সারাফ আঞ্জুম দিশা, পড়ছেন বুয়েটে । যুক্ত আছেন বিতর্কে ও । বিতর্কে যুক্ত হওয়ার গল্প জানতে চাইলে তার কাছে , “যখন জানলাম বিতর্কের জন্য অনেক পড়াশোনা লাগবে, কথা বলার টেন্ডেন্সি লাগবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে যুক্তির সাথে কথা বলতে পারব না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার বিতর্ক আসবে না। যখন জানলাম আমি কথা বলতে পারি, অন্যান্য বিষয়ে পড়ালেখা করার আগ্রহ আছে, তখন ভাবলাম আমি তাহলে কেন ট্রাই করব না” ?

মানুষজন এক্সট্রোভার্ট আর সোসালাইজড এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না

লিখেছেন...admin...মে 24, 2016 , 5:28 পূর্বাহ্ন

ds

খোশগল্প.কম: তুমি তো এখন বুয়েটে পড়ছ, ভর্তি পরীক্ষার সময় তো সবার লক্ষ্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকে। ঐ টাইমটাতে তোমার লক্ষ্য কোনদিকে ছিল?

দিশা: ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা শিখিয়ে দেয় ২ টা লাইন। এক ডাক্তার, দুই ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়া আমরা তখন আর কিছু হয়তো বুঝে উঠতে পারি না। আমার তখন ইচ্ছা ছিল ভিন্ন কিছু করার। আর যদি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যাই তাহলে বুয়েটে যাব। যেহেতু আঁকাআঁকির প্রতি আমার আগ্রহ আছে। আর যদি না হয় আমার একটা গোপন ইচ্ছা ছিল জার্নালিজম এ যাব। আমার ইচ্ছা ছিল না, একেবারে কোর ইঞ্জিনিয়ারিং এ যাওয়ার। আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম, এটা এখন একটা ড্রিম আউট অফ দ্যা ড্রিম হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কোন চিন্তা রেখে লাভ নাই। আমার রোবটিক্সের জিনিস গুলো ভাল লাগত হয় আমি ইলেকট্রিক্যাল বা মেকানিক্যালে যাব! এই দুইটার একটাতে যাব! বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আগে আম্মু বলছিল, আর্কিটেকচার এ অনেক প্যারা, তুমি আর্কিটেকচার এ পরীক্ষা দিবা না। আমি তখন ডাই হার্ড ছিলাম ইলেকট্রিক্যাল বা মেকানিক্যাল এর জন্য। বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার পর যে কোন কারণেই হোক ইউ আর পি পেলাম। যেটা আর্কিটেকচার ফ্যাকাল্টির মধ্যে। কাজ আর্কিটেকচারের মতই হচ্ছে। এখানে অনেকটা কাজ আর্কিটেকচারের মতন। ফাস্ট ইয়ারে যা করলাম তা আর্কিটেকচারের স্টুডিও ছিল। এখন অনেক ফিল্ড ওয়ার্ক আর সার্ভে করা লাগছে। জিনিসটা অনেক মজার। ইচ্ছা টা ফাস্ট জোনে না থাকায় হয়তো তেমন একটা উপভোগ করতে পারছি না।

খোশগল্প.কম: এইটার কি কোন একটা কারণ, ইউ আর পি পিউর ইঞ্জিনিয়ারিং না?

দিশা: হ্যাঁ, এটা পিউর না, এটা হাইব্রীড। এটার মধ্যে সিভিলে যা আছে আমাকে দেখতে হবে, আবার আর্কিটেকচারে যা আছে তাও আমাকে দেখতে হবে।

খোশগল্প.কম: বুয়েটে আর্কিটেকচার এবং ইউ আর পি তে মেয়েদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পিছনে কি কোন কারণ আছে?

দিশা: যেহেতু ডিজাইন, কালার সেন্স এগুলো মেয়েরা ভালো বলে হয়তো। আর ছেলেদের হয়তো বা  ধৈর্য্যের অভাব কাজ করে। তারা সেইসব জায়গায়গুলোতে হয়তো তাড়াতাড়ি যত ছটফট কাজ শেষ করে। কিন্তু এইসব ডিপার্টমেন্ট ছটফটের জায়গা না, এখানে লেগে থাকতে হয়। এইসব কারণে হয়তো মেয়েদের চেহারা বেশি দেখা যায়।

খোশগল্প.কম: তুমি পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিতে কতটা জড়িত ছিলে?

দিশা: খুব না, তবে আমার নাচের প্রতি ভালো লাগা ছিল। তাই ভিকারুন্নেসাতে প্রতিটা ফাংশনে আমার চেহারা দেখা যেত। গানটা পারি না, গানটা গাওয়া আমার কাছে একটা দুর্বোধ্য ব্যাপার লাগে।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটিতে এসে তুমি বিতর্কতে জড়িত হয়েছ। স্কুল-কলেজে আগে তো কোথাও বিতর্কের সাথে জড়িত ছিলে না। হঠাৎ বিতর্কের মনোনিবেশ?

দিশা: স্কুল-কলেজে এই সার্কেল কখনও যাইনি। যখন জানলাম বিতর্কের জন্য অনেক পড়াশোনা লাগবে, কথা বলার টেন্ডেন্সি লাগবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে যুক্তির সাথে কথা বলতে পারব না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার বিতর্ক আসবে না। যখন জানলাম আমি কথা বলতে পারি, অন্যান্য বিষয়ে পড়ালেখা করার আগ্রহ আছে, তখন ভাবলাম আমি তাহলে কেন ট্রাই করব না ? ট্রাই যখন করা শুরু করলাম ফ্রেশারদের ডিবেট শুরু করলাম। তারপর ফাইনালে বিতর্ক করলাম । যেমন বিতর্ক জগতে বিত্ত একটা আলাদা নাম, আমি যদি কিছুক্ষণ এদের সাথে থেকে চর্চা করি, লেগে থাকি তাহলে হয়তো সম্ভব।

খোশগল্প.কম: তুমি তো মালয়েশিয়াতে গেছ ডিবেট করতে, ঐ অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

দিশা: আমার বাংলার দিকটা একটু খারাপ। আমি যতটা না নিজকে বাংলায় গুছিয়ে বলতে পারি তারচেয়ে ভালো পারি ইংলিশে। তখন ভাবলাম আমার ইংলিশ ডিবেটে যাওয়া উচিৎ। তারপর সিনিয়রদের খেয়াল করতাম তারা কি করে ইন্টারন্যাশনাল ডিবেটগুলো করত। আমি দেখতাম অনেকেই স্কুল-কলেজে ডিবেট করেনি কিন্তু সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তাদের থেকে অনেক অনুপ্রেরণার পেলাম। তারপর সামনে যে ইন্টারন্যাশনাল ডিবেট ছিল সেটা ছিল এবিপি। মালেয়শিয়াতে যাওয়ার আগে দেখলাম সিনিয়ররা অনেকেই ইনকারেজ করছে, হ্যাঁ তোমার যাওয়া উচিৎ । সেখান থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার যাওয়া উচিৎ। তারপরে আমি গেলাম। আমি আর বিত্ত ছিলাম তার মধ্যে জুনিয়ার মোস্ট এক্সপিরিয়েন্স এর দিক থেকে।

খোশগল্প.কম:  বিতর্ক ভিত্তিক এই যে পড়াশোনার মোহটা কাজ করে, এটা কি বিতর্ক না করলে কাজ করত?

দিশা: কাজ করত যদি স্কেলে ৫ এ কাজ তাহলে ৪ এ থাকত। সবাই মিলে আমরা যখন স্টেশনে বসে আছি, তখন কথা হচ্ছে গ্রীসে কি হচ্ছে?  আমি যদি তখন আমার ইনপুট টা না দিতে পারি  তাহলে আমার নিজের কাছে মনে হয় কেন দিতে পারছি না। সে দিক থেকে চিন্তা করলে এখন অনেক জানার ইচ্ছা কাজ করে। আগে জানতাম হালকাভাবে, আর এখন ভিতরে যাওয়ার টেন্ডেন্সি কাজ করে। তো এই আউট স্ট্যান্ডিং নলেজটা অনেক কাজে লাগছে। এই আউট-নলেজ টা জানা দরকার। দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা লাইন আসছে, আমরা ততটুকু লাইনেই আবদ্ধ। আমরা টেকনোলজিতে আগানো, কিন্তু জানি না কোথায় কিভাবে আমাদের ব্যাংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা জানি সাবিলা নূর কোথায় কি করতেছে! আমরা এই জেনারেশনটা এভাবে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছি। তারা পড়াশোনাটা কম করে, তাদের নলেজ টা কমে আসছে। আমরা যদি আমাদের ন্যাশনসটাকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে আমাদের সবক্ষেত্রেই জ্ঞান রাখতে হবে। না হলে পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে ও সমস্যা হবে।

খোশগল্প.কম: ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের কমিউনিকেশন স্কিল এর যে ঘাটতি আছে, এটার পিছনে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ আছে বলে তুমি মনে কর?

দিশা: আমার মনে হয় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টরা চিন্তা করে যে, আমার কমিউনিকেশন স্কিল দিয়ে কি হবে?  আমরা এটুকু দেখি না, যে রোবট টা বানিয়ে দেয় তার পে স্কেল আর যে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট বায়ারদের কাছে এটা শো করে তার পে স্কেল আরও বেশি। প্রেজেন্টেশন স্কিলডটা কিন্তু অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট। আমাদের কিন্তু ইংলিশ ল্যাব আছে সেখানেও প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। আমাদের প্রতিটা টার্মে একটা করে প্রেজেন্টেশনের একটা স্পেশাল জায়গা থাকে। প্রতিবার আমাকে জুড়িতে যেতে হচ্ছে, স্টুডিও তে যেতে হচ্ছে। আমাদের কমিউনিকেশন স্কিল বলে একটা কোর্সই আছে। আমাদের ডিপার্টমেন্ট এ যে প্লান সেখানে নির্দিষ্ট বলে কিছু নেই। আমরা ২ জন যদি একই প্লান করি, তাতে সমস্যা না। যে যতটা সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করে কাস্টমারদের কাছে সেল করতে পারি। সে ক্ষেত্রে আমার কথা বলা শিখতেই হবে, প্রেজেন্টেশন শিখতেই হবে।

খোশগল্প.কম: তোমার একটা প্রেজেন্টেশন করতে হয়েছিল ওয়েব ডিজাইনের কম্পিটিশনের উপর বুয়েটে। সেখানে তুমি পুরস্কারও পেয়েছিলে, সেখানকার অভিজ্ঞতাটা যদি শেয়ার কর

দিশা: ওয়েবসাইট ডিজাইনটাতে আমার যারা টিমমেট ছিল তারাই সব কাজ করছে। আমি জাস্ট টিমটা ফর্ম ও ডিজাইন যে ফ্রেন্ডটা করছে সেই ফ্রেন্ড এর সাথে বসে এইখানে ভুল  সেইখানে ভুল এগুলো চেঞ্জ করা। অর্থাৎ আমার কাজটা ছিল কিভাবে একটা কাজ ম্যানেজ করতে পারব।আ মি এখন জানি আমার ম্যনেজমেন্টের সাইটটা বেশি দরকার। আমি জানতাম আমাকে ওয়েবসাইটটা প্রেজেন্টেশন করতে হবে টেকনিকেল সাইটটা না নিয়ে, কোথায় কি করা যাবে, আনাচে কানাচে কোথায় কি আছে সেটা প্রেজেন্ট করা, এবং এটা কেন এফিশিয়েন্ট এটা প্রেজেন্ট করা। আমি যখন জুড়িতে গেলাম, তখন দেখলাম জুড়িতে যারা আছে এরা এটার দেখতে কতটা সুন্দর তা জানতে চাইছে। তো দিনশেষে পুরো প্রেজেন্টেশন টা আমার একা দেওয়া লাগছে। যখন আমি প্রেজেন্ট করছিলাম তখন আমি তাদেরকে বায়ার ভেবে কাজটা করেছিলাম।

খোশগল্প.কম: তোমার ডিজাইনিং এর পেছনে আগ্রহ বাড়ার পিছনে কোন সুস্পষ্ট কারণ আছে?

দিশা: ডিপার্টমেন্ট এ ডিজাইন ছাড়া কাজ হবে না। যখন ১/১ এ ব্যাসিক ডিজাইন কোর্সে গেলাম, তখন দেখলাম ডিজাইন করতে হবে। টিচাররা যখন কালার সম্পর্কে বলছে, আমি দেখলাম কালার সম্পর্কে বেশ ভালোই জানি । মিসরা তাই বলত, আচ্ছা দিশা তুমি যাবা এ কাজটা করতে। এটা আমার ভাল লাগত। আমি ফ্রেন্ডদেরকে দেখতাম তারা ডিজাইনিং সামনের দিকে যাচ্ছে, আমি কেন যাব না। সবকিছুই আল্টিমেটলি শো করার বা প্রেজেন্ট করার। এই শো করার আল্টিমেটলি জায়গা হচ্ছে ডিজাইন। ডিজাইন ছাড়া একটা কাজ আমি যতই ভালো করি তখন কাজটার মূল্য থাকে না। ডিজাইনটা হতে পারে হাতে কলমে, কথা বলার মাধ্যমে। সব জায়গায়ই এটা প্রয়োজন, এটা একটা আর্ট । এটা সবখানেই প্রয়োজন।

খোশগল্প.কম: তুমি মানুষ হিসেবে অনেক মিশুক প্রকৃতির, এটা কি স্কুল লাইফ থেকেই চর্চা করছ?

দিশা: আমি মিশুক প্রকৃতির সবসময়। আগে স্কুল কলেজে থাকতে যতটা এক্সোভাট ছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে এসে তার থেকে বেশি এখন। এখন মানুষের সাথে কথা বলতে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। আমি যখন এক  একজনের সাথে কথা বলি তারা কে কোন  পারসপেকটিভ থেকে জীবন দেখতে পায় তা জানছি। এটাই আসলে এক্সোভাট হওয়ায় কারণ হয়তো। এক্সট্রোভার্ট সবদিক থেকে ভালো না। যখন সোশালাইজড সে দিকটা ভালো। এটা একটা নেটওয়ার্কিং ক্রিয়েট করে। আমাকে কখন কার প্রয়োজন হবে বা আমার কাকে কখন প্রয়োজন হবে বলা যায় না। আমি যদি ২ জন মানুষকে বেশি চিনি তা তো খারাপ না। আই লাভ টু মেকিং ফ্রেন্ড।

খোশগল্প.কম: তুমি বললে এক্সট্রোভার্ট হওয়ার কিছু খারাপ দিক আছে , সেটা কি রকম?

দিশা: অনেক ক্ষেএে দেখা যায়, যারা অনেক কথা বলে, তারা দিনশেষে কি ফিল করে তা কিন্তু এক্সপ্রেস হয় না। আমি অনেক কথা বলে যাচ্ছি, কিন্তু আমি কেমন আছি বা এমন কিছু হইছে যার জন্য আমি ডিপ্রেশড। এটা যদি কেউ দেখে তাহলে ভাবে দিশার কি হইছে, দিশার মন খারাপ কেন?  ব্যাপারটা খুব উইয়ারড লাগে মাঝেমধ্যে। আমি ও তো মানুষ, আমার ও তো মন খারাপ হতে পারে। এইদিক থেকে মনে হয় কিছু ভুল মেসেজ কেউ কাউকে দেয়। মানুষজন  এক্সট্রোভার্ট  আর সোসালাইজড এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। আমি অনেক সোশালাইজড, আমি কথা বলছি সবার সাথে।

খোশগল্প.কম: কেউ কেউ বলে যারা খুব হাসিখুশি থাকে তারা অনেক ডিপ্রেশনে ভুগে, তাহলে কি তুমি ডিপ্রেশনে ভুগো?

দিশা: নিজের কোন প্রবলেম বা নিজের রিয়েল লাইফে ভুলে থাকার জন্য অন্য কোন মিডিয়াতে ব্যাস্ত থাকা। ইটস কাইন্ড অফ ট্রু।

খোশগল্প.কম: তুমি কি ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সিসিটিতে ভুগো?

দিশা: মাঝেমধ্যে ভুগি। ওর কাজটা অনেক ভালো হচ্ছে, ওর ডিবেট ভালো হচ্ছে। ওর মত করতে হবে। আমার আরও কাজ করতে হবে। তখন হাল ছেড়ে দেওয়ার টেন্ডেন্সি আসে, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে তো হবে না।

খোশগল্প.কম: তুমি কি তোমার পরিবারের এক্সপেক্টেশন পূরণ করতে পেরেছ?

দিশা: তাদের ইচ্ছা ছিল তাদের মেয়ে বুয়েটে পড়বে, আমি এখন বুয়েটেই পড়ছি। তাদের ইচ্ছা ছিল তাদের মেয়ে একটু আলাদা হবে মেইনস্ট্রিমে যাবে না। ক্যম্পাসের মধ্যে আমি আলাদা।  কিন্তু আমি কি নিজের এক্সপেক্টেশন  ফুলফিল করতে পেরেছি। তখন মনে হয়, না।  আমার নিজের উপর এক্সপেক্টেশন  অনেক বেশি ছিল, হয়তো হতাশ বা অলসতার জন্য পারি নি।

খোশগল্প.কম: তোমার এক্সপেক্টেশন  কি ছিল?

দিশা: আমার এক্সপেটশন  ছিল মেইনস্ট্রিমেই। আমার রেজাল্টটা ভালো থাকবে। বুয়েট মিনস আমি জিনিসটা বুঝব তারপর পড়ব । যখন দেখলাম আমার আশেপাশে কারোর বোঝার টেন্ডেন্সি নাই। মিস এইটা পড়াইয়া গেছে, স্লাইড আছে, ম্যাটারিয়াল আছে। আমি ঐটা মুখস্থ করে বসে থাকব। আমি ঐটা দেখে জিনিসটা বুঝার চেস্টা করি। টিচার এটা কি বলল এবং এটার সাথে রিয়েল লাইফে কোথায় যুক্ত। এই জিনিসটার মত যখন সবাই কাজ করল না তখন আমার একটা ক্ষোভ কাজ করল, আমি কেন পারলাম না। আমি সরে গেছি। আস্তে আস্তে আমি উদাসীনতার  দরুণ পড়ালেখা একটু ছাড়ছি, এখন আবার করার চেষ্টা করছি। ঐ দিক থেকে পারি নি।

খোশগল্প.কম: তোমার প্লান কি একাডেমিক লাইনে থাকবা নাকি নগর পরিকল্পনার দিকে যাবা?

দিশা: আমার ইচ্ছা আমি প্লানিং এ থাকব না। দেশে থাকার একটা ইচ্ছা আছে, দেশে থাকলে এডমিনিস্ট্রেশনে যাব। প্লানিং যতটা বুঝলাম, যে আমার যে পজিশন গুলো অন্যরা টেকেন। তো আমি এডমিনিস্ট্রেশন এ গিয়ে এখানে কন্ট্রিবিউট করতে চাই। আর দেশের বাইরে গেলে  ম্যানেজমেন্ট এর দিকে যাব।

খোশগল্প.কম: মানুষ হিসাবে তোমার সবচেয়ে দুর্বলতা কী?  বা যা দূর করতে পারলে তুমি খুব তাড়াতাড়িই সফল হতে পারবে।

দিশা: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল, আমি মানুষেকে খুব সহজেই ট্রাস্ট করি। আর আমার আম্মু বলে, আমি খুবই সহজ সরল মানুষ। আমার কাছে মনে হয়,  একটা মানুষ আমার কাছে যা বলতছে ঠিক ই আছে, আমি জাজ করব কেন?  আমি অতি সহজেই বিশ্বাস করে ফেলি। বিশ্বাস করলে তো একটা এক্সপেটশন  আসে। পরে বুঝতে পারি এটা ঠিক না। এটা নিয়ে অতীতে অনেক ঝামেলায় পড়ছি।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত