শামীমা আকতার জাহান পপি।বেড়ে উঠেছেন সিরাজগঞ্জে। দুই বোনের মধ্যে ছোট তিনি ছোট থেকেই আবৃত্তি করতেন। তারপর দেখে দেখে বিতর্ক কে ভালোলাগা,ভালোবাসা। স্কুল কলেজে খুব বেশি বিতর্ক না করলেও ভার্সিটিতে এসে জড়িয়েছেন ভালোভাবেই।আর এ ক্ষেত্রে তারই এক বান্ধবীর অবদান কতখানি সেখানেও দিয়েছেন সহজ স্বীকারোক্তি। পড়াশুনা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে। ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির একমাত্র মহিলা প্রেসিডেন্ট।এছাড়াও জীবনের ইচ্ছা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে দেশের একজন ডিপ্লোম্যাট হিসেবে ডিগ্রী নেয়া।

ঢাবি তে DUDS একমাত্র সংগঠন যেখানে নির্বাচন হয়ে আসছে গণতান্ত্রিকভাবে

লিখেছেন...admin...মার্চ 29, 2016 , 8:46 পূর্বাহ্ন

popy

খোশগল্প.কম: ডিবেট শুরু কবে থেকে?

পপি: হ্যাঁ। প্রথম স্কুল এ ক্লাস eight এ, তবে ওখানে খুব বেশি তখন হত না, তাই বেশি করা হয়নি।

খোশগল্প.কম: ইনভলভমেন্ট কি হঠাৎ করেই?

পপি: উহু,কারো টা শুনে দেখে না-তবে ছোট থেকে আমার কথা বলার ধরণ এ সবাই বলত আমি তর্ক করি, তাই নিজের মনে হত এটা আমি পারব। বিটিভিতে দেখতাম সেটা ভাল লাগতো।

খোশগল্প.কম: কলেজে কেমন ছিলো?

পপি: হ্যাঁ কলেজ এ আরো কম, কারণ ঢাকায় নতুন কলেজে, একা হোস্টেলে থেকে সম্ভব হত না।তবে আগ্রহটা ছিল, যেদিন কলেজেই হত সেটায় থাকতাম। বাইরের গুলোয় যেতে পারব না বলে করতাম না।

খোশগল্প.কম: কোন কলেজ ছিলো আপনার?

পপি: ভিকারুন নিসা নুন কলেজ।

খোশগল্প.কম: তাহলে শুরুটা বেসিকালী ভার্সিটিতে?

পপি: তা বলা যায়।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটিতে কোন অর্গানাইজেশনের সাথে কি এড ছিলেন?

পপি: 1st year এ DUFS ছাড়া আর কিছুর সাথে ছিলাম না। এর পর হলে এসে রাজনীতি করি আগে,তখন প্রথম নুসরাত বলে যে তুই আগে বিতর্ক করতি, এইটা আবার শুরু কর। আমরা তো ছোট বেলার বন্ধু।

খোশগল্প.কম: পরে ইনভলভমেন্ট টা এতো কিভাবে?

পপি: তাই ও জানত। বগুড়াতে ক্যান্ট পাবলিক এ পড়ার সময়ে প্রথম ডিবেট করাটাও জানত। আর যেটা বলিনাই সেটা হল আমি আবৃত্তি আর উপস্থিত বক্তৃতা করতাম ৪ বছর বয়স থেকে। ওইটা ও খুব ভাল জানে,সিরাজগঞ্জের কথা। জাতীয় পর্যায় এ প্রতিযোগিতা করছি। ওর বলার পর হলের ক্লাব এ শুরু করলাম। আমাদের হল তখন বিতার্কিক কম ছিল, আর DUDS মেয়েরা যেত না বললেই চলে। যারাও যাইত ডিবেট করত না, হয়ত বন্ধুর সাথে যায় আসে টাইপ। তাই হলে আমি যখন খুব ভাল ভাবে শুরু করলাম ওই সময় সব হলের প্রোগ্রাম এ একমাত্র মেয়ে হল থাকত আমাদের টা। আর আমরাও তখন কম হইলেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাইতাম, সেমি তেও উঠতাম।সো তাড়াতাড়ি আমি ওই খালি জায়গা টা নেই। আর তখনো DUDS এ মেয়ে আমি একাই যাইতাম।  আমার হলেরও অন্যরা যাইত না খুব একটা। এরপর DUDS এর inter female hall debate fest এ আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। ২০১১ র কথা,আমি বেস্ট স্পিকার হই; তারপর আমি DUDS থেকেও বাইরে করি-তবে খুব কম, ওইখানে সুযোগ এর জায়গায় কিছু পলিটিক্স আছে যেটা মেয়ে দের জন্য সমস্যা। মেইনলি এইটা বুঝার পরই আমি জিদ করে জায়গাটায় বেশি সময় দেই। আমি হল থেকে প্রথম ডিবেট করি ২০১১ তে। এজন্য পরে বেশিদিন করতে পারিনি,কারন তখন অলরেডি আমি ৩য় বর্ষে,।আর বিতার্কিকও কম ছিল। আমরা প্রায়ই এক জন এর জন্য দল করতে পারতাম না। কিন্তু এটা ঠিক ঢাবির এই জায়গাটা এখনো মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ দেয় না। এই জিনিসটাই আমারে জেদি করছিল, তবে আরও আগে জড়াইলে আরো কিছু করতে পারতাম। হলে না থাকা টা একটা সমস্যা হইছিল। ছেলেরা হলে আবাসিক না হলেও থাকতে পারে, মেয়েরা পারে না ওইভাবে। সেজন্য আমার মত যারা আবাসিক না তাদের সমস্যা বেশি। জানেই না, আমিও জানতাম না। পরে কিছু সমস্যার জন্য মিশা আমাকে হলে উঠায়। বাসায় থাকলে কিছুই হইত না। মিশার অবদান টা অনেক।

খোশগল্প.কম: বিতর্কে সহযোগীতা কেমন ছিলো?

পপি: এখানে একটা ব্যাপার আছে আমার ফিওন্সে প্রাণ ডিবেটার, মানে ডিবেট করতে গিয়াই ওর সাথে পরিচয়। আমরা DUDS এর ইলেকশন এ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। পরে সেটা থেকেই সম্পর্ক।

খোশগল্প.কম: এখন প্রফেশনালি কিছুর সাথে ইনভলভ আছেন??

পপি: হ্যা-Teach for Bangladesh( a non profitable organization) working for reducing educational inequity in bangladesh.

খোশগল্প.কম: আপনি তো এবারে বিসিএস রিটেন পর্যন্ত গিয়েছেন, ভাইভার কী অবস্থা?

পপি: রেজাল্ট হতে আরো ২ মাস।

খোশগল্প.কম: আপনি তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্সে পড়েছেন সেই সেক্টরে কিছু করলেন না যে

পপি: পদার্থ বিজ্ঞান প্রিয় বিষয় ছিল -আগ্রহ ছিল কিন্তু এইটাতে যে পরিমাণ ডেডিকেশন দেয়া দরকার সেটা পারিনি। তাই একটা স্কলারশিপ পাওয়ার পরও নিজেই বাদ দিলাম।

খোশগল্প.কম: পুরো সাইন্সবেসড একটা সাব্জেক্ট পড়ে ডিবেট এবং বিসিএসে ভাইভা পর্যন্ত যাওয়া টাফ হয়নি?

পপি: নাহ বরং সুবিধা হয়েছে। পুরো মানবিক বা ব্যবসায় পড়ে বরং বিসিএস এর জন্য বিজ্ঞান অংক করা টাফ বেশি। আর বিতর্কের পড়া তো আগ্রহ এর ব্যাপার, তাই কষ্ট হয় না।

খোশগল্প.কম: বিসিএস কিন্তু অনেকের কাছেই কষ্টের সাথে আতংকের।এই ক্ষেত্রে কিছু বলবেন?

পপি: আতংক আসলে সেই জিনিস এ হয় যেটার সম্পর্ক এ আমি ঠিকভাবে জানি না -অন্যের কাছে ভাসা ভাসা শুনি, অথবা আমি পুরোটা জানি সঠিক ভাবে আর জানার পর বুঝতে পারি যে আমার পক্ষে এই পরিশ্রম করা সম্ভব না।আমার কোনটাই হয়নি, কারন অন্যের কাছে জানার চেয়ে নিজে জানা আমার জন্য সহজ এবং আনন্দের-আর বিসিএস এর পুরোটা নিয়ে আগ্রহ কম থাকায় জানার চেষ্টা করিনি।

খোশগল্প.কম: বিসিএস বোর্ডের ভাইভার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

পপি: ভাল, ভয়ের না।সব তো পারি না, এটা কেউই পারবে না, আমার আশাও ছিল না তাই আশাহত হইনি। তবে মন খারাপ এর অভিজ্ঞতা হয়নি তাই খুশি।

খোশগল্প.কম: চয়েস কি ছিলো?

পপি: ফরেন।

খোশগল্প.কম: ফরেন নেয়ার কোন কারণ কী আছে?

পপি: হ্যাঁ আছে, দুইটা কারন। এইটা রিয়ালিটি এখনো সবচেয়ে অভিজাত – সরকারি চাকুরীর মাঝে। অভিজাত বলতে টাকা পয়সা না বরং পারসোনালিটি এবং চাল চলন এ। দেশ ঘুরার সুযোগ তাও নিজ দেশ এর প্রতিনিধি হয়ে আর ২নম্বর কারণ যেটা আসল তা – অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি তে একটা মাস্টার্স করার সুযোগ। OUFSP (foreign service program) শুধু বিভিন্ন দেশের ডিপ্লোম্যাট দের জন্য।

খোশগল্প.কম: ওক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই ব্যাপারটি আগে থেকেই চেয়েছিলেন?

পপি: হ্যাঁ,অনেক আগের ইচ্ছা, তবে ছোটবেলায় ইচ্ছাটা ছিল বিজ্ঞান কেন্দ্রিক, কোন একটা বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এ পদার্থ বিজ্ঞানে রিসার্চ করার, কিন্তু পরে সেটা চেঞ্জ হয়ে fsp এই প্রোগ্রাম টা জানার পরেই আসলে বিসিএস নিয়ে সিরিয়াস হওয়া।

খোশগল্প.কম: আর একটা কথা যেটা মিস করে গিয়েছিলাম- আপনি তো ডিইউডিএসের প্রথম মহিলা সভাপতি। তো এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কেমন ছিলো?

পপি: চ্যালেঞ্জ অনেক ছিল। প্রথমত একজন মেয়ে শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচন করতে পারবে এটা সবাইকে বিশ্বাস করানো, এরপর আদৌ কোন মেয়ে এই বিশাল দায়িত্ব এর চাপ নিতে পারবে কিনা -আর নিলেও সামলাতে পারবে কিনা সেটা সবাই প্রথম এ বিশ্বাস করেনি।যে দুই একজন সাথে ছিলেন প্রথম থেকে তারাও যে খুব বিশ্বাস করেছিলেন সেটা না, তবে তাদের সমর্থন ছিল সবসময়।

খোশগল্প.কম: নির্বাচনটি কি গণতান্ত্রিকভাবেই হয়?

পপি: এটা বলা ভাল ডাকসুর নির্বাচন বন্ধ হওয়ার পর ঢাবি তে DUDS একমাত্র সংগঠন যেখানে নির্বাচন হয়ে আসছে গণতান্ত্রিক ভাবে। তাই এটা বেশ চ্যালেঞ্জ এর কাজ, তার উপর এটাই একমাত্র টিএসসির সংগঠন যার অংগ সংগঠন না হহলেও অনেকটা তেমনি সহযোগী সংগঠন হিসাবে হল বিতর্ক ক্লাব রয়েছে। তাই মোট সদস্য অনেক।হল ক্লাব ই এখন ১৮ টা। আর তাছারা বিভিন্ন বিভাগ এর ক্লাবও আছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৪৮টা।

খোশগল্প.কম: শামসুন্নাহার হল ডিবেটিং ক্লাব কেমন করছে এখন??যেহেতু আপনার সান্নিধ্য সরাসরি পেয়ে আসছে তারা…

পপি: বেশ ভাল, এটা অবশ্য আমার জন্য না -বরং আগে থেকেই তারা ভাল ছিল।

খোশগল্প.কম: সামনে বিতর্কে কিছু করার ইচ্ছা আছে?

পপি: just to be with new debaters to learn more about debate.

খোশগল্প.কম: বাবা মার সাথে বা ছোটবেলার মজার কোন ঘটনা রয়েছে যা এই মুহূর্তে আমাদের সাথে শেয়ার করতে চান?

পপি: আমি বাসার ছোট মেয়ে(আমরা দুই বোন) তাই সেভাবে বলতে গেলে বাসার  আদর একা আমার কর্তৃত্বে। আর সেভাবে বিশেষ করে বলার মতো কিছু নাই আসলে।মিডল ক্লাস ফ্যামিলি,ছোট টাউনে থাকা আমাদের সব ব্যাপার গুলোই স্পেশাল আসলে।

খোশগল্প.কম: আসলে মিডল ক্লাস ফ্যামিলির সন্তানগুলোই হয়তো জীবনের ভালোমন্দ গুলো খুব কাছ থেকে দেখে,কি বলেন?

পপি: আমারো তাই মনে হয়।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত