‘বর্তমানে সবাই  ব্যস্ত থাকে, ৫ দিনের খেলা দেখার মত সময় নেই ।  টেস্ট যদি ৫ না করে ৩ দিন করা হয় তাহলে দর্শকরা আরও বেশি ইনভলভ হবে খেলার মধ্যে’,  আমার মনে হয় । এমন ধারনা যার তার নাম সমিক , আজ কথা হচ্ছে তার  সাথে ।

টেস্ট যদি ৫ দিন না করে ৩ দিন করা হয় তাহলে দর্শকরা আরও বেশি ঢুকবে খেলার মধ্যে, আমার মনে হয় ।

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 3, 2016 , 12:15 অপরাহ্ন

somik

খোশগল্প.কম: আপনি অনেকদিন ধরে ক্রিকেট খেলার সাথে যুক্ত আছেন, খেলাধুলায় যুক্ত হলেন কবে থেকে?

সমিক: ছোটবেলা থেকেই, আমার ছোটমামার হাত ধরে । ছোটমামা আমাকে হাতে-কলমে  শেখান। আমার গ্রামের বাড়ি  শেরপুরে। আমি ছোটবেলায় অনেক খেলতাম , তারপর স্কুলে খেলতাম টেপ টেনিস বলে । তারপর ২০০৮ এ ঢাকায় এসে ক্রিকেট বল এ প্রাকটিস শুরু করি।

খোশগল্প.কম: টিম রকমারিতে যুক্ত হওয়ায় আগের সময়ের আপনার অভিজ্ঞতা টা একটু বলেন?

সমিক: আমি ক্রিকেট বলে প্রাকটিস করা শুরু করি ডিসকভারি ক্রিকেট একাডেমীতে আবাহনী ক্রিকেট মাঠে। আমার প্রথম কোচ ছিল সাজু স্যার। তারপর আমি চলে আসি ইন্দিরা রোড-খামার বাড়ি টিএনটি মাঠে। ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমীতে আমার কোচ ছিল সোহেল ভাই, সেখানে আমি ৪ বছর প্রাকটিস করি। তারপর ঐখানে প্রাকটিস করার সময় আমি থার্ড ডিভিশনে ডাক পাই। থার্ড ডিভিশন টিমের মেইন কোচ ছিল টুটুল স্যার । আমি তারপর তার কাছে অর্থাৎ খেলাঘরে চলে যাই।আমি খেলাঘরে থাকাকালীন রকমারিতে খেলার চান্স পাই। আমি বর্তমানে মহাখালী ক্রিকেট একাডেমীতে শাহিন ভাইয়ের কাছে প্রাকটিস করতেছি।

খোশগল্প.কম: টিম রকমারিতে আপনি কোন পজিশনে খেলেন?

সমিক: আমি একজন অলরাউন্ডার, আমি টিম রকমারিতে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করি। বতর্মানে ৫/৬ নাম্বারে ব্যাটিং করছি। আর বোলিং এ ডানহাতি অফ স্পিনার।

খোশগল্প.কম: আপনি অনেকদিন ধরে টিম রকমারিতে অধিনায়ক হিসেবে আছেন,  এ ব্যাপারটা আপনি কিভাবে দেখেন?

সমিক: আসলে ব্যাপারটা আমি  এনজয় করছি। আমি টিমে সবাইকে একসঙ্গে রাখতে চাই। আমি চাই সবাই ভালোভাবে পারফর্ম করুক। আমি সবসময় আমার টিম-মেটদের কথা ভাবি,তাদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেই । আমার কাছে ব্যাপারটা ভালো লাগছে।

খোশগল্প.কম: ক্রিকেটের বাইরে অবসর সময় কিভাবে কাটান?

সমিক: আমি এস এস সির পর ফার্মেসী তে ডিপ্লোমা কমপ্লিট করি। তারপর এখন ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছি। এখন ডিগ্রি ২য় বর্ষে আছি। ক্রিকেটের বাইরে পড়ালেখাটা চালাতে হয়।

খোশগল্প.কম: আপনার কি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট এর প্রতি ঝোঁক  ছিল, নাকি অন্য কোন পেশার উপর আপনার বাবা-মায়ের ঝোঁক ছিল।

সমিক: আমি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হতে চাইতাম। আমি যখন বাসায় থাকতাম, সব সময় খেলতাম, খেলা দেখতাম। পেপারে খেলার নিউজ পড়তাম। এটার জন্য পরিবারের সবার কাছ থেকে অনেক বকা খাইছি। তবে ছোটবেলা থেকেই আমার অনেক বড় ক্রিকেটার হওয়ায় ইচ্ছা আছে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা আছে।

খোশগল্প.কম: আপনি বললেন,পরিবারের অনেক বকা শুনতে হয়েছে, তারমানে এতদিন ধরে সাপোর্ট পাচ্ছিলেন না?

সমিক: আমি যখন ক্রিকেট বলে প্রাকটিস শুরু করি তখন আমি ভয়ে পরিবার কে কিছু বলি নাই। কিন্তু যখন জেলা টিমে চান্স পেলাম, তারপর একটু একটু সাপোর্ট পেতাম। এরপর বাইরে লীগে খেলা। অনেক গুলো লীগে খেলার পর সবাই আমাকে এখন অনুপ্রেরিত করে এবং সাপোর্ট দেয়।

খোশগল্প.কম: টিম রকমারিতে খেলার পরে এই টিমের আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য আপনার চোখে পড়েছে।

সমিক: হ্যাঁ, আমরা যারা ঢাকায় প্রাকটিস করি, তারা ম্যাচ খেলতে পারি না। সো টিম রকমারিতে আমরা প্রতি মাসে ৪ টা ম্যাচ খেলি। একবছরে যদি ৫০ টা ম্যাচও খেলি, কিন্তু বাইরের অন্য প্লেয়াররা বছরে ১০/২৫ টা ম্যাচ খেলে। বেশি ম্যাচ খেলায় আমার ম্যাচ টেম্পারমেন্ট বাড়তেছে, স্কিল বাড়তেছে, কোন কোন জায়গাটাতে ভুল হচ্ছে তা শুধরাতে পারছি। সো টিম রকমারিতে খেলার ফলে আমার এই ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে ।

খোশগল্প.কম: টিম রকমারিতে তো কোন কোচ নেই, স্কিল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কি শুধু ই ম্যাচ খেললে হবে?

সমিক: অবশ্যই, যথেষ্ট না । আমি যে সব ভুল করতেছি, সে গুলা হয়তো আমার চোখে পড়তাছে না। কিন্তু কোচের চোখে পড়ত। তাহলে অবশ্যই ভালো হত। টিম মেটরা  আছে, হিমালয় ভাই, কিঙ্কর ভাই আছে ভুল গুলো  বলে দেওয়ার জন্য ।

খোশগল্প.কম: বাংলাদেশে ক্রিকেট এখন অনেক দূর এগিয়ে আছে, আপনি এখন কিভাবে দেখেন?

সমিক: আমরা ছোটবেলায় যখন খেলা দেখতাম, তখন বাংলাদেশ ১৬০/১৭০ করলেই খুশি থাকতাম, আর ২০০ করলে আরও বেশি খুশি হতাম। এখন আমরা সম্মানজনক পরাজয়ের জন্য নামি না, এখন আমরা জয়ের জন্য নামি। বাংলাদেশে অনেক উন্নতি করেছে, ভবিষ্যতে অনেক উন্নতি করবে। টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার ১৫ বছরে বাংলাদেশে টিম যতখানি উন্নতি করছে অন্য টিম কিন্তু এতখানি উন্নতি করে নাই। সো এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হয়তো একসময় আমরা টপে চলে যাব ।

খোশগল্প.কম: দিনকে দিন ক্রিকেট খেলা অনেক সীমিত ওভারে চলে আসছে, এমনকি ৫০ ওভার থেকে ২০ ওভারে। আপনার কাছে কি মনে হয় ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতির জন্য এটা কি একটা বাধা?

সমিক: আসলে বর্তমানে সবাই  ব্যস্ত থাকে, ৫ দিনের খেলা দেখার মত সময় নেই। সবাই ম্যাচের হাইলাইটসটা দেখে শুধু। টুয়েন্টি-টুয়েন্টি তে কিন্তু একটা ব্যাটসম্যানের ব্যাসিক দরকার হয় না। যে যতবেশি চার্জ করতে পারবে সে তত ভালো প্লেয়ার টুয়েন্টির জন্য। কিন্তু টেষ্টের জন্য আবার কার কতটা টেম্পার আছে, কে কতটা স্কিলড সেটা ডিপেন্ড করে। আসলে টেস্ট যদি ৫ না করে ৩ দিন করা হয় তাহলে দর্শকরা আরও বেশি ঢুকবে খেলার মধ্যে আমার মনে হয় ।

খোশগল্প.কম: বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার ক্রিকেট এর জন্য কি কি করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?

সমিক: বাংলাদেশের ফিল্ডিং টা একটু ইম্প্রুভ করা। মাশরাফি ভাই কিন্তু অনেক ভালো একজন ক্যাপ্টেন। তার উচিৎ তার মত করে একজন ক্যাপ্টেন তৈরি করে যাওয়া। ক্যাপ্টেন কিন্তু সহজেই তৈরি হয় না। মাশরাফি ভাইর উচিৎ একটা ক্যাপ্টেন হাতে কলমে তৈরি করে যাওয়া। আমাদের দেশের প্লেয়ারদের যে ফিজিক্যাল গ্রোথ ও ফিটনেস এর উপর একটু জোর দেওয়া।

খোশগল্প.কম: হাতে কলমে শিখে কি নেতা হওয়া যায়?  আপনি কি হাতে কলমে শিখে হয়েছেন?

সমিক: এখন আমাদের অনূর্ধ্ব ১৯ এর  যে ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান মিরাজ , উনি অনেক ভালো ক্যাপ্টিন । মাশরাফি ভাইর উচিৎ তাকে অনেক পরিচর্যা করা, তাকে আরও ছোট খাট ব্যাপারগুলো শিখিয়ে দেওয়া। ম্যাচের টেম্পারমেন্ট শিখিয়ে দেওয়া। ভবিষ্যতে সে যদি জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন হয়, মাশরাফির ভাই যে পরামর্শ সে গুলো ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারবে । আমি যখন সাধারণ প্লেয়ার ছিলাম তখন আমি খেয়াল করতাম, আমাদের ক্যাপ্টেন বড় ভাইরা কি করতেছে, একটা ম্যাচের ভাইটাল মোমেন্টে এ কিভাবে ডিসিশন নিচ্ছে, একটা ক্যাপ্টেন কি করছে?  এগুলো দেখার পর আমার মাঝখানে ছোটোখাটো বিষয় গুলোর কারণে আমার ম্যাচেও আমি এগুলো করতে পারতেছি। মাশরাফি ভাইরে একথা একারণে বলছি যে, সে যদি তৈরি করে যায় অনেক ভালো হবে ।

খোশগল্প.কম: দলগুলোতে মাঝেমধ্যে গ্রুপিং হয়, এক্ষেত্রে একজন অধিনায়ক হয়ে আপনি কি করতে পারেন?

সমিক: বাংলাদেশ ক্রিকেট এ গ্রুপিংটা কিন্তু একেবারে ছোট পর্যায় থেকে চলে আসছে। এটা করা সম্ভব হচ্ছে না। একজন ক্যাপ্টেনের উচিৎ সবার সাথে ভালো ভাবে কথা বলা। পার্সোনালি সবার সাথে কথা বলা। যারা ভুল করছে তাদের ভুল ধরে দেওয়া।

খোশগল্প.কম: অধিনায়কের সাথে সহযোগিতার জন্য একজন সহ-অধিনায়ক থাকে, আপনি  একজন সহ-অধিনায়ক থেকে কি প্রত্যাশা করেন?

সমিক: অনেক সময় আমি এজ এ ক্যাপ্টেন অনেককিছু ভুল করতে পারি। আমার তো সারা মাঠে খেয়াল রাখা সম্ভব না। অনেক ভুল কিছুই আমার কাছে ভুল না লাগতে পারে। একজন সহযোগী হিসাবে এটা শুধরিয়ে দেওয়া। একটা ভাইটাল মোমেন্টে এ আমি কি করব মাথায় কিছু আসছে না, তখন তার থেকে ভালো কিছু সহয়তা পাওয়া।

খোশগল্প.কম: একজন ক্যাপ্টেন হিসাবে, একজন ক্রিকেটার হিসাবে খারাপ সময়কে কিভাবে মোকাবেলা করছেন?

সমিক: জুন, জুলাই, আগস্ট এই ৩ টা মাস কোন রান পাই নাই। একটানা ৫ টা ম্যাচে ডাক মারছি। আমি এসময় অনেকের সাথে কথা বলছি, বিশেষ করে হিমালয় ভাইয়ের সাথে কথা বলে, আমি প্রাকটিসের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছি। আমি প্রতিকূল পরিবেশটা কাটায়া তুলতে পারছি। তারপর থেকে রান পাওয়া শুরু করলাম।

খোশগল্প.কম: বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট খেলতে চায় কেন?

সমিক: বাংলাদেশের মানুষ আসলে ক্রিকেট খেলাটাকে এখন পেশা হিসাবে নিচ্ছে, কেউ এখন মজার জন্য খেলে না। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যেমন পেশা তেমনি ক্রিকেট ও একটা পেশা। যেহেতু ইনকাম সোর্সটা একটু বেশি। একজন ডাক্তার কে কতজন চিনে কিন্তু একজন ক্রিকেটারকে পুরো বিশ্ব চিনে। এই জিনিসটাই অনেকটা কাজ করে।

খোশগল্প.কম: জাতীয় দলে চান্স না পেলে কি জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়?

সমিক: না, এটা হয় না। আসলে জাতীয় দলেই চান্স পেতে হবে এমনটাই নয়। দেশে অনেকগুলো লীগ আছে, যেমন প্রিমিয়ার লীগ সহ অনেক। জাতীয় দলে মানুষ যায় টাকা আর পরিচিতির জন্য। লীগেও কিন্তু অনেক টাকা আছে। সো জাতীয় দলে খেলাটা মূল উদ্দেশ্যে না । জাতীয় দলে খেলবে মাএ ১১ জন প্লেয়ার, তাহলে বাকি প্লেয়াররা যারা প্রাকটিস করে তারা কি ক্রিকেট ছেড়ে দিবে?  তাহলে তো ক্রিকেট আগাবে না।

খোশগল্প.কম: আপনার কি মনে হয় ক্রিকেটারদের জন্য পড়াশোনা করাটা কি জরুরী?

সমিক: পড়াশোনাটা আসলে সবার জন্যই জরুরী। চার বছর পর আমার ফর্ম নাই, আমি আর খেলতে পারলাম না। তাছাড়া আমার থেকেও তো ভালো খেলোয়াড় আছে। তখন আমার কি হবে?  এসব কথা চিন্তা করে পড়ালেখা করতে হবে । জাতীয় দলে খেলাটা অনেক লাকের ব্যাপার। অনেক এক্সট্রা অর্ডিনারি পারফরমেন্স থাকতে হয় ।  তো পড়ালেখাটা কন্টিনিউ করা উচিৎ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

খোশগল্প.কম: ক্রিকেট নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কি?

সমিক: আমি শুধু জাতীয় দলে খেলতে চাই না ।শচীন, ডি সিলভা, এদের যেমন নতুন জেনারেশন ও চিনে, চিনবে । এমন একটা প্লেয়ার হতে চাই যেন সবাই আমাকে অনেকদিন মনে রাখে।

খোশগল্প.কম: ক্রিকেটের বাইরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সমিক: আমি মেইন প্রফেশন হিসেবে ক্রিকেটকে নিছি, তাই  ভালো ভাবে খেলতে হবে। কোন কারণে যদি আমার অবসর নিতে হয় তাহলে আমি যে ডিগ্রি অর্জন করেছি সেটা দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করব, এটা না হলে হয়তো বাড়ির পিছনে একটা জমি আছে খামার করব ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত