‘জীবনের সব কিছু প্যারা’ পড়া-শুনা, চাকরী সব কিছুই!সাদিয়া শারমিন, বড় হয়েছেন নিশাত নামে।সুকুমার বড়ুয়া পছন্দের কবি আর ‘ওয়ার এন্ড পিস’ এর লুসিফার চরিত্র।ছোটবেলা থেকে পুলিশ হতে চান, ঠিক যেখানে পরিবারের অপছন্দ!আর স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটা রাস্তায় হেঁটে প্রতিটা মানুষের সাথে কথা বলা আর দেশের নূন্যতম .০০০০১ অংশের পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় থাকা।

টেকনাফ-তেতুঁলিয়া প্রত্যেকটা রাস্তা, প্রত্যেকটা জায়গায় একবার হইলেও যাইতে চাই

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 9:11 পূর্বাহ্ন

november

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

নিশাত: হুমম, ভালো।

 

খোশগল্প.কম: নিজের পরিচয় কী দিবেন?

নিশাত: হ্যালো, আমি নিশাত।আর কিছু বলবো না।

 

খোশগল্প.কম: শুধু এটুকুই?

নিশাত: হ্যাঁ, এর থেকে বেশী কিছু বলবো না।অফিসিয়ালি যদি কিছু বলতে বলা হয় হয়তো অনেক ভারী ভারী কথা বলবো ধরো ভাইভা তে যেগুলা বলা হয়।কিন্তু পারতপক্ষে কথা যত কম বলা যায় সেই চেষ্টা করি।

 

খোশগল্প.কম: ভাইভাতে কী পরিচয় দেন?

নিশাত: আমার নাম হচ্ছে সাদিয়া শারমিন, আমি ইডেন থেকে অনার্স-মাস্টার্স করছি, তারপর হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট করছি কোথা থেকে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি মে বি গান শিখতেন বা…..

নিশাত: হ্যাঁ, আমাকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত শেখানো চেষ্টা করছিলো, হারমোনিয়ামের সুর একদিকে আমার সুর আরেকদিকে, একেবারেই মনযোগ ছিলো না, আর আমার ভালোও লাগতো না সকাল বেলায় উঠে রেওয়াজ করা, দুপুরের খেলা বাদ দিয়ে রেওয়াজ করতে হইতো।

 

খোশগল্প.কম: কতদূর শিখছিলেন?

নিশাত: গান টান গাইতে পারতাম, কিন্তু আমারই মনযোগ ছিলো না, আর আমার গলা খুবই বাজে, গানের জন্য একেবারেই না।

 

খোশগল্প.কম: আপনি তো তখন বুঝতেন না আপনার গলা কতটা স্যুট করছে?

নিশাত: না বুঝতাম না।বাট ইচ্ছা ছিলো না।

 

খোশগল্প.কম: পরে আপনার মনে হয় নাই ভুল করছেন?

নিশাত: নাহ, আমি দেখছি আমার লিরিক মনে থাকে না, মনে হয় শিখি নাই অনেক ভালো হইছে।আসলে গান শিখতে গেলে অনেক চর্চা-টর্চা করতে হয়, গড-গিফটেড কিছু লাগে আমার তো তা না।আমার যে গলা সেইটাতে সুর লাগাইতে হলে অনেক সাধনা করতে হবে যেটা আমার পক্ষে করা সম্ভব ছিলো না।

 

খোশগল্প.কম: আপনি সুকুমার বড়ুয়ার একটা কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, ‘সৎ পাত্র’…

নিশাত: হ্যাঁ, সুকুমার রায় আমার পছন্দের একজন কবি, আমার সবচেয়ে ফেভারিট লেখক।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, ওইখানে কবিতায় খেয়াল করেছিলাম আপনার বেশ কিছু উচ্চারণ পারফেক্ট এবং এক্সপ্রেশান পারফেক্ট, কখনো শিখেছেন বা  চর্চা করেছেন?

নিশাত: নাহ, ঐটাই আমার লাইফের ফার্স্ট স্টেজ পারফরমেন্স।স্টেজে আমি কখনো উঠি নাই, উঠতে হবে পারফর্ম করতে হবে এরকম কোন টেন্ডেন্সি কখনো ছিলো না।

 

খোশগল্প.কম: আপনি বায়োগ্রাফী পড়ে বা কথা বলে সাইকোলজি এনালাইসিস করছেন, কী মনে হয় আপনার অবজার্ভেশন পাওয়ার কেমন? বা কাজটা কেমন?

নিশাত: আমার অবজার্ভেশন পাওয়ার মোটামুটি, হিমালয় ভাইয়া বলছেন ৫০%, আমার ধারণা ৭০%।আমি দেখি যেগুলা নিয়ে আমি যেমন চিন্তা করি প্রায়ই মিলে যায়।যখন কাজটা প্রফেশনালি নিবো তখন সেইটা কঠিনই লাগে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি কিছুদিন আগে, সাইক্লিং করছিলেন, আগেই পারতেন না নতুন ?

নিশাত: সাইক্লিং, ছোটবেলা থেকেই এই সখটা ছিলো।যখন ছোট থাকতে রংপুর থাকতাম যেটা হয় এটা চাইতাম তখন যা হয় কনজারভেটিভ ফ্যামিলিতে, প্রথমে যে কথা শুনতে হয় ‘হ্যাঁ, তুমি মেয়ে, তুমি কীভাবে সাইকেল চালাবা’ জানি না বড়বেলায় বলছি কি না মনে নাই।তারপর যখন ঢাকায় আসলাম, জায়গা নাই ওরকম তখন তো আর ঐভাবে চিন্তা করি নাই।লাস্ট আড়াই বছর আগে ফেইসবুকে একটা ইভেন্ট দেখে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছিলাম, ওখানে ওরা দেখলাম সবাই সাইকেল চালায়।তখন ওরা আমাকে একটা লিংক দিলো যেখানে সাইকেল শিখায়, দেখলাম যে আমার বাসার কাছে, তখন তো জব-টব করতাম না, ৩-৪ দিন শিখছিলাম।

 

আপনার একটা অদ্ভুত ইচ্ছা হচ্ছে এক রাত ফাইভস্টারে থাকা, এরকম আর কী কী ইচ্ছা আছে?

নিশাত: হ্যাঁ, এক রাত ফাইভ স্টারে রেস্টুরেন্টে থাকার ইচ্ছা, এটা সামহাউ পূরণ হবে।আরেকটা হচ্ছে টেকনাফ-তেতুঁলিয়া প্রত্যকেটা রাস্তা, প্রত্যেকটা জায়গায় একবার হইলেও যাইতে চাই, প্রতিটা মানুষের সাথে কথা বলার খুব ইচ্ছা।আরেকটা হচ্ছে পুরো ওয়ার্ল্ডের যে কয়টা দেশ আমি পারি, যে কয়টা দেশ পারি, প্রতিটা রাস্তা, রাস্তার প্রতিটা মানুষের সাথে কথা বলতে চাই।

 

 

খোশগল্প.কম: জীবনকে কী মনে হয় আপনার?জন্মেছিই বা কেন?

নিশাত: কিছুই মনে হয় না, নাথিং, জাস্ট একটা প্যারা।

প্রতিদিন একটা প্যারা, সবকিছুতে প্যারা।

 

খোশগল্প.কম: প্যারা?

নিশাত: হ্যাঁ, খুব রেয়ার কিছু ছাড়া।মানে হচ্ছে জীবনটাকে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছি।

 

খোশগল্প.কম: আপনার কোন ভালো সময়ের কথা বলেন।

নিশাত: নাই।যখন স্কুলে পড়তাম তখনা ছিলো সারাদিন পড়ো, পড়ো, এই রেস্ট্রিকশন, সেই রেস্ট্রিকশন, যাইতে পারবানা, মাইর খাইতে হইতো ইত্যাদি ইত্যাদি।তারপর যখন ইডেনে পড়লাম তখন সময় ছিলো, সুযোগ ছিলো কিন্তু অত টাকা-পয়সা ছিলো না।আর এখন টাকা আছে কিন্তু সময় নাই, তারপর ফ্রেন্ডের ও ওরকম সময় নাই।সো পেছন থেকে কোন সময় পিক করবো না, সামনে দেখা যাক কী হয়।

 

খোশগল্প.কম: মাইর ও খাইতেন?

নিশাত: হ্যাঁ, অনেক।লাইফে এমন কিছু নাই যা দিয়া আমার আম্মু মারে নাই।বেত তো ছিলোই, স্যান্ডেল থেকে শুরু করে, লাকড়ি দিয়ে, চামচ দিয়ে, হ্যাঙ্গার, পাটকাঠি আছে না? রংপুরে তখন গ্যাস ছিলো না, ওখানে লাকড়িতে রান্না করতে হইতো, তো চুলা ধরার জন্য সব বাড়িতে পাটকাঠির বান্ডেল থাকতো, পাটকাঠির নীচের দিকের মোটা অংশ  দিয়ে মারলে চামড়া একদম লাল হয়ে থাকতো, ঐ জিনিসটা দিয়ে সবচেয়ে বেশী মার খাইছি।

 

খোশগল্প.কম: আপনার পেছনের সব সময়ই কী খারাপ? থাকলে কী যেটা বদলাতেন ।

নিশাত: আমার বাবা যখন মারা যান, তখন আমার বয়স মাত্র ষোল, এইটা নিয়ে আমার কথা বলতে ইচ্ছা করে না।যদি পারতাম এইটা বদলাতাম।প্যারেন্টস হচ্ছে বটগাছের মত, তারমধ্যে শক্ত জায়গাটা হচ্ছে বাবা।আমার মনে হয় আমার বাবা যদি থাকতো আমার হয়তো অনেক কিছু সাফার করতে হইতো না।ঐ জিনিসটা চেঞ্জ করা গেলে ভালো হয়।

 

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় কী হইতে চাইতেন বা এখনো চান।

নিশাত: লাইফে একটা জিনিসই হইতে চাইছি, সেটা হচ্ছে পুলিশ, বাট এটা কাউকে বলা যাবে না।এটা আমার ফ্যামিলি জানেনা।জানলে তো…..বাংলাদেশের কোন ফ্যামিলি তো চায় না মেয়ে পুলিশে ঢুকুক।

 

খোশগল্প.কম: এমন স্বপ্ন আছে যেটা পূরণ হবার না?বা অদ্ভুত কোন ইচ্ছা?

নিশাত: আমার একটাই স্বপ্ন পৃথিবী দেখা, আরেকটা হচ্ছে নিজের দেশের জন্য কিছু করা, যত অল্পই হোক কিছু না কিছুর সাথে যুক্ত রাখা, যাতে আমার জন্যে দেশের .০০০০১ হইলেও পরিবর্তন হয়।

 

আর অদ্ভুত ইচ্ছা হ্যাঁ, আছে, এনিমেটেড ছবি দেখি।ওয়ান পিস ছবির লুসির ক্যারেক্টারটা ভাল্লাগে, মনে হয় লুসির মত ক্যারেক্টার যদি হইতে পারতাম, মনে হয় যে ঐটা হইলে ভালো হইতো।

 

খোশগল্প.কম: ভিন্ন কোন পরিকল্পনা আছে আপনার?

নিশাত: আমি পুরাপুরি পরিকল্পনাবিহীন মানুষ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত