মোহাম্মদ আলি, ২২ বছর ধরে সেলসে কাজ করছেন।পণ্য উৎপাদনের পর যে মানুষগুলো পণ্যকে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মত কঠিন কাজটা দেখাশোনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি একজন।জীবনের উঁচু-নীচু পথ পেরিয়ে আসা মানুষটার সাথে কথা হচ্ছে আজ।

প্রত্যেক কোম্পানিতে একজনকে গুরু মানতাম মনে মনে

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 23, 2016 , 2:40 অপরাহ্ন

12615168_200790426938786_8534803966743212895_o

খোশগল্প.কম: আপনি কেমন আছেন ? 

আলি: ভালো আছি।

 

খোশগল্প.কম: এখন কী নিয়ে ব্যাস্ত আছেন?
আলি: চট্টগ্রামে অন্যরকম ইলেকট্রনিক্সের নিয়োগ উৎসব ছিল, এর আগে সেলস টিমের মোটিভেশন ছিল, এইতো এইসব নিয়েই।

 

খোশগল্প.কম: সেলসে আছেন কতদিন ধরে ?
আলি: আমি ১৯৯৪ সালে আমি ডিগ্রী পাস করি।১৯৯৪ থেকেই কাজ শুরু করি সেলস দিয়ে, খুলনায় একটা টপ ডিপার্টমেন্টাল, জালাল স্টোরে কাজ শুরু করি।এটা একটা পার্ট টাইম জব ছিল।১৯৯৫ সালে ৩০০ টাকা নিয়ে ২ বন্ধু ঢাকায় আসি।হোয়াইট হাউজ নামে এলিফ্যান্ট রোডের একটা দোকানে ইন্টার্ভিউ দিতে আসি।কিন্তু সেখানে আমার জব হয় না, আমার খুব দুঃখ লাগে তখন।আমার বন্ধুর জব হয়ে যায় সেখানে।কিছু দিন পর অন্য একটা দোকানে জব হয় সেখানে আমার বন্ধুর থেকেও আমার বেতন বেশি ছিল।

 

খোশগল্প.কম: মার্কেটিং বা সেলসে তো পেশা হিসাবে অনেক প্রতিযোগিতার, আপনি প্রথম থেকেই এটাকে কিভাবে নিয়েছেন?
আলি: আমি পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে চাকরি খুঁজতাম, প্রথম চাকুরীটাই আমি সেলসে পেয়ে গেলাম।তারপর থেকে শুরু করা।আমি জানি এখানে কাজ করা কষ্টকর, একটু কঠিন।টার্গেট থাকে, নানা রকম লক্ষ্য পূরণ করতে হয়।আমি এসব জেনেই সেলসে এসেছি।

 

খোশগল্প.কম: এমন একটা পেশায় কেন আসলেন, আসার পিছনে কোন অনুপ্রেরণা কি ছিল?
আলি: অনেকটা শখ করে বলতে পারেন।আমাকে সরাসরি কথা বলা আর কাজ করার মানসিকতার দেখে অনেকেই প্রশংসা করত।এই জন্য আমাকে অন্য সবার থেকে ভিন্ন করেও দেখা হত।আমি যখন ঢাকায় আসলাম ২ বন্ধু মিলে, আমার চাকরি হলো না।যদিও কিছু দিন পর হলো।আমার বেতন ছিল কিন্তু ওর থেকে বেশি।এমনকি আমি যখন খুলনায় জালাল স্টোরে চাকরি করতাম, তখনো আমাকে অন্য সবার থেকে বেতন বেশি দেওয়া হত।এভাবে আমি অনুপ্রেরণা পেতে শুরু করি।আমার মনে হল আমি এখানেও ভালো পারবো।তারপর থেকে ২২ বছর ধরে পথ চলা।

 

খোশগল্প.কম: সেলসে কাজ কি উপভোগ করেন?
আলি: উপভোগ না করলে এতদিন থাকা যায় না, আমি একজন সেলস ম্যান থেকে এখন বিজনেস ডিস্ট্রিবিউশনের প্রধান হিসাবে আছি।না হলে এতদিন চলা যায় না।

 

খোশগল্প.কম: আপনার মতে একজন দক্ষ সেলস/মার্কেটিং ম্যানের কি কি গুণ থাকা দরকার ?
আলি: প্রথম হচ্ছে সততা, দ্বিতীয় হচ্ছে বিনয়ী, তৃতীয় হচ্ছে কথা দিয়ে কথা রাখা।আমি মনে করি এই তিনটা গুণ থাকলে একজন সেলস ম্যান দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে খুব তাড়াতাড়ি।

 

খোশগল্প.কম: এবার আপনার পরিবারের গল্প বলেন ?
আলি: আমি মা, বাবা, তোমার ভাবি আর ২ টা ছেলে নিয়েই আমার পরিবার।

 

খোশগল্প.কম: ছেলেদের নিয়ে কি স্বপ্ন দেখেন?
আলি: মজার একটা ব্যাপার হচ্ছে, ওরা যমজ।ওরা অনেক ভালো,কারো সাথে ব্যায়াদবি করে না।আমি ওদের নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখি না, ওরা আসলে যা হতে চায় তাই হবে।ওরা যখন ৮ থেকে ৯ এ উঠবে।তখন আমাকে জিজ্ঞেস করল, বাবা আমরা কোন বিভাগে পড়ব? আমি সোজাসুজি বলে দিলাম, তোমরা যা নিয়ে পড়তে পছন্দ কর তাই নেও।ওরা কমার্স নিয়ে ভর্তি হতে চাইল, এবং কমার্সেই ভর্তি হল।

 

খোশগল্প.কম: ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান ?
আলি: সেলসের টপে দেখতে চাই, যেখানে আমার কথাই শেষ কথা হবে, তবে অবশ্যই সেটা যৌক্তিক হবে ।

 

খোশগল্প.কম: এতদিন পরে এসে নিজেকে সুখী মানুষ মনে করেন ?
আলি: আমি সবসময়ই সুখী ছিলাম, এমনকি যখন অভাবে ছিলাম তখনো সুখী ছিলাম।আমার চাহিদা খুব কম, জীবনকে খুব ভিন্ন ভাবে দেখি ।

 

খোশগল্প.কম: সুখী হওয়ার জন্য জীবনে সবচেয়ে জরুরী কি?
আলি: মানসিকতা থাকা, যেটা হচ্ছে আমকে সব সময় সুখী ভাবা।আমি জানি টাকার দরকার আছে, কিন্তু নীড পূরণ করার পর অতিরিক্ত কিছুর প্রতি ইচ্ছা পোষণ না করা ।

 

খোশগল্প.কম: কাউকে যদি উপদেশ দিতে হয় কি দিবেন ?
আলি: সৎ পথে চলে, সৎ পথে টাকা কামাবে, এ টাকার অনেক মূল্য ।

 

খোশগল্প.কম: জীবনের বড় শিক্ষা হিসাবে নিয়েছেন কি?
আলি: প্রত্যেক কোম্পানিতে একজনকে গুরু মানতাম মনে মনে।যেমন এখন অফিসে সোহাগ ভাই, পোলার এ ছিল নওরোজ ভাই।দেখতাম এরা কারো ক্ষতি করতেন না, পারলে উপকার করে না পারলে ভালো উপদেশ দেন।এটা আমি শিখেছি ভাইয়াদের কাছ থেকে।

 

খোশগল্প.কম: অন্যরকম পরিবারের সাথে আছেন কতদিন ধরে?
আলি: ৩ বছর চলছে।

 

খোশগল্প.কম: অন্যরকম পরিবারের সাথে যুক্ত হলেন কি করে?
আলি: Bengle Meat Processing এ আমি যোগদান করি ২০১২ তে, তারপর কাজটা এনজয় করতাম।কিন্তু এরা সব সুপার মলে মিট সরবরাহ করতো।তাই এদের অফিস টাইম ছিল সকাল ৬ টা থেকে।এ সময়টা ছিল আমার জন্য একটু কষ্টকর।তারপর আমি জবটা ছেড়ে দিবো বলে চিন্তা করে বিভিন্ন জায়গায় cv দিতে লাগলাম।এর মধ্যে অন্যরকম গ্রুপেও দিলাম।তারপর ২০১৩ সালের ২ই মে থেকে শুরু হল পথ চলা অন্যরকম গ্রুপের সাথে।

 

খোশগল্প.কম: অন্যরকম সেলস টিম কে নিয়ে কি স্বপ্ন দেখেন ?
আলি: বিশাল একটা স্বপ্ন, কিন্তু পারবোনা মনে হয়।তবুও চালিয়ে যাব এবং যাচ্ছি।আমার লক্ষ্য হচ্ছে কোম্পানিকে এমন একটা অবস্থানে  নিয়ে যাওয়া, যেখানে কোম্পানির বিক্রি প্রতিমাসে ৩ কোটিতে থাকবে।

 

খোশগল্প.কম: অন্যরকম ইলেকট্টনিক্সের নতুন একটা পণ্য “বিজ্ঞান বাক্স”, বিজ্ঞান বাক্স সম্পর্কে কিছু বলেন?
আলি: এটা বাংলাদেশের শিক্ষা উপকরণের মধ্যে একটা জিনিস, যা বাচ্চাদের খেলেতে খেলতে শিখাবে, যা বিজ্ঞান-ভীতি দূর করবে।এটার সহজলভ্য হলে বাচ্চাদের বিজ্ঞান শিক্ষা সহজ হয়ে যাবে।অন্যরকম জ্ঞানবাক্স আসলে বই নয়।এটি একটি সাইন্স কিট, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম।ছোট-বড় সবাই যেন আনন্দের সাথে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিখতে পারে তার জন্য এটি একটি অনন্য উদ্যোগ।অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সটি মূলত আট বছর বা তার বেশি বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য বানানো।কিন্ত যে কেউ এটা ব্যবহার করে চিন্তার জায়গাটি নিয়ে কাজ করতে পারবে।

 

খোশগল্প.কম: জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা কি?
আলি: নাই, যা চেয়েছি তাই পেয়েছি।তবে অন্যরকম ইলেকট্রনিক্সকে ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া।এ ছাড়া আপাতত কোন অপূর্ণতা নেই ।

 

খোশগল্প.কম: জীবনের দুঃসময়ের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা কি ছিল ?
আলি: আমার সহধর্মিণী আর আমার মা।আমার সহধর্মিণীর কথা হচ্ছে লেগে থাকো হয়ে যাবে।মা বলতো কখন ও ধৈর্য্যহারা হইস না।তুই ভালো মানুষ, ঠিক পার পেয়ে যাবি।

খোশগল্প.কম: ধন্যবাদ আপনাকে, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
আলি: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত