রক্ত যোগাড়, পথশিশু এগুলোই মূল পরিচয়ের জায়গা করে দেয়, নাম রাদিব-আল-আমিন।কাজের ভেতরের কাজ হচ্ছে ‘অন্যরকম ইলেক্ট্রনিক্স এ ইন্টার্নশিপ করছেন, আর পড়ছেন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ সেমিস্টারে।নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে দাবি করলেও গোছানো চিন্তার পরিণত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন খোশগল্প কে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক উত্থান-পতন থাকে, তখন আর ফ্যাসিনেশন বা ক্রেইজ এই গুলো থাকে না

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 10, 2016 , 2:06 অপরাহ্ন

11745442_724973867610959_6624165958623900705_n

খোশগল্প.কম: কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

রাদিব: ব্যস্ত আছি অফিস নিয়ে এবং জীবনকে কিভাবে সাজাবো তা নিয়ে। Hon’s তো  প্রায় শেষ হওয়ার পথে। ডিসেম্বর এ শেষ হবে। তারপর কি করব…… MBA নাকি MA এটা নিয়ে চিন্তায় আছি। কিসে ভাল হবে। সবার সাথে কথা বলছি এই তো ।সেই সাথে personal কিছু ব্যাপার নিয়ে busy সময় যাচ্ছে।

খোশগল্প.কম: কাজগুলো করে কেমন মজা পাচ্ছেন ?

রাদিব: মজা পাচ্ছি কিন্তু আত্ম-তৃপ্তি বলে একটা কথা আছে, সেটা পাচ্ছি না আর কি। একটা কথা ছিলো এরকম “মনে নেওয়া আর মেনে নেওয়া।” আপনি একটা কাজ মন থেকে মেনে নেয়া আর জোর করে নেয়া দুই ব্যাপার। তাই বলে আমি মনে নেই নি এটা ঠিক না, satisfaction টা পাচ্ছি না। তবে হয়তো পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।অন্যদিকে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যে কাজটা করি, আমি এই কাজের জন্য না। বেশ কিছু দিন আগে অনেক মানসিক সমস্যায়ও পড়েছিলাম। তবে সেই ক্ষেত্রে অফিসের কিছু ভাইয়া ও সহকর্মীদের সাহায্যে তা কাঁটিয়ে উঠতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খোশগল্প.কম: মজার মধ্যে কাজ খোঁজেন নাকি উল্টো?

রাদিব: আমি উল্টো টাই লাইক করি। আম্মা বলেন তিনি ডানে যেতে বললে নাকি আমি বা-য়ে যাই, মানে হল তার কথা শুনি না। যাই হোক, চকলেট মুখে দেয়ার পর তার স্বাদ বুঝা যায়।ঠিক সেই রকমই কাজের মধ্যে না গেলে মজা আসবে কিভাবে বল।সত্যি বলতে কি যেকোন কাজ খুব আগ্রহ নিয়ে করার চেষ্টা করি।আমার কথা হল কাজের জন্য উৎসাহী, সাথে চাই উৎসাহ।

খোশগল্প.কম: তাহলে কি কাজ কখনো আনন্দ দেয় না বা কাজ আর আনন্দ সাংঘর্ষিক?

রাদিব: এত কঠিন প্রশ্ন , আমি সাধারন মানুষ, সাধারন প্রশ্ন নাই।যাই হোক এটার অনেক রকম উত্তর হতে পারে।আগেই বলেছি “মনে নেওয়া আর মেনে নেওয়া”।কাজের জন্য বন্ধুদের মিস করি, আড্ডা মিস করি, পিছনের কাটানো সময় গুলো মিস করি, ভার্সিটিকে মিস করি, ক্লাস মিস করি ।তাই বলে কাজের কোন সমস্যা হয় না।কাজেরও একটা মজা আছে।বড় কথা হল আমি যেখানে আছি সেখানে কাজের অনেক সুবিধা আছে। এই পরিবেশটা অন্যদের থেকে আলাদা। আমরা একটা পরিবার।তাই সাংঘর্ষিক আমি বলব না, অন্যকিছু কিছু  হতে পারে।

খোশগল্প.কম: বই পড়েন?

রাদিব: ভাল প্রশ্ন, অনেক বই পড়ার চেষ্টা করি।মজার ব্যাপার হল আমি কিছু পড়লে তা মনে রাখতে পারি না।মাথা এত ভাল হয় নি।  একবড় ভাই আমাকে দেখে বলেছিলেন আমার মাথায় কিছু নাই,গোবর ছাড়া।আমিও সবাইকে তা বলি আমার মাথায় কিছু নাই।যাই হোক, অনেক বই পড়ি নি, তবে এক বই একাধিকবার পড়েছি কিন্তু মনে নাই।ঘটনা ভুলে যাই।এই মুহূর্তে আসলে মনে আসছে না। সরি। তবে কেউ কোন বইয়ের কথা বললে আমি কেনার চেষ্টা করি। আমি অনেক বই কিনে থাকি এবং নতুন বই কেনার পক্ষে আমি। নতুন বইয়ের একটা ঘ্রাণ আছে ,I like it.

খোশগল্প.কম:  স্বপ্ন নিয়ে বলেন

রাদিব: এখন কর্পোরেট চিন্তা, এটাকে  স্বপ্ন না বলে আমার মনে হয় আমার জীবনের জন্য দরকারি মনে হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক উত্থান-পতন থাকে।সেটা ফেস না করলে বুঝা যায় না। তখন আর ফ্যাসিনেশন বা ক্রেইজ এই গুলো থাকে না। বড় হওয়ার সাথে সাথে ফ্যাসিনেশন বা ক্রেজিনেস পাল্টাতে শুরু করে। অনেক পরিবর্তন আসবে, আসবে সমস্যা, আসবে সুযোগ।

খোশগল্প.কম: শৈশবে কি হবার কথা ভাবতেন বা তীব্র ইচ্ছা ছিলো ?

রাদিব: আর্মিতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল ছোট বেলায়… কলেজে BNCC করেছিলাম ডিফেন্সে যাওয়ার জন্য, ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছাও ছিল একটু। ছোট বেলায় কত যে আয়নার সামনে গিয়ে স্যালুট দিতাম। তারপর শিক্ষক হতে চাইলাম, এটাও বাদ।এখন বললাম কর্পোরেট চিন্তা।

খোশগল্প.কম: সামনের পাঁচ বছরের জন্য পরিকল্পনা কি ?

রাদিব: অনেক পরিকল্পনা আছে। নিজেকে ভাল একটা পর্যায়ে দেখা। বোনকে ভাল একটা পজিশন এ দেখা ভাল থাকে যাতে সেই জন্য কিছু করা।বাবা –মা কে একটু সুখ দেয়া। এই পর্যন্ত specially আমার মা যা করেছেন , আমি দেখেছি।আমাদের ২ ভাই-বোন কে মানুষ করা থেকে A to Z মা। বাবাও আছেন, তবে মায়ের সাথে আমার বা আমাদের সম্পর্ক অনেক ভাল। এই সব বললে কথা শেষ হবে না। অনেকেই আমার মা-র কথা জানেন। তবে লাস্ট অফিসের একবড় ভাইয়া আমার অন্যতম পছন্দের মানুষ।আমার প্রথম কাজ ভাইয়ার সাথে।একজন টিম লিডার কেমন হওয়া উচিৎ ভাইয়াকে দেখে জেনেছি।নিজের হাতে কাজ করতে দেখেছি আমাদের সাথে।যাই হোক, ভাইয়া কোন একটা কারণে আমাকে বলেছিলেন “মা-কে খুশি করো”

খোশগল্প.কম: আপনার ছোট বোন এর প্রসঙ্গে বলেন

রাদিব: ওর ইচ্ছা দেশের বাইরে যেতে চায়, দেখি কি হয়। আম্মা চায় আমরা দেশেই থাকি। তবে স্কলারশিপ পেলে অন্য পেলে অন্য কথা।মাঝে মাঝে আমি ও আমার বোন ভাবি আগে আমরা একজন যাব তারপর আব্বা –আম্মাকে নিব।আল্লাহ জানেন সামনের দিনে কি হয়।

খোশগল্প.কম: এটা কি পরিকল্পনা থেকে?

রাদিব: আমার কাছে পরিকল্পনা বলতে কিছু নাই। এই পর্যন্ত প্ল্যান করে কোন কাজ করছি বলে মনে হয় না। প্ল্যান করি একটা হয় আরেকটা।তারপরেও প্ল্যান করে কাজ করার চেষ্টা করি।

খোশগল্প.কম: ডিটেইলে বলেন কোন কিছু নিয়ে তীব্র আফসোস কাজ করে?

রাদিব: অনেক আফসোস কাজ করে। দ্বিতীয়বার আমি জাহাঙ্গীরনগর চান্স পাই। পরিবারের অমত থাকায় আমি ভর্তি হতে পারি নাই। আর্মি নিয়ে তো আছেই। মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ে…… মোটা মানুষ যেহেতু।যাই হোক কিছু ভাল কাজ করার ইচ্ছা আছে। কিছু কিছু কাজ করিও।

খোশগল্প.কমআপনি রক্ত দেয়া, পথশিশু ইত্যাদিতে অনেক সময় দেন, এই কাজগুলা কি চিন্তা থেকে শুরু করেছিলেন?

রাদিব: সত্যি বলতে কি আমার প্রথম কাজ করা অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের হাত ধরে।যা মজার ইশকুল নামে অনেক পরিচিত।আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে , কথাটা আমার খুব পছন্দের।সত্যিই তো কথাটা। সেই থেকে পথশিশুদের সাথে কাজ করা।আস্তে আস্তে এই চলা শুরু। বেশ কিছু দিন যাবত রক্ত নিয়ে কাজ করতেছি।একটা মানুষ টাকার জন্য মারা যেতে পাড়ে, আমার টাকা নাই আমি গরীব আমি মারা যাব।কিন্তু রক্তের জন্য কেন মানুষ মারা যাবে। এটা তো আছে, আমরা একটু চেষ্টা করলেই এটা পেতে পারি। আমি পারবো, আমি দিব- ২টি শব্দ যে কত শক্তিশালী। আমাদের ইচ্ছা থাকলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। আমি কাজ করতে করতে অনেকের সাথে পরিচিত হয়েছি। কিন্তু আমার মনের একটা জায়গাতে মজার ইশকুল আছে এবং থাকবে। কারন এদের দ্বারাই আমি সবাইকে চিনি আমি যে কিছু কাজ করতে পারি, আমার যে করা উচিৎ কিছু সমাজের জন্য এটা বুঝতে পেরেছি।

খোশগল্প.কম: জীবনের ভালো লাগার দিক গুলো কী?

রাদিব: জীবনে ফেলের স্বাদ পেয়েছি। অংকে করেছি। অনেক ভয় পাই এই বিষয়কে। তারপরও স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে স্যারদের অনেক ভালবাসা পেয়েছি।তাদের সাথে এখনও যোগাযোগ আছে আমার।অনেক ঘটনা আছে তাদের নিয়ে। লাস্ট আমার জন্মদিনের একটা কথা শেয়ার করিঃ “আমার ভার্সিটির স্যার আমাকে শুভেচ্ছা জানালেন।আমি বললাম স্যার দুয়া করিয়েন আমার জন্য। স্যার আমাকে একটা কথা বললেনঃ দেখ আমি তোমাদের একটি সেমিস্টার না একটি সেমিস্টারের একদিন ক্লাস নিয়েছি। ওই একদিনে তুমি যে আমার মনে আছো আমি তোমাকে ভুলবো না কখনো।” এই রকম অনেক ভালবাসা পেয়েছি আমি স্যার-ম্যাড্যামদের।

খোশগল্প.কম: একজন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে কি বলবেন?

রাদিব: আমার সাথের মানুষ গুলো অনেক ভাল।বন্ধু, ভাই, বোন ,ছোট-বড় সবাই ভাল।আমি নিজে এই ভাল মানুষ গুলোর সাথে থেকে ভাল হতে চাই। আলোকিত করতে চাই নিজেকে। ভাল থাকতে চাই। সৎ ভাবে থাকতে চাই। ধন্যবাদ।

বাংলা গান অনেক লাইক করি।অনেক গান শুনি কিন্তু মনে থাকে না।আমার দেশের অনেক ভাল ভাল গান আছে। পুরানো দিনের গান ও আধুনিক গান শুনি।

ছোট বেলায় অনেক দুষ্ট ছিলাম।অনেক ঘটনা আছে। এখন সবাই জিজ্ঞাস করে আমি কি আগের মত আছি কি না।আমার কাছের মানুষ সবাই। যারা আমার বড় সমালোচক তাদের আমি মনের থেকে লাইক করি। অন্য দিকে বড় বড় লেখকদের আমার ভাল লাগে।হুমায়ন আহমেদ স্যার আমার অনেক অনেক পছন্দের মানুষ ছিলেন ও এখনও আছেন।আমার স্যাররা, বন্ধুরা সহ সবাই আমার পছন্দের।

খোশগল্প.কম: অদ্ভুত কোন চাওয়া আছে?

রাদিব: সমালোচক হওয়ার ইচ্ছা আছে। গঠনমূলক সমালোচনা।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত