আজ কথা হবে যার সাথে তার নাম হীরা চাকমা,চাকমা সম্প্রদায়ের।তার বাড়ি খাগড়াছড়ি।সে ঢাকা ইউনিভারসিটিতে ২য় বর্ষের international business dept. এর ছাত্রী নিজেকে নিয়ে নিজের গোষ্ঠী নিয়েই যার সামনে কাজ করার ইচ্ছা……..

মাঝে মাঝে বাঙ্গালী খাবার খেতে খেতে মনে হয় কতদিন আমাদের ট্র্যাডিশনাল খাবার গুলো খাইনা

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 5:40 অপরাহ্ন

12065637_158275611190268_5097676372229743870_n

খোশগল্প.কম: আপু আপনার নাম?

হীরাঃআমার নাম হীরা চাকমা।

 

খোশগল্প.কম: হীরা চাকমা!তার মানে তো আপনারা উপজাতিদের মাঝে পরেন!
হীরা: জী।

 

খোশগল্প.কম: আপনার বাবার নাম?
হীরা:বাবার নাম রিটন চাকমা।

 

খোশগল্প.কম: মায়ের নাম?
হীরাঃমায়ের নাম সুচিত্রা খীসা।

 

খোশগল্প.কম: ‘খীসা’ এটাও কী টাইটেল?
হীরা: হ্যা আমাদের চাকমাদের মাঝে কিছু ভাগ আছে,ব্রিটিশ আমলে যে অনেক দেওয়ানী দেয়া হয়েছে তারপর তালুকদার উপাধি দেয়া হয়েছে সেরকমি আমদেরও এমন কিছু টাইটেল চলে আসছে। খোশগল্প.কম: আচ্ছা এই উপাধিটাই তাহলে খীসা যেটা আপনার মায়ের নামের সাথে আছেতো কয় ভাইবোন আপনারা?
হীরা: আমি একা।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আমরা যেমন দেখি গারো রা মাতৃপ্রধান আপনাদের এই ব্যাপারগুলো কেমন?
হীরা: আমরা হচ্ছি পিতৃ-প্রধান।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আচ্ছাতো সকালে খাইছেন?
হীরা: জী খাইছি।

 

খোশগল্প.কম: কই খাইলেন?
হীরা: আমার স্টুডেন্ট এর বাসায়?

 

খোশগল্প.কম: টিউশনি করান?কোথায় কোথায়?
হীরা: একটা সেন্ট্রাল রোডে আরেকটা মোহাম্মদপুরে।

 

খোশগল্প.কম: দুইটা!!কষ্ট হয়ে যায়তো তাহলে?
হীরা: একটুতো হয় তবে বেশি মজাই লাগে।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আপনি পড়াশুনা করছেন কোথায়?
হীরা: আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ছি।

 

খোশগল্প.কম: কোন ডিপার্টমেন্ট?
হীরা: বিবিএ তে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস।

 

খোশগল্প.কম:স্কুল কলেজ কোথায় ছিলো?
হীরা:আমার বাড়িতো খাগড়াছড়ি তো আমি ওখানে খাগড়াছড়ি সরকারী হাই স্কুলে পড়ছিলাম তো আমি ওখান থেকে পরে কলেজে ঢাকা চলে আসি এবং ঢাকা সিটি কলেজে পড়ি।

 

খোশগল্প.কম: কলেজে এখানে এসে থাকছিলেন কোথায়?
হীরা: হোস্টেলে।

 

খোশগল্প.কম: হোস্টেলে থাকতে কষ্ট হয়নি?
হীরা: একটু কষ্টতো হইছিল,খারাপ কয়েক মাস লাগছিল পরে ঠিক হয়ে গেছে।

 

খোশগল্প.কম: আমি যতদূর জানি আপনারা যারা উপজাতি তাদের আলাদা হোস্টেল আছে আপনি কী এমন কোথাও ছিলেন?
হীরা: না ওমন না।এমন ট্রাইভাল হোস্টেল নামের হোস্টেল আছে তবে ওখানে শুধু ছেলেরাই থাকে।আমি ওই এমনি জেনেরাল হোস্টেল গুলোতেই ছিলাম।

 

খোশগল্প.কম: আর যেহেতু জেনারেল হোস্টেল তো সেখানে তো ম্যাচ করতে আরো একটু সমস্যা হওয়ার কথা যেহেতু একদমই আলাদা পরিবেশ থেকে আসা
হীরা: হ্যা।বিশেষ করে খাবার।আমাদের তো খাবার একটু আলাদা।

 

খোশগল্প.কমঃআলাদা বলতে?

হীরা: আলাদা বলতে আপনারা বাঙ্গালীরা সব খাবারেই মশলা বেশি খান কিন্তু আমরা তেল মসলা কম খাই বেশিরভাগ আমরা সিদ্ধ করা খাই যেমন বাধাকপি টপি এসব আমরা তো সিদ্ধ করে খাই এই আর কি।

 

খোশগল্প.কম: কখনো কী বাঙ্গালী খাবার খাওয়া হইছে?কেমন লাগে খাইতে?
হীরা: আমি আসলে দুই ধরনের খাবারই পছন্দ করি।

 

খোশগল্প.কম: খাবার খেয়ে মনে হয়না যে এই খাবার গুলোর মত যদি আমাদের খাবার হতো বা আমাদেরগুলোর মত যদি এগুলা হত এমন কিছু কি মনে হয়?
হীরা: মাঝে মাঝে বাঙ্গালী খাবার খেতে খেতে মনে হয় কতদিন আমাদের ট্র্যাডিশনাল খাবার গুলো খাইনা।

 

খোশগল্প.কম: তো এই ব্যাপারগুলো মিস করা হয় বলা যায়তো আপনি এখন কোথায় থাকেন?
হীরা: আমি এখন হলে থাকি,শামসুন নাহার হলে।

 

খোশগল্প.কম: হলে এমন কোন সমস্যা হয় কী?
হীরা: প্রথমে ঐ যে এডযাস্ট করতে সমস্যা হইছে কিন্তু এখন আমি চিন্তা করি আমি তো বাংলাদেশের সেরা একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আমি কেন মন খারাপ করব!

 

খোশগল্প.কম: হ্যা অবশ্যই তো খাওয়া দাওয়া নিয়ে যেহেতু কথা হচ্ছিল তো আপনাদের উপজাতীয় ফেমাস খাবার কোনটা?
হীরা: ফেমাস খাবার!!!!!!!!!

 

খোশগল্প.কম: না মানে আমাদের যেমন বলেনা আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী বা আমাদের ভাত মাছ ছাড়া চলে না তো আপনাদের এমন কিছু?
হীরা: আপনাদের মতই ভাত ছাড়া আমদেরো চলেই না আর সাথে শুটকী বেশি খাই আমরা আর শুটকীর মধ্যে অনেকগুলো মাছ মিক্স করে শুটকী করা হয় যেটাকে নাপ্পী বলে,এটার অনেক গন্ধ হয় মানে স্মেল্টা অনেক কড়া আরকি।

 

খোশগল্প.কম: এই আইটেমটার প্রিপারেশন করে কীভাবে?
হীরা: এটা আসলে অনেকগুলো মাছ একসাথে শুটকী করে গুঁড়া করা হয়……

 

খোশগল্প.কম: গুড়া করে?
হীরা: আসলে তার পরের প্রসেসটা আমি জানিনা।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা ঠিকাছে যা বুঝা গেলো মা রান্না করে মায়ের রান্নাই খাওয়া হয়
হীরা: হ্যা মা ই করে আমি এতো বেশি রান্না পারিনা।

 

খোশগল্প.কম: এতো পারতে হয়না আপনি তো তার উপর আবার এক মেয়ে তাহলে তো আরো কথাই নেইযাই হোক আপনাদের ট্রেডিশনাল ড্রেসের নাম?
হীরা: আমাদের ট্রেডিশনাল ড্রেসের হল নিচে যেটা পড়ি ওটাকে বলে পিনন আর উপরে পড়ি খাদি।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা এটা কী আপনারা নিজেরা বোনেন?
হীরা: নিজেরা বুনি বলতে এটা আসলে কোমড় তাতেই বোনা হয় তবে আমাদের ফ্যামিলিতে কেউ করেনা কেনা হয় বেশিরভাগই।আগের যুগে হয়তো নিজেরা নিজেদের ফ্যামিলির চাহিদা মত এগুলো বুনতো।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আচ্ছা
হীরা: কিন্তু এখন দেখা গেছে মডার্ন হয়ে গেছে সবাই আগের মতো আর পারেনা।

 

খোশগল্প.কম: পরা হয় এগুলো?আপনার আছে?
হীরা: হ্যা আমার আছে।

 

খোশগল্প.কম: তো এখানে নিশ্চয়ই এসে বাঙ্গালী ড্রেস পরা হয় তো ঐ আপনাদের নিজেদের ওই ড্রেসের ব্যাপারটা মিস করা হয়না?
হীরা: আমি ছোট থেকে বাঙ্গালীদের ড্রেসগুলোই পরে আসছি কারন আমদের ড্রেসগুলো অনেক ভারী হয় যার কারনে সবসময় পড়া সম্ভব হয়না।

 

খোশগল্প.কম: এটাতো অনেক ভালো তাহলে আমাদের কালচারে মেশার জন্য!
হীরা: হ্যা ম্যাচ হয়ে গেছে আসলে আমদের কালচার আর বাঙ্গালীদের কালচার।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের আচার অনুষ্ঠান গুলো কেমন?
হীরা: আমাদের আসল যে ট্রেডিশনাল অনুষ্ঠান সেটার নাম হল বিঝু তো আমরা বিজু বলি আর মারমা রা বলে সাংরাই।

 

খোশগল্প.কমঃওটাতো একই অনুষ্ঠান তাইনা?
হীরাঃহ্যা একই অনুষ্ঠান খালি নাম ভিন্ন আর ত্রিপুরা রা বৈষু বলে।তো এই তিনটা মিলিয়ে আমরা বলি বৈসাবী উতসব।

 

খোশগল্প.কম: তো কি করেন আপনারা এখানে?
হীরা: আমরা বেসিকালী বছরের শেষ দিনটা পালন করি,বছরের শেষের দিনের আগের দিনকে আমাদের ফুল বিজু বলে এদিন আমরা নদীতে ফুল ভাসাই বাড়িঘর ফুল দিয়ে সাজাই।এই আর কি তো সেদিন জাস্ট প্রস্তুতি চলে আরকি।তারপর বিজুর দিন যেটা হয় আমরা সকালে উঠে গোসল করে বড়দের আশীর্বাদ নেই আর বড়দেরো আমরা গোসল করাই।

 

খোশগল্প.কম: মানে নিজেরা?
হীরা: নিজেরা গোসল করাই আশীর্বাদ নেই তারপর থেকে আসলে পুরো ব্যাপারটা শুরু হয়……

 

খোশগল্প.কম: আমাদের ঈদে সালামীর একটা ব্যাপার আছে এটা কী জানেন?আপনাদের এমন কোন রীতি কি আছে?
হীরা: না আমাদের এমন কিছু নেই।তবে আপনাদের মত অনেকের বাড়িতে যাওয়া হয় আর আমাদের একটা স্পেশাল খাবার রান্না করা হয় তার নাম পাজন এটায় আসলে অনেক ধরনের সবজী মিক্স করে শুটকী দিয়ে রান্না করা হয়।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের কী বাশের ভিতরে করে কিছু রান্না করা হয়?আমি শুনছিলাম আর কী!
হীরা: আসলে আগে তো প্রযুক্তি এতো উন্নত ছিলনা তো তখনি মুলত এই বাশের ভেতরে করে খাবার আগুনের ওপর দিয়ে দেয়া হত যেনো না পুড়ে যায় এ কারনে আসলে তো এখন এটা অনেকটা ট্রেডিশনাল রান্নার মতই হয়ে গেছে।

 

খোশগল্প.কম: ও ব্যাপার আসলে খাবার যেনো না পুড়ে তাই!!!!আচ্ছা এতোখন তো আপনাদের সাংস্কৃতিক অনুস্ঠানের কথা শুনলাম এরকম আপনাদের ধর্ম সংক্রান্ত কোন আচার ব্যবহার কী আছে?
হীরা: আমরা আসলে বৌদ্ধ ধর্মের তো আমাদের বৌদ্ধপুরনিমা একটা অনুষ্ঠান আর একটা আছে কঠিন চিবর দান নামে ওদিন আসলে আমাদের ভিক্ষুকরা যে কাপড়্গুলো পরে আমরা সেগুলো দান করি এই মোটামুটি আমাদের ধর্মীয় আচার ব্যবহার…

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা আপনাদের বিয়ে গুলো কিরকম হয়?
হীরা: আমাদের বিয়ে একটু আপনাদের উলটা……

 

খোশগল্প.কম: কেমন??
হীরা: আমাদের বিয়েতে ছেলে তার বাবা এবং মা বাদে আর যারা বরপক্ষ আছে তারা যেয়ে বউ কে নিয়ে আসে মেয়ের যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র দিয়ে ওদিন মেয়ের বাসায় একটা অনুষ্ঠান হয় এরপর যেদিন ছেলের বাসায় বৌকে নিয়ে আসা হয় ওদিন অনুষ্ঠান হয় ছেলের বাসায়…

 

খোশগল্প.কম:ব্যাপারটা কী ওনেক্টা জামাই বৌকে ওয়েল্কাম জানায় এরকম???
হীরা: না জামাই থাকে,আসলে আমাদের বিয়েতে জামাইকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়না।

 

খোশগল্প.কম:আচ্ছা তো যখন প্রথম ঢাকায় আসলেন তখন কী নিজেকে একটু অন্যের থেকে আলাদা এই ফীলটা আসছে?
হীরা:না সেরকম না আসলে ভাবতাম আমি তো পড়াশুনা করতে আসছি,তারপর নিজের জন্য দেশের জন্য কালচারের জন্য কিছু করব।

 

খোশগল্প.কম: পরবর্তীতে কি করার ইচ্ছে আছে?বা যদি বলি নিজেদের কালচারের জন্য???
হীরা: আসলে প্রথমে তো জব সেক্টরেই যাওয়ার ইচ্ছে আছে আর আমাদের সবার মধ্যে চাকমাদের শিক্ষারহার বেশি তো ,দেখা যায় অনেকেই বাহিরে চলে যায় যেমন অস্ট্রেলিয়া। তো দেখা যায় যেয়ে আর ফিরে আসেনা তো আমিও যেতে চাই পড়াশুনার খাতিরে তবে আমি আবার দেশে ফিরে আসব…

 

খোশগল্প.কম:এটা একটা ভালো ডিসিশান কারন সবাই যদি চলে যায় দেশে থাকবে কে দেশের কাজ করবে কে আচ্ছা বাবা-মার কথা শুনে কী মনে হয় অনেক মিস করে আপনাকে একটাই তো মেয়ে আপনি!
হীরা: আসলে যা মনে হয় তাদের সাক্রিফাইস একটা ব্যাপারেই সেটা হল “মেয়েটা যেনো ভালো থাকে বা ভালো করে পড়ে।“

 

খোশগল্প.কম: আর যেহেতু ঢাকা ভার্সিটি সো এটাতো অনেক প্রাউডের ব্যাপার বাবামার জন্য আমি মনে করি…
হীরা: হ্যা আগে যখন খাগরাছড়ীতে থাকতাম তখন দেখা যেতো কেউ আমাকে চেনেনা এখন আমাকে এমন অনেকেই চেনে আমি হয়তো যাদের চিনিনা।

 

খোশগল্প.কম: আপনি ছাড়া বাসার আর কেউ যেমন কাজিন রা কী ঢাবিতে আছে?
হীরা:আমার আসলে এতো কাজিন নাই একজন আছে বাইরে পড়ার মতো সে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে পরে।

 

খোশগল্প.কম:আপনার আত্মীয়রা কেউ এখানে আছে?
হীরা:আমার এক ফুফাতো বোন আছে মিরপুরে সাব্লেটে থেকে পড়াশুনা করে।

 

খোশগল্প.কম:আপনি এতো ফ্লুয়েন্টলী বাংলা বলতেছেন যদিও আপনাদের মেইন ভাষা বাংলা না সেখানে ফ্যামিলি কর্পোরেশন অনেক বড় তো আপনার কী মনে হয়?
হীরা:আসলে আমাদের ছোট থেকেই বাংলার চর্চাটা করানো হয় কারন বাংলাতেই আমাদেরতো পড়াশুনা আর বাসায় দেখা যায় আমরা শুধু চাকমা ভাষায় কথা বলি আর বাকি সময় তো বাংলাতেই,তাই অভ্যাস টা হয়ে গেছে।

 

খোশগল্প.কম: চাকমা ভাষায় কিছু শুনি???যদিও বুঝবোনা পরে নাহয় আবার আপনার কাছে বাংলাটাও শুনে নিব
হীরা: যারা চট্টগ্রামের তারা আসলে আমাদের ভাষা গুলো বুঝে কারন ওদের সেই টোনটাও থাকে আর ভাষা তো মিক্স হয়ে গেছে এখন অনেক বাংলা ভাষা চলে আসে আমাদের কথায়।আচ্ছা তো শুনতে চাইলেন যখন-তুই গোমা গজ!!!!!!!বলেন তো এটার মানে কী?

 

খোশগল্প.কম:তুমি কেমন আছ???????
হীরা: আমি জানতাম আপনি আন্দাজ করতে পারবেন।

 

খোশগল্প.কম: হইছে???এটা কিন্তু পুরোটা আন্দাজ ছিল!!!!!তো যাই হোক আমি পাশআপনাদের গান নাচের ব্যাপার গুলো কেমন?এটার কোন আলাদা নাম আছে?
হীরা: সেভাবে নাই তবে একটা আছে জুম নৃত্য……

 

খোশগল্প.কম: জুমের ব্যাপারে কিছু যদি বলেন!!!আর জুম নাচটা কখন করা হয়?
হীরা: জুমের যে ব্যাপার হল আমরা জঙ্গল সাফ করে পাহাড়ের গায়ে নানা রকম ফলফলাদি লাগাই এবং সেগুলো তুলে নেয়ার পর অই জায়গা গুলোয় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় আর এই ফসল হওয়ার পরের চার পাচ বছর ঐ জায়াগায় আর কিছু চাষ করা যায়না।এছাড়া জুম নাচের কোন সময় নাই।

 

খোশগল্প.কম: আর গানের ব্যাপারগুলো??
হীরাঃএখন তো টেকনলজী অনেক উন্নত তো গানেও দেখা যায় ঐ প্রভাব টা পড়ে।

 

খোশগল্প.কম: টেকনোলজীর ব্যাপারে আসি আমাদের বাংলা বা হিন্দী বা ইংলীশ গান গুলো দেখা যায় ফোনের প্লেলিষ্ট ছাড়লেই বা টিভি খললেই তখন কী নিজেদের গান গুলোকে ঐ জায়গায় মিস করা হয়?
হীরা: আমাদের বেতার কেন্দ্র আছে খাগড়াছড়িতে এছাড়াও আপনি যদি বিটিভি দেখে থাকেন তাহলে হয়তো বুঝবেন যে মাঝে মাঝে আগে সন্ধ্যায় হুট করে চ্যানেল চেঞ্জ হয়ে খাগড়াছড়ির একটা চ্যানেল চলে আসত।এখন ও আসে কিনা জানিনা আর গানের ব্যাপারে আমাদের একটা ট্রেডিশনাল গান আছে তার নাম গেংগুলী।আমি ঠিক গানটা গাইতে পারবনা।

 

খোশগল্প.কম:একটু শুনি গানটা……
হীরা: আমি আসলে সেভাবে জানিনা আর যা বললাম এটা এখন কেউ গায় না আসলে আমাদের কাল্চার ও এখন ক্রস্কালচারাল হয়ে গেছে হিন্দী,ইংলীশ এর প্রভাব থেকে আমরা বেরুতে পারছিনা।এছাড়াও আমি বলব আমাদের কোমড় তাত টাও ভালো মত শেখা উচিত…

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের বাড়ীতে আছে বা আপনি পারেন??
হীরা: হ্যা আমার দাদীর আছে সে এখন যদিও করতে পারেনা বাট একটা সময় ছিল দাদী করতো আর আমিও পারিনা এখন আমাদের সবার ই একটাই প্রশ্ন-সময় কোথায়??কিনলেই তো পারি!!

 

খোশগল্প.কম:আপনাদের এই ড্রেস গুলো কী ঢাকায় পাওয়া যায় আর দাম কেমন পড়ে এগুলোর??
হীরা: আমাদে্র গরজিয়াস সিম্পল গুলো মিনিমাম পড়বে ২০০০ টাকা থেকে আর নরমাল সিন্থেটিক সুতার ওগুলোর একেক্টা পিননের দাম হয়তো ৩০০-৪০০ টাকা হবে।

 

খোশগল্প.কম: গান নিয়ে কথা হচ্ছিল তো এমন কোন চাকমা শিল্পীর নাম জানা আছে??
হীরা: একজন আছে উনি এখন সম্ভবত দেশের বাইরে থাকে তার নাম জেসী চাকমা…

 

খোশগল্প.কম:আপনার কাছে চাকমা গানের দুই লাইন যদি শুনতে চাই??????

হীরা:’নাকসা ফুলোর তুম বাজোলগে আজি যেবার মনে হয়,পদ্দাবতীর নানান রঙ্গে মিশি যেবার মনে হয়’……

 

খোশগল্প.কম: আপনি তো অনেক ভালো গানগান কী শিখতেন?
হীরা: জী আমি গান শিখতাম।

 

খোশগল্প.কম: নাচ??আর আপনাদের এই ব্যাপারগুলোয় আগ্রহ সম্ভবত বেশিই তাইনা???

হীরা: না নাচ শেখা হয়নি তবে সামনে শেখার ইচ্ছে আছে ক্লাসিক্যাল আর আমাদের ছোট থেকেই ফ্যাকিলি থেকে এগুলো শেখার জন্য বলা হতো……

 

খোশগল্প.কম: আপনি যে গানটি গাইলেন এটার বাংলা কী আসলে???
হীরা: প্রথম লাইনে হলো আমাদের একটা ফুল আছে ঐটার কথা বলা হইছে যে ওটার গন্ধে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হয় আর সেকেন্ড লাইনে হল প্রজাপতির সুন্দর রঙ্গে মিশে যেতে মন চায়…

 

খোশগল্প.কম: এজন্যই সম্ভবত বলছিলেন যে আপনাদের ভাষাগুলো আমরা বুঝবো কারন যা দেখলাম কিছু কিছু শব্দ আমরাও ব্যাবহার করিআচ্ছা তো আজকের সারাদিনের প্লান কী?
হীরা: প্লান বলতে পড়াশুনা।পরীক্ষা আছে তো।

 

খোশগল্প.কম: পড়াশুনা করতে ভালো লাগে?????
হীরা: আমার তো মনে হয় এই একটা ব্যাপার কারোরি ভালো লাগেনা কারন আমাদের পড়াশুনা গুলো বোরিং শেখার কীছু নাই এছাড়া দেখেন আমি যে সাব্জেক্টে পড়তে চেয়েছিলাম আমি সেখানে পড়তে পারিনি।

 

খোশগল্প.কম: কীসে পড়ার ইচ্ছে ছিল??কেনো??
হীরা: আমার আসলে ছোটবেলায় আর্মফোর্সে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কারন ছোটবেলায় দেখা যেতো ডিটেক্টিভ টাইপের গল্পের বইগুলো বেশি পড়তাম এজন্যই হয়তো,আর বাবা-মারো অনেক ইচ্ছে ছিলো।আমি ট্রাই করতাম ইন্টারের পর কিন্তু আমার পা হটাত ফ্রাকচার হয়ে যাওয়ার কারনে আর করাই হলো না, নাচের প্রতিও আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল সেটাতেও বেশিদুর আগানো হয়নি।

 

খোশগল্প.কম: আপনি চাইলে এখনো কিন্তু করতে পারেন নাচের ব্যাপারে আগাতে,কারন ঢাবিতে তো এরকম অনেক কোর্স চালু আছে
হীরা: দেখি সামনের জুন জুলাই মাস তো খালিই বসে থাকা তখন হয়ত কিছু করব।তারপর আমার ট্যুরিজম নিয়ে পড়ার ইচ্ছে ছিল কারন মনে হচ্ছিল আমাদের ট্যুরিজম কে আমি রিপ্রেজেন্ট করতে পারবো কিন্তু হোষ্টেলে তো অনেকেই তো এডমিশনের পর সাবজেক্ট চয়েসের সময় তাদের কথায় আর কী শেষমেশ ইচ্ছায় থাকতে পারিনি তো সামনে যেহেতু সময় আছে আমি চাই ট্যুরিজমে এমবিএ করতে।

 

খোশগল্প.কম: আপনার এই জিনিশ টা অনেক ভালো লাগলো যে নিজের ভালো লাগাকে আপনি মুল্যায়ন করছেন আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা আমার কী করতে আসলে ভালো লাগে বা কী করা উচিত যাই হোক আনেক্ষন আপনাকে নিয়ে আপনার কালচের নিয়ে কথা হল তো এরকম আরো কারো সাথে নিজেদের নিয়ে কথা বলা হয়?
হীরা: আসলে আমার যা মনে হয় আমাদের নিয়ে সবার আগ্রহ বেশি অনেকেই বলে তুমি এতদুর থকে আসছ?তোমাদের পাহাড়ী নাচ তুমি পারো?গান পারো?তোমার ভাষায় কিছু বলোতো বা শেখাবা???।।

 

খোশগল্প.কম:আপনাদের নিজেদের কী কোন সংগঠন আছে ঢাবিতে??
হীরা: হ্যা সংগঠন মানে পলিটীক্যাল সংগঠন আছে যার নাম পাহাড়ী ছাত্র সংগঠন।

 

খোশগল্প.কম:এটার কাজ কী বা কী করেন?
হীরা:এটা আসলে আমাদের সাম্প্রদায়িক সব সমস্যা নিয়েই কাজ করে যেমন আমাদের ওখানে কোন দাঙ্গা হল আমরা এখানে এটার প্রতিবাদ করছি বা নিজেদের রাইট নিয়ে কথা বলছি।

 

খোশগল্পকম: আচ্ছা আপু কখোনো কী মনে হয় এই আমরা বা বাঙ্গালীদের জন্য আপনাদের রাইটগুলো আপনারা পাচ্ছেন না বা ছেড়ে দিচ্ছেন?
হীরা:হুম তা তো হয়,ফ্রাঙ্কলিই বলি যদিও কথা গুলো সাম্প্রদায়িক শোনায় যেমন ধরেন নদী ভাঙ্গন বা অন্য যেকোন কিছু হলেই সরকার ঐ সাফারার দের আমাদের যেহেতু অনেক জায়গা তো ওখানে পাঠায় দেয় উইদাউট নোটিশ তো যারা যায় মেইনলি তারা অশিক্ষিত তো পরে দেখা যায় ওরা না বুঝেই বিভিন্ন ব্যপারে দাঙ্গা বাধায় দেয়।আমার যেহেতু পর্যটন নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে তাও বলি বাংলাদেশ সরাকার আমাদের ওখানে একটা পর্যটন কেন্দ্র করছে তার নাম “সাজেক” কিন্তু তার জন্য আমাদের শয়ে শয়ে লোকের ঘড়বাড়ি হারাইতে হইছে এগুলো নিয়ে কেউ কথা বললেই তাদের চুপ করায় দেয়া হয়…

 

খোশগল্প.কম: আসলে নিজে ব্যাপারটা অনেক বেশি সেন্সিটিভ যাই হোক ঝামেলা যেহেতু হচ্ছে বা হয় তো আজকে এখানে থেকে আপনি হীরা চাকমা এমন কী করতে চান আপনার ক্যমুনিটির জন্য যে তারপর মনে হবে আমার আর কিছু চাওয়ার নাই??
হীরা: ছাত্র অবস্থায় যেটুকু পারি যে কোথাও আমার স্ট্যান্ড নিতে হবে সেখানে আমি অবশ্যই স্ট্যান্ড নিবো আর শুধু আমার ক্যমউনিটির জন্য না দেশের জন্য ও কাজ করবো সামনে।

 

খোশগল্প.কম: কথা বলে অনেক ভালো লাগলো আপু বিশেষ করে অনেক কিছু জনতে পারলাম আপনাদের সম্পরকে
হীরা: আপনাকেও ধন্যবাদ আর আমার জন্য দোয়া করবেন সবসময়।
খোশগল্প.কমঃঅবশ্যই।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত