ফাহিম ফেরদৌস চয়ন। ক্যাম্পাসে অতি প্রিয় মুখ ছোট বড় নির্বিশেষে। বড়দের কাছে যেমন দায়িত্বশীল, ছোটদের কাছেই তেমন আস্থাভাজন। পড়াশুনা,ঘোরাঘুরির পাশাপাশি ঝোক রয়েছে ফটোগ্রাফিতে।প্রচন্ড বন্ধুপাগল এই তরুন জীবনে পছন্দ করেন ঝুঁকি নিতে। আর সে যাই করুক ঠোঁটে লেগে থাকে বিস্তৃত হাসি। যেটাই নাকি তার সব ভালো থাকার মূল কারন।

পছন্দ বয়স আর সময়ের সাথে চেঞ্জ হয়

লিখেছেন...admin...মে 31, 2016 , 3:48 পূর্বাহ্ন

ch

খোশগল্প.কম: একটি লম্বা বন্ধ কাটাচ্ছেন , কেমন যাচ্ছে সব মিলিয়ে?

চয়ন: ভালো-মন্দ মিলিয়ে । তবে, অলস সময় বেশী দিন ভালো লাগে না । বিরক্ত চলে আসে।

খোশগল্প.কম: বন্ধটি কিসের বলুন তো….

চয়ন: সম্মান শেষ পর্বের পরীক্ষা শেষের ছুটি।

খোশগল্প.কম: তার আগে জেনে নেই সম্মান করলেন কোন বিষয়ে,কোথা থেকে?

চয়ন: মানুষের মানসিক ও আচরণগত বিষয় নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা বিষয় নিয়ে । মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি থেকে । এখনও শেষ হয়নি কিন্তু । চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষায় আছি।

খোশগল্প.কম: এখানে বলছিলেন সব মিলিয়ে এক বছরের একটা গ্যাপ পড়ে যায়…..

চয়ন: হুম । যেটা মোটেই ভালো দিক না । ঢাবি প্রশাসনের এই দিকটায় আরেকটু মনোযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে করি।

খোশগল্প.কম: কিন্তু এটা কি সব ডিপার্টমেন্টেই?

চয়ন: না । খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সাধারণত বিজ্ঞান অনুষদের আওতাধীন বিষয়গুলোতে এই সমস্যা বিদ্যমান । কলা, সামাজিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিষয়গুলোতে এই সমস্যা নাই বললেই চলে।

খোশগল্প.কম: এটার স্পেসিফিক কারণ রয়েছে কিছু?

চয়ন: গড়ে প্রায় প্রতিটা বিভাগে ব্যবহারিক থাকে । যেটা ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়মিত করলেই শেষের দিকে এসে ঝামেলা বাড়তো না । ইন-কোর্স কিংবা মিড-টার্ম পরীক্ষাগুলোর ফলও বেশীরভাগ সময় জানানো হয় না । যেটা আসলেই খুব একটা ভালো দিক না । এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গাফিলতির ব্যাপার তো আছেই । শিক্ষার্থীরাও কোন অংশে কম দায়ী নয় । অযথা পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলন, সময়মত ব্যবহারিক রিপোর্ট কিংবা পরীক্ষা না দেয়াও এই সময়ক্ষেপণের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

খোশগল্প.কম: এতে করে ভুক্তভোগীও তো কম হতে হচ্ছে না…

চয়ন: হ্যাঁ । শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে । সরকারের অর্থের অপচয়ও কম হচ্ছে না । পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, পিছিয়ে পড়ছে তাঁর পরিবার । আর কে না জানে, শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় হলে তো দেশের ক্ষতিটাই বেশী হয়।

খোশগল্প.কম: বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় কি প্রশাসন?

চয়ন: না । শিক্ষক-শিক্ষিকা আর শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

খোশগল্প.কম: যেমন?

চয়ন: শিক্ষক-শিক্ষিকদের সময়মত ক্লাস নেয়া, পরীক্ষা নেয়া, ব্যবহারিক ক্লাস, ল্যাবরেটরির কাজ ও সময়মত ফল প্রকাশ করা ।শিক্ষার্থীদের সময়মত পরীক্ষা দেয়া, অযৌক্তিক কারণে ক্লাস কিংবা পরীক্ষা বর্জন না করা ইত্যাদি।

খোশগল্প.কম: এই অবসর কিভাবে কাটছে আপনার?

চয়ন: আপাতত দুইটা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের সাধারণ কিছু কাজ এবং ছবি এডিটিং করা শিখছি । এছাড়াও যুক্ত আছি ভালো কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে । এভাবেই কাটছে সময়গুলো । তবে হ্যাঁ, ক্লাস করা, ক্লাসের ফাঁকে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমানো, আড্ডা, খুনসুটি খুব মনে পড়ে ।

খোশগল্প.কম: কথা শুনেই বোঝা যায় অলরেডি মিস করতে শুরু করেছেন…

চয়ন: অনেক বেশী । আমরা প্রায় ১৪-১৫ জন একসাথে পিছনের ২টা বেঞ্চে বসতাম । ওদের সাথে দেখা হয় । তবে একসাথে সবার সাথে হয় না । আরও খারাপ লাগে যখন ডিপার্ট্মেন্টে গেলে অন্যান্য ব্যাচের ছোট ভাই-বোনগুলোকে প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাস করতে দেখি।

খোশগল্প.কম: বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ কমে গিয়েছে নিশ্চয়ই…

চয়ন: খানিকটা । সামনা-সামনি দেখা হয় কম । যা যোগাযোগ তা এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর যুগে ঐ ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপেই সীমাবদ্ধ । তবে আত্মার বন্ধনটা কমেনি এতটুকুও । আমাদের একটা ছোট গ্রুপ আছে, গ্রুপ মেসেজ আছে ফেসবুকে । কথা সেখানেই বেশী হয় । খুনসুটি, আড্ডা, ঝগড়া, মনোমালিন্যের সূত্রপাত সেখানেই । আবার এক সাথে মিলে গিয়ে প্রাণ খুলে হাসিও সেখানেই।

খোশগল্প.কম: মজার ঘটনা তবে হাজারের ঘরে,তার থেকে বরং শেয়ার করুন আমাদের সাথে দু একটা..

চয়ন: সেটা মনে হয় উচিৎ হবে না । ঐ মেসেজগুলো-ঘটনাগুলো যে একান্তই আমাদের । আমার একার হলে নাহয় বলা যেত।

খোশগল্প.কম: কোনো সমস্যা নেই| আপনার আপাতত ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা কি?

চয়ন: এখনই খুব একটা ভাবছি না । যদিও করা উচিৎ । বাড়ি থেকে চাপ নেই কোন । চাপ আরেকজনের পক্ষ থেকে (হা হা হা) । ইচ্ছে আছে আমাদের বিভাগে নতুনভাবে খুলতে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজি নিয়ে পড়ার ।

খোশগল্প.কম: ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজি বলতে?

চয়ন: আমাদের সময় থেকে মাস্টার্সে শুরু হবে।

খোশগল্প.কম: সম্পূর্ন নতুন একটি কোর্সে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছেন, সেখানে সাবজেক্ট রিলেটেড রিস্ক কি কিছুটা থাকছে?

চয়ন: একটু তো থাকেই । আমি চিরকালই ফাঁকিবাজ ঘরানার ছাত্র । নতুন বলেই সাহসটা পাচ্ছি । খারাপ করলেও কি খুব বেশী খারাপ হবে, তা তো আর না (হে হে হে )

খোশগল্প.কম: তা হয়তো না তবুও as usual বা নিশ্চিত ভবিষ্যত কে পায়ে ঠেলছেন কিনা……

চয়ন: লেখা-পড়াটাকে সিরিয়াসলি নিলেই ঝামেলা । আমি পড়ি আনন্দ নিয়ে, যেকোন কাজের ক্ষেত্রেও তাইই । ভালোবেসে কাজ করি, পড়ি বলেই ক্লান্তি আসে না।

খোশগল্প.কম: ভালোবাসাই কাজ করার মূলমন্ত্র, এটা তবে অনেকেই জানে না…..

চয়ন: সেটা বলা যায় । আমি ঐ ডিপার্টমেন্টে পড়তে চেয়েছিলাম, ঐ কাজ করতে চেয়েছিলাম বলে হতাশ হলে সময়টা অযথাই নষ্ট হয় । হতাশা কাটিয়ে, যা পেয়েছি তা থেকে সেরাটা আনন্দের সাথে বের করে এনে আরও ভালো কিছু করতে না পারলে জীবনযুদ্ধে যে কেউই হারতে বাধ্য।

খোশগল্প.কম: তাহলে তো আর পছন্দের ব্যাপারটা থাকছেনা সেক্ষেত্রে?

চয়ন: পছন্দ বয়স আর সময়ের সাথে চেঞ্জ হয় । যেটা আশা করেছিলাম, সেটা পাইনি বলে হতাশ হয়ে পড়লে তো লাভ নেই।

খোশগল্প.কম: জি, এটা খুব সুন্দর বলেছেন।এই রিলেটেড হতাশাগুলো এডমিশনের সময় আরো প্রচুর দেখা যায়।এখানে অবশ্য একজন ছাত্রর সাথে জরিয়ে থাকে ফ্যামিলি,ফিউচার অনেক কিছু।নিজে মানলেও ফ্যামিলি হয়তো মানছে না…এই বিষয়টি?

চয়ন: আমির খান অভিনিত ‘থ্রী ইডিয়টস’ সিনেমাটি আমাদের একবার হলেও দেখা উচিৎ । সেখানে, চাকরির ভাইভা দেয়ার আগ মুহূর্তে বাবার সাথে ফারহানের (আর মাধবান) কথোপকথনটি আমাদের অনেক কিছু শেখাবে । যেটা আমার ভালো লাগে না, সেটা পড়ে আমি গ্রাজুয়েট হবো ঠিকই, শিখবো না কিছুই । বাবা-মা আমাদের ভালো চায় । তবে, সেই সাথে আমাদের বাবা-মায়ের এটাও খেয়াল রাখা উচিৎ, তাদের সন্তানরা কি চায় ।

খোশগল্প.কম: অবসর কাটে কিভাবে?

চয়ন: প্রচুর গান শুনি । বই পড়াও হয় অনেক । আর হলের দোকানে, ছাদে বন্ধুদের সাথে আড্ডা তো রয়েছেই।

খোশগল্প.কম: কোন হলে রয়েছেন?

চয়ন: হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল।

খোশগল্প.কম: ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারটা জানতে চাচ্ছিলাম….

চয়ন: একটু খোলাসা করলে ভালো হত।

খোশগল্প.কম: হল নিয়ে সব স্টুডেন্টদেরই অনেক ভালো বা খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছেই তার মাঝে ভালোই বেশি।তবে ইদানিং সিট দেয়া,গেষ্টরুম এসব নিয়ে ছাত্র রাজনীতির নাম ক্রমশই চলে আসছে।সে ব্যাপারে কিছু জানতে চাচ্ছিলাম…..

চয়ন: ছাত্র রাজনীতির সোনালি যুগ আমরা পার করে এসেছি । এটা স্বয়ং ছাত্র নেতারাও জানে । কিন্তু ভালো দিকটা এত কম প্রচার করা হয় যে, যারা বাইরে থাকে তাদের কাছে শুধু নোংরা দিকটা ধরা পড়ে, এবং বাজে ভাবেই পড়ে। আরেকটা ব্যাপার যেটা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে । যার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে কম ষড়যন্ত্র হয় না । এখন, কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠী-মহল তৎপর হয়ে থাকে এই সরকার কিংবা সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নামে মিথ্যে ও বানোয়াট কথা ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ।

খোশগল্প.কম: ছবি তোলার ব্যাপারেও আপনার আগ্রহ আছে শোনা যায়!!

চয়ন: অনেক । আমার কোন খুশী-আনন্দের মুহুর্ত ধরে রাখতে ভালো লাগে । পরবর্তীতে ঐ মুহূর্তের ছবি দেখে মানুষের আনন্দিত মুখ দেখতে আরও ভালো লাগে।

খোশগল্প.কম: শুরু কবে থেকে সেভাবে জানতে গেলে?

চয়ন: ক্যামেরাওয়ালা মোবাইলের শখ ছোট থেকেই । অষ্টম শ্রেণীতে জুনিয়র বৃত্তি পাওয়ার পুরষ্কার স্বরূপ আব্বার কাছে থেকে পুরষ্কার হিসেবে সেটা পাওয়ার পরই শুরু বলা যায়।

খোশগল্প.কম: প্রফেশনালি ইনভলভ হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে?

চয়ন: আর আরও আধুনিক ক্যামেরা চালানো শুরু শ্রদ্ধেয় শুভ ভাইয়ের হাত ধরে। ২০১২ থেকে শুভ ভাইয়ের কাছে থেকে, পাশে থেকে কাজ শিখছি । ইতোমধ্যে প্রায় ২২টার মত অনুষ্ঠানে ছবিও তুলেছি । তবুও, মনে হয় কিছুই পারি না । আরও শিখতে হবে । অনেক অনেক শিখতে হবে । একদা শখ ছিল । এখন ক্যামেরা হাতে আছে । কিন্তু এর জন্য সময়টা ঠিক বের করতে পারি না । আপাতত, জোর দিয়ে বলতে পারছি না।

খোশগল্প.কম: ২২ টা ওয়েডিং ফটোগ্রাফি!! অভিজ্ঞতা?

চয়ন: ওয়েডিং,জন্মদিন,অফিসিয়াল মিটিং,আকদ,গায়ে হলুদ।চমৎকার।

খোশগল্প.কম: প্রথমদিকে ইভেন্ট গুলো পাওয়া কঠিন ছিলো কি?

চয়ন: অনেক । এমনও দিন গিয়েছে, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ছবি তুলতে গিয়েছি । ছবি তুলেছি অনেক । টাকার অংক অনেক কম ছিল, কিন্তু ছবিগুলো, মুহূর্তগুলো দেখে তাদের চোখে-মুখে যে খুশীর আভা ছিল, তার কাছে ঐ যৎসামান্য টাকাটা কিছুই না।

খোশগল্প.কম: এটাকে পুজি করে ভবিষ্যতের আশা করা যায়?

চয়ন: যায় । তবে, আরও প্রশিক্ষণের, সময় দেয়ার প্রয়োজন আছে । প্রয়োজন আছে ভালো ইকুইপমেন্টের।

খোশগল্প.কম: অবসর কাটে কিভাবে?

চয়ন: বই পড়ে, গান শুনে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে । প্রায়ই ঘুরতে বের হই । মুভি দেখাও হয় প্রচুর।

খোশগল্প.কম: নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন….

চয়ন: বন্ধু পাগল, আড্ডাপ্রিয়, সদা হাসিমুখ, রাগী, জেদী, স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড কাজ পাগল।

খোশগল্প.কম: এই ব্যাপারগুলোর জন্য কখনো নেগেটিভ কিছু ফেস করতে হয়নি?

চয়ন: হয়েছে । জীবনে সবচে’ বেশী ঝামেলায় পড়েছি অতি আবেগী হওয়ার কারণে । আর রাগ-জেদ সামান্য সময়ের জন্য ভালো হলেও বাকি সময় খারাপই।

খোশগল্প.কম: সর্বশেষে খোশগল্প নিয়ে কিছু বলুন।

চয়ন: সাইটে ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গিয়েছে । আমি চা-পাগল মানুষ, ধোঁয়া ওঠা পাশা-পাশি ২টা চায়ের কাপ তুমুল আড্ডারই ইঙ্গিত দেয় । ৩-৪টা লেখা পড়লাম । ভালো লেগেছে । খোশগল্প – বিভিন্ন মানুষের ভাবনা শুনে যাক, আরও সমৃদ্ধ হোক, সেই শুভ কামনা রইলো।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত