সুমন হালদার, একজন সহজ-সরল মানুষ । জীবনে সব কাজই উদ্দেশ্য নিয়ে করেন । তার মতে, “উদ্দেশ্যে ছাড়া কাজ করলে জীবনে কোনদিনই সফল হওয়া যাবে না”।

মানুষ এখন ভালো মানুষ চিনে না

লিখেছেন...admin...মার্চ 12, 2016 , 6:26 পূর্বাহ্ন

haldar

খোশগল্প.কম:আপনি তো কিছুদিন আগেই অন্যরকম প্রকাশনীতে যোগদান করছেন, প্রকাশনীর কাজের ব্যাপারটা কি আপনি উপভোগ করবেন ?

সুমন: আমি এর আগে একটা স্কুলে চাকরী করতাম, তারপর জানতে পারলাম অন্যরকম প্রকাশনীতে লোক নেওয়া হবে, তারপর এসে হিমালয় ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ করি। ভাইয়া আমাকে ৫ টা এসাইনমেন্ট দেয়। এগুলো কমপ্লিট করার পর আমি যোগাদান করি। প্রকাশনীতে কাজ করা তো অনেক মজারই। তাছাড়া বইয়ের কাছাকাছি থাকতে আমার ভালো লাগে।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা থেকেই কি বই পড়তে পছন্দ করতেন?

সুমন:না এমন একটা না, স্কুলের বইয়ের বাইরে কোন বই পড়া হয় না ।স্কুল ছুটির সময় মাঝে মধ্যে পড়া হত, কিন্তু পড়তেই হবে এমন কোন নিয়ম ছিল না।

খোশগল্প.কম: কোনকাজ সফলভাবে করার মূলমন্ত্র কি আসলে?

সুমন: উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, উদ্দেশ্য ছাড়া কাজ করলে জীবনে কোনদিনই সফল হওয়া যাবে না। সবকাজের পিছনেই উদ্দেশ্যে থাকতে হবে।যেমন, কিছুদিন আগে আমার একটা এসাইনমেন্ট ছিল, বাংলাবাজার এ যাওয়া। আমার এই কাজের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল, আমি যেহেতু প্রকাশনীতে কাজ করব, তাই বইয়ের প্রকাশকদের সাথে ভালো সম্পর্ক, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। তাই আমি ঐ দিন বাংলাবাজার গিয়ে প্রকাশকদের নাম্বার তথ্যসহ সবকিছু সংগ্রহ করলাম । তো সবকাজেই উদ্দেশ্য থাকতে হবে । তাহলে সফল হওয়া যাবে ।

খোশগল্প.কম: জীবনের এমন কোন ঘটনা যা আপনাকে প্রভাবিত করে?

সুমন: আমি ছোটবেলা থেকে খুব আদর যত্নে বড় হয়েছি। একমাত্র ছেলে হওয়ায় সবাই কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে। কিন্তু পরে আস্তে আস্তে পরিবারে ভাই বোন বাড়তে থাকে, আর আমার প্রতি আদর যত্নও কমতে থাকে। এটা খুব খারাপ লাগত শুরু করে । বাবা মা আসলে আদর কম করত এমন না, আসলে আর ভাই বোন থাকলে সবাইকে সমান ভাবে দেখা। এভাবে চলতে থাকল, এস এস সি পাশ করলাম। কলেজে ভর্তি হলাম। ইন্টার পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আর পরীক্ষা দিতে পারলাম না। আমার বন্ধুরা সবাই পরীক্ষা দিত, আমি শুধু ঘরে বসে থাকতাম। আমার এটা খুব খারাপ লাগত। অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাশ করে যায়। আমি চাইতাম কেউ ফেল করুক তাতে আমার ভালো হবে, আবার আমার সাথে পরীক্ষা দিতে পারবে । কিন্তু সবাই পাশ করে যায়। আমি তারপর ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে আসি। আসার পর আর আমার মন বসত না পড়ালেখায়।আমি আর পড়ালেখা করতে চাইতাম না। আমি আর পরীক্ষা দিতে চাইতাম না। আমার বন্ধু, বাবা-মা সবাই অনেক বলে কয়ে আমাকে পরীক্ষা দেওয়ায়। তারপর আমি পাশ করি একবারেই।

খোশগল্প.কম: এমন কোন আনন্দের ঘটনা যা এখনও চোখে ভাসে?

সুমন: একবার আমাদের এলাকায় ফুটবল খেলা হবে, আমাদের এলাকার টিমে আমাকে নিবে না। আমি এটা শুনে খুব কষ্ট পাইলাম। যা হোক খেলার দিন এক ভাই আমাকে বলল, তুই খেলবি? অমুক তো অসুস্থ! আমি এটা শুনে খুশিতে এক দৌড়ে জামা-প্যান্ট নিয়ে মাঠে এসে পড়লাম। এসে দেখি আমাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে আমাকে নিবে না অন্য কাউকে নিবে। অবশেষে এক বড় ভাইয়ের কথায় আমাকে নিল খেলতে। খেলা চলছে, ২ টিমের কেউই গোল দিতে পারছে না। সবাই চেষ্টা করছে। আমি কিভাবে যেন একটা গোল দিয়ে দিলাম। তারপর শুরু হল উত্তেজনা আমাকে নিয়ে। আমাকে নিয়ে মাঠের মধ্যে গড়াগড়ি, আরও কত কি!

খোশগল্প.কম: আপনার কি কারো প্রতি ক্ষোভ আছে বা কিছুর উপর আক্ষেপ আছে?

সুমন: না, আমার কারোর উপর তেমন ক্ষোভ নাই।

খোশগল্প.কম: আপনি কি সুখী মানুষ মনে করেন নিজকে?

সুমন: হ্যাঁ, আমি সুখী মানুষ। তবে আমার ইচ্ছা ছিল গ্রামেই থাকা। বাবা-মায়ের সেবা করা তাদের কাছাকাছি থাকা। পাড়া প্রতিবেশী সহ সবার সাথে একসঙ্গে থাকা। যদি একসঙ্গে থাকতে পারতাম তাহলে আরও ভালো লাগত।

খোশগল্প.কম: আপনার কি মনে হয় মানুষের ভালোবাসা পাওয়া ছাড়াও জীবনে আরও কোন অর্জন জীবনে থাকতে পারে?

সুমন: না, এটা অনেক বড় কিছু, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। আমি মনে করি এটা ছাড়াও, যে ভালোবাসে বা ভালোবাসা দেয় তার ভালোবাসার মর্যাদা বা দাম দেওয়া।

খোশগল্প.কম: একজন ভালো মানুষের কি কি গুণ থাকতে পারে?

সুমন: একজন ভালো মানুষের সবচেয়ে গুণ হচ্ছে সবাইকে সমান ভাবে দেখা। সব রকমের কাজের জায়গা থেকে, সব রকমের অবস্থা থেকে সবাই কে একরকমভাবে দেখা। সে হোক পিয়ন বা বড় অফিসার।

খোশগল্প.কম: সমাজে এখন দেখা যাচ্ছে অসৎ মানুষগুলোর সবচেয়ে বেশি ভূমিকা, কিন্তু সৎ মানুষগুলোর মূল্য নেই কেন বলে আপনি মনে করেন?

সুমন: অনেক কারণ, মানুষ এখন ভালো মানুষ চিনে না। মানুষ আসলে সু মানুষকে মূল্যায়ন করতে পারে না।

খোশগল্প.কম:আপনার বন্ধু-মহলের এমন কেউ ছিল যার ভালো গুণ বা খারাপ গুণে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন?

সুমন: আমি কখনোই অসৎ এবং নীতি বিসর্জন দেয় এমন কারো সাথেই আমি চলিনি। তাছাড়া রাজনীতি কখনোই পছন্দ করতাম না। রাজনীতি তার মানে খারাপ না। রাজনীতি ভালো যদি তা সু-রাজনীতি হয়। সবমিলিয়ে আমি ভালো ও সৎ ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতাম।

খোশগল্প.কম: সু-রাজনীতি বলতে কি বুঝায়?

সুমন: আমাদের দেশের মানুষের রাজনৈতিক ইস্যুগুলো একটু জটিল। আমি তাছাড়া অভিজ্ঞও না। তবে সুন্দরভাবে সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করবে। দলমত-নির্বিশেষে সবাই যখন একসঙ্গে থাকবে।

খোশগল্প.কম: ধর্ম পালনে আপনার অভিমত কি?

সুমন: সবাই স্বাধীন ভাবে যার যার ধর্ম পালন করবে। যার যার কাছে যার যার ধর্ম অনেক বড়। অন্য কারো জোর বা চাপ দেওয়া উচিত না।

খোশগল্প.কম: আপনার কোন অপূর্ণ স্বপ্ন আছে?

সুমন: আমার এলাকাবাসীর জন্য কিছু করা। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এখনও কিছুই করতে পারি নি। সামনের দিনগুলোতে টাকা হলে ইনশাআল্লাহ করব।

খোশগল্প.কম: আমাদের দেশে একটা কথা আছে, কিছু নির্দিষ্ট জেলার মানুষ মানেই খারাপ। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

সুমন: আমি মোটেও এটা মানি না। এক এলাকার একজন মানুষ খারাপ বলে সবাই খারাপ হবে কেন? একটা এলাকার সব-মানুষ তো আর খারাপ হতে পারে না। একটা এলাকায় আসলে অল্প কিছু মানুষ খারাপ থাকে, যাদের জন্য পুরো এলাকার মানুষকে দোষারোপ করা হয়। যে এলাকার মানুষ খারাপ সে এলাকায় ও তো ভালো মানুষ থাকে। এভাবে মানুষকে দেখা উচিৎ না।

খোশগল্প.কম: তোষামোদ করা কি কোন যোগ্যতা?

সুমন: না, মোটেও না। যারা দুর্বল তারাই একমাত্র তোষামোদ করে । তোষামোদকারী মানুষগুলোর সৎ সাহস থাকে না কোনদিনই।

খোশগল্প.কম: আপনার মনে হয় বাংলাদেশের কোন জায়গাটাতে পরিবর্তন করা দরকার?

সুমন: দুর্নীতি, আমাদের দেশে সৎ মানুষের অনেক অভাব। যদি আমাদের দেশের বড় বড় পোস্টের মানুষগুলো নিজেরা ঠিক ভাবে চলতে চায় বা ঠিক ভাবে চালাতে চায়। তাহলে দেশে আর কোন সমস্যা থাকবে না। দেশ ও দেশের মানুষ অনেক সুখে থাকবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত