নীল সাদার যোগাযোগ সাইটে নাম তার “আমি সমুদ্র”। নিজের সম্পর্কে বলতে বললে বললেন “স্পষ্টভাষী; এই স্বভাবের কারণেই অনেকের প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি,কিন্তু,যারা পছন্দ করে তারা এই স্বভাবের কারণেই করে”। পছন্দ করেন ক্যামেরায় মুহূর্তকাল বন্দি করতে। এছাড়াও লেখেলেখি করেন ব্লগে।

ফেসবুকের লাইক কমেন্টে ‘সেলিব্রিটি’ হওয়া নিতান্তই হাস্যকর

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 15, 2016 , 7:38 পূর্বাহ্ন

sm

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

সমুদ্র: ভালো;আপনি?

খোশগল্প.কম: ভালো।ব্লগে লেখালেখি করেন, তো স্পেসিফিক কিছু ব্যাপার কি লেখালেখিতে তুলে আনা হয়?

সমুদ্র: ব্লগে লেখালেখির শুরুটা আসলে ছিলো নিতান্তই শখ থেকে।আশেপাশে সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে সেগুলো নিয়ে লিখতাম,এখনো লিখতে ভালো লাগে সেভাবেই;তাই,সামাজিক ইস্যুগুলো গুরুত্ব পায় বেশী।

খোশগল্প.কম: শুরুটা কবে থেকে?

সমুদ্র: ২০১৩ সাল থেকে।

খোশগল্প.কম: ব্লগের বাইরে লেখালেখির প্রসার বাড়ানোর ইচ্ছা হয়নি? ভালোই তো লিখেন..

সমুদ্র: ধন্যবাদ।আসলে,ইচ্ছা যে একদম হয়নি,তা না।কিন্তু,সুযোগ এবং সাহসটা হয়নি।ব্লগে লেখা এবং বইয়ের পাতায় লেখা,দুইটা ব্যাপারে একটু পার্থক্য আছে।ব্লগে আপনি যা খুশি,তা লিখতে পারেন।কারণ,এখানে পাঠকের গন্ডিটা হয় নির্দিষ্ট এবং তাদের সম্পর্কে আপনার কিছুটা হলেও ধারণা থাকে।তাছাড়া,এখানে দায়বদ্ধতার ব্যাপারটা ঠিক সেভাবে থাকে না।কিন্ত,বইয়ের পাতায় যখন আপনার লেখাটা আসবে,তখন আপনার পাঠকের পরিসরের বিস্তৃতিটা ব্যাপক হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবে। তাছাড়া,এখানে আপনার দায়বদ্ধতার একটা ব্যাপার চলে আসে।তাই,বই লিখতে হলে যথেষ্ট প্রস্তুতির দরকার। এছাড়া,পড়াশুনার কারণে ইচ্ছা থাকলেও আসলে সেভাবে সময় করে ওঠা হয়নি।ভবিষ্যতে কখনো সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই লেখালেখিকে ভার্চুয়াল গন্ডি থেকে বের করে নিয়ে আসবো।

খোশগল্প.কম: ভার্চুয়ালি সক্রিয়তা তাহলে কি অনেক?

সমুদ্র: হ্যাঁ,তা অবশ্য বলতে পারেন। লেখালেখি যেটুকু,তা ভার্চুয়ালিই করা হয়,নিজের ব্লগ ছাড়াও ফেসবুকে লেখা হয়।

খোশগল্প.কম: ফেসবুক বা সামাজিক সাইট গুলোর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী হঠাৎ করেই,এটার কারন টা আপনার কাছে কি?

সমুদ্র: ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সাহায্যে আমরা এখন একে অন্যের সাথে খুব সহজে প্রতিমূহুর্তে যোগাযোগ রাখতে পারছি।এবং,খরচের ব্যাপারটি এইক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে,ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আপনি ফোনের বিল এবং অন্যান্য উপায়ের চাইতে অনেক কম খরচে আপনার পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছেন।তাছাড়া,সময়ের ব্যাপারটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।এসব সাইটের এতো জনপ্রিয়তার মূল কারণটা এটাই মনে করি।

খোশগল্প.কম: তবে তরুন প্রজন্মের ওপর ইম্প্যাক্ট কিছুটা নেগেটিভলি কি পড়ছে না?

সমুদ্র: যথেষ্ট পড়ছে। সত্যি বলতে,পজিটিভ ইম্প্যাক্টের চেয়ে নেগেটিভ ইম্প্যাক্টটাই বেশী পরছে।একটা সময় ছিলো এরকম,যখন তরুণদের সময় কাটানোর উপায় ছিলো খেলাধুলা,বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা।এখন সেই জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল সাইটগুলো।আপনি হাতের মুঠোয় কয়েক ইঞ্চির স্ক্রিনে যখন প্রায় সবকিছু সম্পর্কে জানার একটা সুযোগ পাচ্ছেন,তখন ঐ কয়েক ইঞ্চির বাইরে কোনকিছুর গুরুত্ব আপনার কাছে গৌণ হয়ে যেতেই পারে।এবং,নেগেটিভ ইম্প্যাক্টটা শুরু হয় এখানে থেকেই।’সামাজিক জীবনের যোগাযোগ রক্ষার জন্য সামাজিক সাইটগুলো’ আমরা এটা ভুলে গিয়ে সামাজিক সাইটগুলো দিয়ে নিজেদের সামাজিক জীবনকে দেখার একটা অভ্যাস করে ফেলেছি,যা কখনোই খুব ভালো না।

খোশগল্প.কম: বেরিয়ে আসাও তো সম্ভব নয়…..

সমুদ্র: সম্ভব;ঐ যে বললাম না,সামাজিক জীবনকে সামাজিক সাইটগুলো দিয়ে দেখার অভ্যাস,এই অভ্যাসটা ছাড়তে হবে।এই অভ্যাসটা ছাড়তে হলে সামাজিক সাইটে আনাগোনা কমিয়ে সামাজিক পরিবেশে আনাগোনাটা বাড়াতে হবে।

খোশগল্প.কম: সামাজিক পরিবেশের আনাগোনাটা যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন!

সমুদ্র: অনেকেই আছেন,যাদের সামাজিক সাইটগুলোতে অ্যাক্টিভিটি খুব বেশী।কিন্তু,কম্পিউটার এবং ফোনের স্ক্রিন থেকে বের হয়ে যখন তারা সত্যিকারের সমাজে তথা সামাজিক পরিবেশে মিশতে আসেন,তাদের ঐরকম স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যায় না।সামাজিক পরিবেশের চাইতে সামাজিক সাইট তাদের কাছে গুরুত্ব পায় বেশী,এবং,এভাবে একসময় তাদের কাছে নিজেদের অস্তিত্বের সংজ্ঞাটাই হয়ে ওঠে ফেসবুকের স্ট্যাটাস,টুইটারের ফলোয়ার্স।এই জিনিসটা থেকে বের হতে হবে।

খোশগল্প.কম: জি “ফেসবুক সেলিব্রিটি” তোকমাটা ইদানিং অনেক জনপ্রিয়….

সমুদ্র: হ্যাঁ,বলতে চাচ্ছি ঠিক এইটাই। ‘সেলিব্রেটি’ হতে হলে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং কাজ দিয়ে সত্যিকারে হওয়া উচিত,ফেসবুকের লাইক কমেন্টে ‘সেলিব্রিটি’ হওয়া নিতান্তই হাস্যকর।

খোশগল্প.কম: ইস্যু নিয়ে নিউজ গুলোর সত্যতা গুলোও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন কি

সমুদ্র: অনলাইন নিউজপেপারের ব্যাপারে যদি বলে থাকেন,তবে উত্তরটা ‘হ্যাঁ’। আসলে,অধিকাংশ অনলাইন নিউজপেপারই এখন ‘হিট সিকার’।তাদের নিউজের আসল এলিমেন্ট হলো ‘ভিডিওসহ’ ক্যাপশনটা।

খোশগল্প.কম: কাজ কিন্তু অনেকাংশে করছে আপনাদের মতোই তরুনেরা….

সমুদ্র: হ্যাঁ,ঠিক; সেইসাথে এটাও ঠিক,তাদের এই কাজ করানো হচ্ছে।ব্যাপারটা এরকম না যে,তারা নিজেরাই এসব পোর্টাল খুলছে।তারা এসব পোর্টালে বেতনভুক্ত কর্মচারী।তবুও,এটা তাদের এবং তরুণদের জন্য নিশ্চয়ই লজ্জার ব্যাপার।

খোশগল্প.কম: আপনার ব্যাপারে আসি। কোথায় পড়াশুনা করছেন?

সমুদ্র: আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি।

খোশগল্প.কম: লিটারেচারে পড়ার ইচ্ছা ছিলো আগে থেকে?

সমুদ্র: সত্যি বলতে,কখনোই ইচ্ছা ছিলো না।

খোশগল্প.কম: তাহলে এখনও চালিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে না?

সমুদ্র: একটুও না; সাহিত্যে পড়ার ইচ্ছা না থাকলেও ছোট থেকে সাহিত্যের প্রতি একটা ভালোবাসা ছিলো

খোশগল্প.কম: পড়ার বাহিরে সাহিত্য পড়া হয় কেমন?

সমুদ্র: খুব কম।পড়ার ভেতরেই এখন সাহিত্য তো,সম্ভবত তাই পড়ার বাইরে সাহিত্য সেভাবে পড়া হয়না।

খোশগল্প.কম: অবসরে কি করা হয় তবে?

সমুদ্র: মুভি দেখা এবং ছবি তোলা।

খোশগল্প.কম: ভব্যিষতে নিজেকে কোন জায়গাটায় দেখতে চান?

সমুদ্র: এটার উত্তর দেয়াটা একটু কঠিন;তবে,আল্লাহ্ যেখানেই রাখুন,নিশ্চয়ই ভালো রাখবেন আশা করি।

খোশগল্প.কম: নিজের স্পেসিফিক কোন সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা নেই?

সমুদ্র: আছে;বিসিএস দেয়ার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে,পছন্দের সেক্টর প্রশাসন এবং কাস্টমস।

খোশগল্প.কম: ছবি তোলার কথা বলছিলেন; সেটা কি শুধু শখ করেই?

সমুদ্র: হ্যাঁ,একদম শখ থেকেই ছবি তোলা।

খোশগল্প.কম: কোন সাবজেক্ট থাকে নির্দিষ্ট?

সমুদ্র: একদম শখ থেকেই ছবি তোলা।শুরুর দিকে ফোনের ক্যামেরায় শখ মিটালেও এখন একটা ক্যামেরাতে শখ মিটাই।ছবি তোলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় প্রকৃতি।তাছাড়া,পরিচিত এবং বন্ধুদের দরকারে তাদেরও ছবি তুলে দেই।

খোশগল্প.কম: ক্যামেরা নিয়ে কোন আউটিং?

সমুদ্র: আয়োজন করে সেভাবে আউটিং হয়নি।যেসব ছবি এই পর্যন্ত তুলেছি,সবগুলোই কোথাও না কোথাও এম্নি ঘুরতে গিয়ে ভালো লাগায় তুলে ফেলা।

খোশগল্প.কম: ছবিগুলো নিয়ে পরে কোন কাজ?

সমুদ্র: ইচ্ছা আছে। সময় এবং সুযোগ পেলে ছবিগুলো নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করার ইচ্ছা আছে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত