মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ,মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক করছেন। বিনোদন সাংবাদিক হিসাবে কর্মরত আছেন চ্যানেল আইতে। একাধারে রম্য,গল্প,ফিচার লিখেছেন দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় পত্রিকায়। লিখেছেন “নোবেল প্রাইজ“,“অসুখের নাম তুমি“ এবং “অত:পর  বুঝলাম তুমি কত পর“ নামের তিনটি গল্পের বই। কথা বলেছেন এগুলো সহ তার জীবন স্মৃতি নিয়ে।

“বই পড়াই আমাকে আমার জীবনে নানান কিছু বুঝতে,ভাবতে শিখিয়েছে”

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 10, 2017 , 3:07 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: আপনার ছোটবেলা সম্পর্কে বলেন।

আসাদুল্লাহ: আমার জম্মসাল ৭ই অক্টোবর, ১৯৯১। পাবনা জেলার সুজানগর থানার মানিকহাট ইউনিয়নে আমার জম্ম। মা বলতো জম্ম সুত্রেই আমি একজন ইবনে বতুতা, মানে হচ্ছে আমি নাকি যখন গর্ভে ছিলাম মা তখন দাদা বাড়ি থেকে নানা বাড়িতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথের বিরতিতে আমার এক খালার বাড়িতে গিয়েছিলেন। খালা আর মা কে নানা বাড়িতে আসতে দেয়নি ,নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। ওখানেই আমার জম্ম হয়। ছোট বেলা থেকেই আমি অনেক ডানপিটে ছিলাম। পড়া-লেখার চেয়ে খেলা-ধুলাতেই বেশি মন ছিলো। আমার নাম রাখা নিয়েও ছোট বেলায় নাকি একটা মজার ঘটনা ঘটেছিলো। আমার জম্ম হওয়ার পর নানু আমার নাম রাখে আসাদুজ্জামান মানে হলো ‘জগতের আলো’ তারপরেও সবাই আমার নাম রাখার জন্য আমার ছোট চাচাকে চিঠি পাঠাবে ঠিক করলো। আমার ছোট চাচা তখন দুরে থাকতো। সবাই আমার ছোট চাচাকে চিঠি পাঠালো, যে ”তোমার ভাইয়ের ছেলে হয়েছে, এখন তার নাম কি রাখা যায়। সুন্দর একটা নাম জানাবে” মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার ছোট চাচাও চিঠিতে আমার এই নামটা রেখেছে, কিন্তু ছোট চাচা জানত না যে অলরেডি নানু আমার এই নামটি রেখেছে। সব মিলিয়ে আমার ছোট বেলাটা দুরন্ত কেটেছে। সংসারে অভাব ছিলো কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিল না।

 

খোশ ঘল্প.কম: ছোট বেলার এমন কোন স্মৃতি আছে কি? যেটা আপনাকে এখনো মনে পড়ে?

আসাদুল্লাহ: শুনেছি আমি যখন পৃথিবীতে এসেছি তখন নাকি প্রচন্ড রৌদ্রজ্জ্বল ছিলো আবার ক্ষণিক বাদে আকাশে মেঘ করে বৃষ্টিও এসেছিলো। তো, এই ব্যাপরটি আমি আমার জীবনের সাথে কেন জানি  সব সময় মিলিয়ে নেই। কেন জানি, এই ব্যাপারটি আমাকে ভীষণ ভাবায়। আমি আমার জীবনে এই ভালো হাসি-খুশি, কিন্তু মাঝে মাঝেই হঠাৎ কিছু অশুভ বাতাসে এলোমেলো হয়ে যায় আমার সবকিছু। আর এই বিষয় গুলোই আমার জম্মের সময় সোনালী রোদ্রজ্জল আর হঠাৎ বৃষ্টি চলে গিয়ে আকাশে মেঘের কথা মনে করে দেয়।জানি এই ব্যাপারগুলো অনেকের জীবনেই হয়, কিন্তু কেনো জানি এই ব্যাপারটি আমাকে আমার জীবনের বিশেষ কিছু মূহুর্তগুলোতে ভাবাবেই।

 

খোশ গল্প.কম: কিভাবে শুরু হলো পড়া-লেখার হাতে খড়ি?

আসাদুল্লাহ: আমার ছোট চাচা ছিলো সেনাবাহিনীতে কর্মরত। একবার বাবা সহ উনার বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। ছোট চাচা সে সময়ে বাসয় একটা ইংরেজি বই রেখে যেত,যাতে করে আমার চাচাতো বোন বইটি পড়ে। তো,আমি যতোদিন ছিলাম  আমিও শুনে শনে এই বইটি পড়তাম। বিভিন্ন শব্দ মুখস্ত করতাম। একদিন মুখস্ত করে শুয়ে শুয়ে নিজে নিজে মুখস্ত পড়া বলছি। এমন সময় ছোট চাচা বাড়িতে আসলো। ছোট চাচা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, এগুলি আমি কিভাবে শিখেছি? আমি বলেছি বই থেকে আমি নিজে নিজে শিখেছি। তারপর ছোট চাচা আমাকে কোলে তুলে আদর দিলো। আর বাবাকে বললো আমাকে যেন স্কুলে ভর্তি করায় আমি নাকি অনেক ভালো করবো পড়া-লেখায়। তারপর গ্রামে এসে বাবা আমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। তখন রোজ উঠানের আম তলায় শীতল পাটি বিছিয়ে আমারা ভাই, বোন সহ সবাই পড়তে বসতাম। আমাদের জন্য একজন মাস্টার রাখা হয়েছিলো। এভাবেই আমার পড়া-লেখার হাতে খড়ি হয়। আমি তখন ক্লাস ওয়ানে ছিলাম আর আমার মেঝো ভাই ছিলো ক্লাস থ্রিতে। কিন্তু,তখন থেকেই আমার ভিতরে এক অন্যরকম প্রবণতা ছিলো সেটা হলো আমি আমার নিজের বই পড়া শেষ করে ভাইয়ার বই পড়ে ফেলতাম। এমনকি বাদ যেত না অংকগুলোও। এতে রোজই যখন স্যারের দেওয়া পড়া মেঝো ভাইয়া পারত না তখন আমাকে স্যার পড়তে বলতো। আর আমি পারলেই ভাইয়ার শাস্তি ছিলো আমি তার কান মলে দিতাম। তখন এই ব্যাপারটি কেনো জানি অন্যরকম ভালো লাগতো। ভাইয়ার কান মলার জন্য  আমার পড়া শেষ করে আরো বেশি বেশি ভাইয়ার বই পড়তাম।যদিও বিষয়টি এখন ভাবলে কেনো জানি লজ্জা লাগে। তারপর এভাবেই চলছিলো আমার পড়া-লেখা। তার উল্টোপিঠে দস্যিপনা কম ছিলোনা আমার। এক সময় বাবা ভাবলো গ্রামের চেয়ে শহরে আসলে আমাদের পড়া-লেখা ভালো হবে।তাই একটা সময়ে আমাকে আর ভাইয়াকে পাবনা শহরে একটা  প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে একটা বোর্ডিং এ উঠিয়ে দেয়। ওখানেই শুরু হয় আমার নতুন পড়া-লেখা।

 

খোশগল্প.কম: দস্যি ছেলেটি হঠাৎ মা-বাবা, গ্রাম, বন্ধু ছেড়ে দুরে চলে আসলো, খারাপ লাগেনি?

আসাদুল্লাহ: আসলে এই সময়ে কেনো জানি আমার খারাপ লাগেনি। আমার মা-বাবা, গ্রাম, বন্ধুর চেয়ে বেশি আনন্দ হয়েছিলো আমি এখন মুক্ত। এখানে বাবার শাসন নেই, মায়ের বকুনি নেই, সেটা আগের চেয়ে অনেক ভালো। সারাদিন বাহিরে ঘুরে বেড়াতাম। পড়তাম যদি একগুণ, হৈ-হুল্লোড়ে মেতে ছিলাম দশগুণ।এই সময়ে আমার একটা নেশা ‍ছিলো গান শোনার। ক্যাসেট সংগ্রহ করে গান শুনতাম, আবার গাইতামও। কন্ঠশিল্পীদের নকল করতে চেষ্টা করতাম। কেন জানি অন্যরকম ভালো লাগতো নিজের কাছে। কিন্তু, এত উচ্ছলতার মাঝেও একদিন বাবার কথা ভাবছিলাম শুয়ে শুয়ে। এমন সময় বাবা দরজার সামনে এসে আমাকে ডাক দিলো। আমি তাড়াতাড়ি উঠে আসলাম বাবার সামনে। বাবার দিকে তাকিয়ে, কেন জানি মনে হলো আমার আগে কিছু একটা শুন্য ছিলো এখন সব হাতের কাছে পেয়েছি। বাবার দিকে তাকিয়ে থেকে কাঁদতে লাগলাম। এই সময়ের অনুভুতিটা আমি আজও ভুলতে পারিনি।

 

খোশগল্প.কম: লেখা-লেখির বিষয়টি মাথায় আসলো কিভাবে?

আসাদুল্লাহ: ভাইয়ার কাছে ঢাকায় এসে, আমি এদিক-ওদিক শুধু ঘুরতাম। এমনি করে একদিন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটিতে গেলাম। সেখানে দেখলাম তারা সামনে ১৪ই ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে রম্য বিতর্ক আয়োজন করেছে। আমি তারিখ মনে রেখে ঠিক সেই দিন চলে গেলাম সেখানে। তারপর দেখলাম তাদের রম্য বিতর্ক এবং তারা সেদিন একটা দেয়ালিকাও উম্মোচন করেছিলো সেটাও দেখলাম মুগ্ধ হয়ে। আমার বিষয়টি অনেক ভালো লেগেছিলো। মনে মনে ভাবলাম আমি ঢাকায় ভর্তি হলে এমন একটা কাজ করবো। আমি নিজেই আয়োজন করবো এসবের। তারপর আইএইচটিতে যখন ভর্তি হলাম তখন আমি একটা পত্রিকা বের  করলাম। এতে আমাকে টিচার,ক্যাম্পাসের বড় ভাই,আমার সহপাঠিরা সবাই আমাকে দারুণ হেল্প করেছে। সবার হেল্প পেয়ে, উৎসাহ পেয়ে লেখা-লেখির এই চলার পথে আমার উৎসাহ আরো বেড়ে গেলো। কিন্তু,তার অপর পৃষ্ঠে কষ্ট যে ছিলোনা তা বলবো না। মনে আছে স্পষ্ট,একবার একজনের কাছে পঁচিশ টাকা ভাড়া দিয়ে গিয়েছিলাম ম্যাগাজিনের কিছু ফিন্যান্সিয়াল হেল্প পাবার জন্য। ভদ্রলোক আমাকে অনেক্ষণ বুঝালেন “এসব দিয়ে কি হবে,শুধু সময় নষ্ট করছো” আরো হাজারটা উপদেশ দিয়ে হাতের ভিতর বিশ টাকা দিলেন। এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে।

 

16603013_1349802428374437_1766581090700459174_n

 

খোশগল্প.কম: সেই সময় থেকে কীভাবে কাটিয়ে উঠলেন?

আসাদুল্লাহ: তারপরে এভাবেই চলছিলো দিনগুলো। পড়া-লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যাগাজিন,লেখা-লেখি,আর বিভিন্ন বই পড়ে পাড় করছিলাম সময়গুলো। এই সময়ে আমার বইয়ের প্রতি অন্যরকম টান সৃষ্টি হয়েছিলো। হাতের কাছে যেই বই পেতাম তা-ই পড়তাম। শুধু বই-ই না বিভিন্ন পত্রিকা,পত্রিকার ম্যাগাজিনগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তাম অনেক ভালো লাগতো। বলেতে পারেন আমার মনঃরাজ্যের একটি স্থান দখল করে নিল এই বই। আমি মনে করি এই বই পড়াই আমাকে আমার জীবনে নানান কিছু বুঝতে,ভাবতে শিখিয়েছে। আর সাধারণ থেকে যদি আমাকে আপনি একটু আলাদা বলেন তবে, আমি তা বলবো এই বই পড়ার জন্যই। তারপরে ক্যাম্পাসের শেষের দিকে ক্যাম্পাসে মারামারি লাগে। এতে আমরা হলে থাকতে পারিনি। তখন পড়েছিলাম বড্ড বিপদে বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারছিলাম না। বলতে পারেন আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময়ও ওটা। এ সময় আমাকে বাধ্য হয়ে একটা চাকরি নিতে হয়। সত্যি কথা বলতে কি, নিজের জন্য তখন আমি কয়েক মাস গার্মেন্টসে চাকরি করি। তারপর এক সময় পড়া-লেখা শেষ হয়। তখন পড়ি আরো বিপদে। কোথায় পাবো চাকরি? বড়িতেও ফ্যামিলির অবস্থা তেমন ভালো না। খুব খারাপ লাগছিলো নিজের কাছে। তবে,একেবারে ভেঙ্গে পড়িনি। মনে আছে তখন, ফার্মগেট থেকে শুরু করে নীলক্ষেত পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে তাদের কার্ড সংগ্রহ করতাম। প্রায় দুইশোটা সিভি তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছিলাম। এভাবে শত কষ্টের পর একটা চাকরি হলো। তারপর চাকরি,বইপড়া আর পত্রিকার ম্যাগাজিন পড়া এভাবেই সময় কাটছিলো। একদিন হঠাৎ দেখলাম ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিনের জন্য তারা লেখা চেয়েছে। আমি অফিসে গিয়ে লেখা দিয়েছি, কিন্তু সম্পাদকের পছন্দ হয়নি আমার সামনেই ছুড়ে মেরেছিলো, তারপর একগাদা উপদেশ দিয়ে দিল। তারপর কিছুদিন পর আমি আবারো গেলাম লেখা নিয়ে। এবার লেখা সম্পাদকের মনে ধরেছে। লেখা পরের সপ্তাহেই ছাপা হলো। তারপর আর থেমে থাকিনি। দু-হাত খুলে লিখা শুরু করলাম। ‘ঠাট্টা’তেই শুধু নয় ঐ সময়ের প্রায় সবগুলো ফান ম্যাগাজিনেই আস্তে আস্তে লেখা শুরু করলাম। এভাবেই লিখতে লিখতে আজকের আমি’র জম্ম হলো। লিখতে লিখতে কিভাবে যেন তিনটি বইও লিখে ফেললাম “নোবেল প্রাইজ“ যেটা রম্য গল্পের,“অসুখের নাম তুমি“ যেটা ছিলো গল্পের, আর এবার মেলায় আসছে“অত:পর বুঝলাম তুমি কতো পর!“ এটাও গল্পের বই।

 

খোশগল্প.কম: মেডিকেল সাইডে পড়ে আবার কেনো সাংবাদিকতায় পড়া-লেখা করছেন কিংবা সাংবাদিকতা করছেন?

আসাদুল্লাহ: আসলে সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমার স্কিলটা আসলে এখানে লুকায়িত। আমার রন্ধ্রে, রন্ধ্রে লেখা-লেখির বিষয়টি ঢুকে গেছে। তাই এই চেনা পথেই পা বাড়ালাম। আর সাংবাদিকতার কথা বলবো আসলে এই পেশাটায় জড়িত থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি কিংবা এখনো অনেক কিছু জানছি,জানতে চেষ্টা করছি। তাই-ই মুলত সাংবাদিকতায়। এই পেশাটাকে সত্যি উপভোগ করি।

 

খোশগল্প.কম: ধরুন,আপনার কোন পিছুটান নেই। আপনি একদম ফ্রি। আপনার নেই চাকরি নিয়ে মাথা ব্যাথা কিংবা ফ্যামিলির কোন প্রেসার। আপনি কোলাহল থেকে একেবারে মুক্ত। এক্ষেত্রে আপনি কি করবেন?

আসাদুল্লাহ: আসলে এটি তো সম্ভব নয়। তবে, যদি সত্যি এমন ফ্রি থাকতাম তবে একাটা ঘর বানাতাম । যেখানে পুরো ঘর জুড়েই বই থাকতো। সারা দিন-রাত মনের মতো করে বই পড়তাম। আর সাথে একজন লোক রাখতাম। লোকটা এমন থাকবে যে আমার কোন কাজেই বাঁধা দিবেনা, আমাকে আদেশ দিবেনা। কিন্তু, লোকটা রাখবো এ কারণে যাতে আমি বই পড়ে মাঝে মাঝে বইয়ের গল্পগুলো তার সাথে শেয়ার করতে পরি। সে শুধু মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনবে।

 

খোশগল্প.কম: ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার  পরিকল্পনা কি?

আনাদুল্লাহ: আসলে সব পরিকল্পনাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে সবারই বিশেষ পরিকল্পনা থাকে, আমারো আছে তেমনি। সামনের ‍দিকে যদি হয় একটা ভার্সিটিতে শিক্ষক হিসাবে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন আছে, আর তার পাশাপাশি দু-হাত খুলে লেখা। তবে লেখা-লেখিতেই থাকবো এটাই হাজারো স্বপ্নের মাঝে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হাজারো পরিকল্পনার মাঝে সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা।

 

খোশ গল্প.কম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

আসাদুল্লাহ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর সময় উপহার দেওয়ার জন্য।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত