ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো,তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড়।”

মনের আকাশে উড়তে থাকা ঘুড়ির ঠিকানায় চোখ রাখে ময়লা টিশার্ট, ছেঁড়া জুতো পরা ছেলেগুলো।

গুনগুনে,আড্ডার ভিতরে, একাকীত্বতে, বিরহে গানটির এক ব্যাপ্তি রয়েছে। গানটি সুরে এবং গলায় তুলেছেন যিনি তার নাম লুৎফর হাসান। গানের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে তার লেখালেখিও। মেয়ে দুপুরকে নিয়ে বুনছেন হাজারো স্বপ্ন। এই বিরোহী বাউলের পরিচয় তিনি নিজেই যার ঝোলা পরিপূর্ণ অগণন বেদনার কথকতায়।

প্রায় পাঁচ শ গান লিখেছি ও সুর করেছি

লিখেছেন...admin...মে 24, 2016 , 5:49 পূর্বাহ্ন

lt

খোশগল্প.কম: গান শেখা বা করা এটা কি একদম ছোট থেকেই?

লুৎফর হাসান: গানে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। প্রকৃতিই আমার শিক্ষক।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলায় ভেবেছিলেন আজকে মানুষ যে আপনাকে এতো চেনে তা গানের মাধ্যমে সম্ভব হবে?

লুৎফর হাসান: এর চেয়েও বড় স্বপ্ন দেখেছি। আরও বেশি গনগনে সেই স্বপ্ন। আমাকে চেনার চেয়ে আমার কাজকে চেনানোর তাড়নাটা মাত্রই শুরু হয়েছে।

খোশগল্প.কম: স্বপ্ন পূরনের পথে  হাঁটছেন তবে?

লুৎফর হাসান: আমার স্বপ্নের নিজস্ব ছক আছে। আমি সেই ছক দেখে দেখে কাজ করি। সারা জীবন সেই ছক ধরে ধরেই কাজ করে যেতে চাই।

খোশগল্প.কম: আপনার প্রথম কাজ কোনটি?

লুৎফর হাসান: আমার লেখা প্রথম গান – হৃদয় নগর অ্যালবামে শ্রদ্ধেয় বাপ্পা মজুমদারের গাওয়া, তোমারই ভাবনাতে আজও আমি ডুবে আছি। প্রথম গাওয়া গান – ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো। প্রথম উপন্যাস – হেলেঞ্চাবতী।

খোশগল্প.কম: মাল্টিটেলেন্টেড বলতে হয় আপনাকে!!”ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো” গানটি আপনাকে চেনার পথ অনেক সুগম করেছে। সেটি নিয়ে কিছু শুনতে চাই।

লুৎফর হাসান: কখন কোন গান জনপ্রিয় হয়ে যায়, কেউ বলতে পারে না। আমি আমার মতো কাজটা করেছিলাম। সোমেশ্বর অলির লেখা আর আমার সুর। একদিন গেয়ে ফেললাম। রেডিও আমার এর আরজে রাজু প্রথমবারের মতো রেডিও তে প্লে করলেন। তারপরের গল্পটা সম্ভবত সবাই জানে।

খোশগল্প.কম: গান টা গাওয়ার সময় মনে হয়েছিলো হয়তো এটাই সেই গান?

লুৎফর হাসান: হুম, সেই আস্থা ছিলই। আর সে কারণেই গান সুর করার পাঁচ বছর পর গেয়েছিলাম।

খোশগল্প.কম: এতোটা সময় নেয়ার কোন কারন কি ছিলো?

লুৎফর হাসান: অপেক্ষায় ছিলাম। তাড়াহুড়া করে কাজ করার ইচ্ছে ছিলো না।

খোশগল্প.কম: প্রথমটির পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি নিশ্চয়ই। তার পর  কী কী  কাজ করলেন?

লুৎফর হাসান: তারপর , আমার আকাশ পুরোটাই, জোনাকিরা, বিরহ উদ্যান, বন্ধু তোমার ছুটি মেলে না – সব মিলিয়ে পাঁচটি একক অ্যালবাম। আর প্রায় একশ এর মতো মিক্সড অ্যালবামে গান গাইলাম। এর মধ্যে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টেলিভিশন সিনেমায় আইয়ুব বাচ্চুর সুর ও সঙ্গীতে গাইলাম , ভাবনার রেলগাড়ি।

খোশগল্প.কম: গানের জগতে এতো শত  লিজেন্ড দের সাথে কাজ করছেন, অভিজ্ঞতা কি শেয়ার করা যায়?

লুৎফর হাসান: আমার প্রায় সব গুণিজনের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রায় পাঁচ শ গান লিখেছি ও সুর করেছি। গেয়েছেন সব জনপ্রিয় শিল্পীরাই। অনুভুতিটার ব্যাপ্তি অনেক।

খোশগল্প.কম: এখন ব্যস্ত রয়েছেন  কী নিয়ে?

লুৎফর হাসান: এখন বেশ কিছু গান, আর পরবর্তী উপন্যাস নিয়ে ব্যস্ত আছি।

খোশগল্প.কম: পরবর্তী উপন্যাস কি বই মেলার জন্য?

লুৎফর হাসান: হ্যাঁ।

খোশগল্প.কম: কয়টি বই বের করলেন গানের পাশাপাশি?

লুৎফর হাসান: ১২ টা বই প্রকাশ পেয়েছে এ পর্যন্ত।

খোশগল্প.কম: বাহ অনেক। বইগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কেমন পেয়েছেন?

লুৎফর হাসান: বই এর গ্রহণযোগ্যতা পাবার অপেক্ষায় থাকতে হয় অনেকদিন। অবিরাম লিখে যেতে হয় বলেই লিখছি। গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পরে ভাবা যাবে।

খোশগল্প.কম: আপনার অবসরও কি তবে লেখা বা গান নিয়েই?

লুৎফর হাসান: অবশ্যই। তবে পড়াশোনাটাও একটা বড় জায়গা জুড়ে আছে।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলার কথা শুনতে চাই আপনার। ফেসবুকে নিজের পরিজন,গ্রাম,ছোটবেলা নিয়ে অনেক লেখালেখি দেখেছি। ওখান থেকেই আগ্রহ।

লুৎফর হাসান: আমার জন্ম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার নবগ্রামে। বেড়ে ওঠা সেখানেই। আমাদের গ্রামে ঝিনাই নামে এক নদী আছে। সেই নদীই আমার শিক্ষক, সেই নদীই আমার প্রেমিকা। আমার লেখালেখি বা সুর নিয়ে যত পাগলামি সব কিছুর শুরু সেখানেই। ভরা বর্ষায় খা খা পূর্ণিমা রাতে সেই নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় ভেসে যেতাম। জোছনা আর জলের মাখামাখি আমার সৃজনশীলতাকে উসকে দিতে বেশ সহযোগীতা করেছে।

খোশগল্প.কম: দুপুরকে নিয়ে কিছু শুনতে চাই….

লুৎফর হাসান: দুপুর আমার মেয়ে। আমার প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সন্তান। আমি ব্যক্তি জীবনে ভীষণ বিরহ কাতর। উদ্ভ্রান্ত জীবন আমার। আমার এই অগোছালো জীবনের সুখের একমাত্র বিষয় এই দুপুর। আমি তাকে নিয়ে গানও করেছি। আমার যাবতীয় স্বপ্ন এখন তাকে ঘিরেই।

খোশগল্প.কম: মেয়েকেও কি গান,লেখালেখি এই বিষয় গুলোতে আনার ইচ্ছা রয়েছে?

লুৎফর হাসান: কেউ কাউকে এই পথে আনতে পারে না। তার বয়স মাত্র চার। এই বয়সেই আমার প্রায় সব গান তার মুখস্থ। গাইতেও পারে বেশ। আমার শেলফে রাখা সব বিখ্যাতজনের বই দেখে সে চিনতে পারে। সে এসবে আগ্রহী হলে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সাপোর্ট থাকবে। তবে সব বাবার মতো আমিও চাই, সে খাঁটি মানুষ হোক।

খোশগল্প.কম: বাহ। নিজের কাজে নিজের সন্তুষ্টি কতখানি?

লুৎফর হাসান: কঠিন প্রশ্ন। সন্তুষ্টি তো শতভাগ হয় না। কাজটা ঠিকমত করতে চাই। সন্তুষ্টি হওয়া খুব কঠিন।

খোশগল্প.কম: গান বা লেখালখির মাঝে যেকোন একটা বেছে নিতে বললে কি খানিক বিভ্রান্ত হবেন?

লুৎফর হাসান: দুটোই একসাথে চলবে। সারা জীবন।

খোশগল্প.কম: ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

লুৎফর হাসান: নানান বিষয়ে সব মিলিয়ে কমপক্ষে পঞ্চাশটা বই। এক হাজার গান। দুপুরকে যত্ন করে তৈরি করা।

খোশগল্প.কম: নিজের সম্পর্কে কিছু যদি বলত বলি!!

লুৎফর হাসান: আমি বেদনার ছাইপাঁশ গানের উদরে ভরে নেয়া এক বিরহী বাউল। আমার ঝোলার মধ্যে অগণন বেদনার কথকতা।

খোশগল্প.কম: বলছিলেন আপনি খুব বিরহ কাতর..তার কি কারন রয়েছে কোন?

খোশগল্প.কম: সেটা গান কবিতায় থাকুক। উচ্চারণে বিব্রত না হোক।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত