প্রিয়ম মজুমদার, নিজেকে পরিচয় দিলেন একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে।খেলার সমঝদারদের জন্য উপযোগী অথচ বিশ্বমানের, একটি খেলা বিষয়ক ওয়েবসাইট করার প্রয়াস থেকে ‘প্যাভিলিয়ন’ প্রিয়ম মজুমদার এবং তার সহকর্মীদের মিলিত উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ। ‘পেডেলক্লাউড’ নামের একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সী তার দ্বিতীয় উদ্যোগ।এর বাইরে আরো কাজ করতে ইচ্ছুক এডুকেশন সিস্টেম, বোকা মানুষের জন্য সাইন্স শো সহ নানান কিছু নিয়ে।নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্যোগের প্রশ্নে বললেন “শুরুতে কেউ সাকসেস পায় না, যত বেশী লেগে থাকা যায়, তত বেশী বাড়ে সাকসেসফুল হওয়ার চান্স।আর সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে না দেখা, এপ্রোচটা চেইঞ্জ করা।সমস্যা থাকবে, পৃথিবীতে কোন সমস্যা নতুন না, মাইন্ডসেটে সমাধানের এপ্রোচটাও থাকতে হবে”

পৃথিবীতে কোন সমস্যাই নতুন না, তাই মাইন্ডসেটে সমাধানের এপ্রোচটাও থাকতে হবে

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 1, 2016 , 2:03 অপরাহ্ন

198527_10151304964909555_1508925812_n

খোশগল্প.কম: প্রথমে পরিচয়টা জানবো।

প্রিয়ম: বর্তমানে আমি একজন তরুণ উদ্যোক্তা, তরুণ বলতে নতুন উদ্যোক্তা।নিজের দুইটা স্টার্ট আপ ফার্ম আছে।এর আগে বুয়েট থেকে কেমিকেলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে, আইবিএ থেকে এমবিএ শেষ করেছি, এমবিএ শেষ করার পর প্যাভিলিয়ন আর পেডেলক্লাউড নামে দুইটা স্টার্ট আপ দিয়েছি আমরা, ওখানেই কাজ করছি নিজেরা।

খোশগল্প.কম: প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে শুনি
প্রিয়ম: প্যাভিলিয়নটা ওয়েবসাইট আর পেডেল ক্লাউডটা ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি।

খোশগল্প.কম: একটু ডিটেইলে শুনি।
প্রিয়ম: আচ্ছা।প্যাভিলিয়ন হচ্ছে স্পোর্টসের সাইট, আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ইন্ট্যারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সাইট তৈরী করা যেখানে লোকজন খেলা নিয়ে জানতে পারবে, বুঝতে পারবে;বোঝার কথা বললাম কারণ খেলা আমাদের যেটা হয় সবাই শুধু খেলা দেখেই, বোঝে কম সেই বোঝার জায়গাটা তৈরী করা।খেলা নিয়ে এখানে আলোচনা করতে পারবে, স্পোর্টস রিলেটেড আরো অনেক আলোচনা এখানে ইনক্লুড করতে চাচ্ছি।আর পেডেল ক্লাউড যেটা ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি, আপাতত আমরা যেটা করছি, অন্যদের হয়ে, অন্য কোন ব্রান্ড বা ক্লায়েন্টের হয়ে মার্কেটিং করি, মানে ডিজিটাল মিডিয়ায় মার্কেটিংগুলো করি।সামনের ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে আমাদের নিজেদের হয়ে কোন প্রোডাক্ট ডেভেলপ করা।

খোশগল্প.কম: কী টাইপের প্রোডাক্ট হতে পারে?
প্রিয়ম: এটা সফটওয়্যার সলিউশন হতে পারে, কোন মার্কেটিং সলিউশন হতে পারে এরকম।

খোশগল্প.কম: বুয়েট থেকে বের হয়ে টেকনোলজি এক্সিকিউটের সরাসরি কোন ক্ষেত্রে না গিয়ে সলিউশন, ওয়েবসাইটের দিকে ঝুঁকলেন
প্রিয়ম: বেসিকালি আমি কিন্তু ডেভেলপার না, মানে ওয়েবসাইট ডেভেলপার না।যেটা বলছেন কোডিং করার মতো কাজে আমার এক্সপার্টাইজ না।আমি আইডিয়া জেনারেশন, মার্কেটিং সলিউশন, স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্টে চিন্তাভাবনা করি।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।খেলা নিয়ে আপনার নিজের বেশ আগ্রহের জায়গা আছে যেটা খেলা নিয়ে আপনার বেশ কিছু নোট দেখে মনে হয়েছে, প্যাভিলিয়ন ওয়েবসাইটও খেলা নিয়ে
প্রিয়ম: খেলাপাগলই ছিলাম সবসময় বলতে গেলে; তারপরে আরেকজন জুনিয়র ছিলো ভার্সিটির, সেও খেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। তো নিজে কিছু কাজ করার জন্য যেটা চাচ্ছিলাম, ব্যাটেবলে হয়ে গেলো।

খোশগল্প.কম: প্যাভিলয়নে মূল খেলা ছাড়াও খেলায়োড়সহ নানান বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি লিখাগুলোও কি আপনার?
প্রিয়ম: না না প্যাভিলিয়ন আসলে অনেকগুলো টিমের সমন্বয়ে, যে লেখাগুলোর কথা বলছেন এগুলো আমাদের কন্ট্রিবিউটর টিম আছে ওরা লিখে, আবার ডেভেলপমেন্টের টিম আছে আলাদা, তারা নিজেরা সাইট ডেভেলপ করছে, মার্কেটিং টিম আছে।মানে ওভার অল সবকিছু মিলিয়েই প্যাভিলিয়ন।

খোশগল্প.কম: আর পেডেল ক্লাউড?
প্রিয়ম: প্যাভিলিয়ন শুরু হয়েছে ২০১৪ এর দিকে আর পেডেল ক্লাউড আরো পরে, ২০১৫তে।

খোশগল্প.কম: ততদিনে কি গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে গিয়েছিলো?
প্রিয়ম: বুয়েট শেষ হয়েছে ২০১০ এর শেষের দিকে, আইবিএ শেষ হয়েছে ২০১৩ এর মাঝামাঝিতে। ইচ্ছা ছিলো নিজে কিছু শুরু করার। অনেকগুলা অপশন নিয়ে ভাবছিলাম। পরে প্যাভিলিয়ন দিয়ে শুরু আর কি।আর, পেডেলক্লাউডের মার্কেটিং সলিউশনের ক্ষেত্রে অনলাইনে আমরা যেগুলো করছি কোম্পানি ব্র্যান্ডিং, সাইট ডেভেলপমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

খোশগল্প.কম: সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অংশ হিসেবে ‘হিরোস অব নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ানে’র মার্কেটিং পার্টনার প্যাডেল ক্লাউড?
প্রিয়ম: হ্যাঁ, হিরোস অব সেভেন্টিওয়ানের মার্কেটিং দিকটা দেখেছি পেডেলক্লাউড থেকে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু কাজ করেছি আমরা। যেমন, রিসেন্টলি চ্যানেল আই এর সঙ্গে একটা কাজ হচ্ছে। চ্যানেল আই আর এক্সপ্রেশনস নামে একটা এডভার্টাইজিং এজেন্সি একসাথে মিলে ইয়াং জেনারেশনের জন্য একটা অনুষ্ঠান, আরো স্পেসিফিকভাবে বলতে গেলে ভার্সিটি স্টুডেন্টদের জন্য অনুষ্ঠান করছে টিভিতে একটা। অনুষ্ঠানে ওদের বিভিন্ন টপিক নিয়ে আলোচনা হয়।আমরা এইটার কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, এপিসোড ডিজাইন এসব কাজও করছি, এইতো… তারপর ক্যাটালিস্ট-সুইসকন্টাক্টের একটা কাজ করা হয়েছে।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।বুয়েট শেষ করে আইবিএতে গেলেন?মানে ইঞ্জিনিয়ারিং আর বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন তো প্রায় অপজিট
প্রিয়ম: আচ্ছা।প্রথম চিন্তা ছিলো চাকরি না করার জন্যে, কারণ তখন একটা চাকরি করতাম, ঐটা না করার জন্যই এমবিএ টা শুরু করা।

খোশগল্প.কম: চাকরি না করা বলতে এটা বাসায় রিজন দেখানোর কথা বলছেন?
প্রিয়ম: নিজের কাছেও রিজন দেখানো।মানে, ঘুম থেকে উঠে মনে হতো যে, কেনো চাকরিতে যাচ্ছি। এটা ছিলো প্রচ্ছন্ন কারণ। আর আমরা যারা ইঞ্জিনিয়ার পড়ি এদেশে, মোটামুটি একটা ট্রেন্ড আছে এমবিএ করার। ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে থাকলেও যে কোন চাকরিতে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বা দশ বছর পর ম্যানেজার রোলেরর কাজটা তাকে দেয়া হয়। তো ম্যানেজারের রোল যখন দেয়া হয় তখন তাকে ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার-স্যাপার দেখতে হয়।ঐ জায়গা থেকে এমবিএটা করা। আর, আরেকটা কারণ হচ্ছে আবার স্টুডেন্ট হতে পারা।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা।এই প্রসঙ্গে আরেকটা প্রশ্ন চলে আসে যে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সেটা বুয়েট, রুয়েট যেখানেই হোক, স্টুডেন্টদের দেশের বাইরে চলে যাওয়ার একটা ট্রেন্ড আছে, আপনি কেন যান নাই আর এই চলে যাওয়াটাই বা কীভাবে দেখেন?
প্রিয়ম:যাই নি কেন বলতে গেলে বিদেশ আসলে ওভাবে টানে নি আমাকে। ‘দেশের জন্য কিছু করা’ শব্দটা বড় শোনায়, তবুও আশপাশটা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাটা বেশী। যেহেতু আমাদের দেশে অনেক সমস্যা, সমস্যাগুলো সলভ কাউকে না কাউকে তো করতে হবেই। সবাই যদি একসাথে চলেই যায় বাইরে, তাহলে তো আশপাশ নিয়ে ভাবার লোকই থাকবে না। আমরা যেমন প্যাভিলিয়ন শুরু করেছি, স্পোর্টসের ওরকম ইন্ট্যারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সাইট বাংলাদেশে নাই বলে। সবাই নাই নাই বলে, কিন্তু ওটা নিয়ে কাজ করে না কেউ। কাউকে তো শুরু করতে হবে।এই কাজ করার জন্যই বেসিকালি না যাওয়া।

আর বেটার অপরচ্যুনিটি, সিকিউরিটি এইসব কারণেই লোকজন বাইরে চলে যাচ্ছে।আমি এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করি না।কারণ কোন একটা উন্নয়নশীল দেশ যখন নতুন ডেভেলপ করা শুরু করে, তখন একটা জেনারেশন সুযোগ পেলে দেশের বাইরে চলে যায়।এক্সাম্পল হিসেবে যদি বলি পাশের দেশেও কিন্তু সত্তর-আশির দশকে লোকজন ভালো অপরচ্যুনিটি পেয়ে বিদেশ চলে যেতো। ঐ যে দেশ স্বাধীন হওয়ার ত্রিশ-চল্লিশ বছর পর বাইরে যাচ্ছে, এই রকম একটা ট্রেন্ড সবসময় থাকে। আমাদের দেশেও ঠিক একই ট্রেন্ডটা চলছে, আমাদের দেশে কিন্তু এইটিজ-নাইন্টিজ এর দিকে এত লোক যেতো না। কিন্তু গত দশ-পনেরো বছরে সবজায়গা থেকে লোকজন যাচ্ছে।এই ট্রেন্ডটা সবদেশে থাকবে। এর পরে যেটা হয়, ভারত বা মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদ যখন তাদের কল করেছে, তাদের অনেকেই ফিরে এসেছে আর নতুন জেনারেশন ওই হারে যাচ্ছে না। আশা করি যে, আমাদের দেশেও যখন অপরচ্যুনিটিগুলা ডেভেলপ করবে তখন লোকজন ফিরে আসবে, পরের জেনারেশন থেকে এই হারটা কমে যাবে।

খোশগল্প.কম: অন্য প্রসঙ্গে আসি, উদ্যোক্তা হবার কথা কেন ভাবলেন?
প্রিয়ম: নিজে কিছু করার ইচ্ছা থেকে।

খোশগল্প.কম: চাকরি না কেন?
প্রিয়ম: ছোটবেলা থেকে খেলাধূলা ছাড়াও কিছু এরেঞ্জ করা, কোন অনুষ্ঠান অরগানাইজ করা, কোন একটা জিনিসকে নতুন করে তৈরী করার এই ইচ্ছাটা ছিলো সবসময় আমার মধ্যে। ঐ মাইন্ডসেট থেকেই স্বাধীনভাবে কিছু করাটা ভালো লাগতো। আর স্বাভাবিকভাবেই উদ্যোক্তা হলে দেখা যায় আশেপাশে আরো কিছু মানুষের লাইফও বেটার করা যাচ্ছে।

খোশগল্প.কম: উদ্যোগের পরিসর আর কী কী ক্ষেত্রে বাড়বে বা আর কতদূর বাড়বে
প্রিয়ম: আসলে স্বপ্নতো অনেক বড়, যেমন প্যাভিলিয়ন নিয়ে স্বপ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে এটার পরিসর বড় করা।আপাতত এটা বাংলায় হচ্ছে, ইচ্ছা আছে আরো কিছুদিন পর ইংলিশ ভার্সন নিয়ে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ছড়িয়ে দেয়া। আর ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিটায় সলিউশন বেইজড কোনো প্রোডাক্ট বের করার চিন্তাভাবনা করছি। এসব করতে গিয়ে যেটা দেখছি, আমার চিন্তা-ভাবনাগুলো আস্তে আস্তে আইটি সেন্টারড হয়ে যাচ্ছে। এইদিকে থেকে পরিসর বড় করার কথা বললে, বাংলাদেশের মানুষ যাতে আরেকটু বেটার ইনফরমেশন বা স্কোপ সহজে পায় সেসব জায়গা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে।

খোশগল্প.কম: চিন্তা-ভাবনা কি এই দুইটাকে কেন্দ্র করেই? এর বাইরে নতুন কিছু…।
প্রিয়ম: হ্যাঁ, হতে পারে।আপাতত শুরু হচ্ছে যেহেতু, ফোকাসড থাকার চিন্তাভাবনা করছি।ফোকাসড থেকে এই দুইটাকে ডেভেলপ করে যদি মনে হয় নতুন কিছু করা যাবে, তখন এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে, মেডিক্যাল সেক্টরও হতে পারে সেটা।

খোশগল্প.কম: আপনার বেশ কিছু সাবলীল লিখা আছে ফেসবুকে, রবীন্দ্র কিংবা অন্যান্য বিষয়ের উপর।রেগুলার বেসিসেই কি বই পড়া বা লিখালিখি করেন?
প্রিয়ম: না।এগুলো অনেক আগের লিখা, তখন অনেক বই-টই পড়া হতো।তো লিখতে গেলে তো আসলে অনেক পড়তে হয়। এখন দেখা যায় সাহিত্য কম পড়া হয়, তার পরিবর্তে এন্টারপ্রেনারশিপ, ম্যানেজমেন্ট, কোম্পানি কালচার রিলেটেড বই-ই পড়া হয় বেশি। আর্টিকেল, ব্লগও দেখা যাচ্ছে ঐ রিলেটেডই পড়া হচ্ছে এখন।

খোশগল্প.কম: ফ্রী নেট নিয়ে সচেতনতামূলক একটা লিখা ছিলো, এইটা কখন?
প্রিয়ম: এইটা রিসেন্ট সময়ের।তখন ফ্রী নেট নিয়ে লোকজন কথা বলতো, তখন লিখা।আসলে লিখালিখির ইচ্ছা সবসময়ই আছে কিন্তু সময় কম পাওয়া হয় আর কি।

খোশগল্প.কম: এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে কাজের কথা বলছিলেন
প্রিয়ম: ৩-৪ দিন আগে চমক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো, তখন সায়েন্স নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আমাদের নিজেদের একটা প্ল্যান ছিলো, এখনো ওটা ডেভেলপ করা হয় নি; যেটা হচ্ছে সায়েন্স শো করা, যেটা টিভি বা অনলাইনে হতে পারে। সেখানে একদম বোকা মানুষদের জন্য বিজ্ঞান বোঝানো হবে। এখনো ওভাবে কন্টেন্ট ডেভেলপ করা হয় নি, আমাদের ইচ্ছা আছে কাজ করার এটা নিয়ে। যেমন, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে যে বিজ্ঞানের প্রয়োগ আমরা দেখি, কিন্তু বুঝতে পারি না যে এটা বিজ্ঞানের জন্যই হচ্ছে এরকম কিছু নিয়ে। দরজার নব কেন একদম ডানসাইডে থাকে মাঝে বা বামে না থেকে, এটার উত্তর টর্ক বা মোমেন্টের ব্যাপার স্যাপারের সাথে সম্পর্কিত। আবার, একজন ফেরিওয়ালা যখন কাঁধে কিছু নিয়ে যায়, তখন হাত কেন সে সামনে রাখে এইগুলা কিন্তু সে জানে না, কিন্তু তার সুবিধার জন্য সে এভাবে করছে। তো এসব নিয়ে কিছু কন্টেন্ট ডেভেলপ করার ইচ্ছা আছে। এগুলোর প্রসার হলে লোকজনের মধ্যে অনেকরকম কুসংস্কার বা মিথ এগুলো কমে যাবে।
আর আমাদের দেশে আসলে বেসিক নিড, খাদ্য না বাসস্থান নিয়ে আমরা বেশী এঙ্গেইজড ছিলাম এতোকাল, এজন্য শিক্ষা নিয়ে ওভাবে মনোযোগ দিতে পারি নাই। এজন্য শিক্ষার হার এখনো ৫০-৬০ এর আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে। আস্তে আস্তে আগাবে আর কি। একটা ডেভেলপড কান্ট্রির যে নেচার সেভাবেই আগাচ্ছে আর কি। যেমন খাদ্য, বস্ত্রে আমরা প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ এখন।

খোশগল্প.কম: আর কী কী ক্ষেত্রে এরকম উদ্যোগের কথা ভেবেছেন?
প্রিয়ম: স্বপ্ন তো আসলে অনেক বড়।আমার আক্ষেপের যে জায়গা, দেশ থেকে যারা যাচ্ছে তারা যেন ফিরে আসে বা গণহারে যেন কম যায়, সেজন্য দেশেই যেন স্কোপগুলো তৈরী হয়, সেসব নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে।

খোশগল্প.কম: সাক্ষাৎকারের শেষ প্রশ্ন, একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার কী মনে হয় উদ্যোগ নেবার জন্য সবার আগে কী কী করতে হবে ?
প্রিয়ম:সবচেয়ে বড় ব্যাপার ধৈর্য্য।কারণ শুরুতে কেউ সাকসেস পায় না, যত বেশী লেগে থাকা যায়, তত বাড়ে সাকসেসফুল হওয়ার চান্স। আর সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে না দেখা, এপ্রোচটা চেইঞ্জ করা।সমস্যা থাকবেই, পৃথিবীতে কোন সমস্যাই নতুন না, তাই মাইন্ডসেটে সমাধানের এপ্রোচটাও থাকতে হবে।আর হার্ডওয়ার্কের কোন বিকল্প নেই।

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে কথা বলার জন্যে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত