় না।আমার সিম্পল লাইফ দরকার যেখানে আমি আমার পেশার পাশাপাশি নেশাগুলাকেও প্রাক্টিস করতে পারবো।

খোশগল্প.কমঃ কি কি নেশা?

জাবেদঃ এই যে বললাম প্রতিদিন একটা মুভি না দেখলে ঘুম আসেনা। ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স, অর্থনীতি নিয়ে একটু পড়ালেখা করতে ভালো লাগে, বই পড়তে ভালো লাগে এইগুলাই আরকি।

খোশগল্প.কমঃ পিএইচডি কোথায় করবেন?

জাবেদঃ পিএইচডি কোথায় করবো সেটা অনেককিছুর উপরে ডিপেন্ড করতেছে। অবশ্যই অন্য দেশে চেষ্টা করবো।

খোশগল্প.কমঃ বিজনেসের কথা আপনার কখনো মাথায় আসে নাই?

জাবেদঃ এক গাদা বিজনেস প্ল্যান নিয়া বইসা আছি, ক্যাপিটাল নাই।

খোশগল্প.কমঃ কোন কোন সেক্টরে আপনার প্লান আছে?

জাবেদঃ সব রেডি শুধু ক্যাপিটাল নাই । আইডিয়ার তো অভাব নাই। আপাতত একটা ইচ্ছা আছে যে মালায়সিয়ার খুব পপুলার একটা গাড়ির ব্র্যান্ড আছে, নাম Perodua. মালায়সিয়াতে টপ সেলিং গাড়ির ব্র্যান্ড। এদের ২টা মডেলের গাড়ি খুব চলে, তেল খুব কম কঞ্জিউম করে, দামও কম। লাইক ১২ লাখ টাকায় দেশে নতুন গাড়ি দেয়া সম্ভব। তো ওদের থেকে ডিলারশিপ নিয়ে দেশে এই ২টা মডেল সাপ্লাই দিতে চাচ্ছি। ঢাকায় একটা বড় শোরুম দিতে হবে।ডিলারশিপ নেয়ার জন্য কিছু জামানত দিতে হবে গাড়ির কোম্পানিকে। সবচেয়ে বড় খরচ এডভার্টাইজিং এ।

 খোশগল্প.কমঃ মোটামুটি বেশ বড় এমাউন্ট নিয়েই নামতে হবে, এক্সিকিউট করার জন্য কিছু ভাবছেন?

জাবেদঃ ভাবাভাবির কিছু নাই আসলে। এই মূহুর্তে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব না। এক ফ্রেন্ড আছে, তাকে কনভিন্স করার চেষ্টা করতেছি, সে পার্টনার হইলে হয়তো সে কিছু টাকা দিবে। তাইলে হবে, নাইলে নাই।

আমার জন্য সবথেকে ফিজিবল যে ব্যাবসা এখন করা সম্ভব সেটা হলো মালায়সিয়া থেকে মোবাইল এবং কম্পিউটার পণ্য দেশে সাপ্লাই করা। মালায়সিয়াতে এইগুলার দাম খুবই কম। দেশে এখন আবার কম্পিউটার পণ্যের উপর ৪% ট্যাক্স আরোপ করছে, দাম আরও বাড়বে। এই ব্যাবসা করতে পারলে লাভ আছে । এরজন্য আমাকে একটা এক্সপর্ট ইম্পর্ট লাইসেন্স যোগাড় করতে হবে।

মাস্টার্স নিয়েই এখন এতো বিজি যে আপাতত এইটার পিছে টাইম দিতে পারতেছি না।দেখি শুরু করা যায় নাকি।

খোশগল্প.কমঃ এই পণ্য গুলা কি মালয়সিয়া বানায়?

জাবেদঃ না ওরাও ইম্পোর্ট করে আনায়।

খোশগল্প.কমঃ সব ব্রান্ড?

জাবেদঃ হুম।

ব্যবসা করবোনে যেয়ে শেষ বয়সে। এখন এইসব পেইন নিয়া লাভ নাই।এজ আই সেইড আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। একটা ইউনিভার্সিটির লেকচারা হিসেবে ঢুকবো, গুড স্যালারি, গুড রেপুটেশন ব্যাস।আর দেশ ঘুরবো। আমার পুরো দুনিয়া ঘুরে দেখার ইচ্ছা।অলরেডি ৪টা দেশ ঘুরছি, আমার লাক ভালো, বাবার চাকরিসুত্রেই আমার বিভিন্ন জেলায় থাকা লাগছে। লাইফে ৯টা জেলাতে থাকছি। ঘুরছি কম করে হলেও ৩২ টা জেলাতে ।

আর বাইরে ইন্ডিয়া, মালায়সিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া।

 খোশগল্প.কমঃ ঘোরার উদ্দেশ্যেই গেছেন?

জাবেদঃ হুম, নতুন নতুন দেশে ঘোরার অন্যরকম মজা। দেশে ঢুকেই হাতে নতুন ব্যাংকনোট, টাকার নতুন মান, নতুন কালচার, নতুন মানুষ, খুব ভালো লাগে।

ইন্দোনেশিয়াতে যখন গেছিলাম তখন রিঙ্গিত ভাঙ্গায়ে অনেক গুলা ইন্দোনেশিয়ান নোট দিছিল।ওদের টাকার মান কম, তাই অনেকগুলা নোট, মানিব্যাগে ধরেনা ।নিজেরে বিশাল বড়লোক বড়লোক লাগতেছিল, আমার সিঙ্গাপুরে যাইয়া উল্টা ইফেক্ট। এত্তগুলা নোট দিলাম। আমারে মাত্র ৫টা সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার দিলো। বাংলাদেশের ১ টাকায় প্রায় ২০০ ইন্দোনেশিয়ান রুপি হয়, আর প্রায় ৬০ টাকা সমান এক সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার

খোশগল্প.কমঃ আগ্রহ/শখের জায়গা গুলো নিয়ে ডিটেইলে বলেন

জাবেদঃ আমার আগ্রহ সবকিছুতে। সবচেয়ে প্রথম আগ্রহ চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীতে। তারপর বিজ্ঞানে। পৃথিবী নিয়ে জানতে চাই, মানুষ নিয়ে জানতে চাই। নিজের মতো ফ্রি স্টাডি করতে ভালো লাগে। একাডেমিক পড়াশোনা ভালো লাগেনা।

খোশগল্প.কমঃ তারপর ও থাকে না ফ্যাসিনেশন ? নিদির্ষ্ট কিছুর উপর?

জাবেদঃ গাড়ি এবং ফটোগ্রাফির উপরে চরম ফ্যাসিনেসন আছে।বললাম না? আমার সবকিছুর উপরেই আগ্রহ। ঘুরতে ভালো লাগে। নতুন মানুষ, নতুন কালচার, মানুষের সাইকোলজি এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভালো লাগে।গাড়ি নিয়ে ফেসিনেসন ইদানিং তৈরি হইছে।মালায়সিয়া গাড়ির জন্য স্বর্গ,এইখানে সবার গাড়ি আছে, যে লোকটা সকালে আমাদের বাসার সামনে ঘাস কাটতে আসে সেও গাড়ি চালায় আসে।

এইখানে আসার পরেই ড্রাইভিং শিখছি, এখানে গাড়ির দামও অনেক কম, কিনবো কিনবো করে কেনা হয়নাই। যেহেতু মালায়সিয়াতে সেটেল হওয়ার ইচ্ছা এখনও নাই তাই কিনতেছি না। খুব কমে রেন্ট পাওয়া যায়। রেন্ট নিয়ে লং ড্রাইভে যাই।

খোশগল্প.কমঃ ধর্ম,পাপ,পূণ্য বিষয়গুলাকে কীভাবে দেখেন?

জাবেদঃ আমি খুব একটা ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ না। আমি বিশ্বাস করিনা ধর্ম মানুষকে ভালো মানুষ করতে পারে। আমি মানুষকে বিচার করি তার ব্যাবহার এবং চিন্তাধারা দিয়ে, ভালো কাজ, মন্দ কাজ দিয়ে, তার বিশ্বাস দিয়ে না।আর ধর্মবিশ্বাসকে একদমই একজন মানুসের ব্যাক্তিগত বিষয় বলে মনে করি।কিন্তু কেউ তার বিশ্বাসকে অন্যের উপর চাপায় দিবে সেটা ঘৃণা করি।

খোশগল্প.কমঃ তার মানে ধর্ম প্রয়োজনীয় বিষয় না?

জাবেদঃ ধর্ম প্রায়োরিটি পায়না বলিনি। পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজনীতি এবং কালচারে এখন ধর্মের প্রভাব অনেক।আমি বলতে চেয়েছি শুধু একজনের ধর্মবিশ্বাস দিয়ে তাকে ডিফাইন করাটা ভুল হবে।আমি তো লাইফে বহু যায়গায় ঘুরলাম, বহু লোক দেখলাম। আমি আমার লাইফে সবথেকে ভালো যে মানুষগুলকে দেখেছি কেউ সেইরকম ধার্মিক ছিলনা

খোশগল্প.কমঃ কিন্তু ভালো-খারাপ কাজের অনুভূতিই আসছে ধর্ম থেকে, সেক্ষত্রেও কি ধর্ম একটা ভাইটাল রোল প্লে করে না?

জাবেদঃ সবগুলিই ইম্পরট্যান্ট, আমি কাউকে ডিফাইন করতে বলি না। কারোর ফিলসফি নিয়েই আমার কোন আপত্তি নাই যতক্ষণ পর্যন্ত তার সেই ফিলসফি বা বিশ্বাস মানুষের ডিরেক্ট ক্ষতি করে।আমি যেটা লজিক্যাল সেটাই বিশ্বাস করি।আমি বিজ্ঞানের মানুষযেটা প্রমাণিত, আমার কাছে সেটাই সত্য।সবগুলিই ইম্পরট্যান্ট।

 খোশগল্প.কমঃ আমি জানতে চাচ্ছি আপনি ধর্ম বিশ্বাস করেন কিনা

জাবেদঃ সেটা ডিপেন্ড করে “ধর্ম” বলতে তুমি কি বোঝাচ্ছ তার উপরে।oxford dictionary ধর্মের সংজ্ঞা দিছে এইভাবে “The belief in a superhuman controlling power”আমি সুপার পাওয়ারে বিশ্বাস করি।

খোশগল্প.কমঃ আপনার কাছে সুপারপাওয়ার কি ইশ্বরকে বিলংস করে ?

জাবেদঃ  Oxford dictionary এর সংজ্ঞা অনুসারে আমি ধর্মে বিশ্বাস করি।

খোশগল্প.কমঃ উত্তর টা কি ডিপ্লোম্যাটিক হয়ে যাচ্ছে না?

জাবেদঃ উহু, ডীপ্লোম্যাটিক না মোটেও। তুমি সেই সুপারপাওয়ারকে “ঈশ্বর” নামে ডাকতেই পারো। সেক্ষেত্রে হুম আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো আমার মতে all practicing popular religion in this world right now is faulty রেলিজন।মানুষ ধর্মকে বদলে ফেলছে, নিজের সুবিধামতো মডিফাই করে নিয়েছে। আমি সেটায় তো বিশ্বাস করতে পারিনা।

খোশগল্প.কমঃ আপনি মানুষের কথা বারবার বলছেন , বাট আমি আসলে রিলিজয়ন এবং সেটাকে কেন্দ্র করে আপনার অবস্থান জানতে চেয়েছিলাম

জাবেদঃ শোনো আমি যদি বলতাম আমি ইসলামে বিশ্বাস করি তাহলে হয়তো তুমি প্রশ্ন করতা কোন ইসলাম? সিয়া সুন্নি সাফিয়ি হানাফি হাম্বালি তাবলীগি নাকি কোনটা?

যদি বলতাম খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাস করি জিজ্ঞেস করতা প্রটেস্টেন্ট, ক্যাথলিক, ব্যাপ্টিজম কোনটা?

তুমি না করলেও এই প্রশ্ন আসে।তোমার কিন্তু বোঝার উপায় নাই কোনটা সত্য পথ। হানাফি, মাঝহাবি, হাম্বালি, কাদেরি নাকি তাবলিগি? একেক দল হাদিসের ব্যাখ্যা দেয় একেক ভাবে। সুতরাং তুমি কোনটা ফলো করবা? আবার বলা আছে একটা মাত্র দলি জান্নাতি, বাকি সব জাহান্নামি। সুতরাং তুমি জাস্ট অপু দশ বিশ করে একটা বেছে নিতে পারনা।

তাইলে উপায় কি এখন বলো।একমাত্র উপয় হলো নিজের বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে কাজ করা যেটা ইসলামেও বলা আছে। এইতাকে ইসলামে বলে ইজতিহাদ।মানে নিজের জ্ঞান দিয়ে কাজ করা।আমি নিজের জ্ঞান দিয়ে কাজ করি।আমি বুঝি মিথ্যা খারাপ, আমি মিথ্যা বলিনা।

আমি বুঝি মানুষ খুন খারাপ, যারা মানুষ খুন করে আমি তাদের সাপোর্ট করিনা।

কিন্তু অনেক মুসলিম কাফের খুব সাপোর্ট করে। কাফের মারলে নাকি গোনাহ নাই।আমি তাদের মতে বিশ্বাসী না। আমার বিশ্বাসটা একটু আলাদা। আমার বিশ্বাস যে তথাকথিত মুসলিম থেকে আলাদা এইটা বুঝাইতেই এতো কথা। আমি সিমপ্লি যদি বলি আমি ইসলামে বিশ্বাসকরি তাইলে আমি তাদের দলেই পড়ে যাই।

খোশগল্প.কমঃ তাহলে সামাজীকিকরণের জন্য ধর্ম  প্রয়োজন?

জাবেদঃ ধর্ম জিনিসটাই আসলে এখন সাধারণের মানার জন্য খুব কমপ্লেক্স হয়ে গেছে।জাপান দেশটাকে দেখো, দেশটার অধিকাংশ মানুষ নাস্তিক। অথচ ওরা সবকিছুতে কতো আগায় গেছে। ছোটথেকেই ওদের মরালিটি এমনভাবে ডেভেলপ করা হয় যেয়ে ওরা একটা কমপ্লিট জীবন বিধানের মধ্যে দিয়ে বড় হয়।তাই বলে আমি বলছিনা সবাইকে নাস্তিক হয়ে যেতে হবে।জাপানিদের পরীক্ষার হলে যদি কোন গার্ড না থাকে তাও ওরা নকল করবে না।জাপানিজদের মতো গুরুজনকে সম্মান মনেহয় আর কোন জাতি করেনা।ওদের স্কুলের টয়লেট পর্যন্ত ওরা নিজে পরিস্কার করে, স্কুলের মেঝে নিজেরা ঝাড়ু দেয়, মোছে।

খোশগল্প.কমঃ ফেইসবুকটা কীভাবে দেখেন?

জাবেদঃ ফেসবুককে এখন পর্যন্ত ফ্রি থিঙ্কিং এর সবথেকে বড় প্লাটফর্ম হিসেবে দেখি। যার যা মতামত সেটা ইচ্ছামতো প্রকাশ করতে পারে। আর ইনফরম্যাশন ছাড়নোর সবথেকে বড় মাধ্যম হিসেবে দেখি। যেমন ধরো ঢাকায় ভুমিকম্প হইলো। ঢাকায় বইসা ওইটা টের পাওয়ার আগেই ফেসবুক খবর পাইয়া যাই ভুমিকম্প হইতেছে.

খোশগল্প.কমঃ আপনি ফেইসবুকে বেশ সিরিয়াসভাবে লিখেন, শুরু করলেন কীভাবে?

জাবেদঃ আমি ফেসবুকে আগে তেমন লিখতাম না, লিখতাম ব্লগে, সামুতে লেখা শুরু করেছিলাম ০৮ সালে। তখন মূলত সাইন্স আর ম্যাথ নিয়ে লিখতাম।আর প্রচুর ব্লগ পরতাম।তখন তো ছিল ব্লগের দিন, সামু প্রচুর পপুলার ছিল।তারপর ১৩ এর শেষে এসে কিছু রাজনৈতিক ঝামেলায় সামু গেলো, সামুর এডমিনকে গ্রেপ্তার করলো, তারপরে দেখলাম ব্লগে তেমন সাড়া পাচ্ছি না, কেউ আর ব্লগ পড়েন।তখন দেখলাম ফেসবুকেই মানুষ বেশী এক্টিভ, প্রথম দিকে ফেসবুকে সবাইকে এড করতাম, তারপরে দেখলাম আনেডুকেটেড লোকজন খুব প্রব্লেম করে, এসে উল্টাপাল্টা কমেন্ট করে, বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা বেশী করে এটা, এরা ইমেচিউর, জানে কম, কিন্তু ভাবে সব জানে, এবং সে যেটা জানে সেটাই সঠিক,তারপর স্কুল কলেজের ছেলেদের এড দেয়া বাদ দিলাম,এখনো দেইনা।বেছে বেছে এড দেই। এখন একাউন্ট এ যারা আছে উচ্চশিক্ষিত, আমি যে টপিকগুলি নিয়ে আলচনা করি সেটা বোঝে,সবাই খুব কোওপারেটিভ,সবাই লিখতে এনকারেজ করে।

 

আর আমি যা পড়ি সেটা নিয়েই লিখি। একসময় পৃথিবী নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে বুঝলাম দুনিয়া আসলে বিজ্ঞানীরা চালাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়াররা চালাচ্ছে না, ডাক্তাররা চালাচ্ছে না। ইভেন দেশে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টরাও চালাচ্ছে না।চালাচ্ছে ব্যাংকার রা।একসময় ভাবতাম ক্ষমতাই সব, এখন দেখি টাকাই সব। যার যত টাকা তার ততো ক্ষমতা।তখন ধীরে ধীরে অর্থনীতি, রাজনীতির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।ওইগুলা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে আমার মুখ হা হয়ে গেলো। দুনিয়াকে যেমন চিনতাম দুনিয়া ঠিক তার উল্টা। ভেতরের দুনিয়াকে আমরা একদম চিনিনা।সেখান থেকে এইগুলা নিয়ে লেখা শুরু করলাম।

খোশগল্প.কমঃ 80/20 রেশিও, বিল্ডারবার্গ মিটিং, ইস্যুগুলো এত random হয় কি করে, মানে টপিকগুলো বাছাই করতে গিয়ে কী জিনিস মাথায় কাজ করে বা কি চিন্তা করে এই টপিক গুলো চুজ করেন

জাবেদঃ কমন জিনিস নিয়ে লিখতে চাইনা। যেসব তথ্য কেউ জানেনা, একদম আন্ডারওয়ার্ল্ড এর ইনফো, সেইসব নিয়ে লিখতে ভাল লাগে।যেগুলা জানতে পেরে আমি নিজেও shock খাই সেগুল নিয়েই লিখি।জানি সেগুলো মানুস কেও shock দেবে।মজার ব্যাপার হল আমি দুনিয়াকে চিনতে শুরু করছি ধর্ম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে।সারা পৃথিবী ধর্ম নিয়ে এতো মিসকন্সেপ্সন, এতো মারামারি। তখন মনে হইলো এই ধর্ম ব্যাপারটা নিয়ে জানা দরকার।বিভিন্ন রেলিজিওন নিয়ে পড়ালেখা শুরু করলাম।কম্পারেটিভ রেলিজিওন আমার ফেভারিট টপিক হয়ে গেলো।ওইটা নিয়ে ফেসবুকে লেখা শুরু করলাম। কিন্তু দেখলাম ধর্ম নিয়ে লিখলে মানুষের গালিই খাওয়া লাগে বেশি, বাংলাদেশের সব মানুষই বিশাল এক একজন আলেম ।ওইটা নিয়ে লেখা বাদ দিলাম কিন্তু সেলফ স্টাডি করতে  থাকলাম।কুয়েটে আমার এক রুমমেট ছিল জামাত করতো।তো তার সাথে একটা তর্কের প্রেক্ষিতে জামাত দলটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম।তাদের এতো টাকার উৎস কি? খুঁজতে গিয়ে যা পাইলাম তা দেখে আমার চোয়াল ঝুলে গেলো।জামাতের সবথেকে বড় অর্থায়নের উৎস হলো IDB মানে Islamic development bank।এই Islamic development bank এরই সবথেকে বড় সাবসিডিয়ারি islamic bank, যেটাকে তারা কিনা দাবী করে দেশের একমাত্র পিওর ইসলামিক ব্যাংক যেটা কিনা পুরোপুরি ইসলামি শরীয়ার ভিত্তিতে চলে।ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পারলাম পিওর ইসলামিক এই ব্যাংকটির সবথেকে বড় মালিক হচ্ছে ইহুদিরা। ইসলামি ব্যাংকের ৮০% শেয়ার ডিরেক্ট হোল্ড করে ইহুদিরা।তাদের ডিসিশনেই এই ব্যাংক চলতেছে।অথচ উপর দিয়ে ধর্মের বুলি দিয়ে কিভাবেই না দেশে ব্যাবসা করে জাচ্চেহ এই ব্যাংকটি। যে ইহুদি জিওনিস্ট প্রতিষ্ঠানটি এই ব্যাংকের ৮০% শেয়ার হোল্ড করে তাদের নাম হলো Morgan chase.তাদের নিয়ে ঘাটতে ঘাটেই জানতে পারলাম Morgan family র কথা।

খোশগল্প.কমঃ  অসংখ্য ধন্যবাদ, এতক্ষণ সময় দেয়ার  জন্য।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত